Loading..

শিক্ষায় অগ্রযাত্রা

রিসেট

২৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ০৪:২৭ অপরাহ্ণ

'বই উৎসব' এক অনন্য উৎসব এ উৎসব বা বিনামূল্যে বই বিতরণ যখন ছিল না, তখন বাজারে নতুন বই আসতে মার্চ পর্যন্ত সময় লেগে যেত।

'বই উৎসব' এক অনন্য উৎসব এ উৎসব বা বিনামূল্যে বই বিতরণ যখন ছিল না, তখন বাজারে নতুন বই আসতে মার্চ পর্যন্ত সময় লেগে যেত। উচ্চতর শ্রেণির সহপাঠী বা আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে জীর্ণশীর্ণ বা পুরনো বই এনে বা কিনে পড়তে হতো, অনেকের শেষ পর্যন্ত তাতেই সন্তুষ্ট থাকতে হতো, কারণ কেনার সামর্থ্য ছিল না। এসব দৈন্য, সীমাবদ্ধতা বা শিক্ষাক্ষেত্রের অস্বতঃস্ফূর্ততা এখন মুছে গেছে। এখন শিক্ষার্থীদের কাছে বছরের শুরুতেই পরম উপহার হয়ে আসে নতুন বই।


নানা দেশে নানা উৎসব পালিত হয়। বাংলাদেশ তার ব্যতিক্রম নয়, যা একান্তভাবেই ইতিবাচক। বাংলাদেশে অনেক উৎসব পালিত হয়, যেগুলোর বিভিন্ন নাম রয়েছে অন্তর্গত বৈশিষ্ট্য, উৎপত্তি-ইতিহাস ও তার সঙ্গে সর্বসাধারণের সংযুক্তির প্রকার ও মাত্রা অনুসারে; যেমন সামাজিক উৎসব, ধর্মীয় উৎসব, জাতীয় উৎসব, প্রাণের উৎসব ইত্যাদি। উৎসবগুলোর কোনো কোনোটি 'মেলা' নামেও অভিহিত হয়ে থাকে। উৎসব বা মেলা শব্দটির মধ্যে বিশেষ এক ধরনের স্বতঃস্ফূর্ততা জড়িয়ে আছে, প্রাণের আবেগ ও সাধারণের সংশ্লিষ্টতার বিপুলতা রয়েছে এবং একটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর তার আবির্ভাব, উদযাপন বা অনুষ্ঠিত হওয়ার একটি পৌনঃপুনিকতা বা নিয়মতান্ত্রিকতা রয়েছে। যা 'অনুষ্ঠান' বা এরকম কোনো শব্দের মধ্যে পাওয়া যায় না। মূলত একটি অনুষ্ঠান যখন ওই রকম মাত্রা পায়, তখনই তা উৎসবে পরিণত হয়। উলেস্নখ্য, এখানে 'দিবস'লগ্ন কিছু নিয়মিত পালনীয় অনুষ্ঠানও রয়েছে আমাদের। যেগুলোর মধ্যে জাতীয় আনন্দ-বেদনা-গর্ব জড়িত রয়েছে। কেবল বেদনা জড়িত রয়েছে, এমন দিবস পালনও রয়েছে, যেমন জাতীয় শোক দিবস। স্বাধীনতা দিবস বা বিজয় দিবস পালন আমাদের জাতীয়ভাবে পালনীয় অনুষ্ঠান। কয়েকটি উৎসব রয়েছে, যেগুলো বাঙালির প্রাণের উৎসব নামে কথিত হয় এখন। যেমন- পহেলা বৈশাখ উদ্‌যাপন বা বাংলা নববর্ষ পালন, একুশের বইমেলা। এগুলো বাঙালির অনন্য উৎসব। আর একটি অনন্য উৎসব হলো 'বই উৎসব'। যেটি প্রাণের উৎসব- বিশেষত শিশুদের, স্কুল পড়ুয়াদের, জাতির সম্ভাবনাময় জনগোষ্ঠীর এক বিশেষ মূল্যবান অংশের- বাংলাদেশের আগামীদিনের কর্ণধারদের, ভবিষ্যতের। বাংলাদেশের জ্ঞানবিকাশের গতিপ্রকৃতি ও প্রচেষ্টার একটি উজ্জ্বল প্রতিফলক এটি, যার গুণগত ও প্রভাবসৃষ্টিকারী ব্যাপক ভূমিকা বৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ আমাদের সামনে এখন- এমন মনে করতে হবেই। নতুবা এমন উৎসব থেকে কার্যকর ফল আহরণ ত্বরান্বিত, প্রোজ্জ্বল ও প্রভূত হবে না। জাতীর ভবিষ্যতের একটি বিশেষ প্রাণবন্ত অংশের কী ব্যাপক উদ্দীপনা এর সঙ্গে ইতোমধ্যে জড়িত হয়ে গেছে। এটি আমাদের বুঝতে হবে। এটিকে শিশুদের শুধু নয়- আমাদের সবার প্রাণের উৎসবে পরিণত করতে হবে। বর্তমান সরকারের সে প্রেক্ষিতে ভূমিকার কথা নিঃসন্দেহে স্বীকার করে নিতে হয়। শুধু কি শিশুদের উদ্দীপনা-সম্মিলন-আনন্দ-হাসিমুখ বিশ্বিত এ অনুষ্ঠান? শিক্ষক-অভিভাবক-শিক্ষাবিদ-লেকক-জনপ্রতিনিধি-প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-জাতীয় প্রকাশনা-মুদ্রণ-সংশ্লিষ্ট এ এক অন্যরকমের সংযোগ-সম্মিলন-জ্ঞান-শিক্ষাগত আন্দোলন, যা বিশেষত সারা বাংলাদেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্টদের আন্দোলিত করে, উৎসব-আনন্দ ও কর্মযজ্ঞের মধ্যদিয়ে যা প্রতিফলিত হয়। যার মূল শুভ সূচনা, প্রেরণাশক্তি ও উদ্দীপনা হলো ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর বই বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন ও কেন্দ্রীয়ভাবে সে কর্মসূচির উৎসব হিসেবে পালন। এ উৎসব ২০১০ সাল থেকে শুরু হয় আজ পর্যন্ত বলবৎ রয়েছে কখনো কখনো কিছু রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও।

মন্তব্য করুন