সহকারী শিক্ষক
০৪ জানুয়ারি, ২০২৩ ১০:০১ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
"প্রথম শ্রেণির বাংলা বই থেকে প্রত্যশা"
আমার বাংলা বই প্রথম শ্রেণি
বইয়ের প্রথম পৃষ্ঠায় লিখা এই পরিপূর্ণ নামটি সকল শিক্ষার্থীকে বলতে পারাটা নিশ্চিত করতে হবে এবং শেষ পৃষ্ঠায়
"বড়দের সম্মান করো "কথাটি হৃদয়ে এমন করে গেথে দিতে হবে যাতে তারা বাস্তব জীবনে
প্রাক্টিস করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে।
বাংলা বইয়ের প্রথমেই জাতীয় পতাকার মাপ এবং ভবনের আকার ও আয়তন অনুযায়ী ৩ ধরণের মাপের পতাকা ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া আছে।
তাহলে ১০ স্টু ৬,৫ স্টু ৩ এবং আড়াই স্টু দেড়
মাপের কোথায় কোনধরনের পতাকা ব্যবহৃত হবে সেটা সারাজীবনের জন্য শিখে রাখবে এবং বাস্তব জীবনে কাজে লাগাতে পারার কথা।
তারপরেই আছে জাতীয় সঙ্গীত এবং গাওয়ার জন্য জাতীয় সঙ্গীতের পূর্ণপাঠ।
অতএব শিক্ষার্থীদের থেকে সঠিক সুরে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে পারার প্রত্যশা করতেই পারি।
৮০ পৃষ্ঠার এই বাংলা বইয়ে পাঠ ১ এ আমার পরিচয় দিয়ে শুরু এবং পাঠ ৫৩তে আমার ঠিকানা লিখতে পারা দিয়ে শেষ করা হয়েছে।
কাজেই প্রথম শ্রেণি সমাপনান্তে শিক্ষার্থী তার নিজের পরিচয়টা সাবলীলভাবে বলতে পারবে এবং গ্রাম,উপজেলা ও জেলাসহ নিজের পূর্নাঙ্গ ঠিকানাটা লিখতে পারাটাতো একেবারেই স্বাভাবিক।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং অন্যান্য শিক্ষার্থীর সাথে কুশল বিনিময় শিখবে।
রং করা এবং আঁকাআঁকি করতে শিখবে।
পাঠ ৮ এ আতা গাছে তোতা পাখি ছড়া আবৃত্তি করতে শিখবে।
পাঠ ৯ এ বাঘ ও রাখাল ছেলের গল্প থেকে মিথ্যা কথা বলার ভয়ানক পরিণাম জানবে। শেখানোর কৌশলটা চমৎকার হলে ঐ শিক্ষার্থী সমগ্র জীবনে মিথ্যা প্রহসন এড়িয়ে চলতে অভ্যস্ত হবে।
পাঠ ১৭ এ ছন্দের তালে তালে ইতল বিতল ছড়া আবৃত্তি করে নিজেদের জড়তাহীন করে গড়ে তুলবে।
স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জনবর্ণ এবং কারচিহ্ন শিখবে।
পাঠ ২৫ এ শামসুর রাহমানের ট্রেন কবিতা আবৃত্তি করতে শিখবে।
পাঠ ৩৬ এ পড়ার সাথে লিখতেও শিখবে।
পাঠ ৪০ এ জসীম উদদীনের মামার বাড়ি কবিতা আবৃত্তি করতে পারবে।
পাঠ৪২ এ কাজী নজরুল ইসলামের ভোর হলো আবৃত্তি শিখবে
পাঠ ৪৫ এ ৭ দিনের কথায় এসে বাংলা বই রিডিং পড়তে পারার কথা।
পাঠ ৪৭ এ রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের ছুটি কবিতা আবৃত্তি শিখবে।
পাঠ ৪৮ এ এসে আামাদের দেশ সাবলীলভাবে রিডিং পড়বে।
♦পাঠ ৪৯ এ মাছের রাজা রিডিং পড়বে।
♦পাঠ ৫০ এ ১ থেকে ২০ পর্যন্ত সংখ্যা শিখবে।
♦পাঠ ৫১তে রিডিং পড়ার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ ও বিজয়ের ইতিহাস জানবে।
♦পাঠ ৫২ থেকে শব্দ নিয়ে খেলতে শিখবে।
♦পাঠ ৫৩ তে এসে শিক্ষার্থী তার পরিপূর্ণ ঠিকানা লিখতে পারবে।
প্রথম শ্রেণির বাংলা বইয়ে যদি স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জনবর্ণ এবং কারচিহ্ন পরিপূর্ণভাবে শিখে তাহলে যেকোন বাংলা বই রিডিং পড়তে পারবে এটাইত স্বাভাবিক। তাই না?
ক্লাস থ্রি, ফোর এমনকি ফাইভের কোন কোন স্টুডেন্ট বাংলা বই সাবলীল রিডিং পড়তে পারেনা।তারমানে বুঝতে হবে ঐ শিক্ষার্থী ক্লাস ওয়ানে নিশ্চয়ই ভালো শিখেনি!!!
আসুন গর্বিত প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের সদস্য হিসেবে আমরা ক্লাস ওয়ানেই বাংলার ভিতটা শক্ত করে গড়ে দিই।
কপিড