প্রভাষক
০৫ জুলাই, ২০২২ ১২:৪৭ অপরাহ্ণ
প্রভাষক
#হযরত আমীর মু‘আভিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুর বহু কারামত বর্ণিত হয়েছে। তন্মধ্যে কয়েকটা কারামত উল্লেখ করা হলো-
এক. যখন হযরত আমীর মু‘আভিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুর নিকট হযরত ওসমান রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুর শাহাদতের খবর পৌঁছলো, তখন তিনি বললেন, ‘‘মক্কাবাসীগণ হুযূর-ই আক্রাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামকে মক্কা শরীফ থেকে আলাদা করেছিলো। সুতরাং মক্কা শরীফ আর কখনো ‘দারুল খিলাফত’ (রাজধানী) হয়নি, হবেও না। এখন মদীনাবাসীরা মুসলমানদের খলীফা হযরত ওসমান গণী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুকে শহীদ করলো। ওখান থেকেও খিলাফত বের হয়ে গেলো। আর কখনো ওখানে খিলাফত (রাজনৈতিক রাজধানী) হবে না।’’
বাস্তবেও তাই হলো। হেরমাঈন শরীফাঈন এরপর থেকে আজ পর্যন্ত স্থায়ী ‘দারুল খিলাফত’ (রাজধানী) হয়নি। মক্কা শরীফে (ইয়াযীদের পর) হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে যোবায়র রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু খিলাফত ঘোষণা করলেও তা বেশীদিন স্থায়ী হয়নি। আর মদীনা শরীফে হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু হযরত ওসমানের পর খলীফা মনোনীত হলেও তিনি তাঁর রাজধানী করেছিলেন কূফায়।
দুই. হযরত আমীর মু‘আভিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু যখন ইয়াযীদকে স্বীয় স্থলাভিষিক্ত মনোনীত করলেন, তখন তিনি দো‘আ করলেন, ‘‘হে আল্লাহ্, হে আমার মুনিব, যদি ইয়াযীদ উপযুক্ত না হয়, তবে তার রাজত্বকে পরিপূর্ণ করোনা।’’ বাস্তবেও তাই হলো। হযরত আমীর মু‘আভিয়ার পর কুখ্যাত ইয়াযীদ মাত্র দু’বছর কয়েক মাস জীবিত ছিলো। তার রাজত্ব তো পূর্ণাঙ্গতা পায়নি, রাজত্ব তার বংশ থেকে মারওয়ানের বংশে স্থানান্তরিত হয়ে গিয়েছিলো।
তিন. এ ঘটনা অতি প্রসিদ্ধ যে, একবার হযরত আমীর মু‘আভিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু স্বীয় মহলে নিদ্রারত ছিলেন। হঠাৎ এক ব্যক্তি এসে তাঁকে তাহাজ্জুদের নামাযের জন্য জাগালো। তিনি বললেন, ‘‘কে তুমি? মহলে কিভাবে প্রবেশ করলে? সে বললো, ‘‘আমি ইবলীস।’’ তিনি বললেন, ‘‘তোমার কাজতো নামাযের জন্য জাগানো নয়, ঘুম পাড়িয়ে নামায ক্বাযা করানো।’’ সে বললো, ‘‘আমি ইতোপূর্বে একরাতে আপনার নামায ক্বাযা করিয়েছিলাম; কিন্তু পরদিন আপনি তজ্জন্য এতো বেশি কান্নাকাটি করেছিলেন যে, আমি ফেরেশতাদেরকে বলাবলি করতে শুনেছি, ‘আমীর মু‘আভিয়ার এ অনুশোচনা ও কান্নাকাটির ফলে তাঁকে পাঁচশ’ নামাযের সাওয়াব দেওয়া হয়েছে।’ তাই, আমি ভাবলাম যে, আজও যদি আপনার নামায কাযা করাই, তাহলে আপনি আবার কান্নাকাটি করবেন এবং হাজার নামাযের সাওয়াব পেয়ে পাবেন। আমি চাইনা আপনি বেশি নামাযের সাওয়াব পান। তাই, আপনাকে আগেভাগে নামাযের জন্য জাগিয়ে দিলাম।’’ [মসনভী শরীফ: দ্বিতীয় খন্ড: পৃ. ২৩]
মাওলানা রূম আলায়হির রাহমাহ্ ঘটনাটার বর্ণনার শুরুতে লিখেছেন, হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, ‘‘মু’মিনদের অবস্থা একান্ত গোপন প্রাসাদের মতো, যা ভিতর থেকে তালাবদ্ধ থাকে, বাইরে থেকে উঁকি মেরে দেখার কোন উপায় নেই। যদি কেউ ঘটনাক্রমে তাতে প্রবেশ করতে পারে, তবে তার নিকট সব উদ্ঘটিত হয়ে যায়।’’
এ ঘটনা থেকে একাধারে আমীর মু‘আভিয়ার কারামত, তাঁর তাক্বওয়া-পরহেযগারী, আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্যতা, ইবলীসের উপর ক্ষমতা প্রয়োগ ইত্যাদি প্রকাশ পায়। বস্তুত: যাঁর হাত হুযূর-ই আক্রামের হাতে রয়েছে, তা থেকে শয়তানও ছুটে পালাতে পারেনা, আর যে চোখে হুযূর মোস্তফার নূরানী চেহারা ঈমান ও মুহাব্বত সহকারে দেখেছে, তা থেকে কোন রহস্য গোপন থাকতে পারে না। হুযূর-ই আক্রামের শীর্ষস্থানীয় সাহাবী হযরত আবূ হোরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুও একবার ইবলীস-শয়তানকে ধরে ফেলেছিলেন। সে তখন তাঁর হাত থেকে নিজেকে ছাড়াতে না পেরে ‘আয়াতুল কুরসী’র ফযীলত বর্ণনা করে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে পালাতে হয়েছিলো।