Loading..

শিক্ষায় অগ্রযাত্রা

রিসেট

২২ ডিসেম্বর, ২০২২ ০৬:৫০ অপরাহ্ণ

আপনার সন্তানকে ছোটবেলা থেকেই যা শেখাবেন।

একজন মানুষের সুন্দর আচরণ অন্যকে সম্মানিত করার পাশাপাশি সম্মানিত করে নিজেকেও। একই সঙ্গে শিশুর সুন্দর আচরণ পারিবারিক অনুশাসন ও পারিবারিক শিক্ষার প্রতিফলনও বটে। আপনার সন্তানের সুন্দর আচরণ অন্যের কাছে আপনাকেও সম্মানিত করে।

শিশুর সুন্দর আচরণ তার মাঝে মানবিকতা, আত্নবিশ্বাস, সামাজিকতাসহ আরো বেশ কিছু অসাধারণ গুণের অধিকারী করে তোলে। তাই শিশু বড় হবার সঙ্গে সঙ্গে তাকে ভালো আচরণ শেখানোটা গুরুত্বপূর্ণ। সন্তানের বাড়ন্ত বয়সে শেখানো কিছু মৌলিক আচরণ –

১। শিশুরা দুষ্টুমি করবেই। কিন্তু তার দুষ্টামি যেন কারোর ক্ষতির কারণ না হয় সেটা তাকে শেখান। কারো বাসায় বেড়াতে গেলে অনুমতি না নিয়ে কোন জিনিস ধরা বা দুষ্টূমি করতে গিয়ে যেন কোনো কিছুর ক্ষতি না করে সেটা তাকে বোঝান।

২। আপনার সন্তান যখন কারো কাছে কিছু প্রত্যাশা করবে বা চাইবে তখন তাকে ‘’প্লিজ” এবং কোনো কিছু গ্রহণ করার পর তাকে “ধন্যবাদ” বলতে শেখান। এটা তাকে বিনয়ী করে তুলবে।

৩। শেয়ার করার অসাধারণ গুণটি মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক যেমন সুন্দর করে তেমন মানসিক প্রশান্তিও বাড়ায়। তাই সন্তানকে ছোট থেকেই শেয়ারিং শেখাতে পারেন। নিজের ভাই-বোন বা কাজিনদের সাথে নিজের খেলনা বা খাবার শেয়ার করার মাধ্যমে ছোট বেলা থেকেই এ গুণটি গড়ে তুলতে পারেন।

৪। আপনার সন্তান ভিড়ের মধ্যে কারো দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইলে তাকে ‘এস্ককিউজমি’ বলতে শেখান।

৫। কারো চারিত্রিক বা শারীরিক বৈশিষ্ঠ্য নিয়ে মন্তব্য করাটা উচিত নয় তা তাকে বোঝান, যদি তা প্রশংসামূলক না হয়। কোন বিষয়গুলো বুলিং-এর পর্যায়ে পড়ে তা তাকে শেখান। বুলিং এর শিকার মানুষটা কতটা কষ্ট পায় তা তাকে বোঝান।

৬। আপনার সন্তানকে সবসময় অনুমতি নিতে শেখানোটা গুরুত্বপূর্ন। তাহলে যখনই সে কোনোকিছু বুঝতে পারবে না বা কোনোকিছু করার আগে ভালোর জন্য আপনাকে জিঙ্গেসা করে নেবে।

৭। কিভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে হয় তা তাকে শেখানো আপনার দায়িত্ব। বিশেষ করে কেউ যখন কোনো উপহার প্রদান করে প্রদানকারীকে অবশ্যই ধন্যবাদ দিতে হয় এটি তাকে বোঝান।

৮। স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে তাকে সচেতন করা আপনার প্রধান দায়িত্ব। হাচি-কাশির সময় মুখে রুমাল দেওয়া এবং অন্যের সামনে দাঁত ও নাক খোঁচানো থেকে বিরত থাকা এবং প্রয়োজনের সময় তাকে ট্যিসু ব্যবহার করতে শেখান।

৯। কেউ কেমন আছো প্রশ্ন করলে বিনয়ের সাথে জবাব দিতে শেখান এবং প্রশ্নটি তাকেও করতে শেখান।

১০। অন্যের গোপনীয়তা রক্ষা করতে শেখান। কারো রুমে প্রবেশের আগে দরজায় নক করতে এবং অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় এটা তাকে শেখান।

 ১১। সন্তানকে টেবিলে খাবারের সময় কি ভদ্রতা অবলম্বন করতে হয় সে সম্পর্কে শেখান।

১২। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ সে সম্পর্কে তাকে বলুন। খেলা-ধুলা বা খাবার পর কিভাবে নিজেকে পরিষ্কার রাখতে হয় তা তাকে শেখান।

১৩। তাকে শেখান প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করাটা গুরুত্বপূর্ণ, হেরে যাওয়া বা জয়ী হওয়াটা বড় কথা নয়।

১৪। সন্তানকে নিজের প্রতি যত্নশীল হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের প্রতি যত্নশীল হতে শেখান।

১৫। সন্তান কোনো ভুল করলে তাকে দুঃখিত বলা শেখান। অভিভাবক হিসেবে কোনো ভুল করলে আপনিও দুঃখিত বলুন।

বাচ্চাদের কম মনোযোগ এবং দুরন্তপনা আপনাকে হয়তো একাধিকবার বিরক্ত ও হতাস করে তুলবে , কিন্তু ধৈর্যশীল হন। ধৈর্যচ্যুত না হওয়া এবং আপনার সন্তানের উপর রেগে না যাওয়া উচিত। আপনি যদি শান্ত ও অনড় থাকেন, তবে আপনার সন্তানও সেই একই ভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে।

                                                ধন্যবাদ।

মন্তব্য করুন