প্রভাষক
০৫ জুলাই, ২০২২ ১২:২৬ অপরাহ্ণ
প্রভাষক
দশমত: আমীর মু‘আভিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু একান্ত উদারমনা, দানশীল, প্রজ্ঞাবান ও দয়ালু ছিলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম তাঁর সম্পর্কে বহু ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। নিম্নে কয়েকটা বর্ণনা ও ঘটনা উল্লেখ করার প্রয়াস পাচ্ছি-
এক. একদা হযরত আমীর মু‘আভিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু সাইয়্যেদুনা হযরত হাসান রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুর জন্য চার লক্ষ দিরহাম নযরানা পেশ করেছিলেন। হযরত ইমাম হাসান তা গ্রহণ করেছিলেন।
[সূত্র. কিতাবুন্নাহিয়াহ ও মিরক্বাত]
দুই. হাকিম হিশাম ইবনে মুহাম্মদের বরাতে বর্ণিত, হযরত আমীর মু‘আভিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু হযরত ইমাম হাসানের জন্য বার্ষিক ওযীফা (ভাতা) স্বরূপ একলক্ষ দিরহাম নির্দ্ধারণ করেছিলেন। ঘটনাচক্রে এক বছর এ ওযীফা হযরত হাসানের নিকট পৌঁছায়নি। তিনি হযরত আমীর মু‘আভিয়াকে তা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য চিঠি লিখতে মনস্থ করেছিলেন; কিন্তু নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম স্বপ্নে ইমাম হাসানের উদ্দেশ্যে এরশাদ করলেন, ‘‘তুমি কোন মাখলূক্বের কাছে লিখোনা, আল্লাহর মহান দরবারে আরয করো এবং নিম্নলিখিত দো‘আটি পাঠ করো-
اَللّٰهُمَّ اقْذِفْ فِيْ قَلْبِيْ رَجَاءَكَ وَاقْطَعْ رَجَائِيْ عَمَّنْ سِوَاكَ حَتّٰى لَا أَرْجُوَ أَحَدًا غَيْرَكَ - اَللّٰهُمَّ وَمَا ضَعُفَتْ عَنْهُ قُوَّتِيْ وَقَصُرَ عَنْهُ عَمَلِيْ وَلَمْ تَنْتَهِ اِلَيْهِ رَغْبَتِیْ وَلَمْ تَبْلُغْهُ مَسْاَلَتِيْ وَلَمْ يَجْرِ عَلٰى لِسَانِيْ مِمَّا اَعْطَيْتَ مِنْ الْاَوَّلَيْنَ وَالْاَخِرِيْنَ مِنَ الْيَقِيْنِ فَخُصَّنِيْ بِه يَارَبَّ الْعٰلَمِيْنَ
এ আমলটি আরম্ভ করার এক সপ্তাহ অতিবাহিত হয়নি, আমীর মু‘আভিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু পনের লক্ষ দিরহাম পাঠিয়ে দিলেন। অর্থাৎ দু’ লাখ ওযীফা (ভাতা) এবং ১৩ লক্ষ দিরহাম নযরানা হিসেবে। [সূত্র. আন্ নাহিয়াহ ইত্যাদি]
উল্লেখ্য, উক্ত দো‘আ চাহিদা পূরণের জন্য উৎকৃষ্ট ও একটি পরীক্ষিত দো‘আ। সুতরাং এ দো‘আ সবাই পড়তে পারেন।
তিন. একবার হযরত আমীর মু‘আভিয়া দরবারে উপস্থিত সবাইকে বললেন, ‘‘তোমাদের মধ্যে যে কেউ হযরত আলীর শানে ক্বসীদা (কবিতা) পাঠ করবে, আমি তার প্রতিটি পংক্তি (চরণ)-এর জন্য এক হাজার দিনার দেবো।’’ উল্লেখ্য, উপস্থিত কবিগণ ক্বসীদা পাঠ করেছেন এবং প্রত্যেকে ওই প্রতিশ্রুত পুরস্কারও লাভ করেছিলেন। এখানে বিশেষ লক্ষণীয় যে, প্রত্যেক কবি তাঁর কবিতায় হযরত আলীর যে প্রশংসাই করেছেন, প্রত্যেকটি প্রশংসা-বাক্যের পর হযরত আমীর মু‘আভিয়া বলছিলেন, ‘‘তিনি এর চেয়েও উত্তম।’’ বিশিষ্ট কবি (শা‘ইর) হযরত আমর ইবনুল আস হযরত আলী কার্রামাল্লাহু ওয়াজহাহুর শানে তাঁর পঠিত কবিতার এক পর্যায়ে নিম্নলিখিত চরণও পড়েছিলেন-
هُوَ النَّبَاُ الْعَظِيْمُ وَفُلَكُ نُوْحِ - وَبَابُ اللّٰهِ وَانْقَطَعَ الْخِطَابُ.
অর্থ: তিনি (হযরত আলী) হলেন একাধারে বড় সুসংবাদ, হযরত নূহ আলায়হিস্ সালাম-এর জাহাজ ও আল্লাহর দরজা। তাঁকে বাদ দিয়ে কথা বলা যায় না। এ চরণটির জন্য হযরত আমীর মু‘আভিয়া কবিকে সাত হাজার দিনার বখশিশ করেছিলেন। [নাফাইসুল যুনূন
]
চার. ইবনে আসাকির বর্ণনা করেছেন, যুদ্ধকালীন সময়ে হযরত আক্বীল (হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুর ভাই) হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুকে বললেন, ‘‘আমার কিছু টাকার দরকার।’’ তিনি বললেন, ‘‘এখনতো আমার নিকট টাকা নেই।’’ তিনি আরয করবেন, ‘‘তাহলে আমাকে আমীর মু‘আভিয়ার নিকট যাবার অনুমতি দিন।’’ তিনি অনুমতি দিলেন। হযরত আক্বীল হযরত আমীর মু‘আভিয়ার নিকট গেলেন। আমীর মু‘আভিয়া তাঁর খুব সমাদর করলেন এবং এক লক্ষ টাকা নযরানা স্বরূপ পেশ করলেন। [সাওয়া-ইক্বে মুহরিক্বাহ্]এভাবে আমীর মু‘আভিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুর বদান্যতার বহু ঘটনা বর্ণিত আছে।