Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

১৭ নভেম্বর, ২০২২ ১২:১৯ অপরাহ্ণ

কাতার বিশ্বকাপ ফুটবলের বিস্তারিত।
২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ
২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ.svg
বিবরণ
স্বাগতিক দেশ কাতার
তারিখ২০ নভেম্বর – ১৮ ডিসেম্বর ২০২২
দল৩২ (৫টি কনফেডারেশন থেকে)
মাঠ৮ (৫টি আয়োজক শহরে)

২০২২ ফিফা বিশ্ব"২০২২ বিশ্বকাপ" শিরোনামকে এখানে পুনর্নির্দেশ করা হয়েছে। একই নামের অন্যান্য প্রতিযোগিতার জন্য ২০২২ বিশ্বকাপ (দ্ব্যর্থতা নিরসন) দেখুন।

২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ
২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ.svg
বিবরণ
স্বাগতিক দেশ কাতার
তারিখ২০ নভেম্বর – ১৮ ডিসেম্বর ২০২২
দল৩২ (৫টি কনফেডারেশন থেকে)
মাঠ৮ (৫টি আয়োজক শহরে)

২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ (আরবিكَأسُ اَلعَالَمِ ٢٠٢٢‎, প্রতিবর্ণী. কা'সু আল আলামি ২০২২‎; উপসাগরীয় আরবিكَاسُ اَلعَالَمِ ٢٠٢٢প্রতিবর্ণী. কাসু আল আলামি ২০২২) হচ্ছে ফিফা দ্বারা আয়োজিত চতুর্বার্ষিক আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রতিযোগিতা ফিফা বিশ্বকাপের ২২তম আসরের চূড়ান্ত পর্ব, যেখানে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফার অন্তর্ভুক্ত ৩২টি জাতীয় ফুটবল দল (পুরুষ) প্রতিযোগিতা করবে। এই আসরের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপ আরব বিশ্বের কোন দেশে অনুষ্ঠিত হবে;[১] এছাড়াও দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানে ২০০২ ফিফা বিশ্বকাপের পর এটি এশিয়ায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ফিফা বিশ্বকাপ।[ক] এটি ৩২ দলের অংশগ্রহণে আয়োজিত ফিফা বিশ্বকাপের সর্বশেষ আসর; মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রমেক্সিকো এবং কানাডায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের আসর হতে ৪৮ দলের সমন্বয়ে ফিফা বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে। কাতারের তীব্র গ্রীষ্মকালীন উত্তাপের কারণে এই আসরটি ২০২২ সালের ২০শে নভেম্বর হতে ১৮ই ডিসেম্বর পর্যন্ত কাতারের ৫টি শহরের ৮টি মাঠে অনুষ্ঠিত হবে,[২] যার ফলে এটি মে, জুন অথবা জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত না হওয়া এবং উত্তর শরৎকালে অনুষ্ঠিত প্রথম আসর হবে; এটি প্রায় ২৯ দিনের সময়সীমায় অনুষ্ঠিত হবে।[৩] এই আসরে অনুষ্ঠিত প্রথম ম্যাচে আল খুরের আল বাইত স্টেডিয়ামে কাতার এবং ইকুয়েডর মুখোমুখি হবে। অন্যদিকে, ২০২২ সালের ১৮ই ডিসেম্বর তারিখে কাতার জাতীয় দিবসে ফাইনাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

২০১১ সালের মে মাসে, কাতারের এই আসরটি আয়োজনের জন্য নির্বাচিত হওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে ফিফার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। দুর্নীতির বিষয়ে ফিফার তদন্ত প্রতিবেদনে কাতারকে নির্দোষ ঘোষণা করা হয়েছে, তবে প্রধান তদন্তকারী মাইকেল জে গার্সিয়া তখন থেকে তার তদন্তের বিষয়ে ফিফার প্রতিবেদনে "অসংখ্য বস্তুগতভাবে অসম্পূর্ণ এবং ভুল উপস্থাপনা" র‍্যেছে বলে বর্ণনা করেছেন।[৪] ২০১৫ সালের ২৭শে মে তারিখে, সুইস ফেডারেল অভিশংসকরা ২০১৮ ও ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ নিলাম প্রক্রিয়া বিষয়ে দুর্নীতি এবং অর্থপাচারের তদন্ত শুরু করেছিলেন।[৫][৬] ২০১৮ সালের ৬ই আগস্ট তারিখে, ফিফার সাবেক সভাপতি সেপ ব্লাটার দাবি করেছিলেন যে কাতার "ব্ল্যাক অপস" ব্যবহার করেছে, যা ইঙ্গিত করে যে নিলাম প্রক্রিয়া কমিটি আয়োজন অধিকার অর্জনের জন্য প্রতারণা করেছে।[৭] উপরন্তু, কাতার বিশ্বকাপের প্রস্তুতির সাথে জড়িত বিদেশি কর্মীরা তাদের আচরণের কারণে কঠোর সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছে, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল "জোরপূর্বক শ্রম"-এর কথা উল্লেখ করে বলেছে যে কাতারে বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতিতে মানবাধিকার লঙ্ঘন, এবং অসতর্ক ও অমানবিক কাজের অবস্থার কারণে শত শত অথবা হাজার হাজার অভিবাসী শ্রমিক মৃত্যুবরণ করেছে;[৮] এছাড়াও অনেক অভিবাসী শ্রমিককে চাকরি পাওয়ার জন্য অধিক পরিমাণ "নিয়োগ ফি" দিতে হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।[৯] দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকার একটি তদন্তে দাবি করা হয়েছে যে অনেক শ্রমিককে খাদ্য ও জল থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল, তাদের পরিচয়পত্র তাদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, তাদের সময়মতো অথবা একেবারেই বেতন দেওয়া হয়নি এবং তাদের মধ্যে কয়েকজনকে কার্যত ক্রীতদাস করা হয়েছিল। দ্য গার্ডিয়ানের হিসাব অনুযায়ী, এই আসরটি অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় পর্যন্ত নিরাপত্তা ও অন্যান্য কারণে ৪,০০০ কর্মী মৃত্যুবরণ করেছে। ২০১৫ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে, কাতারি সরকার এই আসরের কাজের অবস্থার উন্নতির জন্য নতুন শ্রম সংস্কার গ্রহণ করেছিল, যার মধ্যে সকল শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি এবং কাফালা ব্যবস্থা অপসারণ অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতে, গত কয়েক বছরে বিদেশি শ্রমিকদের বসবাস ও কাজের অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি।[১০]

ফ্রান্স ফিফা বিশ্বকাপের পূর্ববর্তী আসরের চ্যাম্পিয়ন,[১১][১২] যারা ২০১৮ আসরের ফাইনালে ক্রোয়েশিয়াকে ৪–২ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জয়লাভ করেছিল।[১৩]

আয়োজক নির্ধারণ[সম্পাদনা]

২০১৮ ও ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য নিলামের প্রক্রিয়া ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে শুরু হয়েছিল এবং জাতীয় ফুটবল ক্লাব সংস্থাগুলো তাদের আগ্রহ নিবন্ধনের জন্য ২০০৯ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি তারিখ পর্যন্ত সময় পেয়েছিল।[১৪] প্রাথমিকভাবে, ২০১৮ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য ১১টি আবেদনপত্র জমা হয়েছিল, কিন্তু মেক্সিকো পরবর্তীতে এই কার্যক্রম থেকে তাদের নাম প্রত্যাহার করে দিয়েছিল[১৫][১৬] এবং ইন্দোনেশিয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তাদের আবেদনপত্রের পক্ষে ইন্দোনেশিয়া সরকারের অনাপত্তিপত্রএকটি চিঠি জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ফিফা ইন্দোনেশিয়ার আবেদনপত্রটি প্রত্যাখ্যান করেছিল।[১৭] কাতারকে ২০২২ সালের আসরটি প্রদান করার পূর্ব পর্যন্ত ইন্দোনেশীয় কর্মকর্তারা ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য আবেদন বাতিল করেনি। আয়োজক নির্ধারণ প্রক্রিয়া চলাকালীন, সকল উয়েফা বহির্ভূত দেশগুলো ধীরে ধীরে ২০১৮ সালের আসরের জন্য করা তাদের আবেদন প্রত্যাহার করে নিয়েছিল, যার ফলে এটি নিশ্চিত হয়েছিল যে একটি উয়েফা জাতি ২০১৮ সালের আসরটি আয়োজন করবে এবং এর ফলে উয়েফা দেশগুলো ২০২২ সালের আয়োজক নির্ধারণ প্রক্রিয়ার জন্য অযোগ্য হয়ে উঠবে।

শেষ পর্যন্ত ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য পাঁচটি আবেদনপত্র জমা পড়েছিল: অস্ট্রেলিয়াজাপানকাতারদক্ষিণ কোরিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ফিফার ২২ সদস্যের নির্বাহী কমিটি ২০১০ সালের ২রা ডিসেম্বর তারিখে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে উভয় আসরের আয়োজক নির্বাচন করার জন্য ভোট দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছিল।[১৮] ফিফার নির্বাহী কমিটির দুই সদস্যকে তাদের ভোট সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগে ভোটের পূর্বে বরখাস্ত করা হয়েছিল।.[১৯] কাতারে ২০২২ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনের সিদ্ধান্ত, যা "উচ্চ কর্মক্ষম ঝুঁকি" হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করার পাশাপাশি গণমাধ্যম ধারাভাষ্যকারদের কাছ থেকে সমালোচনা সৃষ্টি করেছিল।[২০][২১] ফিফা দুর্নীতি কেলেঙ্কারির অংশ হিসেবে অনেকেই এর সমালোচনা করেছেন।[২২]

এই আসরের আয়োজক নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট দেশের ভোটের ধরণগুলো নিম্নরূপ:[২৩]

২০২২ ফিফা নিলামডাক (সংখ্যাগরিষ্ঠতা: ১২ ভোট)
দেশভোট
প্রথম পর্বদ্বিতীয় পর্বতৃতীয় পর্বচতুর্থ পর্ব
 কাতার১১১০১১১৪
 মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
 দক্ষিণ কোরিয়াঅপনীত
 জাপানঅপনীত
 অস্ট্রেলিয়াঅপনীত

কাতার আয়তনের দিক থেকে সবচেয়ে ছোট দেশ যাকে ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের অধিকার প্রদান করা হয়েছে – আয়তনের দিক থেকে পরবর্তী ক্ষুদ্রতম দেশ সুইজারল্যান্ড, যারা ১৯৫৪ ফিফা বিশ্বকাপের আয়োজক ছিল, তারা কাতারের চেয়ে তিনগুণেরও বেশি বড়। বর্তমান ৩২টির পরিবর্তে কেবলমাত্র ১৬টি দল সমন্বিত দেশকে আয়োজন করার অধিকার প্রদান করা হয়। কাতার দ্বিতীয় দেশ (প্রথম দেশ ছিল উরুগুয়ে, যারা ১৯৩০ ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজন করেছে) ফিফা বিশ্বকাপের পূর্ববর্তী কোন আসরে উত্তীর্ণ না হয়েও ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের অধিকার অর্জন করেছে। পূর্বে জাপানকে দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে সহ-আয়োজক হিসেবে ২০০২ ফিফা বিশ্বকাপের আয়োজন করার অধিকার প্রদান করা ছিল, যদিও তারা আয়োজন নির্ধারণের পূর্ব পর্যন্ত চূড়ান্ত পর্বের জন্য কখনো উত্তীর্ণ হয়নি, তবে পরবর্তীতে তারা ১৯৯৮ ফিফা বিশ্বকাপের উত্তীর্ণ হয়েছিল।

কিছু তদন্তে লক্ষ্য করা গিয়েছে যে কাতার সিআইএ-এর প্রাক্তন কর্মকর্তা থেকে ব্যক্তিগত ঠিকাদার, কেভিন চকারকে আয়োজন অধিকার সুরক্ষিত করতে, নিলামে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য দেশ এবং ফুটবলের মূল কর্মকর্তাদের উপর গুপ্তচরবৃত্তি করার জন্য নিয়োগ করেছিল।[২৪] অতঃপর ফিফার নির্বাহী কমিটির সদস্যদের নিয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। এই অভিযোগগুলো ফিফা দ্বারা তদন্ত করা হয়েছে।

সম্ভাব্য সম্প্রসারণ[সম্পাদনা]

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের চার বছর পূর্বে ২০১৮ সালের ১২ই এপ্রিল তারিখে, কনমেবল ফিফাকে ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপকে ৩২ থেকে ৪৮টি দলে সম্প্রসারণ করার জন্য অনুরোধ করেছিল।[২৫][২৬] উক্ত সময় ফিফার সভাপতি জান্নি ইনফান্তিনো এই অনুরোধটি বিবেচনা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।[২৭] তবে, ফিফা কংগ্রেস ২০১৮ ফিফা বিশ্বকাপ শুরুর কিছুদিন পূর্বে এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছিল। ইনফান্তিনো বলেছিলেন, বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ৪৮ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করবে না এবং তারা প্রথমে আয়োজক দেশের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবে।[২৮]

২০১৯ সালের মার্চ মাসে, একটি "ফিফা সম্ভাব্যতা অধ্যয়ন" এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিল যে "এক বা একাধিক" প্রতিবেশী দেশ এবং "দুই থেকে চারটি অতিরিক্ত মাঠ"-এর সহায়তায় এই আসরটি ৪৮টি দলে সম্প্রসারণ করা সম্ভব ছিল। ফিফা আরো জানিয়েছিল, "যদিও তারা [এই আসরের] বিন্যাস পরিবর্তন করে পৃষ্ঠপোষক হারানোর আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিতে পারে না, তবে গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে ৪৮টি দলে সম্প্রসারণ করার ঝুঁকি কম ছিল। ফিফা এবং কাতার জুন মাসের শেষের দিকে ফিফা কাউন্সিল এবং ফিফা কংগ্রেসে জমা দেওয়ার জন্য সম্ভাব্য যৌথ প্রস্তাবগুলো অন্বেষণ করেছিল। যদি একটি যৌথ প্রস্তাব পেশ করা হতো, তাহলে ফিফার সদস্য সংগঠনগুলো ৫ই জুন তারিখে ফ্রান্সের প্যারিসে অনুষ্ঠিত ৬৯তম ফিফা কংগ্রেসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য ভোট দিতো।[২৯][৩০] তবে, ২২শে মে তারিখে ফিফা ঘোষণা করেছিল যে তারা এই আসরে দল সংখ্যা বর্ধিত করবে না।[৩১]

দল[সম্পাদনা]

বাছাইপর্ব[সম্পাদনা]

ফিফার ছয়টি মহাদেশীয় কনফেডারেশন তাদের নিজস্ব বাছাইপর্ব আয়োজন করেছিল। ফিফার অন্তর্ভুক্ত সকল সদস্য সংস্থা (বর্তমানে ২১১টি রয়েছে) বাছাইপর্বে অংশগ্রহণের জন্য উত্তীর্ণ হয়েছিল। আয়োজক হিসেবে কাতার এই আসরের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে উত্তীর্ণ হয়েছিল। তবে, এএফসি কাতারকে এশীয় বাছাইপর্বে অংশ নিতে বাধ্য করেছিল, কেননা প্রথম দুটি পর্ব ২০২৩ এএফসি এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।[৩২] কাতার তাদের গ্রুপে প্রথম স্থান অধিকারী হিসেবে চূড়ান্ত পর্বে উত্তীর্ণ হওয়ার পৌঁছানোর পর, লেবানন পঞ্চম সেরা দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী দল হিসেবে অগ্রসর হয়েছিল।[৩৩]

পূর্ববর্তী আসরের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সও স্বাভাবিকভাবেই বাছাইপর্বে উত্তীর্ণ হয়েছে।[৩৪] সেন্ট লুসিয়া প্রাথমিকভাবে বাছাইপর্বের জন্য উত্তীর্ণ হয়েছিল, তবে তাদের প্রথম ম্যাচের পূর্বে তারা তাদের প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। কোভিড-১৯ এর বৈশ্বিক মহামারীর কারণে নিরাপত্তাজনিত কারণে দেখিয়ে উত্তর কোরিয়া বাছাইপর্ব থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে দিয়েছিল। মার্কিন সামোয়া এবং সামোয়া উভয়ই ওএফসি ড্রয়ের পূর্বে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। ২০২২ হাঙ্গা টোঙ্গ–হাঙ্গা হা'আপাই অগ্ন্যুৎপাত ও সুনামির পর টোঙ্গা নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। নিজেদের দলে কোভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাবের কারণে ভানুয়াতু এবং কুক দ্বীপপুঞ্জও নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছিল।

২০১৫ সালের ৩০শে মে তারিখে ফিফা কংগ্রেসের পর সুইজারল্যান্ডের জুরিখে ফিফার নির্বাহী কমিটি প্রতিটি কনফেডারেশনের জন্য স্থান বরাদ্দ নিয়ে আলোচনা করেছিল।[৩৫] কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে ২০০৬ সালে বরাদ্দকৃত দলের স্থান সংখ্যা, যা ২০১০২০১৪ এবং ২০১৮ সালের জন্য অপরিবর্তিত ছিল, এই আসরের জন্যও একই থাকবে:[৩৬]

২০১৯ সালের জুলাই মাসে বাছাইপর্বের একটি ড্র হওয়ার কথা ছিল; এটি পরে বাতিল করা হয়েছিল যেন প্রতিটি কনফেডারেশন তাদের নিজস্ব বাছাইপর্বের জন্য তাদের নিজস্ব ড্র আয়োজন করতে পারে।[৩৭] ২০১৯ সালের ৬ই জুন তারিখে এশীয় বাছাইপর্বের প্রথম পর্বের খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে মঙ্গোলিয়া ব্রুনাইকে ২–০ গোলে্র ব্যবধানে পরাজিত করেছিল, উক্ত ম্যাচে মঙ্গোলীয় রক্ষণভাগের খেলোয়াড় নরজমুগিন সেদেনবাল বাছাইপর্বের প্রথম গোলটি করেছিলেন।[৩৮]

গরম নিয়ে উদ্বেগের কারণে, ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় ফুটবল ক্লাবগুলো চেয়েছিল যে সাধারণ জুন এবং জুলাই মাসের পরিবর্তে ২৮শে এপ্রিল থেকে ২৯শে মে পর্যন্ত বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হোক।[৩৯]

উত্তীর্ণ দল[সম্পাদনা]

২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপে উত্তীর্ণ ৩২টি দেশের মধ্যে ২৪টি দেশ ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত পূর্ববর্তী আসরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল।[৪০] কাতারই একমাত্র দল, যারা ফিফা বিশ্বকাপে অভিষেক করবে, ১৯৩৪ সালে ইতালির পর দ্বিতীয় আয়োজক দেশ হিসেবে কাতার এই আসরে অভিষেক করবে। এর ফলস্বরূপ, ২০২২ সালের আসরটি প্রথম বিশ্বকাপ, যেখানে বাছাইপর্বের মাধ্যমে উত্তীর্ণ কোন দলই অভিষেক করবে না। নেদারল্যান্ডসইকুয়েডরঘানাক্যামেরুন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২০১৮ সালের আসরে অনুপস্থিত থাকার পর এই আসরের মাধ্যমে পুনরায় ফিফা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করবে। ৩৬ বছর পর কানাডা পুনরায় এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে, তারা সর্বশেষ উপস্থিতি ১৯৮৬ সালে অংশগ্রহণ করেছিল।[৪১][৪২] অন্যদিকে, ৬৪ বছর পর ওয়েলস পুনরায় এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে, যা কোন ইউরোপীয় দলের জন্য একটি রেকর্ড ব্যবধান; তারা সর্বশেষ উপস্থিতি ১৯৫৮ সালে অংশগ্রহণ করেছিল।[৪৩]

চারবারের চ্যাম্পিয়ন এবং উয়েফা ইউরো ২০২০-এর বিজয়ী, ইতালি তাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপের মতো চূড়ান্ত পর্বে উত্তীর্ণ হয়ে ব্যর্থ হয়েছে, ২০২২ সালের ২৪শে মার্চ তারিখে উত্তর মেসিডোনিয়ার বিরুদ্ধে প্লে-অফ সেমি-ফাইনালে ১–০ গোলের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিল।[৪৪] ইতালি একমাত্র সাবেক চ্যাম্পিয়ন হিসেবে এই আসরে উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হয়েছে। ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের কারণে গত বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ রাশিয়াকে এই আসর থেকে অপনয়ন করা হয়েছে।[৪৫] পূর্বের টানা তিন আসরে অংশগ্রহণকারী এবং সর্বশেষ সাত আসরের ছয় আসরে অংশগ্রহণকারী নাইজেরিয়া ক্যাফের চূড়ান্ত প্লে-অফ পর্বে ঘানার কাছে অ্যাওয়ে গোলে পরাজিত হয়ে এই আসরে অংশগ্রহণ করে ব্যর্থ হয়েছে।

এএফসি (৬)

ক্যাফ (৫)

কনকাকাফ (৪)

কনমেবল (৪)

ওএফসি (০)

  • কোন দল উত্তীর্ণ হয়নি

উয়েফা (১৩)

  উত্তীর্ণ দল
  উর্ত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ দল
  প্রত্যাহারকৃত অথবা বহিষ্কৃত দল
  ফিফার সদস্য নয়

ড্র[সম্পাদনা]

এই আসরের চূড়ান্ত ড্র ২০২২ সালের ১লা এপ্রিল তারিখে ১৯:০০টায় (এএসটিকাতারের দোহার দোহা এক্সিবিশন অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।[৪৬] যেহেতু ড্রটি বাছাইপর্বের ম্যাচ সমাপ্তির পূর্বে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তাই আন্ত-কনফেডারেশন প্লে-অফের দুই বিজয়ী এবং উয়েফা প্লে-অফের পথ এ-এর বিজয়ী দলের নাম উক্ত সময়ে নিশ্চিত হয়নি।[৪৭]

এই আসরের ড্রয়ের জন্য ২০২২ সালের ৩১শে মার্চ তারিখে প্রকাশিত পুরুষদের ফিফা বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ের ওপর ভিত্তি করে ৩২টি দলকে চারটি পাত্রে বিভক্ত করা হয়েছিল।[৪৮] পাত্র ১-এ স্বাগতিক কাতার (যারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এ১ স্থানে নিযুক্ত হয়েছিল) এবং সেরা সাতটি দল ছিল। পাত্র ২-এ পরবর্তী সেরা আটটি দল ছিল, পরবর্তী সেরা আটটি দল পাত্র ৩-এ ছিল। পাত্র ৪-এ সর্বনিম্ন র‍্যাঙ্কিংয়ের পাঁচটি দলের পাশাপাশি আন্ত-কনফেডারেশন প্লে-অফের দুই বিজয়ী দল এবং উয়েফা প্লে-অফের পথ এ-এর বিজয়ী দল স্থান ছিল। ড্রয়ের সময় একটি নিয়ম ছিল; উয়েফার দল ব্যতীত একই কনফেডারেশনের দলগুলো একই গ্রুপে ড্র করা যাবে না, যার জন্য প্রতি গ্রুপে কমপক্ষে একটি এবং দুটির বেশি ছিল না। এই নিয়মটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত দলের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হয়েছিল, প্রতিটি প্লে-অফের সম্ভাব্য বিজয়ীদের ক্ষেত্রেও কনফেডারেশনের এই নিয়মটি প্রয়োগ করা হয়েছিল। ড্রটি পাত্র ১-এর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল এবং পাত্র ৪-এর মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছিল, প্রতিটি পাত্রের একটি দল নির্বাচিত হওয়ার পর ইংরেজি বর্ণানুক্রমিকভাবে প্রথম উপলব্ধ গ্রুপে পরবর্তী দলের স্থান বরাদ্দ করা হয়েছিল। অতঃপর (ম্যাচের সময়সূচীর উদ্দেশ্যে) গ্রুপের মধ্যে দলের অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছিল, যেখানে পাত্র ১-এর দলগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিটি গ্রুপের প্রথম অবস্থান ধারণ করেছিল।[৪৯] ড্রয়ের জন্য ব্যবহৃত পাত্রগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:[৫০]

পাত্র ১
 কাতার (৫২) (আয়োজক)
 ব্রাজিল (১)
 বেলজিয়াম (২)
 ফ্রান্স (৩)
 আর্জেন্টিনা (৪)
 ইংল্যান্ড (৬)
 স্পেন (৭)
 পর্তুগাল (৮)
পাত্র ২
 মেক্সিকো (৯)
 নেদারল্যান্ডস (১০)
 ডেনমার্ক (১১)
 জার্মানি (১২)
 উরুগুয়ে (১৩)
  সুইজারল্যান্ড (১৪)
 মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (১৫)
 ক্রোয়েশিয়া (১৬)
পাত্র ৩
 সেনেগাল (২০)
 ইরান (২১)
 জাপান (২৩)
 মরক্কো (২৪)
 সার্বিয়া (২৫)
 পোল্যান্ড (২৬)
 দক্ষিণ কোরিয়া (২৯)
 তিউনিসিয়া (৩৫)
পাত্র ৪
 ক্যামেরুন (৩৭)
 কানাডা (৩৮)
 ইকুয়েডর (৪৬)
 সৌদি আরব (৪৯)
 ঘানা (৬০)
 ওয়েলস (১৮)[খ]
 কোস্টা রিকা (৩১)[গ]
 অস্ট্রেলিয়া (৪২)[ঘ]

রেফারি[সম্পাদনা]

২০২২ সালের ১৯শে মে তারিখে, ফিফা এই আসরের জন্য ৩৬ জন রেফারি, ৬৯ জন সহকারী রেফারি এবং ২৪ জন ভিডিও সহকারী রেফারির তালিকা ঘোষণা করেছিল। ৩৬ জন রেফারির মধ্যে ফিফা আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের দুইজন করে রেফারি অন্তর্ভুক্ত করেছে।[৫১][৫২] এই আসরের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো মহিলা রেফারি ফিফাভুক্ত পুরুষদের কোন বড় প্রতিযোগিতার ম্যাচ পরিচালনা করবেন।

ফ্রান্সের স্তেফানি ফ্রাপার্ত, রুয়ান্ডার সালিমা মুকানসাঙ্গা এবং জাপানের ইয়োশিমি ইয়ামাশিতা প্রথম মহিলা রেফারি হিসেবে পুরুষদের বিশ্বকাপে নিযুক্ত হয়েছেন।[৫৩] তাদের সাথে তিনজন মহিলা সহকারী রেফারি যোগ দেবেন, এটিও ফিফা বিশ্বকাপে প্রথম। ফ্রাপার্ত ইতিমধ্যে ২০১৯ ফিফা মহিলা বিশ্বকাপের ফাইনাল পরিচালনা করেছিলেন।[৫৪] গাম্বিয়ার রেফারি বাকারি গাসামা এবং আর্জেন্টিনার সহকারী রেফারি হুয়ান পাবলো বেলাতি এই আসরের মাধ্যমে তৃতীয় ফিফা বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করবেন। বেলাতি ২০১৮ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে সহকারী রেফারির দায়িত্ব পালন করেছিলেন।[৫৫][৫৬][৫৭] এছাড়াও পূর্ববর্তী বিশ্বকাপে অনুপস্থিত থাকার পর এই আসরে দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত রেফারিগণ হলেন: মেক্সিকোর সেসার আর্তুরো রামোস এবং জাম্বিয়ার জানি সিকাজুয়ে এবং ইরানের সহকারী রেফারি মুহাম্মদরেজা মন্সুরি[৫৮][৫৯][৬০]

রেফারি
কনফেডারেশনরেফারি
এএফসিকাতার আব্দুলরহমান আল জসিম
অস্ট্রেলিয়া ক্রিস বিথ
ইরান আলিরেজা ফাগানি
চীন মা নিং
সংযুক্ত আরব আমিরাত আব্দুল্লাহ হাসান মুহাম্মদ
জাপান ইয়োশিমি ইয়ামাশিতা
ক্যাফগাম্বিয়া বাকারি গাসামা
আলজেরিয়া মুস্তফা গুরবাল
দক্ষিণ আফ্রিকা ভিক্তোর গোমেস
রুয়ান্ডা সালিমা মুকানসাঙ্গা
সেনেগাল মাগেত এনদিয়ায়ে
জাম্বিয়া জানি সিকাজুয়ে
কনকাকাফএল সালভাদোর ইভান বার্তোন
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসমাইল আল ফাতহ
গুয়াতেমালা মারিও এস্কোবার
হন্ডুরাস সাইদ মার্তিনেস
মেক্সিকো সেসার আর্তুরো রামোস
কনমেবলব্রাজিল রাফায়েল ক্লাউস
উরুগুয়ে আন্দ্রেস মাতোন্তে
পেরু কেভিন ওর্তেগা
আর্জেন্টিনা ফের্নান্দো রাপায়িনি
ব্রাজিল উইলতোন সাম্পাইয়ো
আর্জেন্টিনা ফাকুন্দো তেয়ো
ভেনেজুয়েলা হেসুস ভালেনসুয়েলা
ওএফসিনিউজিল্যান্ড ম্যাথু কঙ্গার
উয়েফাফ্রান্স স্তেফানি ফ্রাপার্ত
রোমানিয়া ইস্তভান কোভাচস
নেদারল্যান্ডস ডানি মাক্কেলি
পোল্যান্ড শিমোন মার্চিনিয়াক
স্পেন আন্তোনিও মাতেউ লাহোস
ইংল্যান্ড মাইকেল অলিভার
ইতালি দানিয়েলে ওরসাতো
জার্মানি ডানিয়েল সিবার্ট
ইংল্যান্ড অ্যান্থনি টেইলর
ফ্রান্স ক্লেমঁ তুরপেঁ
স্লোভেনিয়া স্লাভকো ভিনচিচ

সহকারী রেফারি
কনফেডারেশনসহকারী রেফারি
এএফসিইরান মুহাম্মদরেজা আবুলফজলি
কাতার তালিব আল-মাররি
সংযুক্ত আরব আমিরাত মুহাম্মদ আল-হাম্মাদি
সংযুক্ত আরব আমিরাত হাসান আল-মাহরি
কাতার সাউদ আল-মাকালিহ
অস্ট্রেলিয়া অ্যাশলি বিচাম
চীন ছাও ই
ইরান মুহাম্মদরেজা মন্সুরি
অস্ট্রেলিয়া অ্যান্টন শেটিনিন
চীন শি শিয়াং
ক্যাফমিশর মাহমুদ আবুলরিগাল
সেনেগাল জিব্রিল কামারা
অ্যাঙ্গোলা জেরসোন দোস সান্তোস
আলজেরিয়া আব্দুলহক ইতশিয়ালি
আলজেরিয়া মুকরান গুরারি
মোজাম্বিক আর্সেনিও মারেঙ্গুলা
ক্যামেরুন এলভিস নুপো
লেসোথো সুরু ফাতসুয়ানে
সেনেগাল আল হাজ মালিক সাম্বা
দক্ষিণ আফ্রিকা জাখেলে সিওয়েলা
কনকাকাফমার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কাইল অ্যাটকিন্স
মেক্সিকো কারেন দিয়াজ মেদিনা
ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র হেলপিস রায়মুন্দো ফেলিজ
মেক্সিকো মিগেল এর্নান্দেজ
হন্ডুরাস ওয়ালতের লোপেজ
কোস্টা রিকা হুয়ান কার্লোস মোরা
এল সালভাদোর দাভিদ মোরান
মেক্সিকো আলবের্তো মোরিন
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ক্যাথরিন নেসবিট
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোরি পার্কার
ত্রিনিদাদ ও টোবাগো ক্যালেব ওয়েলস
সুরিনাম জাকারি জিগলার
কনমেবলব্রাজিল নেউজা বাক
আর্জেন্টিনা হুয়ান পাবলো বেলাতি
আর্জেন্টিনা দিয়েগো বোনফা
ব্রাজিল ব্রুনো বোস্কিলিয়া
আর্জেন্টিনা এজেকিয়েল ব্রাইলোভস্কি
আর্জেন্টিনা গাব্রিয়েল চাদে
ব্রাজিল রোদ্রিগো ফিগেইরেদো
ভেনেজুয়েলা তুলিও মোরেনো
পেরু মাইকেল ওরুয়ে
ব্রাজিল ব্রুনো পিরেস
পেরু হেসুস সানচেস
ব্রাজিল দানিলো মানিস
উরুগুয়ে মার্তিন সোপি
উরুগুয়ে নিকোলাস তারান
ভেনেজুয়েলা হোর্হে উরেগো
ওএফসিটোঙ্গা তেভিতা মাকাসিনি
নিউজিল্যান্ড মার্ক রুল
উয়েফারোমানিয়া ওভিদিউ আর্তেনে
ইংল্যান্ড সিমন বেনেট
ইংল্যান্ড গ্যারি বেসউইক
ইংল্যান্ড স্টুয়ার্ট বার্ট
ইতালি চিরো কারবোনে
স্পেন পাউ সেব্রিয়ান দেভিস
ফ্রান্স নিকোলাস দানোস
নেদারল্যান্ডস ইয়ান ডি ভ্রিস
স্পেন রোবের্তো দিয়াস পেরেস
জার্মানি রাফায়েল ফল্টিন
ইতালি আলেসসান্দ্রো জাল্লাতিনি
ফ্রান্স সিরিল গ্রঁগোর
স্লোভেনিয়া তোমাজ ক্লানচনিক
স্লোভেনিয়া আন্দ্রাজ কোভাচিচ
পোল্যান্ড তোমাশ লিস্তকিয়েভিচ
রোমানিয়া ভাসিলে মারিনেস্কু
ইংল্যান্ড অ্যাডাম নান
জার্মানি ইয়ান জাইডেল
পোল্যান্ড পাভেউ সোকোলনিকি
নেদারল্যান্ডস হেসেল স্টেখস্ট্রা

ভিডিও সহকারী রেফারি
কনফেডারেশনভিডিও সহকারী রেফারি
এএফসিকাতার আব্দুল্লাহ আল মাররি
সিঙ্গাপুর মুহাম্মদ তাকি
অস্ট্রেলিয়া শন ইভান্স
ক্যাফমরক্কো রেদুয়ান জিয়াদ
মরক্কো আদিল জুরাক
কনকাকাফকানাডা ড্রু ফিশার
মেক্সিকো ফের্নান্দো গেরেরো
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর্মান্দো ভিয়ারিয়াল
কনমেবলচিলি হুলিও বাস্কুনিয়ান
কলম্বিয়া নিকোলাস গায়ো
উরুগুয়ে লেওদান গোন্সালেস
ভেনেজুয়েলা হুয়ান সোতো
আর্জেন্টিনা মাউরো ভিলিয়ানো
উয়েফাফ্রান্স জেরোম ব্রিজার
জার্মানি বাস্টিয়ান ডানকার্ট
স্পেন রিকার্দো বেঙ্গোয়েচেয়া
জার্মানি মার্কো ফ্রিৎস
স্পেন আলেহান্দ্রো এর্নান্দেস
ইতালি মাসসিমিলিয়ানো ইররাতি
পোল্যান্ড তোমাশ কিয়াতকোভস্কি
স্পেন হুয়ান মার্তিনেস মুনুয়েরা
ফ্রান্স বেনোয়া মিয়ো
ইতালি পাওলো ভালেরি
নেদারল্যান্ডস পল ভান বুকেল

মাঠ[সম্পাদনা]

২০১০ সালের মার্চ মাসের শুরুর দিকে বিশ্বকাপের এই আসরের জন্য প্রস্তাবিত পাঁচটি মাঠের নাম প্রকাশ করা হয়েছিল। কাতার স্টেডিয়ামগুলোতে কাতারের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক দিকগুলো প্রতিফলিত করতে এবং স্টেডিয়ামগুলোর নকশায় বেশ কিছু শর্তাবলী পূরণ করতে চেয়েছিল, যেগুলো হলো: উত্তরাধিকার, স্বাচ্ছন্দ্য, অভিগম্যতা এবং স্থায়িত্ব।[৬১] কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল যে, স্টেডিয়ামগুলো শীতলকরণ ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে সজ্জিত করা হবে, যা স্টেডিয়ামের অভ্যন্তরের তাপমাত্রা ২০ °C (৩৬ °F) পর্যন্ত হ্রাস করার লক্ষ্যে কাজ করবে, তবে এটি তখন নিশ্চিত হওয়া যায়নি যে এটি প্রকৃতপক্ষে খোলা স্টেডিয়ামে কাজ করবে কিনা। বিপণনের ক্ষেত্রে স্টেডিয়ামগুলোকে শূন্য বর্জ্য হিসেবে বর্ণনা করে বিবৃতি প্রদান করা হয়েছিল এবং বিশ্বকাপের পর স্টেডিয়ামগুলোর উপরের স্তরগুলো বিচ্ছিন্ন করে কম উন্নত ক্রীড়া অবকাঠামোর দেশগুলোতে দান করা হবে বলে জানানো হয়েছে।[৬২][৬৩] কাতার বিশ্বকাপের সকল স্টেডিয়ামের জন্য গ্লোবাল সাসটেইনেবিলিটি অ্যাসেসমেন্ট সিস্টেম (জিএসএএস) দ্বারা অনুগত এবং প্রত্যয়িত হতে চেয়েছিল। যে পাঁচটি স্টেডিয়াম প্রকল্প চালু করা হয়েছিল, তার সবগুলোই জার্মান স্থপতি আলবার্ট স্পেয়ার অ্যান্ড পার্টনার্স দ্বারা নকশা করা হয়েছে।[৬৪] আল বাইত স্টেডিয়ামটি এই আসরের জন্য ব্যবহৃত আটটির মধ্যে একমাত্র ইন্ডোর স্টেডিয়াম হবে।[৬৫]

২০১০ সালের ৯ই ডিসেম্বর তারিখে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ফিফার তৎকালীন সভাপতি সেপ ব্ল্যাটারকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছিল যে অন্যান্য দেশগুলো বিশ্বকাপের সময় কিছু ম্যাচ আয়োজন করতে পারে। তবে নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উক্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।[৬৬] ব্ল্যাটার জানিয়েছিলেন যে এই জাতীয় কোন সিদ্ধান্ত অবশ্যই প্রথমে কাতারকে নিতে হবে এবং তারপরে ফিফার নির্বাহী কমিটি দ্বারা অনুমোদিত হতে হবে।[৬৭] জর্ডানের রাজপুত্র আলি বিন আল হুসেন অস্ট্রেলিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেছিলেন যে বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সম্ভবত সৌদি আরবে খেলা আয়োজন করা এই অঞ্চলের জনগণকে একত্র করতে সহায়তা করবে।[৬৮]

ব্যাংক অব আমেরিকার বিনিয়োগ ব্যাংকিং বিভাগ মেরিল লিঞ্চ কর্তৃক ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাতারের আয়োজকরা ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের কারণে ফিফাকে আরও কম সংখ্যক স্টেডিয়াম অনুমোদনের জন্য অনুরোধ করেছে।[৬৯] ব্লুমবার্গ.কম জানিয়েছিল যে, কাতার মাঠের সংখ্যা মূলত পরিকল্পিত ১২টি থেকে কমিয়ে ৮ বা ৯-এ নামিয়ে আনতে চায়।[৭০]

যদিও ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসের মধ্যে, পাঁচ বছরের মধ্যে কাতারকে কতগুলি স্টেডিয়াম প্রস্তুত করতে হবে তা ফিফা চূড়ান্ত করতে পারেনি, কাতারের সর্বোচ্চ বিতরণ ও উত্তরাধিকার কমিটি জানিয়েছিল যে তারা আশা করেছিল যে দোহা এবং এর নিকটবর্তী আটটি (আল খুর ব্যতীত) মাঠ থাকবে।[৭১][৭২] ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে, জান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছিলেন যে ফিফা রাজনৈতিক উত্তেজনা হ্রাস করার জন্য এই আসর চলাকালীন প্রতিবেশী দেশগুলোতে ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে।[৭৩]

স্টেডিয়াম ৯৭৪ (পূর্বে রাস আবু আবুদ স্টেডিয়াম নামে পরিচিত) সুপ্রিম কমিটি ফর ডেলিভারি অ্যান্ড লেগাসি (এসসি) দ্বারা এই আসরের সপ্তম মাঠ হিসেবে নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। এর নামকরণ স্টেডিয়ামে নির্মাণে ব্যবহৃত শিপিং কন্টেইনারের সংখ্যা এবং কাতারের আন্তর্জাতিক সংযোগ নম্বর অনুযায়ী করা হয়েছে। স্টেডিয়ামটি এই প্রতিযোগিতার সময় সাতটি ম্যাচ আয়োজন করবে।[৭৪]

লুসাইলআল খুরদোহা
লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়ামআল বাইত স্টেডিয়ামস্টেডিয়াম ৯৭৪আল সুমামাহ স্টেডিয়াম
ধারণক্ষমতা: ৮০,০০০ধারণক্ষমতা: ৬০,০০০[৭৫]ধারণক্ষমতা: ৪০,০০০[৭৬]ধারণক্ষমতা: ৪০,০০০[৭৭]
কাতারের আয়োজক শহরদোহা অঞ্চলের স্টেডিয়াম
আল রাইয়ানআল ওয়াক্রাহ
খলিফা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামএডুকেশন সিটি স্টেডিয়ামআহমেদ বিন আলী স্টেডিয়াম[ঙ]আল জানুব স্টেডিয়াম
ধারণক্ষমতা: ৪৫,৪১৬[৭৮]ধারণক্ষমতা: ৪৫,৩৫০[৭৯]ধারণক্ষমতা: ৪৪,৭৪০[৮০]ধারণক্ষমতা: ৪০,০০০[৮১]

সময়সূচী[সম্পাদনা]

কাতারের গ্রীষ্মের তীব্র তাপ এড়ানোর জন্য পূর্ববর্তী ফিফা বিশ্বকাপের বিপরীতে (যা সাধারণত জুন এবং জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে) এই বিশ্বকাপটি নভেম্বর এবং ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হবে। এর ফলস্বরূপ, জুলাই অথবা আগস্ট মাসের শেষের দিকে শুরু হওয়া ঘরোয়া ফুটবল লিগগুলোর মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে এই বিশ্বকাপটি অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে সকল প্রধান ইউরোপীয় লিগ রয়েছে, যেগুলো বিশ্বকাপের জন্য তাদের ঘরোয়া সময়সূচীতে বর্ধিত বিরতি অন্তর্ভুক্ত করতে বাধ্য হয়েছে। এর বিপরীতে, যেসকল ঘরোয়া লিগ সাধারণত উত্তর বসন্তে তাদের ঋতু শুরু হয় এবং গ্রীষ্মের সকল আয়োজিত হয় (যেমন মেজর লিগ সকার) এই আসর শুরু হওয়ার পূর্বে তাদের মৌসুম শেষ করতে সক্ষম হবে।

২০২০ সালের ১৫শে জুলাই তারিখে, ফিফা এই আসরের ম্যাচের সময়সূচী নিশ্চিত করেছে।[৮২] এই আসরের উদ্বোধনী দিনে স্বাগতিক কাতারের ম্যাচের মাধ্যমে বিশ্বকাপ শুরু হবে, যা ২০২২ সালের ২১শে নভেম্বর তারিখে আল বাইত স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। গ্রুপ পর্বে প্রতিদিন চারটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, প্রথম দুই পর্বের জন্য কিক-অফের সময় হচ্ছে ১৩:০০, ১৬:০০, ১৯:০০ এবং ২২:০০ এবং শেষ পর্বের একই সাথে সকল ম্যাচের কিক-অফ হবে, অন্যদিকে নকআউট পর্বের ম্যাচের জন্য সময় হচ্ছে ১৮:০০ এবং ২২:০০। ২০২২ সালের ১৭ই ডিসেম্বর তারিখে খলিফা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে এবং ১৮ই ডিসেম্বর তারিখে লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়ামে ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে; উভয় ম্যাচই ১৮:০০টায় অনুষ্ঠিত হবে।[৮৩]

পূর্ববর্তী আসরের বিপরীতে (যেখানে প্রতিটি ম্যাচের জন্য মাঠ এবং কিক-অফ সময় ড্রয়ের পূর্বে নির্ধারণ করা হতো) প্রতিটি ম্যাচদিনের জন্য একটি নির্দিষ্ট মাঠ এবং কিক-অফের সময় গ্রুপ পর্বের ড্রয়ের পরে নির্ধারণ করা হয়েছিল। মাঠের ঘনিষ্ঠ নৈকট্যের কারণে, যা কাতারের দর্শকদের জন্য স্টেডিয়াম বরাদ্দ এবং টেলিভিশন দর্শকদের জন্য কিক-অফ সময়কে সামঞ্জস্য করার অনুমতি দেয়।[৮২] প্রতিটি গ্রুপের জন্য গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো নিম্নলিখিত স্টেডিয়ামগুলোতে বরাদ্দ করা হয়েছে:[৮৩]

২০২২ সালের ১লা এপ্রিল তারিখে, ড্রয়ের পর ফিফা গ্রুপ পর্বের মাঠ এবং কিক-অফের সময় নিশ্চিত করেছে।[৮৪][৮৫] ১১ই আগস্ট তারিখে, ফিফা জানায় যে কাতার বনাম ইকুয়েডরের ম্যাচটি একদিন নির্ধারিত দিনের একদিন পূর্বে অনুষ্ঠিত হবে, যার ফলে ম্যাচটি এই আসরের উদ্বোধনী ম্যাচ হবে। এই সংশোধনীর পূর্বে সেনেগাল বনাম নেদারল্যান্ডসের ম্যাচটি এই আসরের উদ্বোধনী ম্যাচ ছিল, যা সংশোধনীর পর মুক্ত সময়ে স্থানান্তর করা হয়েছে।[৮৬]

গ্রুপ পর্ব[সম্পাদনা]

গ্রুপ এ[সম্পাদনা]

অবদলম্যাচজয়ড্রহারস্বগোবিগোগোপাপয়েন্টযোগ্যতা অর্জন
 কাতার (H)নকআউট পর্বে উত্তীর্ণ
 ইকুয়েডর
 সেনেগাল
 নেদারল্যান্ডস
প্রথম ম্যাচ ২০ নভেম্বর ২০২২ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে। উৎস: ফিফা
(H) স্বাগতিক।


গ্রুপ বি[সম্পাদনা]

অবদলম্যাচজয়ড্রহারস্বগোবিগোগোপাপয়েন্টযোগ্যতা অর্জন
 ইংল্যান্ডনকআউট পর্বে উত্তীর্ণ
 ইরান
 মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
 ওয়েলস
প্রথম ম্যাচ ২১ নভেম্বর ২০২২ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে। উৎস: ফিফা


গ্রুপ সি[সম্পাদনা]

অবদলম্যাচজয়ড্রহারস্বগোবিগোগোপাপয়েন্টযোগ্যতা অর্জন
 আর্জেন্টিনানকআউট পর্বে উত্তীর্ণ
 সৌদি আরব
 মেক্সিকো
 পোল্যান্ড
প্রথম ম্যাচ ২২ নভেম্বর ২০২২ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে। উৎস: ফিফা


গ্রুপ ডি[সম্পাদনা]

অবদলম্যাচজয়ড্রহারস্বগোবিগোগোপাপয়েন্টযোগ্যতা অর্জন
 ফ্রান্সনকআউট পর্বে উত্তীর্ণ
 অস্ট্রেলিয়া
 ডেনমার্ক
 তিউনিসিয়া
প্রথম ম্যাচ ২২ নভেম্বর ২০২২ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে। উৎস: ফিফা


গ্রুপ ই[সম্পাদনা]

অবদলম্যাচজয়ড্রহারস্বগোবিগোগোপাপয়েন্টযোগ্যতা অর্জন
 স্পেননকআউট পর্বে উত্তীর্ণ
 কোস্টা রিকা
 জার্মানি
 জাপান
প্রথম ম্যাচ ২৩ নভেম্বর ২০২২ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে। উৎস: ফিফা


গ্রুপ এফ[সম্পাদনা]

অবদলম্যাচজয়ড্রহারস্বগোবিগোগোপাপয়েন্টযোগ্যতা অর্জন
 বেলজিয়ামনকআউট পর্বে উত্তীর্ণ
 কানাডা
 মরক্কো
 ক্রোয়েশিয়া
প্রথম ম্যাচ ২৩ নভেম্বর ২০২২ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে। উৎস: ফিফা


গ্রুপ জি[সম্পাদনা]

অবদলম্যাচজয়ড্রহারস্বগোবিগোগোপাপয়েন্টযোগ্যতা অর্জন
 ব্রাজিলনকআউট পর্বে উত্তীর্ণ
 সার্বিয়া
  সুইজারল্যান্ড
 ক্যামেরুন
প্রথম ম্যাচ ২৪ নভেম্বর ২০২২ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে। উৎস: ফিফা


গ্রুপ এইচ[সম্পাদনা]

অবদলম্যাচজয়ড্রহারস্বগোবিগোগোপাপয়েন্টযোগ্যতা অর্জন
 পর্তুগালনকআউট পর্বে উত্তীর্ণ
 ঘানা
 উরুগুয়ে
 দক্ষিণ কোরিয়া
প্রথম ম্যাচ ২৪ নভেম্বর ২০২২ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে। উৎস: ফিফা


নকআউট পর্ব[সম্পাদনা]

নকআউট পর্বে, যদি একটি খেলার ফলাফল ৯০ মিনিট পরেও সমতায় থাকে, অতিরিক্ত সময়ের খেলা অনুষ্ঠিত হবে (১৫ মিনিট করে দুই অর্ধে ৩০ মিনিট), যেখানে প্রতিটি দলের ষষ্ঠ খেলোয়াড় বদল করার অনুমতি দেওয়া হবে। যদি অতিরিক্ত সময়ের পরেও খেলার ফলাফল সমতায় থাকে, তবে খেলার ফলাফল পেনাল্টি শুট-আউটের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।[৮৭]

বন্ধনী[সম্পাদনা]

 
১৬ দলের পর্বকোয়ার্টার-ফাইনালসেমি-ফাইনালফাইনাল
 
              
 
৩ ডিসেম্বর – আল রাইয়ান (খলিফা)
 
 
গ্রুপ এ-এ প্রথম স্থান অধিকারী
 
৯ ডিসেম্বর – লুসাইল
 
গ্রুপ বি-এ দ্বিতীয় স্থান অধিকারী
 
৪৯তম ম্যাচের বিজয়ী
 
৩ ডিসেম্বর – আল রাইয়ান (আহমেদ)
 
৫০তম ম্যাচের বিজয়ী
 
গ্রুপ সি-এ প্রথম স্থান অধিকারী
 
১২ ডিসেম্বর – লুসাইল
 
গ্রুপ ডি-এ দ্বিতীয় স্থান অধিকারী
 
৫৭তম ম্যাচের বিজয়ী
 
৫ ডিসেম্বর – আল ওয়াক্রাহ
 
৫৮তম ম্যাচের বিজয়ী
 
গ্রুপ ই-এ প্রথম স্থান অধিকারী
 
৯ ডিসেম্বর – আল রাইয়ান (এডুকেশন)
 
গ্রুপ এফ-এ দ্বিতীয় স্থান অধিকারী
 
৫৩তম ম্যাচের বিজয়ী
 
৫ ডিসেম্বর – দোহা (আবু আবুদ)
 
৫৪তম ম্যাচের বিজয়ী
 
গ্রুপ জি-এ প্রথম স্থান অধিকারী
 
১৮ ডিসেম্বর – লুসাইল
 
গ্রুপ এইচ-এ দ্বিতীয় স্থান অধিকারী
 
৬১তম ম্যাচের বিজয়ী
 
৪ ডিসেম্বর – আল খুর
 
৬২তম ম্যাচের বিজয়ী
 
গ্রুপ বি-এ প্রথম স্থান অধিকারী
 
১০ ডিসেম্বর – আল খুর
 
গ্রুপ এ-এ দ্বিতীয় স্থান অধিকারী
 
৫১তম ম্যাচের বিজয়ী
 
৪ ডিসেম্বর – দোহা (সুমামাহ)
 
৫২তম ম্যাচের বিজয়ী
 
গ্রুপ ডি-এ প্রথম স্থান অধিকারী
 
১৩ ডিসেম্বর – আল খুর
 
গ্রুপ সি-এ দ্বিতীয় স্থান অধিকারী
 
৫৯তম ম্যাচের বিজয়ী
 
৬ ডিসেম্বর – আল রাইয়ান (এডুকেশন)
 
৬০তম ম্যাচের বিজয়ীতৃতীয় স্থান নির্ধারণী
 
গ্রুপ এফ-এ প্রথম স্থান অধিকারী
 
১০ ডিসেম্বর – দোহা (সুমামাহ)১৭ ডিসেম্বর – আল রাইয়ান (খলিফা)
 
গ্রুপ ই-এ দ্বিতীয় স্থান অধিকারী
 
৫৫তম ম্যাচের বিজয়ী৬১তম ম্যাচের পরাজিত দল
 
৬ ডিসেম্বর – লুসাইল
 
৫৬তম ম্যাচের বিজয়ী৬২তম ম্যাচের পরাজিত দল
 
গ্রুপ এইচ-এ প্রথম স্থান অধিকারী
 
 
গ্রুপ জি-এ দ্বিতীয় স্থান অধিকারী
 

১৬ দলের পর্ব[সম্পাদনা]

৩ ডিসেম্বর ২০২২
১৮:০০
গ্রুপ এ-এ প্রথম স্থান অধিকারী৪৯তম ম্যাচগ্রুপ বি-এ দ্বিতীয় স্থান অধিকারী
প্রতিবেদন

৩ ডিসেম্বর ২০২২
২২:০০
গ্রুপ সি-এ প্রথম স্থান অধিকারী৫০তম ম্যাচগ্রুপ ডি-এ দ্বিতীয় স্থান অধিকারী
প্রতিবেদন

৪ ডিসেম্বর ২০২২
১৮:০০
গ্রুপ ডি-এ প্রথম স্থান অধিকারী৫২তম ম্যাচগ্রুপ সি-এ দ্বিতীয় স্থান অধিকারী
প্রতিবেদন

৪ ডিসেম্বর ২০২২
২২:০০
গ্রুপ বি-এ প্রথম স্থান অধিকারী৫১তম ম্যাচগ্রুপ এ-এ দ্বিতীয় স্থান অধিকারী
প্রতিবেদন

৫ ডিসেম্বর ২০২২
১৮:০০
গ্রুপ ই-এ প্রথম স্থান অধিকারী৫৩তম ম্যাচগ্রুপ এফ-এ দ্বিতীয় স্থান অধিকারী
প্রতিবেদন

৫ ডিসেম্বর ২০২২
২২:০০
গ্রুপ জি-এ প্রথম স্থান অধিকারী৫৪তম ম্যাচগ্রুপ এইচ-এ দ্বিতীয় স্থান অধিকারী
প্রতিবেদন

৬ ডিসেম্বর ২০২২
১৮:০০
গ্রুপ এফ-এ প্রথম স্থান অধিকারী৫৫তম ম্যাচগ্রুপ ই-এ দ্বিতীয় স্থান অধিকারী
প্রতিবেদন

৬ ডিসেম্বর ২০২২
২২:০০
গ্রুপ এইচ-এ প্রথম স্থান অধিকারী৫৬তম ম্যাচগ্রুপ জি-এ দ্বিতীয় স্থান অধিকারী
প্রতিবেদন

কোয়ার্টার-ফাইনাল[সম্পাদনা]

৯ ডিসেম্বর ২০২২
১৮:০০
ম্যাচ ৫৩-এর বিজয়ী৫৮তম ম্যাচম্যাচ ৫৪-এর বিজয়ী
প্রতিবেদন

৯ ডিসেম্বর ২০২২
২২:০০
ম্যাচ ৪৯-এর বিজয়ী৫৭তম ম্যাচম্যাচ ৫০-এর বিজয়ী
প্রতিবেদন

১০ ডিসেম্বর ২০২২
১৮:০০
ম্যাচ ৫৫-এর বিজয়ী৬০তম ম্যাচম্যাচ ৫৬-এর বিজয়ী
প্রতিবেদন

১০ ডিসেম্বর ২০২২
২২:০০
ম্যাচ ৫১-এর বিজয়ী৫৯তম ম্যাচম্যাচ ৫২-এর বিজয়ী
প্রতিবেদন

সেমি-ফাইনাল[সম্পাদনা]

১৩ ডিসেম্বর ২০২২
২২:০০
ম্যাচ ৫৭-এর বিজয়ী৬১তম ম্যাচম্যাচ ৫৮-এর বিজয়ী
প্রতিবেদন

১৪ ডিসেম্বর ২০২২
২২:০০
ম্যাচ ৫৯-এর বিজয়ী৬২তম ম্যাচম্যাচ ৬০-এর বিজয়ী
প্রতিবেদন

তৃতীয় স্থান নির্ধারণী[সম্পাদনা]

১৭ ডিসেম্বর ২০২২
১৮:০০
ম্যাচ ৬১-এ পরাজিত দল৬৩তম ম্যাচম্যাচ ৬২-এ পরাজিত দল
প্রতিবেদন

ফাইনাল[সম্পাদনা]

১৮ ডিসেম্বর ২০২২
১৮:০০
ম্যাচ ৬১-এর বিজয়ী৬৪তম ম্যাচম্যাচ ৬২-এর বিজয়ী
প্রতিবেদন

প্রস্তুতি ও ব্যয়[সম্পাদনা]

বিপণন[সম্পাদনা]

এই আসরের আনুষ্ঠানিক প্রতীকটি লিসবন-ভিত্তিক সংস্থা ব্রান্দিয়া সেন্ত্রাল এজেন্সি নকশা করেছে এবং ২০১৯ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর তারিখে দোহা টাওয়ারকাতারা সাংস্কৃতিক গ্রাম অ্যাম্ফিথিয়েটারমশাইরাব ডাউনটাউন দোহা এবং জুবারাহে একযোগে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তা উন্মোচন করা হয়েছিল। এটি আসরের শিরোপাঅসীম প্রতীক এবং ইংরেজি সংখ্যা "৮"-এর অনুরূপ করার জন্য নকশা করা হয়েছে, যা "আন্তঃসংযুক্ত" প্রতিযোগিতা এবং আটটি আয়োজক স্টেডিয়ামের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেছে। এটি আসরের শীতকালীন সময়সূচীকে নির্দেশ করার জন্য শালের চিত্র ব্যবহারে করা পাশাপাশি এতে মরুভূমির টিলার অনুরূপ তরঙ্গ রয়েছে। প্রতীকের লেখার টাইপোগ্রাফিতে কাশিদা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে – এছাড়াও এতে টাইপোগ্রাফিক জোর দেওয়ার জন্য আরবি লিপিতে অক্ষরের কিছু অংশ প্রসারিত করার অনুশীলন দেখা গিয়েছে।[৮৮][৮৯][৯০]

মাস্কট[সম্পাদনা]

২০২২ সালের ১লা এপ্রিল তারিখে গ্রুপ পর্বের ড্রয়ের সময় এই আসরের আনুষ্ঠানিক মাস্কট উন্মোচন করা হয়েছিল। মাস্কটটির নাম হচ্ছে লা'ইব (যা একটি আরবি শব্দ), আরবিতে যার অর্থ "সুদক্ষ খেলোয়াড়"। ফিফার প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে: "লা'ইব তার তারুণ্যের মনোভাবের জন্য পরিচিত হবে; সে যেখানেই যাক না কেন আনন্দ এবং আত্মবিশ্বাস ছড়িয়ে দেবে" এবং চরিত্রটির আনুষ্ঠানিক পটভূমি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত করে দাবি করা হয়েছে যে এটি একটি সমান্তরাল বিশ্ব থেকে আসা মাস্কট, যেখানে প্রতিযোগিতার পূর্ববর্তী মাস্কটগুলো বসবাস করে, "এমন একটি বিশ্ব যেখানে ধারণা এবং সৃজনশীলতা প্রত্যেকের মনে বাস করে এমন চরিত্রগুলোর ভিত্তি গঠন করে"।[৯১]

ম্যাচ বল[সম্পাদনা]

২০২২ সালের ৩০শে মার্চ তারিখে এই আসরের আনুষ্ঠানিক ম্যাচ বল, "আল রিহলা" উন্মোচন করা হয়েছিল। এটি মূলত কাতারের সংস্কৃতি, স্থাপত্য, ঐতিহাসিক নৌকা এবং পতাকা দ্বারা অনুপ্রাণিত। আরবি ভাষায় "আল রিহলা" শব্দের অর্থ "যাত্রা"। বলটি অগ্রাধিকার হিসেবে স্থায়িত্বের সাথে নকশা করা হয়েছিল, এটি জল-ভিত্তিক আঠালো কালি দিয়ে তৈরি করা প্রথম আনুষ্ঠানিক ম্যাচ বল। যেহেতু "খেলাটি দ্রুততর হচ্ছে" এবং এর "গতি বাড়ছে", তাই আডিডাস এতে কিছু নতুন বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করেছে, যা গতি সরবরাহ করার পাশাপাশি বলের নির্ভুলতা উন্নত করবে।[৯২]

সঙ্গীত[সম্পাদনা]

এই আসরের আনুষ্ঠানিক অ্যালবামের প্রথম গান হলো মার্কিন সঙ্গীতশিল্পী ত্রিনিদাদ কারদোনা, নাইজেরীয় সঙ্গীতশিল্পী দাভিদো এবং কাতারি সঙ্গীতশিল্পী আইশার "হাইয়া হাইয়া (বেটার টুগেদার)",[৯৩] যা ২০২২ সালের ১লা এপ্রিল তারিখে চিত্রসঙ্গীতসহ প্রকাশ করা হয়েছে।[৯৪][৯৫]

অ্যালবামের দ্বিতীয় গান হলো "আরহবো", যেখানে কণ্ঠ দিয়েছেন জিমস এবং ওসুনা; গানটি ২০২২ সালের ১৯ আগস্ট মাসে চিত্রসঙ্গীতসহ প্রকাশ করা হয়েছে।[৯৬]

বিতর্ক[সম্পাদনা]

বেশ কয়েকটি গোষ্ঠী এবং গণমাধ্যম সংস্থা এই আসরটি আয়োজনে কাতারের উপযুক্ততা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে,[৯৭][৯৮] কাতারে সমকামিতার অবৈধতার কারণে মানবাধিকার, বিশেষ করে শ্রমিকদের অবস্থা এবং এলজিবিটি সম্প্রদায়ের ভক্তদের অধিকারের ব্যাখ্যা সম্পর্কিত।[৯৮][৯৯][১০০][১০১] ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে, কাতার ২০২২ সালের বিশ্বকাপে রংধনু পতাকার অনুমতি দিয়েছিল।[১০২] দেশটির ২০২২ সালের বিশ্বকাপ নিলামডাকের প্রধান নির্বাহী হাসান আবদুল্লাহ আল সাওয়াদি বলেছিলেন যে কাতার এই অনুষ্ঠানের সময় মদ সেবনের অনুমতি দেবে,[১০৩][১০৪] যদিও প্রকাশ্যে মদ্যপানের অনুমতি নেই, কারণ দেশের আইনী ব্যবস্থা শরিয়তের উপর ভিত্তি করে তৈরি।[১০৫]

এই আসরের আয়োজক দেশ হিসেবে কাতার নির্বাচিত বেশ বিতর্ক হয়েছে; ফিফা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছিল এবং কাতারকে বিশ্বকাপ "কেনার" অনুমতি দেওয়ার জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছিল,[১০৬] নির্মাণ শ্রমিকদের প্রতি আচরণ নিয়ে বেশ কিছু মানবাধিকার সংস্থা প্রশ্ন তুলেছিল[১০৭] এবং পরিকল্পনাগুলো বাস্তবে পরিণত করার জন্য প্রয়োজনীয় উচ্চ ব্যয়ের সমালোচনা করেছিল। জলবায়ু পরিস্থিতির কারণে কেউ কেউ কাতারে প্রতিযোগিতাটি আয়োজনকে অসম্ভব বলে অভিহিত করেছিল, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্টেডিয়ামগুলোর জন্য প্রাথমিক পরিকল্পনায় গ্রীষ্ম থেকে শীতকালে একটি সম্ভাব্য তারিখপরিবর্তনের পথ তৈরি করেছিল।

২০১৪ সালের মে মাসে, সেপ ব্ল্যাটার (যিনি আয়োজক নির্বাচনের সময় ফিফার সভাপতি ছিলেন, তবে পরবর্তীকালে অবৈধ অর্থ প্রদানের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিলেন) মন্তব্য করেছিলেন যে কাতারকে বিশ্বকাপ আয়োজন করতে দেওয়া চরম গরমের কারণে একটি "ভুল" ছিল।[১০৮][১০৯] তবে আফ্রিকান ও এশীয় কনফেডারেশনের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে ব্ল্যাটার বলেছিলেন যে, দুর্নীতির অভিযোগ এবং পৃষ্ঠপোষকসহ কিছু সমালোচনা "বর্ণবাদ ও বৈষম্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত"।[১১০]

অভিবাসী শ্রমিক, দাসত্বের অভিযোগ ও মৃত্যু[সম্পাদনা]

অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকারের বিষয়টিও সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল, ২০১৩ সালে দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকার একটি তদন্তে দাবি করা হয়েছিল যে অনেক শ্রমিককে খাদ্য ও পানি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল, তাদের কাছ থেকে তাদের পরিচয়পত্র কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এবং তাদের সময়মতো বা একেবারেই বেতন প্রদান হয়নি, তাদের মধ্যে কয়েকজনকে কার্যত ক্রীতদাস করে তোলা হয়েছিল। দ্য গার্ডিয়ান অনুমান করেছিল যে, কাফালা ব্যবস্থার সংস্কার ছাড়াই প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হওয়ার সময়,[১১১] ২ মিলিয়ন-শক্তিশালী অভিবাসী কর্মীদের মধ্যে ৪,০০০ জন শ্রমিক শিথিল নিরাপত্তা এবং অন্যান্য কারণে মারা যেতে পারে।[১০৭][১১২] এই দাবিগুলো যে সত্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছিল যে তা হলো বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে কাতারের নিলামডাক জয় করার পর ২০১০ সাল থেকে ৫২২ জন নেপালি শ্রমিক[১১৩] এবং ৭০০-এরও বেশি ভারতীয় শ্রমিক মারা গিয়েছিল;[১১১] প্রতি বছর প্রায় ২৫০ জন ভারতীয় শ্রমিক মারা যায়।[১১৪] কাতারে ৫০ লক্ষ ভারতীয় শ্রমিক থাকার কারণে, ভারত সরকার বলেছিল যে এটি বেশ স্বাভাবিক সংখ্যক মৃত্যুর সংখ্যা।[১১৪]

২০১৫ সালে, বিবিসির চারজন সাংবাদিকের একটি দলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং দেশে শ্রমিকদের অবস্থা সম্পর্কে প্রতিবেদন করার চেষ্টা করার অভিযোগে তাদের দুই দিনের জন্য আটক করা হয়েছিল।[১১৫] কাতার সরকারের অতিথি হিসেবে সাংবাদিকদের দেশটি সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।[১১৫]

২০১৫ সালের জুন মাসে, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল যে ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশনের দাবি ছিল যে বিশ্বকাপ সম্পর্কিত অবকাঠামো এবং রিয়াল এস্টেট প্রকল্পগুলোতে কাজ করার সময় ১,২০০-এরও বেশি শ্রমিক মারা গেছে এবং কাতার সরকারের পাল্টা দাবি যে মৃত্যুর কোন ঘটনা ঘটেনি।[১১৬] পরবর্তীকালে বিবিসি জানিয়েছিল যে ২০১১ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে কাতারে বিশ্বকাপের নির্মাণে ১,২০০ জন শ্রমিকের মৃত্যুর চিত্রটি সঠিক নয় এবং ১,২০০ সংখ্যাটি দ্বারা কেবল বিশ্বকাপের প্রস্তুতির সাথে জড়িত শ্রমিকদের নয় বরং কাতারে কর্মরত সকল ভারতীয় এবং নেপালিদের মৃত্যুর সংখ্যা প্রকাশ করা হয়েছে।[১১৪] অধিকাংশ কাতারি নাগরিক হস্তসাধিত কাজ অথবা কম দক্ষ কাজ করা এড়িয়ে চলেন; উপরন্তু, কর্মক্ষেত্রে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।[১১৭] রয়্যাল ডাচ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাইকেল ভান প্রাগ ফিফার নির্বাহী কমিটিকে অনুরোধ করেছিলেন যে তারা যেন কাতারকে এই অভিযোগের উপর চাপ সৃষ্টি করে, যাতে তারা শ্রমিকদের আরও ভাল অবস্থা নিশ্চিত হতে পারে। তিনি আরও বলেছিলেন, দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণ করতে হলে কাতারকে বিশ্বকাপের জন্য দায়ী করার বিষয়ে একটি নতুন ভোট গ্রহণ করতে হবে[১১৮]

২০১৬ সালের মার্চে মাসে, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল কাতারের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহার, কর্মচারীদের দরিদ্র অবস্থায় বসবাস করতে বাধ্য করা এবং তাদের বেতন ও পাসপোর্ট আটকে রাখার অভিযোগ এনেছিল। এতে আরও অভিযোগ করা হয়েছিল যে, ফিফা "মানবাধিকার লঙ্ঘনের" ওপর ভিত্তি করে স্টেডিয়ামটি নির্মাণ করা থেকে বিরত রাখতে ব্যর্থ হয়েছিল। অভিবাসী শ্রমিকরা অ্যামনেস্টিকে বেশ কয়েক মাস ধরে বেতন না পাওয়ার বিষয়ে অভিযোগ করার পরে মৌখিক নির্যাতন এবং হুমকি সম্পর্কে জানিয়েছিল। এমনকি ২০১৫ সালে নেপাল ভূমিকম্পের পর নেপালি শ্রমিকদের তাদের পরিবারের সাথে দেখা করার জন্য ছুটি দেওয়া হয়নি।[১১৯]

২০১৭ সালের অক্টোবরে মাসে, ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশন জানিয়েছিল যে, কাতার দেশে ২ মিলিয়নেরও বেশি অভিবাসী শ্রমিকের অবস্থার উন্নতির জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। আইটিইউসি-এর মতে, এই চুক্তিতে কাফালা ব্যবস্থার অবসানসহ শ্রম ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য সংস্কার সাধনের কথা বলা হয়েছে। আইটিইউসি আরও জানিয়েছিল যে, এই চুক্তিটি শ্রমিকদের সাধারণ পরিস্থিতিকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করবে, বিশেষ করে যারা ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ অবকাঠামো প্রকল্পে কাজ করে। শ্রমিকদের আর দেশ ত্যাগ বা চাকরি পরিবর্তন করার জন্য তাদের নিয়োগকর্তার অনুমতির প্রয়োজন হবে না।[১২০]

২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে,, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল প্রশ্ন করেছিল যে কাতার বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পূর্বে প্রতিশ্রুত শ্রম সংস্কারগুলো সম্পন্ন করবে কিনা, যা ফিফা সমর্থন করেছিল। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতে, দেশটি শ্রম অধিকারের উন্নতির জন্য কিছু পদক্ষেপ নেওয়া সত্ত্বেও এখনও নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটছে।[১২১] মে মাসে, যুক্তরাজ্যের সংবাদপত্র ডেইলি মিররের একটি তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা গিয়েছে যে, স্টেডিয়ামগুলোতে ২৮,০০০ জন শ্রমিকের মধ্যে কয়েকজনকে প্রতি মাসে ৭৫০ কাতারি রিয়াল দেওয়া হচ্ছে, যা প্রতি মাসে ১৯০ পাউন্ড অথবা ৪৮ ঘন্টার সপ্তাহে প্রতি ঘন্টায় ৯৯ পেন্সের সমান।[১২২]

২০০৬ বিশ্বকাপের জন্য এবং ২০০৮ ও ২০১৬ সালের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য টার্ফ সরবরাহকারী হেন্সড্রিক্স গ্রাজোডেন কাতারকে বিশ্বকাপের টার্ফ সরবরাহ করতে অস্বীকার করেছিল। প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র গারডিন ভ্লোটের মতে, এই সিদ্ধান্তের একটি কারণ ছিল মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ।[১২৩]

২০২০ সালের এপ্রিলে মাসে, কাতার সরকার কোয়ারেন্টাইনে থাকা বা কোভিড-১৯-এর জন্য চিকিৎসাধীন অভিবাসী শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধের জন্য ৮২৪ মিলিয়ন ডলার প্রদান করেছিল।[১২৪][১২৫] আগস্ট মাসে, কাতারি সরকার সকল শ্রমিকদের জন্য মাসিক ন্যূনতম মজুরি পূর্ববর্তী অস্থায়ী ন্যূনতম মজুরি প্রতি মাসে ৭৫০ রিয়াল থেকে বৃদ্ধি করে ১,০০০ রিয়াল (২৭৫ মার্কিন ডলার) ঘোষণা করেছিল।[১২৬][১২৭] ২০২১ সালের মার্চ মাস হতে মজুরির এই নতুন আইন কার্যকর হয়েছিল।[১২৮] আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা জানিয়েছিল যে, "কাতার এই অঞ্চলের প্রথম দেশ, যারা বৈষম্যহীন ন্যূনতম মজুরি প্রবর্তন করেছে, যা দেশটির শ্রম আইনের ঐতিহাসিক সংস্কারের ধারাবাহিকতার একটি অংশ"।[১২৯] অন্যদিকে, প্রচারাভিযান দল মাইগ্র্যান্ট রাইটস জানিয়েছিল যে কাতারের জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়ের সাথে অভিবাসী শ্রমিকদের চাহিদা পূরণের জন্য নতুন ন্যূনতম মজুরি খুব কম ছিল।[১৩০] উপরন্তু, যদি নিয়োগকর্তারা সরাসরি এই কর্মীদের সরবরাহ না করে তবে খাবারের জন্য ৩০০ রিয়াল এবং বাসস্থানের জন্য ৫০০ রিয়াল প্রদান করতে বাধ্য ছিল। নো অবজেকশন সার্টিফিকেটটি অপসারণ করা হয়েছিল, যেন কর্মচারীরা বর্তমান নিয়োগকর্তার সম্মতি ছাড়াই চাকরি পরিবর্তন করতে পারে। এটি বাস্তবায়নের জন্য একটি ন্যূনতম মজুরি কমিটিও গঠন করা হয়েছিল।[১৩১] এই সংস্কারগুলো কাফালা ব্যবস্থাকে অপসারণ করে একটি চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করে।[১১২][১৩২]

২০২১ সালের মার্চ মাসে,, দ্য গার্ডিয়ান একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানিয়েছিল যে, দূতাবাস এবং জাতীয় বিদেশী কর্মসংস্থান অফিসগুলোর তথ্য ব্যবহার করে কাতারকে বিশ্বকাপ প্রদানের পর থেকে অভিবাসী শ্রমিকদের মৃত্যুর সংখ্যা অনুমান করা হয়েছে। ২০১০ সাল থেকে ২০২০ সালের শেষের দিকে ভারতবাংলাদেশপাকিস্তাননেপাল ও শ্রীলঙ্কা থেকে আসা ৬,৫০০ অভিবাসী শ্রমিক কাতারে মারা গেছেন।[১৩৩]

দোহায় অনুষ্ঠিত ২০২২ সালের ফিফা কংগ্রেসে নরওয়েজীয় ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি লিসে ক্লাভেনেস এই প্রতিযোগিতাকে ঘিরে বিভিন্ন বিতর্কের কথা উল্লেখ করে কাতারকে বিশ্বকাপ দেওয়ার জন্য সংস্থাটির সমালোচনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে, "২০১০ সালে ফিফা কর্তৃক অগ্রহণযোগ্যভাবে বিশ্বকাপ প্রদান করা হয়। মানবাধিকার, সমতা, গণতন্ত্র: ফুটবলের মূল স্বার্থ অনেক বছর পর পর্যন্ত প্রথম একাদশে ছিল না। এই মৌলিক অধিকারগুলো বাইরের কণ্ঠস্বরের বিকল্প হিসেবে মাঠে চাপ দেওয়া হয়েছিল। ফিফা এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে, কিন্তু এখনো অনেক দূর যেতে হবে।"[১৩৪][১৩৫] কাতার ২০২২-এর মহাসচিব হাসান আল-সাওয়াদি দেশটির সাম্প্রতিক শ্রম সংস্কারকে উপেক্ষা করার জন্য লিসে ক্লাভেনেসের মন্তব্যের সমালোচনা করেছিলেন।[১৩৫]

২০২১ সালের ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানবাধিকার ও গণতন্ত্র বিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদনে কাতারের শ্রম আইন সংস্কারের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল, যা ২০২১ সালে বৈষম্যহীন ন্যূনতম মজুরি ব্যবস্থা এবং কাফালা ব্যবস্থা অপসারণের অন্তর্ভুক্ত করেছিল।[১৩৬]

২০২২ সালের মার্চ মাসে, ফিফা সভাপতি জান্নি ইনফান্তিনো এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছিলেন যে, উপসাগরীয় দেশটি তাদের শ্রম অধিকার এবং অভিবাসী অধিকারের বিষয়ে প্রগতিশীল হচ্ছে যা পূর্বে দেশে প্রচলিত ছিল এবং বলেছিলেন "শ্রম বাজার জুড়ে সংস্কারগুলো সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হওয়া নিশ্চিত করার জন্য, এই আসরের অনেক পরে ফিফা বিশ্বকাপের একটি দীর্ঘস্থায়ী উত্তরাধিকার রেখে যাওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদে আয়োজক দেশের অভিবাসী শ্রমিকদের উপকৃত করার জন্য আমি কাতারি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কঠোর প্রতিশ্রুতি দেখে আনন্দিত"।[১৩৭][১৩৮]

নভেম্বর–ডিসেম্বরে স্থানান্তর[সম্পাদনা]

কাতারের জলবায়ুর কারণে, জুন ও জুলাই মাসের ঐতিহ্যবাহী সময়সীমায় বিশ্বকাপ আয়োজনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। ২০১৩ সালের অক্টোবর মাসে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত ২০১৪ ফিফা বিশ্বকাপের পর বিকল্প তারিখ ও প্রতিবেদন বিবেচনার জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছিল।[১৩৯] ২০১৫ সালের ২৪শে ফেব্রুয়ারি তারিখে, ফিফা টাস্কফোর্স প্রস্তাব করেছিল যে আসরটি ২০২২ সালের নভেম্বরের শেষ থেকে ডিসেম্বরের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত হবে,[১৪০] যেন মে ও সেপ্টেম্বর মাসের গ্রীষ্মের তাপ এড়ানো যায় এবং ফেব্রুয়ারি মাসে ২০২২ শীতকালীন অলিম্পিক, মার্চ মাসে ২০২২ শীতকালীন প্যারালিম্পিক এবং এপ্রিল মাসে রমজানের সাথে সংঘর্ষ এড়ানো যায়।[১৪১][১৪২]

নভেম্বর মাসে আসরটি মঞ্চস্থ করার ধারণাটি বিতর্কিত, কেননা এটি বিশ্বজুড়ে কিছু ঘরোয়া লিগের নিয়মিত মৌসুমের সময়সূচীতে হস্তক্ষেপ করবে। ধারাভাষ্যকাররা উল্লেখ করেছেন যে পশ্চিমা বড়দিন মৌসুমের সাথে সংঘর্ষের ফলে বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও আসরটি কতটা সংক্ষিপ্ত হওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।[১৪৩] ফিফার নির্বাহী কমিটির সদস্য থেও সোয়ানৎসিগার জানিয়েছিলেন যে, ২০২২ সালের বিশ্বকাপ কাতারের মরুরাজ্যকে প্রদান করা একটি "নির্লজ্জ ভুল" ছিল।[১৪৪] অস্ট্রেলিয়া ফুটবল ফেডারেশনের চেয়ারম্যান ফ্রাংক লোয়ি জানিয়েছিলেন যে, ২০২২ সালের বিশ্বকাপ যদি নভেম্বর মাসে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং এভাবে এ-লিগের সূচি ব্যাহত হয়, তাহলে তারা ফিফার কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ চাইবে।[১৪৫] প্রিমিয়ার লিগের প্রধান নির্বাহী রিচার্ড স্কাডামোর বলেছিলেন যে, তারা ফিফার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবেন, কেননা এই পদক্ষেপটি প্রিমিয়ার লিগের জনপ্রিয় বড়দিন এবং নববর্ষের সময়সূচীতে হস্তক্ষেপ করবে।[১৪৬] ২০১৫ সালের ১৯শে মার্চ তারিখে, ফিফার একটি সূত্র নিশ্চিত করেছিল যে, এই আসরের ফাইনাল ১৮ই ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।[১৪৭]

নিলামডাকে দুর্নীতির অভিযোগ[সম্পাদনা]

কাতার বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে সাবেক শীর্ষ ফুটবল কর্মকর্তা মুহাম্মদ বিন হাম্মামের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ ওঠায় কাতার ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পড়েছিল।[১৪৮] কাতার নিলামডাকের দলের একজন প্রাক্তন কর্মচারী অভিযোগ করেছেন বেশ কয়েকজন আফ্রিকান কর্মকর্তাকে কাতার ১.৫ মিলিয়ন ডলার প্রদান করেছিল।[১৪৯] তিনি তার দাবি প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন, কিন্তু পরবর্তীকালে বলেছিলেন যে কাতারের নিলামডাকের কর্মকর্তারা তাকে তা করতে বাধ্য করেছিলেন।[১৫০][১৫১] ২০১৪ সালের মার্চ মাসে জানা গিয়েছিল যে কনকাকাফের প্রাক্তন সভাপতি জ্যাক ওয়ার্নার এবং তার পরিবারকে কাতারের সফল অভিযানের সাথে যুক্ত একটি ফার্ম থেকে প্রায় ২ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হয়েছিল। ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) ওয়ার্নার এবং কাতারের নিলামডাকের সাথে তার কথিত যোগাযোগের বিষয়ে তদন্ত করেছিল।[১৫২]

ফিফার ছয়টি প্রাথমিক পৃষ্ঠপোষকের মধ্যে পাঁচটি সনিআডিডাসভিসাহুন্দাই এবং কোকা-কোলা ফিফাকে এই অভিযোগের তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছিল।[১৫৩][১৫৪] দ্য সানডে টাইমস লক্ষ লক্ষ গোপন নথি ফাঁসের উপর ভিত্তি করে ঘুষের অভিযোগ প্রকাশ করেছিল।[১৫৫] ফিফার সহ-সভাপতি জিম বয়েস রেকর্ডে বলেছিলেন যে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিনি একটি নতুন আয়োজক খুঁজে পেতে পুনরায় ভোট সমর্থন করবেন।[১৫৬][১৫৭] ফিফা এই অভিযোগের একটি দীর্ঘ তদন্ত সম্পন্ন করে একটি প্রতিবেদনে কাতারকে কোন ধরনের অন্যায় কাজের সংশ্লিষ্ট নয় বলে জানিয়েছে। এই দাবি সত্ত্বেও, কাতারিরা জোর দিয়ে বলেছিল যে দুর্নীতির অভিযোগগুলো ঈর্ষা এবং অবিশ্বাসের দ্বারা চালিত হয়েছে এবং সেপ ব্ল্যাটার বলেছিলেন যে এটি ব্রিটিশ গনমাধ্যমের বর্ণবাদের ফসল।[১৫৮][১৫৯]

২০১৫ ফিফা দুর্নীতি মামলায় সুইস কর্মকর্তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্যের অধীনে কাজ করে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে ফিফার অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। তারা ফিফার সদর দপ্তর থেকে ভৌত ও বৈদ্যুতিন রেকর্ডও জব্দ করেছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও এই গ্রেপ্তার অব্যাহত ছিল; সেখানেও বেশ কয়েকজন ফিফা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং ফিফা ভবনগুলোতে অভিযান চালানো হয়েছিল। কমপক্ষে ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দুর্নীতি এবং ঘুষ কেলেঙ্কারির তথ্যের ভিত্তিতে এই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।[১৬০]

২০১৫ সালের ৭ই জুন তারিখে, কাতার নিলামডাক দলের প্রাক্তন গণমাধ্যম কর্মকর্তা ফায়েদ্রা আল মজিদ দাবি করেছিলেন যে, এই অভিযোগের ফলে কাতার বিশ্বকাপ আয়োজন করবে না।[১৬১] একই দিনে প্রকাশিত একটি সাক্ষাৎকারে, ফিফার অডিট অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স কমিটির প্রধান দোমেনিকো স্কালা বলেছিলেন যে "যদি প্রমাণ থাকে যে কাতার এবং রাশিয়াকে প্রদান করা আয়োজন অধিকার কেবল কেনা ভোটের মাধ্যমে দেয়া হয়েছে, তবে তাদের আয়োজন অধিকার বাতিল করা যেতে পারে।"[১৬২][১৬৩]

কাতারের কূটনৈতিক সংকট[সম্পাদনা]

২০১৭ সালের ৫ই জুন তারিখে, সৌদি আরবমিশরবাহরাইনসংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইয়েমেন কাতারের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং কাতারে বিরুদ্ধে পার্শ্ববর্তী অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন করার অভিযোগ করেছিল। সৌদি আরব, ইয়েমেন, মৌরিতানিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মিশর এক চিঠিতে ফিফাকে কাতারকে বিশ্বকাপ আয়োজক হিসেবে প্রতিস্থাপনের আহবান জানিয়েছিল এবং দেশটিকে "সন্ত্রাসবাদের ঘাঁটি" হিসেবে অভিহিত করেছিল।[১৬৪] ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে, দুবাই পুলিশ ও জেনারেল সিকিউরিটির উপ-প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল দাহি খলফান তামিম আরবি ভাষায় টুইটারে এই সংকট সম্পর্কে বলেছিলেন, "বিশ্বকাপ যদি কাতার ছেড়ে যায়, তাহলে কাতারের সংকট শেষ হয়ে যাবে... কারণ সংকটটি সৃষ্টি হয়েছে তা থেকে দূরে সরে যাওয়ার জন্য"। গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বার্তাটি ইঙ্গিত করে যে কাতারের সৌদি নেতৃত্বাধীন অবরোধ শুধুমাত্র কাতারের বিশ্বের বৃহত্তম ফুটবল প্রতিযোগিতা আয়োজনের কারণে কার্যকর করা হয়েছিল।[১৬৫] গণমাধ্যমে সৃষ্ট প্রতিক্রিয়ায় দাহি খলফান তামিম আরেকটি টুইট করে বলেছিলেন, "আমি বলেছিলাম যে কাতার নিজেরাই একটি সংকট তৈরি করছে এবং তারা দাবি করে যে তাদের অবরুদ্ধ করা হয়েছে, যেন এটি বিশ্বকাপের জন্য ব্যয়বহুল ক্রীড়া সুবিধা নির্মাণের বোঝা থেকে মুক্তি পেতে পারে।"[১৬৬] সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আনোয়ার গার্গাশ বলেছিলেন যে, গণমাধ্যমে দাহি খলফান তামিমকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর জবাবে গার্গাশ স্পষ্ট করে বলেছিলেন, কাতারের ২০২২ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনের মধ্যে উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদকে সমর্থনকারী নীতিপ্রত্যাখ্যান করা উচিত।"[১৬৭]

রাশিয়ার অংশগ্রহণ[সম্পাদনা]

২০১৯ সালের ৯ই ডিসেম্বর তারিখে, আরইউএসএডিএ তদন্তকারীদের কাছে গবেষণাগারের পরিবর্তিত তথ্য হস্তান্তরের জন্য অ-অনুগত বলে প্রমাণিত হওয়ার পরে ওয়ার্ল্ড অ্যান্টি-ডোপিং অ্যাজেন্সি রাশিয়াকে সকল ধরনের প্রধান ক্রীড়া প্রতিযোগিতা থেকে চার বছরের নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেছিল।[১৬৮] রাশিয়া জাতীয় দলকে তখনও এই আসরের বাছাইপর্বে অংশগ্রহণ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, কেননা নিষেধাজ্ঞাটি কেবল বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দল নির্ধারণ করার জন্য চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার জন্য প্রযোজ্য ছিল। রাশিয়ার প্রতিনিধিত্বকারী একটি দল (যারা রাশিয়ার পতাকা এবং সঙ্গীত ব্যবহার করে) নিষেধাজ্ঞাটি সক্রিয় থাকার সময় ডব্লিউএডিএ-এর সিদ্ধান্তের অধীনে অংশ নিতে পারেনি।[১৬৯] নিষেধাজ্ঞার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টে আপিল করা হয়েছিল[১৭০] এবং ২০২০ সালের ১৭শে ডিসেম্বর তারিখে, রুশ দলগুলোকে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের আগের দিন পর্যন্ত ওয়াডা স্বাক্ষরকারীদের দ্বারা আয়োজিত বা অনুমোদিত বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।[১৭১]

২০২২ সালে ইউক্রেনে রুশ আক্রমণের পর রাশিয়ার অংশগ্রহণ আরও সন্দেহের মধ্যে পড়ে। ২৪শে ফেব্রুয়ারি তারিখে, রাশিয়ার বাছাইপর্বের পথে তিনটি দল (চেক প্রজাতন্ত্রপোল্যান্ড এবং সুইডেন) রুশ অঞ্চলে আয়োজিত যেকোন ম্যাচ খেলতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছিল।[১৭২] পোল্যান্ড এবং সুইডেন কর্তৃক বাছাইপর্বের ম্যাচের এই বয়কটের মেয়াদ ২৬শে ফেব্রুয়ারি তারিখ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল এবং একদিন পরে চেক প্রজাতন্ত্রও একই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।[১৭৩][১৭৪][১৭৫]

২০২২ সালের ২৭শে ফেব্রুয়ারি তারিখে, ফিফা আন্তর্জাতিক ফুটবলে রাশিয়ার অংশগ্রহণ বিষয়ক বেশ কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছিল। রাশিয়াকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে নিষেধ করা হয়েছিল এবং জাতীয় দলকে নিরপেক্ষ দেশগুলোতে বিনা দর্শকের উপস্থিতিতে হোম ম্যাচ আয়োজন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এই নিষেধাজ্ঞার অধীনে, রাশিয়াকে দেশের নাম, পতাকা এবং জাতীয় সংগীতের অধীনে প্রতিযোগিতা করার অনুমতি দেওয়া হবে না; একইভাবে অলিম্পিকের মতো প্রতিযোগিতাগুলোতে রুশ ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণের জন্য দলটি "রাশিয়া"-এর পরিবর্তে তাদের জাতীয় ফেডারেশন রুশ ফুটবল ইউনিয়নের (আরএফইউ) অধীনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।[১৭৬][১৭৭] পরের দিন, ফিফা রাশিয়াকে "পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত" আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যার মধ্যে ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণও অন্তর্ভুক্ত ছিল।[১৭৮]

এলজিবিটি অধিকার[সম্পাদনা]

কাতারে সমকামিতা অবৈধ এবং শরিয়তের অধীনে মুসলমানদের জন্য মৃত্যুদণ্ডযোগ্য হওয়ার কারণে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া এলজিবিটি সম্প্রদায়ের সদস্যদের অধিকার সম্পর্কে বিভিন্ন মাধ্যম উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল।[৯৮][১৭৯] কাতারকে আয়োজক হিসেবে নির্বাচিত করার পর, ব্লাটার এই উদ্বেগগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা একজন সাংবাদিককে মজা করে উত্তর দেয়ার জন্য সমালোচিত হয়েছিলেন; তিনি বলেছিলেন যে, সমকামী অংশগ্রহণকারীদের "যেকোন প্রকার যৌন ক্রিয়াকলাপ থেকে বিরত থাকা উচিত"।[১৮০][১৮১] এই বিবৃতির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে ব্লাটার আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, ফিফা বৈষম্য সহ্য করে না; তিনি আরো বলেছিলেন যে "আমরা যা করতে চাই তা হলো এই খেলাটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা, এটি সকল সংস্কৃতির জন্য উন্মুক্ত করা এবং ২০২২ সালে আমরা এটাই করছি।[১৮২] ২০১৩ সালে, হাসান আল সাওয়াদি বলেছিলেন যে ২০২২ সালে কাতারে সবাইকে স্বাগত জানানো হবে, তবে জনসাধারণের মধ্যে স্নেহ প্রদর্শনের বিরুদ্ধে সতর্ক করা হয়েছে কেননা তারা "আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ না"।[১৮৩]

২০২১ সালের নভেম্বর মাসে, অস্ট্রেলীয় ফুটবলার জশ কাভালো (যিনি ২০২১ সালের অক্টোবরে সমকামী হিসেবে নিজেকে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন[১৮৪]) বলেছিলেন যে, তার কাতারে খেলতে যেতে ভয় করছে। এই আসরের আয়োজক কমিটির প্রধান নাসির আল খাতার এর উত্তরে বলেছিলেন যে, কাভালোকে দেশে স্বাগত জানানো হবে।[১৮৫]

কাতারের কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে বলেছিলেন যে, ফিফার অন্তর্ভুক্ত নীতি অনুযায়ী বিশ্বকাপের সময় ম্যাচগুলোতে এলজিবিটি-পন্থী চিত্রাবলী (যেমন রংধনু পতাকা) প্রদর্শনকে সীমাবদ্ধ করা হবে না।[১৮৬] তবে ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে, এই প্রতিযোগিতার তত্ত্বাবধানকারী একজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছিলেন যে এলজিবিটি-বিরোধী দর্শকদের সাথে ঝগড়া থেকে তাদের রক্ষা করার জন্য একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে দর্শকদের কাছ থেকে রংধনু পতাকা বাজেয়াপ্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ফেয়ার নেটওয়ার্ক এই প্রতিবেদনের সমালোচনা করে যুক্তি দেখিয়েছিল যে রাষ্ট্র কর্তৃক এলজিবিটি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে পদক্ষেপগুলো ব্যক্তিদের কর্মের চেয়ে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের জন্য বেশি উদ্বেগের বিষয়।[১৮৭][১৮৮] অন্যদিকে, মেজর জেনারেল আব্দুল আজিজ আবদুল্লাহ আল আনসারি (ফিফা বিশ্বকাপের জন্য নিরাপত্তা তত্ত্বাবধানকারী জ্যেষ্ঠ নেতা) এক সাক্ষাৎকারে ঘোষণা করেছিলেন যে এলজিবিটি দম্পতিদের দেশে স্বাগত জানাই।[১৮৯]কাপ (আরবিكَأسُ اَلعَالَمِ ٢٠٢٢‎, প্রতিবর্ণী. কা'সু আল আলামি ২০২২‎; উপসাগরীয় আরবিكَاسُ اَلعَالَمِ ٢٠٢٢প্রতিবর্ণী. কাসু আল আলামি ২০২২) হচ্ছে ফিফা দ্বারা আয়োজিত চতুর্বার্ষিক আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রতিযোগিতা ফিফা বিশ্বকাপের ২২তম আসরের চূড়ান্ত পর্ব, যেখানে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফার অন্তর্ভুক্ত ৩২টি জাতীয় ফুটবল দল (পুরুষ) প্রতিযোগিতা করবে। এই আসরের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপ আরব বিশ্বের কোন দেশে অনুষ্ঠিত হবে;[১] এছাড়াও দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানে ২০০২ ফিফা বিশ্বকাপের পর এটি এশিয়ায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ফিফা বিশ্বকাপ।[ক] এটি ৩২ দলের অংশগ্রহণে আয়োজিত ফিফা বিশ্বকাপের সর্বশেষ আসর; মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রমেক্সিকো এবং কানাডায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের আসর হতে ৪৮ দলের সমন্বয়ে ফিফা বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে। কাতারের তীব্র গ্রীষ্মকালীন উত্তাপের কারণে এই আসরটি ২০২২ সালের ২০শে নভেম্বর হতে ১৮ই ডিসেম্বর পর্যন্ত কাতারের ৫টি শহরের ৮টি মাঠে অনুষ্ঠিত হবে,[২] যার ফলে এটি মে, জুন অথবা জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত না হওয়া এবং উত্তর শরৎকালে অনুষ্ঠিত প্রথম আসর হবে; এটি প্রায় ২৯ দিনের সময়সীমায় অনুষ্ঠিত হবে।[৩] এই আসরে অনুষ্ঠিত প্রথম ম্যাচে আল খুরের আল বাইত স্টেডিয়ামে কাতার এবং ইকুয়েডর মুখোমুখি হবে। অন্যদিকে, ২০২২ সালের ১৮ই ডিসেম্বর তারিখে কাতার জাতীয় দিবসে ফাইনাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

২০১১ সালের মে মাসে, কাতারের এই আসরটি আয়োজনের জন্য নির্বাচিত হওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে ফিফার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। দুর্নীতির বিষয়ে ফিফার তদন্ত প্রতিবেদনে কাতারকে নির্দোষ ঘোষণা করা হয়েছে, তবে প্রধান তদন্তকারী মাইকেল জে গার্সিয়া তখন থেকে তার তদন্তের বিষয়ে ফিফার প্রতিবেদনে "অসংখ্য বস্তুগতভাবে অসম্পূর্ণ এবং ভুল উপস্থাপনা" র‍্যেছে বলে বর্ণনা করেছেন।[৪] ২০১৫ সালের ২৭শে মে তারিখে, সুইস ফেডারেল অভিশংসকরা ২০১৮ ও ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ নিলাম প্রক্রিয়া বিষয়ে দুর্নীতি এবং অর্থপাচারের তদন্ত শুরু করেছিলেন।[৫][৬] ২০১৮ সালের ৬ই আগস্ট তারিখে, ফিফার সাবেক সভাপতি সেপ ব্লাটার দাবি করেছিলেন যে কাতার "ব্ল্যাক অপস" ব্যবহার করেছে, যা ইঙ্গিত করে যে নিলাম প্রক্রিয়া কমিটি আয়োজন অধিকার অর্জনের জন্য প্রতারণা করেছে।[৭] উপরন্তু, কাতার বিশ্বকাপের প্রস্তুতির সাথে জড়িত বিদেশি কর্মীরা তাদের আচরণের কারণে কঠোর সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছে, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল "জোরপূর্বক শ্রম"-এর কথা উল্লেখ করে বলেছে যে কাতারে বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতিতে মানবাধিকার লঙ্ঘন, এবং অসতর্ক ও অমানবিক কাজের অবস্থার কারণে শত শত অথবা হাজার হাজার অভিবাসী শ্রমিক মৃত্যুবরণ করেছে;[৮] এছাড়াও অনেক অভিবাসী শ্রমিককে চাকরি পাওয়ার জন্য অধিক পরিমাণ "নিয়োগ ফি" দিতে হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।[৯] দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকার একটি তদন্তে দাবি করা হয়েছে যে অনেক শ্রমিককে খাদ্য ও জল থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল, তাদের পরিচয়পত্র তাদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, তাদের সময়মতো অথবা একেবারেই বেতন দেওয়া হয়নি এবং তাদের মধ্যে কয়েকজনকে কার্যত ক্রীতদাস করা হয়েছিল। দ্য গার্ডিয়ানের হিসাব অনুযায়ী, এই আসরটি অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় পর্যন্ত নিরাপত্তা ও অন্যান্য কারণে ৪,০০০ কর্মী মৃত্যুবরণ করেছে। ২০১৫ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে, কাতারি সরকার এই আসরের কাজের অবস্থার উন্নতির জন্য নতুন শ্রম সংস্কার গ্রহণ করেছিল, যার মধ্যে সকল শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি এবং কাফালা ব্যবস্থা অপসারণ অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতে, গত কয়েক বছরে বিদেশি শ্রমিকদের বসবাস ও কাজের অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি।[১০]

ফ্রান্স ফিফা বিশ্বকাপের পূর্ববর্তী আসরের চ্যাম্পিয়ন,[১১][১২] যারা ২০১৮ আসরের ফাইনালে ক্রোয়েশিয়াকে ৪–২ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জয়লাভ করেছিল।[১৩]

আয়োজক নির্ধারণ[সম্পাদনা]

২০১৮ ও ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য নিলামের প্রক্রিয়া ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে শুরু হয়েছিল এবং জাতীয় ফুটবল ক্লাব সংস্থাগুলো তাদের আগ্রহ নিবন্ধনের জন্য ২০০৯ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি তারিখ পর্যন্ত সময় পেয়েছিল।[১৪] প্রাথমিকভাবে, ২০১৮ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য ১১টি আবেদনপত্র জমা হয়েছিল, কিন্তু মেক্সিকো পরবর্তীতে এই কার্যক্রম থেকে তাদের নাম প্রত্যাহার করে দিয়েছিল[১৫][১৬] এবং ইন্দোনেশিয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তাদের আবেদনপত্রের পক্ষে ইন্দোনেশিয়া সরকারের অনাপত্তিপত্রএকটি চিঠি জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ফিফা ইন্দোনেশিয়ার আবেদনপত্রটি প্রত্যাখ্যান করেছিল।[১৭] কাতারকে ২০২২ সালের আসরটি প্রদান করার পূর্ব পর্যন্ত ইন্দোনেশীয় কর্মকর্তারা ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য আবেদন বাতিল করেনি। আয়োজক নির্ধারণ প্রক্রিয়া চলাকালীন, সকল উয়েফা বহির্ভূত দেশগুলো ধীরে ধীরে ২০১৮ সালের আসরের জন্য করা তাদের আবেদন প্রত্যাহার করে নিয়েছিল, যার ফলে এটি নিশ্চিত হয়েছিল যে একটি উয়েফা জাতি ২০১৮ সালের আসরটি আয়োজন করবে এবং এর ফলে উয়েফা দেশগুলো ২০২২ সালের আয়োজক নির্ধারণ প্রক্রিয়ার জন্য অযোগ্য হয়ে উঠবে।

শেষ পর্যন্ত ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য পাঁচটি আবেদনপত্র জমা পড়েছিল: অস্ট্রেলিয়াজাপানকাতারদক্ষিণ কোরিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ফিফার ২২ সদস্যের নির্বাহী কমিটি ২০১০ সালের ২রা ডিসেম্বর তারিখে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে উভয় আসরের আয়োজক নির্বাচন করার জন্য ভোট দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছিল।[১৮] ফিফার নির্বাহী কমিটির দুই সদস্যকে তাদের ভোট সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগে ভোটের পূর্বে বরখাস্ত করা হয়েছিল।.[১৯] কাতারে ২০২২ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনের সিদ্ধান্ত, যা "উচ্চ কর্মক্ষম ঝুঁকি" হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করার পাশাপাশি গণমাধ্যম ধারাভাষ্যকারদের কাছ থেকে সমালোচনা সৃষ্টি করেছিল।[২০][২১] ফিফা দুর্নীতি কেলেঙ্কারির অংশ হিসেবে অনেকেই এর সমালোচনা করেছেন।[২২]

এই আসরের আয়োজক নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট দেশের ভোটের ধরণগুলো নিম্নরূপ:[২৩]

২০২২ ফিফা নিলামডাক (সংখ্যাগরিষ্ঠতা: ১২ ভোট)
দেশভোট
প্রথম পর্বদ্বিতীয় পর্বতৃতীয় পর্বচতুর্থ পর্ব
 কাতার১১১০১১১৪
 মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
 দক্ষিণ কোরিয়াঅপনীত
 জাপানঅপনীত
 অস্ট্রেলিয়াঅপনীত

কাতার আয়তনের দিক থেকে সবচেয়ে ছোট দেশ যাকে ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের অধিকার প্রদান করা হয়েছে – আয়তনের দিক থেকে পরবর্তী ক্ষুদ্রতম দেশ সুইজারল্যান্ড, যারা ১৯৫৪ ফিফা বিশ্বকাপের আয়োজক ছিল, তারা কাতারের চেয়ে তিনগুণেরও বেশি বড়। বর্তমান ৩২টির পরিবর্তে কেবলমাত্র ১৬টি দল সমন্বিত দেশকে আয়োজন করার অধিকার প্রদান করা হয়। কাতার দ্বিতীয় দেশ (প্রথম দেশ ছিল উরুগুয়ে, যারা ১৯৩০ ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজন করেছে) ফিফা বিশ্বকাপের পূর্ববর্তী কোন আসরে উত্তীর্ণ না হয়েও ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের অধিকার অর্জন করেছে। পূর্বে জাপানকে দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে সহ-আয়োজক হিসেবে ২০০২ ফিফা বিশ্বকাপের আয়োজন করার অধিকার প্রদান করা ছিল, যদিও তারা আয়োজন নির্ধারণের পূর্ব পর্যন্ত চূড়ান্ত পর্বের জন্য কখনো উত্তীর্ণ হয়নি, তবে পরবর্তীতে তারা ১৯৯৮ ফিফা বিশ্বকাপের উত্তীর্ণ হয়েছিল।

কিছু তদন্তে লক্ষ্য করা গিয়েছে যে কাতার সিআইএ-এর প্রাক্তন কর্মকর্তা থেকে ব্যক্তিগত ঠিকাদার, কেভিন চকারকে আয়োজন অধিকার সুরক্ষিত করতে, নিলামে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য দেশ এবং ফুটবলের মূল কর্মকর্তাদের উপর গুপ্তচরবৃত্তি করার জন্য নিয়োগ করেছিল।[২৪] অতঃপর ফিফার নির্বাহী কমিটির সদস্যদের নিয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। এই অভিযোগগুলো ফিফা দ্বারা তদন্ত করা হয়েছে।

সম্ভাব্য সম্প্রসারণ[সম্পাদনা]

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের চার বছর পূর্বে ২০১৮ সালের ১২ই এপ্রিল তারিখে, কনমেবল ফিফাকে ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপকে ৩২ থেকে ৪৮টি দলে সম্প্রসারণ করার জন্য অনুরোধ করেছিল।[২৫][২৬] উক্ত সময় ফিফার সভাপতি জান্নি ইনফান্তিনো এই অনুরোধটি বিবেচনা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।[২৭] তবে, ফিফা কংগ্রেস ২০১৮ ফিফা বিশ্বকাপ শুরুর কিছুদিন পূর্বে এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছিল। ইনফান্তিনো বলেছিলেন, বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ৪৮ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করবে না এবং তারা প্রথমে আয়োজক দেশের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবে।[২৮]

২০১৯ সালের মার্চ মাসে, একটি "ফিফা সম্ভাব্যতা অধ্যয়ন" এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিল যে "এক বা একাধিক" প্রতিবেশী দেশ এবং "দুই থেকে চারটি অতিরিক্ত মাঠ"-এর সহায়তায় এই আসরটি ৪৮টি দলে সম্প্রসারণ করা সম্ভব ছিল। ফিফা আরো জানিয়েছিল, "যদিও তারা [এই আসরের] বিন্যাস পরিবর্তন করে পৃষ্ঠপোষক হারানোর আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিতে পারে না, তবে গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে ৪৮টি দলে সম্প্রসারণ করার ঝুঁকি কম ছিল। ফিফা এবং কাতার জুন মাসের শেষের দিকে ফিফা কাউন্সিল এবং ফিফা কংগ্রেসে জমা দেওয়ার জন্য সম্ভাব্য যৌথ প্রস্তাবগুলো অন্বেষণ করেছিল। যদি একটি যৌথ প্রস্তাব পেশ করা হতো, তাহলে ফিফার সদস্য সংগঠনগুলো ৫ই জুন তারিখে ফ্রান্সের প্যারিসে অনুষ্ঠিত ৬৯তম ফিফা কংগ্রেসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য ভোট দিতো।[২৯][৩০] তবে, ২২শে মে তারিখে ফিফা ঘোষণা করেছিল যে তারা এই আসরে দল সংখ্যা বর্ধিত করবে না।[৩১]

দল[সম্পাদনা]

বাছাইপর্ব[সম্পাদনা]

ফিফার ছয়টি মহাদেশীয় কনফেডারেশন তাদের নিজস্ব বাছাইপর্ব আয়োজন করেছিল। ফিফার অন্তর্ভুক্ত সকল সদস্য সংস্থা (বর্তমানে ২১১টি রয়েছে) বাছাইপর্বে অংশগ্রহণের জন্য উত্তীর্ণ হয়েছিল। আয়োজক হিসেবে কাতার এই আসরের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে উত্তীর্ণ হয়েছিল। তবে, এএফসি কাতারকে এশীয় বাছাইপর্বে অংশ নিতে বাধ্য করেছিল, কেননা প্রথম দুটি পর্ব ২০২৩ এএফসি এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।[৩২] কাতার তাদের গ্রুপে প্রথম স্থান অধিকারী হিসেবে চূড়ান্ত পর্বে উত্তীর্ণ হওয়ার পৌঁছানোর পর, লেবানন পঞ্চম সেরা দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী দল হিসেবে অগ্রসর হয়েছিল।[৩৩]

পূর্ববর্তী আসরের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সও স্বাভাবিকভাবেই বাছাইপর্বে উত্তীর্ণ হয়েছে।[৩৪] সেন্ট লুসিয়া প্রাথমিকভাবে বাছাইপর্বের জন্য উত্তীর্ণ হয়েছিল, তবে তাদের প্রথম ম্যাচের পূর্বে তারা তাদের প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। কোভিড-১৯ এর বৈশ্বিক মহামারীর কারণে নিরাপত্তাজনিত কারণে দেখিয়ে উত্তর কোরিয়া বাছাইপর্ব থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে দিয়েছিল। মার্কিন সামোয়া এবং সামোয়া উভয়ই ওএফসি ড্রয়ের পূর্বে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। ২০২২ হাঙ্গা টোঙ্গ–হাঙ্গা হা'আপাই অগ্ন্যুৎপাত ও সুনামির পর টোঙ্গা নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। নিজেদের দলে কোভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাবের কারণে ভানুয়াতু এবং কুক দ্বীপপুঞ্জও নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছিল।

২০১৫ সালের ৩০শে মে তারিখে ফিফা কংগ্রেসের পর সুইজারল্যান্ডের জুরিখে ফিফার নির্বাহী কমিটি প্রতিটি কনফেডারেশনের জন্য স্থান বরাদ্দ নিয়ে আলোচনা করেছিল।[৩৫] কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে ২০০৬ সালে বরাদ্দকৃত দলের স্থান সংখ্যা, যা ২০১০২০১৪ এবং ২০১৮ সালের জন্য অপরিবর্তিত ছিল, এই আসরের জন্যও একই থাকবে:[৩৬]

২০১৯ সালের জুলাই মাসে বাছাইপর্বের একটি ড্র হওয়ার কথা ছিল; এটি পরে বাতিল করা হয়েছিল যেন প্রতিটি কনফেডারেশন তাদের নিজস্ব বাছাইপর্বের জন্য তাদের নিজস্ব ড্র আয়োজন করতে পারে।[৩৭] ২০১৯ সালের ৬ই জুন তারিখে এশীয় বাছাইপর্বের প্রথম পর্বের খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে মঙ্গোলিয়া ব্রুনাইকে ২–০ গোলে্র ব্যবধানে পরাজিত করেছিল, উক্ত ম্যাচে মঙ্গোলীয় রক্ষণভাগের খেলোয়াড় নরজমুগিন সেদেনবাল বাছাইপর্বের প্রথম গোলটি করেছিলেন।[৩৮]

গরম নিয়ে উদ্বেগের কারণে, ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় ফুটবল ক্লাবগুলো চেয়েছিল যে সাধারণ জুন এবং জুলাই মাসের পরিবর্তে ২৮শে এপ্রিল থেকে ২৯শে মে পর্যন্ত বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হোক।[৩৯]

উত্তীর্ণ দল[সম্পাদনা]

২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপে উত্তীর্ণ ৩২টি দেশের মধ্যে ২৪টি দেশ ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত পূর্ববর্তী আসরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল।[৪০] কাতারই একমাত্র দল, যারা ফিফা বিশ্বকাপে অভিষেক করবে, ১৯৩৪ সালে ইতালির পর দ্বিতীয় আয়োজক দেশ হিসেবে কাতার এই আসরে অভিষেক করবে। এর ফলস্বরূপ, ২০২২ সালের আসরটি প্রথম বিশ্বকাপ, যেখানে বাছাইপর্বের মাধ্যমে উত্তীর্ণ কোন দলই অভিষেক করবে না। নেদারল্যান্ডসইকুয়েডরঘানাক্যামেরুন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২০১৮ সালের আসরে অনুপস্থিত থাকার পর এই আসরের মাধ্যমে পুনরায় ফিফা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করবে। ৩৬ বছর পর কানাডা পুনরায় এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে, তারা সর্বশেষ উপস্থিতি ১৯৮৬ সালে অংশগ্রহণ করেছিল।[৪১][৪২] অন্যদিকে, ৬৪ বছর পর ওয়েলস পুনরায় এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে, যা কোন ইউরোপীয় দলের জন্য একটি রেকর্ড ব্যবধান; তারা সর্বশেষ উপস্থিতি ১৯৫৮ সালে অংশগ্রহণ করেছিল।[৪৩]

চারবারের চ্যাম্পিয়ন এবং উয়েফা ইউরো ২০২০-এর বিজয়ী, ইতালি তাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপের মতো চূড়ান্ত পর্বে উত্তীর্ণ হয়ে ব্যর্থ হয়েছে, ২০২২ সালের ২৪শে মার্চ তারিখে উত্তর মেসিডোনিয়ার বিরুদ্ধে প্লে-অফ সেমি-ফাইনালে ১–০ গোলের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিল।[৪৪] ইতালি একমাত্র সাবেক চ্যাম্পিয়ন হিসেবে এই আসরে উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হয়েছে। ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের কারণে গত বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ রাশিয়াকে এই আসর থেকে অপনয়ন করা হয়েছে।[৪৫] পূর্বের টানা তিন আসরে অংশগ্রহণকারী এবং সর্বশেষ সাত আসরের ছয় আসরে অংশগ্রহণকারী নাইজেরিয়া ক্যাফের চূড়ান্ত প্লে-অফ পর্বে ঘানার কাছে অ্যাওয়ে গোলে পরাজিত হয়ে এই আসরে অংশগ্রহণ করে ব্যর্থ হয়েছে।

এএফসি (৬)

ক্যাফ (৫)

কনকাকাফ (৪)

কনমেবল (৪)

ওএফসি (০)

  • কোন দল উত্তীর্ণ হয়নি

উয়েফা (১৩)

  উত্তীর্ণ দল
  উর্ত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ দল
  প্রত্যাহারকৃত অথবা বহিষ্কৃত দল
  ফিফার সদস্য নয়

ড্র[সম্পাদনা]

এই আসরের চূড়ান্ত ড্র ২০২২ সালের ১লা এপ্রিল তারিখে ১৯:০০টায় (এএসটিকাতারের দোহার দোহা এক্সিবিশন অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।[৪৬] যেহেতু ড্রটি বাছাইপর্বের ম্যাচ সমাপ্তির পূর্বে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তাই আন্ত-কনফেডারেশন প্লে-অফের দুই বিজয়ী এবং উয়েফা প্লে-অফের পথ এ-এর বিজয়ী দলের নাম উক্ত সময়ে নিশ্চিত হয়নি।[৪৭]

এই আসরের ড্রয়ের জন্য ২০২২ সালের ৩১শে মার্চ তারিখে প্রকাশিত পুরুষদের ফিফা বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ের ওপর ভিত্তি করে ৩২টি দলকে চারটি পাত্রে বিভক্ত করা হয়েছিল।[৪৮] পাত্র ১-এ স্বাগতিক কাতার (যারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এ১ স্থানে নিযুক্ত হয়েছিল) এবং সেরা সাতটি দল ছিল। পাত্র ২-এ পরবর্তী সেরা আটটি দল ছিল, পরবর্তী সেরা আটটি দল পাত্র ৩-এ ছিল। পাত্র ৪-এ সর্বনিম্ন র‍্যাঙ্কিংয়ের পাঁচটি দলের পাশাপাশি আন্ত-কনফেডারেশন প্লে-অফের দুই বিজয়ী দল এবং উয়েফা প্লে-অফের পথ এ-এর বিজয়ী দল স্থান ছিল। ড্রয়ের সময় একটি নিয়ম ছিল; উয়েফার দল ব্যতীত একই কনফেডারেশনের দলগুলো একই গ্রুপে ড্র করা যাবে না, যার জন্য প্রতি গ্রুপে কমপক্ষে একটি এবং দুটির বেশি ছিল না। এই নিয়মটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত দলের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হয়েছিল, প্রতিটি প্লে-অফের সম্ভাব্য বিজয়ীদের ক্ষেত্রেও কনফেডারেশনের এই নিয়মটি প্রয়োগ করা হয়েছিল। ড্রটি পাত্র ১-এর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল এবং পাত্র ৪-এর মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছিল, প্রতিটি পাত্রের একটি দল নির্বাচিত হওয়ার পর ইংরেজি বর্ণানুক্রমিকভাবে প্রথম উপলব্ধ গ্রুপে পরবর্তী দলের স্থান বরাদ্দ করা হয়েছিল। অতঃপর (ম্যাচের সময়সূচীর উদ্দেশ্যে) গ্রুপের মধ্যে দলের অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছিল, যেখানে পাত্র ১-এর দলগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিটি গ্রুপের প্রথম অবস্থান ধারণ করেছিল।[৪৯] ড্রয়ের জন্য ব্যবহৃত পাত্রগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:[৫০]

পাত্র ১
 কাতার (৫২) (আয়োজক)
 ব্রাজিল (১)
 বেলজিয়াম (২)
 ফ্রান্স (৩)
 আর্জেন্টিনা (৪)
 ইংল্যান্ড (৬)
 স্পেন (৭)
 পর্তুগাল (৮)
পাত্র ২
 মেক্সিকো (৯)
 নেদারল্যান্ডস (১০)
 ডেনমার্ক (১১)
 জার্মানি (১২)
 উরুগুয়ে (১৩)
  সুইজারল্যান্ড (১৪)
 মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (১৫)
 ক্রোয়েশিয়া (১৬)
পাত্র ৩
 সেনেগাল (২০)
 ইরান (২১)
 জাপান (২৩)
 মরক্কো (২৪)
 সার্বিয়া (২৫)
 পোল্যান্ড (২৬)
 দক্ষিণ কোরিয়া (২৯)
 তিউনিসিয়া (৩৫)
পাত্র ৪
 ক্যামেরুন (৩৭)
 কানাডা (৩৮)
 ইকুয়েডর (৪৬)
 সৌদি আরব (৪৯)
 ঘানা (৬০)
 ওয়েলস (১৮)[খ]
 কোস্টা রিকা (৩১)[গ]
 অস্ট্রেলিয়া (৪২)[ঘ]

রেফারি[সম্পাদনা]

২০২২ সালের ১৯শে মে তারিখে, ফিফা এই আসরের জন্য ৩৬ জন রেফারি, ৬৯ জন সহকারী রেফারি এবং ২৪ জন ভিডিও সহকারী রেফারির তালিকা ঘোষণা করেছিল। ৩৬ জন রেফারির মধ্যে ফিফা আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের দুইজন করে রেফারি অন্তর্ভুক্ত করেছে।[৫১][৫২] এই আসরের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো মহিলা রেফারি ফিফাভুক্ত পুরুষদের কোন বড় প্রতিযোগিতার ম্যাচ পরিচালনা করবেন।

ফ্রান্সের স্তেফানি ফ্রাপার্ত, রুয়ান্ডার সালিমা মুকানসাঙ্গা এবং জাপানের ইয়োশিমি ইয়ামাশিতা প্রথম মহিলা রেফারি হিসেবে পুরুষদের বিশ্বকাপে নিযুক্ত হয়েছেন।[৫৩] তাদের সাথে তিনজন মহিলা সহকারী রেফারি যোগ দেবেন, এটিও ফিফা বিশ্বকাপে প্রথম। ফ্রাপার্ত ইতিমধ্যে ২০১৯ ফিফা মহিলা বিশ্বকাপের ফাইনাল পরিচালনা করেছিলেন।[৫৪] গাম্বিয়ার রেফারি বাকারি গাসামা এবং আর্জেন্টিনার সহকারী রেফারি হুয়ান পাবলো বেলাতি এই আসরের মাধ্যমে তৃতীয় ফিফা বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করবেন। বেলাতি ২০১৮ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে সহকারী রেফারির দায়িত্ব পালন করেছিলেন।[৫৫][৫৬][৫৭] এছাড়াও পূর্ববর্তী বিশ্বকাপে অনুপস্থিত থাকার পর এই আসরে দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত রেফারিগণ হলেন: মেক্সিকোর সেসার আর্তুরো রামোস এবং জাম্বিয়ার জানি সিকাজুয়ে এবং ইরানের সহকারী রেফারি মুহাম্মদরেজা মন্সুরি[৫৮][৫৯][৬০]

রেফারি
কনফেডারেশনরেফারি
এএফসিকাতার আব্দুলরহমান আল জসিম
অস্ট্রেলিয়া ক্রিস বিথ
ইরান আলিরেজা ফাগানি
চীন মা নিং
সংযুক্ত আরব আমিরাত আব্দুল্লাহ হাসান মুহাম্মদ
জাপান ইয়োশিমি ইয়ামাশিতা
ক্যাফগাম্বিয়া বাকারি গাসামা
আলজেরিয়া মুস্তফা গুরবাল
দক্ষিণ আফ্রিকা ভিক্তোর গোমেস
রুয়ান্ডা সালিমা মুকানসাঙ্গা
সেনেগাল মাগেত এনদিয়ায়ে
জাম্বিয়া জানি সিকাজুয়ে
কনকাকাফএল সালভাদোর ইভান বার্তোন
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসমাইল আল ফাতহ
গুয়াতেমালা মারিও এস্কোবার
হন্ডুরাস সাইদ মার্তিনেস
মেক্সিকো সেসার আর্তুরো রামোস
কনমেবলব্রাজিল রাফায়েল ক্লাউস
উরুগুয়ে আন্দ্রেস মাতোন্তে
পেরু কেভিন ওর্তেগা
আর্জেন্টিনা ফের্নান্দো রাপায়িনি
ব্রাজিল উইলতোন সাম্পাইয়ো
আর্জেন্টিনা ফাকুন্দো তেয়ো
ভেনেজুয়েলা হেসুস ভালেনসুয়েলা
ওএফসিনিউজিল্যান্ড ম্যাথু কঙ্গার
উয়েফাফ্রান্স স্তেফানি ফ্রাপার্ত
রোমানিয়া ইস্তভান কোভাচস
নেদারল্যান্ডস ডানি মাক্কেলি
পোল্যান্ড শিমোন মার্চিনিয়াক
স্পেন আন্তোনিও মাতেউ লাহোস
ইংল্যান্ড মাইকেল অলিভার
ইতালি দানিয়েলে ওরসাতো
জার্মানি ডানিয়েল সিবার্ট
ইংল্যান্ড অ্যান্থনি টেইলর
ফ্রান্স ক্লেমঁ তুরপেঁ
স্লোভেনিয়া স্লাভকো ভিনচিচ

সহকারী রেফারি
কনফেডারেশনসহকারী রেফারি
এএফসিইরান মুহাম্মদরেজা আবুলফজলি
কাতার তালিব আল-মাররি
সংযুক্ত আরব আমিরাত মুহাম্মদ আল-হাম্মাদি
সংযুক্ত আরব আমিরাত হাসান আল-মাহরি
কাতার সাউদ আল-মাকালিহ
অস্ট্রেলিয়া অ্যাশলি বিচাম
চীন ছাও ই
ইরান মুহাম্মদরেজা মন্সুরি
অস্ট্রেলিয়া অ্যান্টন শেটিনিন
চীন শি শিয়াং
ক্যাফমিশর মাহমুদ আবুলরিগাল
সেনেগাল জিব্রিল কামারা
অ্যাঙ্গোলা জেরসোন দোস সান্তোস
আলজেরিয়া আব্দুলহক ইতশিয়ালি
আলজেরিয়া মুকরান গুরারি
মোজাম্বিক আর্সেনিও মারেঙ্গুলা
ক্যামেরুন এলভিস নুপো
লেসোথো সুরু ফাতসুয়ানে
সেনেগাল আল হাজ মালিক সাম্বা
দক্ষিণ আফ্রিকা জাখেলে সিওয়েলা
কনকাকাফমার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কাইল অ্যাটকিন্স
মেক্সিকো কারেন দিয়াজ মেদিনা
ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র হেলপিস রায়মুন্দো ফেলিজ
মেক্সিকো মিগেল এর্নান্দেজ
হন্ডুরাস ওয়ালতের লোপেজ
কোস্টা রিকা হুয়ান কার্লোস মোরা
এল সালভাদোর দাভিদ মোরান
মেক্সিকো আলবের্তো মোরিন
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ক্যাথরিন নেসবিট
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোরি পার্কার
ত্রিনিদাদ ও টোবাগো ক্যালেব ওয়েলস
সুরিনাম জাকারি জিগলার
কনমেবলব্রাজিল নেউজা বাক
আর্জেন্টিনা হুয়ান পাবলো বেলাতি
আর্জেন্টিনা দিয়েগো বোনফা
ব্রাজিল ব্রুনো বোস্কিলিয়া
আর্জেন্টিনা এজেকিয়েল ব্রাইলোভস্কি
আর্জেন্টিনা গাব্রিয়েল চাদে
ব্রাজিল রোদ্রিগো ফিগেইরেদো
ভেনেজুয়েলা তুলিও মোরেনো
পেরু মাইকেল ওরুয়ে
ব্রাজিল ব্রুনো পিরেস
পেরু হেসুস সানচেস
ব্রাজিল দানিলো মানিস
উরুগুয়ে মার্তিন সোপি
উরুগুয়ে নিকোলাস তারান
ভেনেজুয়েলা হোর্হে উরেগো
ওএফসিটোঙ্গা তেভিতা মাকাসিনি
নিউজিল্যান্ড মার্ক রুল
উয়েফারোমানিয়া ওভিদিউ আর্তেনে
ইংল্যান্ড সিমন বেনেট
ইংল্যান্ড গ্যারি বেসউইক
ইংল্যান্ড স্টুয়ার্ট বার্ট
ইতালি চিরো কারবোনে
স্পেন পাউ সেব্রিয়ান দেভিস
ফ্রান্স নিকোলাস দানোস
নেদারল্যান্ডস ইয়ান ডি ভ্রিস
স্পেন রোবের্তো দিয়াস পেরেস
জার্মানি রাফায়েল ফল্টিন
ইতালি আলেসসান্দ্রো জাল্লাতিনি
ফ্রান্স সিরিল গ্রঁগোর
স্লোভেনিয়া তোমাজ ক্লানচনিক
স্লোভেনিয়া আন্দ্রাজ কোভাচিচ
পোল্যান্ড তোমাশ লিস্তকিয়েভিচ
রোমানিয়া ভাসিলে মারিনেস্কু
ইংল্যান্ড অ্যাডাম নান
জার্মানি ইয়ান জাইডেল
পোল্যান্ড পাভেউ সোকোলনিকি
নেদারল্যান্ডস হেসেল স্টেখস্ট্রা

ভিডিও সহকারী রেফারি
কনফেডারেশনভিডিও সহকারী রেফারি
এএফসিকাতার আব্দুল্লাহ আল মাররি
সিঙ্গাপুর মুহাম্মদ তাকি
অস্ট্রেলিয়া শন ইভান্স
ক্যাফমরক্কো রেদুয়ান জিয়াদ
মরক্কো আদিল জুরাক
কনকাকাফকানাডা ড্রু ফিশার
মেক্সিকো ফের্নান্দো গেরেরো
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর্মান্দো ভিয়ারিয়াল
কনমেবলচিলি হুলিও বাস্কুনিয়ান
কলম্বিয়া নিকোলাস গায়ো
উরুগুয়ে লেওদান গোন্সালেস
ভেনেজুয়েলা হুয়ান সোতো
আর্জেন্টিনা মাউরো ভিলিয়ানো
উয়েফাফ্রান্স জেরোম ব্রিজার
জার্মানি বাস্টিয়ান ডানকার্ট
স্পেন রিকার্দো বেঙ্গোয়েচেয়া
জার্মানি মার্কো ফ্রিৎস
স্পেন আলেহান্দ্রো এর্নান্দেস
ইতালি মাসসিমিলিয়ানো ইররাতি
পোল্যান্ড তোমাশ কিয়াতকোভস্কি
স্পেন হুয়ান মার্তিনেস মুনুয়েরা
ফ্রান্স বেনোয়া মিয়ো
ইতালি পাওলো ভালেরি
নেদারল্যান্ডস পল ভান বুকেল

মাঠ[সম্পাদনা]

২০১০ সালের মার্চ মাসের শুরুর দিকে বিশ্বকাপের এই আসরের জন্য প্রস্তাবিত পাঁচটি মাঠের নাম প্রকাশ করা হয়েছিল। কাতার স্টেডিয়ামগুলোতে কাতারের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক দিকগুলো প্রতিফলিত করতে এবং স্টেডিয়ামগুলোর নকশায় বেশ কিছু শর্তাবলী পূরণ করতে চেয়েছিল, যেগুলো হলো: উত্তরাধিকার, স্বাচ্ছন্দ্য, অভিগম্যতা এবং স্থায়িত্ব।[৬১] কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল যে, স্টেডিয়ামগুলো শীতলকরণ ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে সজ্জিত করা হবে, যা স্টেডিয়ামের অভ্যন্তরের তাপমাত্রা ২০ °C (৩৬ °F) পর্যন্ত হ্রাস করার লক্ষ্যে কাজ করবে, তবে এটি তখন নিশ্চিত হওয়া যায়নি যে এটি প্রকৃতপক্ষে খোলা স্টেডিয়ামে কাজ করবে কিনা। বিপণনের ক্ষেত্রে স্টেডিয়ামগুলোকে শূন্য বর্জ্য হিসেবে বর্ণনা করে বিবৃতি প্রদান করা হয়েছিল এবং বিশ্বকাপের পর স্টেডিয়ামগুলোর উপরের স্তরগুলো বিচ্ছিন্ন করে কম উন্নত ক্রীড়া অবকাঠামোর দেশগুলোতে দান করা হবে বলে জানানো হয়েছে।[৬২][৬৩] কাতার বিশ্বকাপের সকল স্টেডিয়ামের জন্য গ্লোবাল সাসটেইনেবিলিটি অ্যাসেসমেন্ট সিস্টেম (জিএসএএস) দ্বারা অনুগত এবং প্রত্যয়িত হতে চেয়েছিল। যে পাঁচটি স্টেডিয়াম প্রকল্প চালু করা হয়েছিল, তার সবগুলোই জার্মান স্থপতি আলবার্ট স্পেয়ার অ্যান্ড পার্টনার্স দ্বারা নকশা করা হয়েছে।[৬৪] আল বাইত স্টেডিয়ামটি এই আসরের জন্য ব্যবহৃত আটটির মধ্যে একমাত্র ইন্ডোর স্টেডিয়াম হবে।[৬৫]

২০১০ সালের ৯ই ডিসেম্বর তারিখে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ফিফার তৎকালীন সভাপতি সেপ ব্ল্যাটারকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছিল যে অন্যান্য দেশগুলো বিশ্বকাপের সময় কিছু ম্যাচ আয়োজন করতে পারে। তবে নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উক্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।[৬৬] ব্ল্যাটার জানিয়েছিলেন যে এই জাতীয় কোন সিদ্ধান্ত অবশ্যই প্রথমে কাতারকে নিতে হবে এবং তারপরে ফিফার নির্বাহী কমিটি দ্বারা অনুমোদিত হতে হবে।[৬৭] জর্ডানের রাজপুত্র আলি বিন আল হুসেন অস্ট্রেলিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেছিলেন যে বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সম্ভবত সৌদি আরবে খেলা আয়োজন করা এই অঞ্চলের জনগণকে একত্র করতে সহায়তা করবে।[৬৮]

ব্যাংক অব আমেরিকার বিনিয়োগ ব্যাংকিং বিভাগ মেরিল লিঞ্চ কর্তৃক ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাতারের আয়োজকরা ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের কারণে ফিফাকে আরও কম সংখ্যক স্টেডিয়াম অনুমোদনের জন্য অনুরোধ করেছে।[৬৯] ব্লুমবার্গ.কম জানিয়েছিল যে, কাতার মাঠের সংখ্যা মূলত পরিকল্পিত ১২টি থেকে কমিয়ে ৮ বা ৯-এ নামিয়ে আনতে চায়।[৭০]

যদিও ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসের মধ্যে, পাঁচ বছরের মধ্যে কাতারকে কতগুলি স্টেডিয়াম প্রস্তুত করতে হবে তা ফিফা চূড়ান্ত করতে পারেনি, কাতারের সর্বোচ্চ বিতরণ ও উত্তরাধিকার কমিটি জানিয়েছিল যে তারা আশা করেছিল যে দোহা এবং এর নিকটবর্তী আটটি (আল খুর ব্যতীত) মাঠ থাকবে।[৭১][৭২] ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে, জান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছিলেন যে ফিফা রাজনৈতিক উত্তেজনা হ্রাস করার জন্য এই আসর চলাকালীন প্রতিবেশী দেশগুলোতে ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে।[৭৩]

স্টেডিয়াম ৯৭৪ (পূর্বে রাস আবু আবুদ স্টেডিয়াম নামে পরিচিত) সুপ্রিম কমিটি ফর ডেলিভারি অ্যান্ড লেগাসি (এসসি) দ্বারা এই আসরের সপ্তম মাঠ হিসেবে নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। এর নামকরণ স্টেডিয়ামে নির্মাণে ব্যবহৃত শিপিং কন্টেইনারের সংখ্যা এবং কাতারের আন্তর্জাতিক সংযোগ নম্বর অনুযায়ী করা হয়েছে। স্টেডিয়ামটি এই প্রতিযোগিতার সময় সাতটি ম্যাচ আয়োজন করবে।[৭৪]

লুসাইলআল খুরদোহা
লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়ামআল বাইত স্টেডিয়ামস্টেডিয়াম ৯৭৪আল সুমামাহ স্টেডিয়াম
ধারণক্ষমতা: ৮০,০০০ধারণক্ষমতা: ৬০,০০০[৭৫]ধারণক্ষমতা: ৪০,০০০[৭৬]ধারণক্ষমতা: ৪০,০০০[৭৭]
কাতারের আয়োজক শহরদোহা অঞ্চলের স্টেডিয়াম
আল রাইয়ানআল ওয়াক্রাহ
খলিফা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামএডুকেশন সিটি স্টেডিয়ামআহমেদ বিন আলী স্টেডিয়াম[ঙ]আল জানুব স্টেডিয়াম
ধারণক্ষমতা: ৪৫,৪১৬[৭৮]ধারণক্ষমতা: ৪৫,৩৫০[৭৯]ধারণক্ষমতা: ৪৪,৭৪০[৮০]ধারণক্ষমতা: ৪০,০০০[৮১]

সময়সূচী[সম্পাদনা]

কাতারের গ্রীষ্মের তীব্র তাপ এড়ানোর জন্য পূর্ববর্তী ফিফা বিশ্বকাপের বিপরীতে (যা সাধারণত জুন এবং জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে) এই বিশ্বকাপটি নভেম্বর এবং ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হবে। এর ফলস্বরূপ, জুলাই অথবা আগস্ট মাসের শেষের দিকে শুরু হওয়া ঘরোয়া ফুটবল লিগগুলোর মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে এই বিশ্বকাপটি অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে সকল প্রধান ইউরোপীয় লিগ রয়েছে, যেগুলো বিশ্বকাপের জন্য তাদের ঘরোয়া সময়সূচীতে বর্ধিত বিরতি অন্তর্ভুক্ত করতে বাধ্য হয়েছে। এর বিপরীতে, যেসকল ঘরোয়া লিগ সাধারণত উত্তর বসন্তে তাদের ঋতু শুরু হয় এবং গ্রীষ্মের সকল আয়োজিত হয় (যেমন মেজর লিগ সকার) এই আসর শুরু হওয়ার পূর্বে তাদের মৌসুম শেষ করতে সক্ষম হবে।

২০২০ সালের ১৫শে জুলাই তারিখে, ফিফা এই আসরের ম্যাচের সময়সূচী নিশ্চিত করেছে।[৮২] এই আসরের উদ্বোধনী দিনে স্বাগতিক কাতারের ম্যাচের মাধ্যমে বিশ্বকাপ শুরু হবে, যা ২০২২ সালের ২১শে নভেম্বর তারিখে আল বাইত স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। গ্রুপ পর্বে প্রতিদিন চারটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, প্রথম দুই পর্বের জন্য কিক-অফের সময় হচ্ছে ১৩:০০, ১৬:০০, ১৯:০০ এবং ২২:০০ এবং শেষ পর্বের একই সাথে সকল ম্যাচের কিক-অফ হবে, অন্যদিকে নকআউট পর্বের ম্যাচের জন্য সময় হচ্ছে ১৮:০০ এবং ২২:০০। ২০২২ সালের ১৭ই ডিসেম্বর তারিখে খলিফা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে এবং ১৮ই ডিসেম্বর তারিখে লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়ামে ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে; উভয় ম্যাচই ১৮:০০টায় অনুষ্ঠিত হবে।[৮৩]

পূর্ববর্তী আসরের বিপরীতে (যেখানে প্রতিটি ম্যাচের জন্য মাঠ এবং কিক-অফ সময় ড্রয়ের পূর্বে নির্ধারণ করা হতো) প্রতিটি ম্যাচদিনের জন্য একটি নির্দিষ্ট মাঠ এবং কিক-অফের সময় গ্রুপ পর্বের ড্রয়ের পরে নির্ধারণ করা হয়েছিল। মাঠের ঘনিষ্ঠ নৈকট্যের কারণে, যা কাতারের দর্শকদের জন্য স্টেডিয়াম বরাদ্দ এবং টেলিভিশন দর্শকদের জন্য কিক-অফ সময়কে সামঞ্জস্য করার অনুমতি দেয়।[৮২] প্রতিটি গ্রুপের জন্য গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো নিম্নলিখিত স্টেডিয়ামগুলোতে বরাদ্দ করা হয়েছে:[৮৩]

২০২২ সালের ১লা এপ্রিল তারিখে, ড্রয়ের পর ফিফা গ্রুপ পর্বের মাঠ এবং কিক-অফের সময় নিশ্চিত করেছে।[৮৪][৮৫] ১১ই আগস্ট তারিখে, ফিফা জানায় যে কাতার বনাম ইকুয়েডরের ম্যাচটি একদিন নির্ধারিত দিনের একদিন পূর্বে অনুষ্ঠিত হবে, যার ফলে ম্যাচটি এই আসরের উদ্বোধনী ম্যাচ হবে। এই সংশোধনীর পূর্বে সেনেগাল বনাম নেদারল্যান্ডসের ম্যাচটি এই আসরের উদ্বোধনী ম্যাচ ছিল, যা সংশোধনীর পর মুক্ত সময়ে স্থানান্তর করা হয়েছে।[৮৬]

গ্রুপ পর্ব[সম্পাদনা]

গ্রুপ এ[সম্পাদনা]

অবদলম্যাচজয়ড্রহারস্বগোবিগোগোপাপয়েন্টযোগ্যতা অর্জন
 কাতার (H)নকআউট পর্বে উত্তীর্ণ
 ইকুয়েডর
 সেনেগাল
 নেদারল্যান্ডস
প্রথম ম্যাচ ২০ নভেম্বর ২০২২ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে। উৎস: ফিফা
(H) স্বাগতিক।


গ্রুপ বি[সম্পাদনা]

অবদলম্যাচজয়ড্রহারস্বগোবিগোগোপাপয়েন্টযোগ্যতা অর্জন
 ইংল্যান্ডনকআউট পর্বে উত্তীর্ণ
 ইরান
 মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
 ওয়েলস
প্রথম ম্যাচ ২১ নভেম্বর ২০২২ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে। উৎস: ফিফা


গ্রুপ সি[সম্পাদনা]

অবদলম্যাচজয়ড্রহারস্বগোবিগোগোপাপয়েন্টযোগ্যতা অর্জন
 আর্জেন্টিনানকআউট পর্বে উত্তীর্ণ
 সৌদি আরব
 মেক্সিকো
 পোল্যান্ড
প্রথম ম্যাচ ২২ নভেম্বর ২০২২ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে। উৎস: ফিফা


গ্রুপ ডি[সম্পাদনা]

অবদলম্যাচজয়ড্রহারস্বগোবিগোগোপাপয়েন্টযোগ্যতা অর্জন
 ফ্রান্সনকআউট পর্বে উত্তীর্ণ
 অস্ট্রেলিয়া
 ডেনমার্ক
 তিউনিসিয়া
প্রথম ম্যাচ ২২ নভেম্বর ২০২২ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে। উৎস: ফিফা


গ্রুপ ই[সম্পাদনা]

অবদলম্যাচজয়ড্রহারস্বগোবিগোগোপাপয়েন্টযোগ্যতা অর্জন
 স্পেননকআউট পর্বে উত্তীর্ণ
 কোস্টা রিকা
 জার্মানি
 জাপান
প্রথম ম্যাচ ২৩ নভেম্বর ২০২২ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে। উৎস: ফিফা


গ্রুপ এফ[সম্পাদনা]

অবদলম্যাচজয়ড্রহারস্বগোবিগোগোপাপয়েন্টযোগ্যতা অর্জন
 বেলজিয়ামনকআউট পর্বে উত্তীর্ণ
 কানাডা
 মরক্কো
 ক্রোয়েশিয়া
প্রথম ম্যাচ ২৩ নভেম্বর ২০২২ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে। উৎস: ফিফা


গ্রুপ জি[সম্পাদনা]

অবদলম্যাচজয়ড্রহারস্বগোবিগোগোপাপয়েন্টযোগ্যতা অর্জন
 ব্রাজিলনকআউট পর্বে উত্তীর্ণ
 সার্বিয়া
  সুইজারল্যান্ড
 ক্যামেরুন
প্রথম ম্যাচ ২৪ নভেম্বর ২০২২ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে। উৎস: ফিফা


গ্রুপ এইচ[সম্পাদনা]

অবদলম্যাচজয়ড্রহারস্বগোবিগোগোপাপয়েন্টযোগ্যতা অর্জন
 পর্তুগালনকআউট পর্বে উত্তীর্ণ
 ঘানা
 উরুগুয়ে
 দক্ষিণ কোরিয়া
প্রথম ম্যাচ ২৪ নভেম্বর ২০২২ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে। উৎস: ফিফা


নকআউট পর্ব[সম্পাদনা]

নকআউট পর্বে, যদি একটি খেলার ফলাফল ৯০ মিনিট পরেও সমতায় থাকে, অতিরিক্ত সময়ের খেলা অনুষ্ঠিত হবে (১৫ মিনিট করে দুই অর্ধে ৩০ মিনিট), যেখানে প্রতিটি দলের ষষ্ঠ খেলোয়াড় বদল করার অনুমতি দেওয়া হবে। যদি অতিরিক্ত সময়ের পরেও খেলার ফলাফল সমতায় থাকে, তবে খেলার ফলাফল পেনাল্টি শুট-আউটের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।[৮৭]

বন্ধনী[সম্পাদনা]

 
১৬ দলের পর্বকোয়ার্টার-ফাইনালসেমি-ফাইনালফাইনাল
 
              
 
৩ ডিসেম্বর – আল রাইয়ান (খলিফা)
 
 
গ্রুপ এ-এ প্রথম স্থান অধিকারী
 
৯ ডিসেম্বর – লুসাইল
 
গ্রুপ বি-এ দ্বিতীয় স্থান অধিকারী
 
৪৯তম ম্যাচের বিজয়ী
 
৩ ডিসেম্বর – আল রাইয়ান (আহমেদ)
 
৫০তম ম্যাচের বিজয়ী
 
গ্রুপ সি-এ প্রথম স্থান অধিকারী
 
১২ ডিসেম্বর – লুসাইল
 
গ্রুপ ডি-এ দ্বিতীয় স্থান অধিকারী
 
৫৭তম ম্যাচের বিজয়ী
 
৫ ডিসেম্বর – আল ওয়াক্রাহ
 
৫৮তম ম্যাচের বিজয়ী
 
গ্রুপ ই-এ প্রথম স্থান অধিকারী
 
৯ ডিসেম্বর – আল রাইয়ান (এডুকেশন)
 
গ্রুপ এফ-এ দ্বিতীয় স্থান অধিকারী
 
৫৩তম ম্যাচের বিজয়ী
 
৫ ডিসেম্বর – দোহা (আবু আবুদ)
 
৫৪তম ম্যাচের বিজয়ী
 
গ্রুপ জি-এ প্রথম স্থান অধিকারী
 
১৮ ডিসেম্বর – লুসাইল
 
গ্রুপ এইচ-এ দ্বিতীয় স্থান অধিকারী
 
৬১তম ম্যাচের বিজয়ী
 
৪ ডিসেম্বর – আল খুর
 
৬২তম ম্যাচের বিজয়ী
 
গ্রুপ বি-এ প্রথম স্থান অধিকারী
 
১০ ডিসেম্বর – আল খুর
 
গ্রুপ এ-এ দ্বিতীয় স্থান অধিকারী
 
৫১তম ম্যাচের বিজয়ী
 
৪ ডিসেম্বর – দোহা (সুমামাহ)
 
৫২তম ম্যাচের বিজয়ী
 
গ্রুপ ডি-এ প্রথম স্থান অধিকারী
 
১৩ ডিসেম্বর – আল খুর
 
গ্রুপ সি-এ দ্বিতীয় স্থান অধিকারী
 
৫৯তম ম্যাচের বিজয়ী
 
৬ ডিসেম্বর – আল রাইয়ান (এডুকেশন)
 
৬০তম ম্যাচের বিজয়ীতৃতীয় স্থান নির্ধারণী
 
গ্রুপ এফ-এ প্রথম স্থান অধিকারী
 
১০ ডিসেম্বর – দোহা (সুমামাহ)১৭ ডিসেম্বর – আল রাইয়ান (খলিফা)
 
গ্রুপ ই-এ দ্বিতীয় স্থান অধিকারী
 
৫৫তম ম্যাচের বিজয়ী৬১তম ম্যাচের পরাজিত দল
 
৬ ডিসেম্বর – লুসাইল
 
৫৬তম ম্যাচের বিজয়ী৬২তম ম্যাচের পরাজিত দল
 
গ্রুপ এইচ-এ প্রথম স্থান অধিকারী
 
 
গ্রুপ জি-এ দ্বিতীয় স্থান অধিকারী
 

১৬ দলের পর্ব[সম্পাদনা]

৩ ডিসেম্বর ২০২২
১৮:০০
গ্রুপ এ-এ প্রথম স্থান অধিকারী৪৯তম ম্যাচগ্রুপ বি-এ দ্বিতীয় স্থান অধিকারী
প্রতিবেদন

৩ ডিসেম্বর ২০২২
২২:০০
গ্রুপ সি-এ প্রথম স্থান অধিকারী৫০তম ম্যাচগ্রুপ ডি-এ দ্বিতীয় স্থান অধিকারী
প্রতিবেদন

৪ ডিসেম্বর ২০২২
১৮:০০
গ্রুপ ডি-এ প্রথম স্থান অধিকারী৫২তম ম্যাচগ্রুপ সি-এ দ্বিতীয় স্থান অধিকারী
প্রতিবেদন

৪ ডিসেম্বর ২০২২
২২:০০
গ্রুপ বি-এ প্রথম স্থান অধিকারী৫১তম ম্যাচগ্রুপ এ-এ দ্বিতীয় স্থান অধিকারী
প্রতিবেদন

৫ ডিসেম্বর ২০২২
১৮:০০
গ্রুপ ই-এ প্রথম স্থান অধিকারী৫৩তম ম্যাচগ্রুপ এফ-এ দ্বিতীয় স্থান অধিকারী
প্রতিবেদন

৫ ডিসেম্বর ২০২২
২২:০০
গ্রুপ জি-এ প্রথম স্থান অধিকারী৫৪তম ম্যাচগ্রুপ এইচ-এ দ্বিতীয় স্থান অধিকারী
প্রতিবেদন

৬ ডিসেম্বর ২০২২
১৮:০০
গ্রুপ এফ-এ প্রথম স্থান অধিকারী৫৫তম ম্যাচগ্রুপ ই-এ দ্বিতীয় স্থান অধিকারী
প্রতিবেদন

৬ ডিসেম্বর ২০২২
২২:০০
গ্রুপ এইচ-এ প্রথম স্থান অধিকারী৫৬তম ম্যাচগ্রুপ জি-এ দ্বিতীয় স্থান অধিকারী
প্রতিবেদন

কোয়ার্টার-ফাইনাল[সম্পাদনা]

৯ ডিসেম্বর ২০২২
১৮:০০
ম্যাচ ৫৩-এর বিজয়ী৫৮তম ম্যাচম্যাচ ৫৪-এর বিজয়ী
প্রতিবেদন

৯ ডিসেম্বর ২০২২
২২:০০
ম্যাচ ৪৯-এর বিজয়ী৫৭তম ম্যাচম্যাচ ৫০-এর বিজয়ী
প্রতিবেদন

১০ ডিসেম্বর ২০২২
১৮:০০
ম্যাচ ৫৫-এর বিজয়ী৬০তম ম্যাচম্যাচ ৫৬-এর বিজয়ী
প্রতিবেদন

১০ ডিসেম্বর ২০২২
২২:০০
ম্যাচ ৫১-এর বিজয়ী৫৯তম ম্যাচম্যাচ ৫২-এর বিজয়ী
প্রতিবেদন

সেমি-ফাইনাল[সম্পাদনা]

১৩ ডিসেম্বর ২০২২
২২:০০
ম্যাচ ৫৭-এর বিজয়ী৬১তম ম্যাচম্যাচ ৫৮-এর বিজয়ী
প্রতিবেদন

১৪ ডিসেম্বর ২০২২
২২:০০
ম্যাচ ৫৯-এর বিজয়ী৬২তম ম্যাচম্যাচ ৬০-এর বিজয়ী
প্রতিবেদন

তৃতীয় স্থান নির্ধারণী[সম্পাদনা]

১৭ ডিসেম্বর ২০২২
১৮:০০
ম্যাচ ৬১-এ পরাজিত দল৬৩তম ম্যাচম্যাচ ৬২-এ পরাজিত দল
প্রতিবেদন

ফাইনাল[সম্পাদনা]

১৮ ডিসেম্বর ২০২২
১৮:০০
ম্যাচ ৬১-এর বিজয়ী৬৪তম ম্যাচম্যাচ ৬২-এর বিজয়ী
প্রতিবেদন

প্রস্তুতি ও ব্যয়[সম্পাদনা]

বিপণন[সম্পাদনা]

এই আসরের আনুষ্ঠানিক প্রতীকটি লিসবন-ভিত্তিক সংস্থা ব্রান্দিয়া সেন্ত্রাল এজেন্সি নকশা করেছে এবং ২০১৯ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর তারিখে দোহা টাওয়ারকাতারা সাংস্কৃতিক গ্রাম অ্যাম্ফিথিয়েটারমশাইরাব ডাউনটাউন দোহা এবং জুবারাহে একযোগে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তা উন্মোচন করা হয়েছিল। এটি আসরের শিরোপাঅসীম প্রতীক এবং ইংরেজি সংখ্যা "৮"-এর অনুরূপ করার জন্য নকশা করা হয়েছে, যা "আন্তঃসংযুক্ত" প্রতিযোগিতা এবং আটটি আয়োজক স্টেডিয়ামের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেছে। এটি আসরের শীতকালীন সময়সূচীকে নির্দেশ করার জন্য শালের চিত্র ব্যবহারে করা পাশাপাশি এতে মরুভূমির টিলার অনুরূপ তরঙ্গ রয়েছে। প্রতীকের লেখার টাইপোগ্রাফিতে কাশিদা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে – এছাড়াও এতে টাইপোগ্রাফিক জোর দেওয়ার জন্য আরবি লিপিতে অক্ষরের কিছু অংশ প্রসারিত করার অনুশীলন দেখা গিয়েছে।[৮৮][৮৯][৯০]

মাস্কট[সম্পাদনা]

২০২২ সালের ১লা এপ্রিল তারিখে গ্রুপ পর্বের ড্রয়ের সময় এই আসরের আনুষ্ঠানিক মাস্কট উন্মোচন করা হয়েছিল। মাস্কটটির নাম হচ্ছে লা'ইব (যা একটি আরবি শব্দ), আরবিতে যার অর্থ "সুদক্ষ খেলোয়াড়"। ফিফার প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে: "লা'ইব তার তারুণ্যের মনোভাবের জন্য পরিচিত হবে; সে যেখানেই যাক না কেন আনন্দ এবং আত্মবিশ্বাস ছড়িয়ে দেবে" এবং চরিত্রটির আনুষ্ঠানিক পটভূমি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত করে দাবি করা হয়েছে যে এটি একটি সমান্তরাল বিশ্ব থেকে আসা মাস্কট, যেখানে প্রতিযোগিতার পূর্ববর্তী মাস্কটগুলো বসবাস করে, "এমন একটি বিশ্ব যেখানে ধারণা এবং সৃজনশীলতা প্রত্যেকের মনে বাস করে এমন চরিত্রগুলোর ভিত্তি গঠন করে"।[৯১]

ম্যাচ বল[সম্পাদনা]

২০২২ সালের ৩০শে মার্চ তারিখে এই আসরের আনুষ্ঠানিক ম্যাচ বল, "আল রিহলা" উন্মোচন করা হয়েছিল। এটি মূলত কাতারের সংস্কৃতি, স্থাপত্য, ঐতিহাসিক নৌকা এবং পতাকা দ্বারা অনুপ্রাণিত। আরবি ভাষায় "আল রিহলা" শব্দের অর্থ "যাত্রা"। বলটি অগ্রাধিকার হিসেবে স্থায়িত্বের সাথে নকশা করা হয়েছিল, এটি জল-ভিত্তিক আঠালো কালি দিয়ে তৈরি করা প্রথম আনুষ্ঠানিক ম্যাচ বল। যেহেতু "খেলাটি দ্রুততর হচ্ছে" এবং এর "গতি বাড়ছে", তাই আডিডাস এতে কিছু নতুন বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করেছে, যা গতি সরবরাহ করার পাশাপাশি বলের নির্ভুলতা উন্নত করবে।[৯২]

সঙ্গীত[সম্পাদনা]

এই আসরের আনুষ্ঠানিক অ্যালবামের প্রথম গান হলো মার্কিন সঙ্গীতশিল্পী ত্রিনিদাদ কারদোনা, নাইজেরীয় সঙ্গীতশিল্পী দাভিদো এবং কাতারি সঙ্গীতশিল্পী আইশার "হাইয়া হাইয়া (বেটার টুগেদার)",[৯৩] যা ২০২২ সালের ১লা এপ্রিল তারিখে চিত্রসঙ্গীতসহ প্রকাশ করা হয়েছে।[৯৪][৯৫]

অ্যালবামের দ্বিতীয় গান হলো "আরহবো", যেখানে কণ্ঠ দিয়েছেন জিমস এবং ওসুনা; গানটি ২০২২ সালের ১৯ আগস্ট মাসে চিত্রসঙ্গীতসহ প্রকাশ করা হয়েছে।[৯৬]

বিতর্ক[সম্পাদনা]

বেশ কয়েকটি গোষ্ঠী এবং গণমাধ্যম সংস্থা এই আসরটি আয়োজনে কাতারের উপযুক্ততা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে,[৯৭][৯৮] কাতারে সমকামিতার অবৈধতার কারণে মানবাধিকার, বিশেষ করে শ্রমিকদের অবস্থা এবং এলজিবিটি সম্প্রদায়ের ভক্তদের অধিকারের ব্যাখ্যা সম্পর্কিত।[৯৮][৯৯][১০০][১০১] ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে, কাতার ২০২২ সালের বিশ্বকাপে রংধনু পতাকার অনুমতি দিয়েছিল।[১০২] দেশটির ২০২২ সালের বিশ্বকাপ নিলামডাকের প্রধান নির্বাহী হাসান আবদুল্লাহ আল সাওয়াদি বলেছিলেন যে কাতার এই অনুষ্ঠানের সময় মদ সেবনের অনুমতি দেবে,[১০৩][১০৪] যদিও প্রকাশ্যে মদ্যপানের অনুমতি নেই, কারণ দেশের আইনী ব্যবস্থা শরিয়তের উপর ভিত্তি করে তৈরি।[১০৫]

এই আসরের আয়োজক দেশ হিসেবে কাতার নির্বাচিত বেশ বিতর্ক হয়েছে; ফিফা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছিল এবং কাতারকে বিশ্বকাপ "কেনার" অনুমতি দেওয়ার জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছিল,[১০৬] নির্মাণ শ্রমিকদের প্রতি আচরণ নিয়ে বেশ কিছু মানবাধিকার সংস্থা প্রশ্ন তুলেছিল[১০৭] এবং পরিকল্পনাগুলো বাস্তবে পরিণত করার জন্য প্রয়োজনীয় উচ্চ ব্যয়ের সমালোচনা করেছিল। জলবায়ু পরিস্থিতির কারণে কেউ কেউ কাতারে প্রতিযোগিতাটি আয়োজনকে অসম্ভব বলে অভিহিত করেছিল, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্টেডিয়ামগুলোর জন্য প্রাথমিক পরিকল্পনায় গ্রীষ্ম থেকে শীতকালে একটি সম্ভাব্য তারিখপরিবর্তনের পথ তৈরি করেছিল।

২০১৪ সালের মে মাসে, সেপ ব্ল্যাটার (যিনি আয়োজক নির্বাচনের সময় ফিফার সভাপতি ছিলেন, তবে পরবর্তীকালে অবৈধ অর্থ প্রদানের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিলেন) মন্তব্য করেছিলেন যে কাতারকে বিশ্বকাপ আয়োজন করতে দেওয়া চরম গরমের কারণে একটি "ভুল" ছিল।[১০৮][১০৯] তবে আফ্রিকান ও এশীয় কনফেডারেশনের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে ব্ল্যাটার বলেছিলেন যে, দুর্নীতির অভিযোগ এবং পৃষ্ঠপোষকসহ কিছু সমালোচনা "বর্ণবাদ ও বৈষম্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত"।[১১০]

অভিবাসী শ্রমিক, দাসত্বের অভিযোগ ও মৃত্যু[সম্পাদনা]

অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকারের বিষয়টিও সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল, ২০১৩ সালে দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকার একটি তদন্তে দাবি করা হয়েছিল যে অনেক শ্রমিককে খাদ্য ও পানি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল, তাদের কাছ থেকে তাদের পরিচয়পত্র কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এবং তাদের সময়মতো বা একেবারেই বেতন প্রদান হয়নি, তাদের মধ্যে কয়েকজনকে কার্যত ক্রীতদাস করে তোলা হয়েছিল। দ্য গার্ডিয়ান অনুমান করেছিল যে, কাফালা ব্যবস্থার সংস্কার ছাড়াই প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হওয়ার সময়,[১১১] ২ মিলিয়ন-শক্তিশালী অভিবাসী কর্মীদের মধ্যে ৪,০০০ জন শ্রমিক শিথিল নিরাপত্তা এবং অন্যান্য কারণে মারা যেতে পারে।[১০৭][১১২] এই দাবিগুলো যে সত্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছিল যে তা হলো বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে কাতারের নিলামডাক জয় করার পর ২০১০ সাল থেকে ৫২২ জন নেপালি শ্রমিক[১১৩] এবং ৭০০-এরও বেশি ভারতীয় শ্রমিক মারা গিয়েছিল;[১১১] প্রতি বছর প্রায় ২৫০ জন ভারতীয় শ্রমিক মারা যায়।[১১৪] কাতারে ৫০ লক্ষ ভারতীয় শ্রমিক থাকার কারণে, ভারত সরকার বলেছিল যে এটি বেশ স্বাভাবিক সংখ্যক মৃত্যুর সংখ্যা।[১১৪]

২০১৫ সালে, বিবিসির চারজন সাংবাদিকের একটি দলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং দেশে শ্রমিকদের অবস্থা সম্পর্কে প্রতিবেদন করার চেষ্টা করার অভিযোগে তাদের দুই দিনের জন্য আটক করা হয়েছিল।[১১৫] কাতার সরকারের অতিথি হিসেবে সাংবাদিকদের দেশটি সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।[১১৫]

২০১৫ সালের জুন মাসে, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল যে ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশনের দাবি ছিল যে বিশ্বকাপ সম্পর্কিত অবকাঠামো এবং রিয়াল এস্টেট প্রকল্পগুলোতে কাজ করার সময় ১,২০০-এরও বেশি শ্রমিক মারা গেছে এবং কাতার সরকারের পাল্টা দাবি যে মৃত্যুর কোন ঘটনা ঘটেনি।[১১৬] পরবর্তীকালে বিবিসি জানিয়েছিল যে ২০১১ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে কাতারে বিশ্বকাপের নির্মাণে ১,২০০ জন শ্রমিকের মৃত্যুর চিত্রটি সঠিক নয় এবং ১,২০০ সংখ্যাটি দ্বারা কেবল বিশ্বকাপের প্রস্তুতির সাথে জড়িত শ্রমিকদের নয় বরং কাতারে কর্মরত সকল ভারতীয় এবং নেপালিদের মৃত্যুর সংখ্যা প্রকাশ করা হয়েছে।[১১৪] অধিকাংশ কাতারি নাগরিক হস্তসাধিত কাজ অথবা কম দক্ষ কাজ করা এড়িয়ে চলেন; উপরন্তু, কর্মক্ষেত্রে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।[১১৭] রয়্যাল ডাচ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাইকেল ভান প্রাগ ফিফার নির্বাহী কমিটিকে অনুরোধ করেছিলেন যে তারা যেন কাতারকে এই অভিযোগের উপর চাপ সৃষ্টি করে, যাতে তারা শ্রমিকদের আরও ভাল অবস্থা নিশ্চিত হতে পারে। তিনি আরও বলেছিলেন, দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণ করতে হলে কাতারকে বিশ্বকাপের জন্য দায়ী করার বিষয়ে একটি নতুন ভোট গ্রহণ করতে হবে[১১৮]

২০১৬ সালের মার্চে মাসে, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল কাতারের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহার, কর্মচারীদের দরিদ্র অবস্থায় বসবাস করতে বাধ্য করা এবং তাদের বেতন ও পাসপোর্ট আটকে রাখার অভিযোগ এনেছিল। এতে আরও অভিযোগ করা হয়েছিল যে, ফিফা "মানবাধিকার লঙ্ঘনের" ওপর ভিত্তি করে স্টেডিয়ামটি নির্মাণ করা থেকে বিরত রাখতে ব্যর্থ হয়েছিল। অভিবাসী শ্রমিকরা অ্যামনেস্টিকে বেশ কয়েক মাস ধরে বেতন না পাওয়ার বিষয়ে অভিযোগ করার পরে মৌখিক নির্যাতন এবং হুমকি সম্পর্কে জানিয়েছিল। এমনকি ২০১৫ সালে নেপাল ভূমিকম্পের পর নেপালি শ্রমিকদের তাদের পরিবারের সাথে দেখা করার জন্য ছুটি দেওয়া হয়নি।[১১৯]

২০১৭ সালের অক্টোবরে মাসে, ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশন জানিয়েছিল যে, কাতার দেশে ২ মিলিয়নেরও বেশি অভিবাসী শ্রমিকের অবস্থার উন্নতির জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। আইটিইউসি-এর মতে, এই চুক্তিতে কাফালা ব্যবস্থার অবসানসহ শ্রম ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য সংস্কার সাধনের কথা বলা হয়েছে। আইটিইউসি আরও জানিয়েছিল যে, এই চুক্তিটি শ্রমিকদের সাধারণ পরিস্থিতিকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করবে, বিশেষ করে যারা ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ অবকাঠামো প্রকল্পে কাজ করে। শ্রমিকদের আর দেশ ত্যাগ বা চাকরি পরিবর্তন করার জন্য তাদের নিয়োগকর্তার অনুমতির প্রয়োজন হবে না।[১২০]

২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে,, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল প্রশ্ন করেছিল যে কাতার বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পূর্বে প্রতিশ্রুত শ্রম সংস্কারগুলো সম্পন্ন করবে কিনা, যা ফিফা সমর্থন করেছিল। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতে, দেশটি শ্রম অধিকারের উন্নতির জন্য কিছু পদক্ষেপ নেওয়া সত্ত্বেও এখনও নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটছে।[১২১] মে মাসে, যুক্তরাজ্যের সংবাদপত্র ডেইলি মিররের একটি তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা গিয়েছে যে, স্টেডিয়ামগুলোতে ২৮,০০০ জন শ্রমিকের মধ্যে কয়েকজনকে প্রতি মাসে ৭৫০ কাতারি রিয়াল দেওয়া হচ্ছে, যা প্রতি মাসে ১৯০ পাউন্ড অথবা ৪৮ ঘন্টার সপ্তাহে প্রতি ঘন্টায় ৯৯ পেন্সের সমান।[১২২]

২০০৬ বিশ্বকাপের জন্য এবং ২০০৮ ও ২০১৬ সালের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য টার্ফ সরবরাহকারী হেন্সড্রিক্স গ্রাজোডেন কাতারকে বিশ্বকাপের টার্ফ সরবরাহ করতে অস্বীকার করেছিল। প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র গারডিন ভ্লোটের মতে, এই সিদ্ধান্তের একটি কারণ ছিল মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ।[১২৩]

২০২০ সালের এপ্রিলে মাসে, কাতার সরকার কোয়ারেন্টাইনে থাকা বা কোভিড-১৯-এর জন্য চিকিৎসাধীন অভিবাসী শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধের জন্য ৮২৪ মিলিয়ন ডলার প্রদান করেছিল।[১২৪][১২৫] আগস্ট মাসে, কাতারি সরকার সকল শ্রমিকদের জন্য মাসিক ন্যূনতম মজুরি পূর্ববর্তী অস্থায়ী ন্যূনতম মজুরি প্রতি মাসে ৭৫০ রিয়াল থেকে বৃদ্ধি করে ১,০০০ রিয়াল (২৭৫ মার্কিন ডলার) ঘোষণা করেছিল।[১২৬][১২৭] ২০২১ সালের মার্চ মাস হতে মজুরির এই নতুন আইন কার্যকর হয়েছিল।[১২৮] আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা জানিয়েছিল যে, "কাতার এই অঞ্চলের প্রথম দেশ, যারা বৈষম্যহীন ন্যূনতম মজুরি প্রবর্তন করেছে, যা দেশটির শ্রম আইনের ঐতিহাসিক সংস্কারের ধারাবাহিকতার একটি অংশ"।[১২৯] অন্যদিকে, প্রচারাভিযান দল মাইগ্র্যান্ট রাইটস জানিয়েছিল যে কাতারের জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়ের সাথে অভিবাসী শ্রমিকদের চাহিদা পূরণের জন্য নতুন ন্যূনতম মজুরি খুব কম ছিল।[১৩০] উপরন্তু, যদি নিয়োগকর্তারা সরাসরি এই কর্মীদের সরবরাহ না করে তবে খাবারের জন্য ৩০০ রিয়াল এবং বাসস্থানের জন্য ৫০০ রিয়াল প্রদান করতে বাধ্য ছিল। নো অবজেকশন সার্টিফিকেটটি অপসারণ করা হয়েছিল, যেন কর্মচারীরা বর্তমান নিয়োগকর্তার সম্মতি ছাড়াই চাকরি পরিবর্তন করতে পারে। এটি বাস্তবায়নের জন্য একটি ন্যূনতম মজুরি কমিটিও গঠন করা হয়েছিল।[১৩১] এই সংস্কারগুলো কাফালা ব্যবস্থাকে অপসারণ করে একটি চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করে।[১১২][১৩২]

২০২১ সালের মার্চ মাসে,, দ্য গার্ডিয়ান একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানিয়েছিল যে, দূতাবাস এবং জাতীয় বিদেশী কর্মসংস্থান অফিসগুলোর তথ্য ব্যবহার করে কাতারকে বিশ্বকাপ প্রদানের পর থেকে অভিবাসী শ্রমিকদের মৃত্যুর সংখ্যা অনুমান করা হয়েছে। ২০১০ সাল থেকে ২০২০ সালের শেষের দিকে ভারতবাংলাদেশপাকিস্তাননেপাল ও শ্রীলঙ্কা থেকে আসা ৬,৫০০ অভিবাসী শ্রমিক কাতারে মারা গেছেন।[১৩৩]

দোহায় অনুষ্ঠিত ২০২২ সালের ফিফা কংগ্রেসে নরওয়েজীয় ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি লিসে ক্লাভেনেস এই প্রতিযোগিতাকে ঘিরে বিভিন্ন বিতর্কের কথা উল্লেখ করে কাতারকে বিশ্বকাপ দেওয়ার জন্য সংস্থাটির সমালোচনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে, "২০১০ সালে ফিফা কর্তৃক অগ্রহণযোগ্যভাবে বিশ্বকাপ প্রদান করা হয়। মানবাধিকার, সমতা, গণতন্ত্র: ফুটবলের মূল স্বার্থ অনেক বছর পর পর্যন্ত প্রথম একাদশে ছিল না। এই মৌলিক অধিকারগুলো বাইরের কণ্ঠস্বরের বিকল্প হিসেবে মাঠে চাপ দেওয়া হয়েছিল। ফিফা এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে, কিন্তু এখনো অনেক দূর যেতে হবে।"[১৩৪][১৩৫] কাতার ২০২২-এর মহাসচিব হাসান আল-সাওয়াদি দেশটির সাম্প্রতিক শ্রম সংস্কারকে উপেক্ষা করার জন্য লিসে ক্লাভেনেসের মন্তব্যের সমালোচনা করেছিলেন।[১৩৫]

২০২১ সালের ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানবাধিকার ও গণতন্ত্র বিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদনে কাতারের শ্রম আইন সংস্কারের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল, যা ২০২১ সালে বৈষম্যহীন ন্যূনতম মজুরি ব্যবস্থা এবং কাফালা ব্যবস্থা অপসারণের অন্তর্ভুক্ত করেছিল।[১৩৬]

২০২২ সালের মার্চ মাসে, ফিফা সভাপতি জান্নি ইনফান্তিনো এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছিলেন যে, উপসাগরীয় দেশটি তাদের শ্রম অধিকার এবং অভিবাসী অধিকারের বিষয়ে প্রগতিশীল হচ্ছে যা পূর্বে দেশে প্রচলিত ছিল এবং বলেছিলেন "শ্রম বাজার জুড়ে সংস্কারগুলো সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হওয়া নিশ্চিত করার জন্য, এই আসরের অনেক পরে ফিফা বিশ্বকাপের একটি দীর্ঘস্থায়ী উত্তরাধিকার রেখে যাওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদে আয়োজক দেশের অভিবাসী শ্রমিকদের উপকৃত করার জন্য আমি কাতারি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কঠোর প্রতিশ্রুতি দেখে আনন্দিত"।[১৩৭][১৩৮]

নভেম্বর–ডিসেম্বরে স্থানান্তর[সম্পাদনা]

কাতারের জলবায়ুর কারণে, জুন ও জুলাই মাসের ঐতিহ্যবাহী সময়সীমায় বিশ্বকাপ আয়োজনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। ২০১৩ সালের অক্টোবর মাসে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত ২০১৪ ফিফা বিশ্বকাপের পর বিকল্প তারিখ ও প্রতিবেদন বিবেচনার জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছিল।[১৩৯] ২০১৫ সালের ২৪শে ফেব্রুয়ারি তারিখে, ফিফা টাস্কফোর্স প্রস্তাব করেছিল যে আসরটি ২০২২ সালের নভেম্বরের শেষ থেকে ডিসেম্বরের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত হবে,[১৪০] যেন মে ও সেপ্টেম্বর মাসের গ্রীষ্মের তাপ এড়ানো যায় এবং ফেব্রুয়ারি মাসে ২০২২ শীতকালীন অলিম্পিক, মার্চ মাসে ২০২২ শীতকালীন প্যারালিম্পিক এবং এপ্রিল মাসে রমজানের সাথে সংঘর্ষ এড়ানো যায়।[১৪১][১৪২]

নভেম্বর মাসে আসরটি মঞ্চস্থ করার ধারণাটি বিতর্কিত, কেননা এটি বিশ্বজুড়ে কিছু ঘরোয়া লিগের নিয়মিত মৌসুমের সময়সূচীতে হস্তক্ষেপ করবে। ধারাভাষ্যকাররা উল্লেখ করেছেন যে পশ্চিমা বড়দিন মৌসুমের সাথে সংঘর্ষের ফলে বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও আসরটি কতটা সংক্ষিপ্ত হওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।[১৪৩] ফিফার নির্বাহী কমিটির সদস্য থেও সোয়ানৎসিগার জানিয়েছিলেন যে, ২০২২ সালের বিশ্বকাপ কাতারের মরুরাজ্যকে প্রদান করা একটি "নির্লজ্জ ভুল" ছিল।[১৪৪] অস্ট্রেলিয়া ফুটবল ফেডারেশনের চেয়ারম্যান ফ্রাংক লোয়ি জানিয়েছিলেন যে, ২০২২ সালের বিশ্বকাপ যদি নভেম্বর মাসে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং এভাবে এ-লিগের সূচি ব্যাহত হয়, তাহলে তারা ফিফার কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ চাইবে।[১৪৫] প্রিমিয়ার লিগের প্রধান নির্বাহী রিচার্ড স্কাডামোর বলেছিলেন যে, তারা ফিফার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবেন, কেননা এই পদক্ষেপটি প্রিমিয়ার লিগের জনপ্রিয় বড়দিন এবং নববর্ষের সময়সূচীতে হস্তক্ষেপ করবে।[১৪৬] ২০১৫ সালের ১৯শে মার্চ তারিখে, ফিফার একটি সূত্র নিশ্চিত করেছিল যে, এই আসরের ফাইনাল ১৮ই ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।[১৪৭]

নিলামডাকে দুর্নীতির অভিযোগ[সম্পাদনা]

কাতার বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে সাবেক শীর্ষ ফুটবল কর্মকর্তা মুহাম্মদ বিন হাম্মামের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ ওঠায় কাতার ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পড়েছিল।[১৪৮] কাতার নিলামডাকের দলের একজন প্রাক্তন কর্মচারী অভিযোগ করেছেন বেশ কয়েকজন আফ্রিকান কর্মকর্তাকে কাতার ১.৫ মিলিয়ন ডলার প্রদান করেছিল।[১৪৯] তিনি তার দাবি প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন, কিন্তু পরবর্তীকালে বলেছিলেন যে কাতারের নিলামডাকের কর্মকর্তারা তাকে তা করতে বাধ্য করেছিলেন।[১৫০][১৫১] ২০১৪ সালের মার্চ মাসে জানা গিয়েছিল যে কনকাকাফের প্রাক্তন সভাপতি জ্যাক ওয়ার্নার এবং তার পরিবারকে কাতারের সফল অভিযানের সাথে যুক্ত একটি ফার্ম থেকে প্রায় ২ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হয়েছিল। ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) ওয়ার্নার এবং কাতারের নিলামডাকের সাথে তার কথিত যোগাযোগের বিষয়ে তদন্ত করেছিল।[১৫২]

ফিফার ছয়টি প্রাথমিক পৃষ্ঠপোষকের মধ্যে পাঁচটি সনিআডিডাসভিসাহুন্দাই এবং কোকা-কোলা ফিফাকে এই অভিযোগের তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছিল।[১৫৩][১৫৪] দ্য সানডে টাইমস লক্ষ লক্ষ গোপন নথি ফাঁসের উপর ভিত্তি করে ঘুষের অভিযোগ প্রকাশ করেছিল।[১৫৫] ফিফার সহ-সভাপতি জিম বয়েস রেকর্ডে বলেছিলেন যে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিনি একটি নতুন আয়োজক খুঁজে পেতে পুনরায় ভোট সমর্থন করবেন।[১৫৬][১৫৭] ফিফা এই অভিযোগের একটি দীর্ঘ তদন্ত সম্পন্ন করে একটি প্রতিবেদনে কাতারকে কোন ধরনের অন্যায় কাজের সংশ্লিষ্ট নয় বলে জানিয়েছে। এই দাবি সত্ত্বেও, কাতারিরা জোর দিয়ে বলেছিল যে দুর্নীতির অভিযোগগুলো ঈর্ষা এবং অবিশ্বাসের দ্বারা চালিত হয়েছে এবং সেপ ব্ল্যাটার বলেছিলেন যে এটি ব্রিটিশ গনমাধ্যমের বর্ণবাদের ফসল।[১৫৮][১৫৯]

২০১৫ ফিফা দুর্নীতি মামলায় সুইস কর্মকর্তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্যের অধীনে কাজ করে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে ফিফার অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। তারা ফিফার সদর দপ্তর থেকে ভৌত ও বৈদ্যুতিন রেকর্ডও জব্দ করেছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও এই গ্রেপ্তার অব্যাহত ছিল; সেখানেও বেশ কয়েকজন ফিফা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং ফিফা ভবনগুলোতে অভিযান চালানো হয়েছিল। কমপক্ষে ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দুর্নীতি এবং ঘুষ কেলেঙ্কারির তথ্যের ভিত্তিতে এই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।[১৬০]

২০১৫ সালের ৭ই জুন তারিখে, কাতার নিলামডাক দলের প্রাক্তন গণমাধ্যম কর্মকর্তা ফায়েদ্রা আল মজিদ দাবি করেছিলেন যে, এই অভিযোগের ফলে কাতার বিশ্বকাপ আয়োজন করবে না।[১৬১] একই দিনে প্রকাশিত একটি সাক্ষাৎকারে, ফিফার অডিট অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স কমিটির প্রধান দোমেনিকো স্কালা বলেছিলেন যে "যদি প্রমাণ থাকে যে কাতার এবং রাশিয়াকে প্রদান করা আয়োজন অধিকার কেবল কেনা ভোটের মাধ্যমে দেয়া হয়েছে, তবে তাদের আয়োজন অধিকার বাতিল করা যেতে পারে।"[১৬২][১৬৩]

কাতারের কূটনৈতিক সংকট[সম্পাদনা]

২০১৭ সালের ৫ই জুন তারিখে, সৌদি আরবমিশরবাহরাইনসংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইয়েমেন কাতারের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং কাতারে বিরুদ্ধে পার্শ্ববর্তী অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন করার অভিযোগ করেছিল। সৌদি আরব, ইয়েমেন, মৌরিতানিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মিশর এক চিঠিতে ফিফাকে কাতারকে বিশ্বকাপ আয়োজক হিসেবে প্রতিস্থাপনের আহবান জানিয়েছিল এবং দেশটিকে "সন্ত্রাসবাদের ঘাঁটি" হিসেবে অভিহিত করেছিল।[১৬৪] ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে, দুবাই পুলিশ ও জেনারেল সিকিউরিটির উপ-প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল দাহি খলফান তামিম আরবি ভাষায় টুইটারে এই সংকট সম্পর্কে বলেছিলেন, "বিশ্বকাপ যদি কাতার ছেড়ে যায়, তাহলে কাতারের সংকট শেষ হয়ে যাবে... কারণ সংকটটি সৃষ্টি হয়েছে তা থেকে দূরে সরে যাওয়ার জন্য"। গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বার্তাটি ইঙ্গিত করে যে কাতারের সৌদি নেতৃত্বাধীন অবরোধ শুধুমাত্র কাতারের বিশ্বের বৃহত্তম ফুটবল প্রতিযোগিতা আয়োজনের কারণে কার্যকর করা হয়েছিল।[১৬৫] গণমাধ্যমে সৃষ্ট প্রতিক্রিয়ায় দাহি খলফান তামিম আরেকটি টুইট করে বলেছিলেন, "আমি বলেছিলাম যে কাতার নিজেরাই একটি সংকট তৈরি করছে এবং তারা দাবি করে যে তাদের অবরুদ্ধ করা হয়েছে, যেন এটি বিশ্বকাপের জন্য ব্যয়বহুল ক্রীড়া সুবিধা নির্মাণের বোঝা থেকে মুক্তি পেতে পারে।"[১৬৬] সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আনোয়ার গার্গাশ বলেছিলেন যে, গণমাধ্যমে দাহি খলফান তামিমকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর জবাবে গার্গাশ স্পষ্ট করে বলেছিলেন, কাতারের ২০২২ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনের মধ্যে উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদকে সমর্থনকারী নীতিপ্রত্যাখ্যান করা উচিত।"[১৬৭]

রাশিয়ার অংশগ্রহণ[সম্পাদনা]

২০১৯ সালের ৯ই ডিসেম্বর তারিখে, আরইউএসএডিএ তদন্তকারীদের কাছে গবেষণাগারের পরিবর্তিত তথ্য হস্তান্তরের জন্য অ-অনুগত বলে প্রমাণিত হওয়ার পরে ওয়ার্ল্ড অ্যান্টি-ডোপিং অ্যাজেন্সি রাশিয়াকে সকল ধরনের প্রধান ক্রীড়া প্রতিযোগিতা থেকে চার বছরের নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেছিল।[১৬৮] রাশিয়া জাতীয় দলকে তখনও এই আসরের বাছাইপর্বে অংশগ্রহণ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, কেননা নিষেধাজ্ঞাটি কেবল বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দল নির্ধারণ করার জন্য চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার জন্য প্রযোজ্য ছিল। রাশিয়ার প্রতিনিধিত্বকারী একটি দল (যারা রাশিয়ার পতাকা এবং সঙ্গীত ব্যবহার করে) নিষেধাজ্ঞাটি সক্রিয় থাকার সময় ডব্লিউএডিএ-এর সিদ্ধান্তের অধীনে অংশ নিতে পারেনি।[১৬৯] নিষেধাজ্ঞার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টে আপিল করা হয়েছিল[১৭০] এবং ২০২০ সালের ১৭শে ডিসেম্বর তারিখে, রুশ দলগুলোকে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের আগের দিন পর্যন্ত ওয়াডা স্বাক্ষরকারীদের দ্বারা আয়োজিত বা অনুমোদিত বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।[১৭১]

২০২২ সালে ইউক্রেনে রুশ আক্রমণের পর রাশিয়ার অংশগ্রহণ আরও সন্দেহের মধ্যে পড়ে। ২৪শে ফেব্রুয়ারি তারিখে, রাশিয়ার বাছাইপর্বের পথে তিনটি দল (চেক প্রজাতন্ত্রপোল্যান্ড এবং সুইডেন) রুশ অঞ্চলে আয়োজিত যেকোন ম্যাচ খেলতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছিল।[১৭২] পোল্যান্ড এবং সুইডেন কর্তৃক বাছাইপর্বের ম্যাচের এই বয়কটের মেয়াদ ২৬শে ফেব্রুয়ারি তারিখ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল এবং একদিন পরে চেক প্রজাতন্ত্রও একই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।[১৭৩][১৭৪][১৭৫]

২০২২ সালের ২৭শে ফেব্রুয়ারি তারিখে, ফিফা আন্তর্জাতিক ফুটবলে রাশিয়ার অংশগ্রহণ বিষয়ক বেশ কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছিল। রাশিয়াকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে নিষেধ করা হয়েছিল এবং জাতীয় দলকে নিরপেক্ষ দেশগুলোতে বিনা দর্শকের উপস্থিতিতে হোম ম্যাচ আয়োজন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এই নিষেধাজ্ঞার অধীনে, রাশিয়াকে দেশের নাম, পতাকা এবং জাতীয় সংগীতের অধীনে প্রতিযোগিতা করার অনুমতি দেওয়া হবে না; একইভাবে অলিম্পিকের মতো প্রতিযোগিতাগুলোতে রুশ ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণের জন্য দলটি "রাশিয়া"-এর পরিবর্তে তাদের জাতীয় ফেডারেশন রুশ ফুটবল ইউনিয়নের (আরএফইউ) অধীনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।[১৭৬][১৭৭] পরের দিন, ফিফা রাশিয়াকে "পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত" আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যার মধ্যে ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণও অন্তর্ভুক্ত ছিল।[১৭৮]

এলজিবিটি অধিকার[সম্পাদনা]

কাতারে সমকামিতা অবৈধ এবং শরিয়তের অধীনে মুসলমানদের জন্য মৃত্যুদণ্ডযোগ্য হওয়ার কারণে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া এলজিবিটি সম্প্রদায়ের সদস্যদের অধিকার সম্পর্কে বিভিন্ন মাধ্যম উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল।[৯৮][১৭৯] কাতারকে আয়োজক হিসেবে নির্বাচিত করার পর, ব্লাটার এই উদ্বেগগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা একজন সাংবাদিককে মজা করে উত্তর দেয়ার জন্য সমালোচিত হয়েছিলেন; তিনি বলেছিলেন যে, সমকামী অংশগ্রহণকারীদের "যেকোন প্রকার যৌন ক্রিয়াকলাপ থেকে বিরত থাকা উচিত"।[১৮০][১৮১] এই বিবৃতির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে ব্লাটার আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, ফিফা বৈষম্য সহ্য করে না; তিনি আরো বলেছিলেন যে "আমরা যা করতে চাই তা হলো এই খেলাটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা, এটি সকল সংস্কৃতির জন্য উন্মুক্ত করা এবং ২০২২ সালে আমরা এটাই করছি।[১৮২] ২০১৩ সালে, হাসান আল সাওয়াদি বলেছিলেন যে ২০২২ সালে কাতারে সবাইকে স্বাগত জানানো হবে, তবে জনসাধারণের মধ্যে স্নেহ প্রদর্শনের বিরুদ্ধে সতর্ক করা হয়েছে কেননা তারা "আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ না"।[১৮৩]

২০২১ সালের নভেম্বর মাসে, অস্ট্রেলীয় ফুটবলার জশ কাভালো (যিনি ২০২১ সালের অক্টোবরে সমকামী হিসেবে নিজেকে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন[১৮৪]) বলেছিলেন যে, তার কাতারে খেলতে যেতে ভয় করছে। এই আসরের আয়োজক কমিটির প্রধান নাসির আল খাতার এর উত্তরে বলেছিলেন যে, কাভালোকে দেশে স্বাগত জানানো হবে।[১৮৫]

কাতারের কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে বলেছিলেন যে, ফিফার অন্তর্ভুক্ত নীতি অনুযায়ী বিশ্বকাপের সময় ম্যাচগুলোতে এলজিবিটি-পন্থী চিত্রাবলী (যেমন রংধনু পতাকা) প্রদর্শনকে সীমাবদ্ধ করা হবে না।[১৮৬] তবে ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে, এই প্রতিযোগিতার তত্ত্বাবধানকারী একজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছিলেন যে এলজিবিটি-বিরোধী দর্শকদের সাথে ঝগড়া থেকে তাদের রক্ষা করার জন্য একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে দর্শকদের কাছ থেকে রংধনু পতাকা বাজেয়াপ্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ফেয়ার নেটওয়ার্ক এই প্রতিবেদনের সমালোচনা করে যুক্তি দেখিয়েছিল যে রাষ্ট্র কর্তৃক এলজিবিটি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে পদক্ষেপগুলো ব্যক্তিদের কর্মের চেয়ে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের জন্য বেশি উদ্বেগের বিষয়।[১৮৭][১৮৮] অন্যদিকে, মেজর জেনারেল আব্দুল আজিজ আবদুল্লাহ আল আনসারি (ফিফা বিশ্বকাপের জন্য নিরাপত্তা তত্ত্বাবধানকারী জ্যেষ্ঠ নেতা) এক সাক্ষাৎকারে ঘোষণা করেছিলেন যে এলজিবিটি দম্পতিদের দেশে স্বাগত জানাই।[১৮৯]

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট