Loading..

প্রেজেন্টেশন

রিসেট

২৯ জানুয়ারি, ২০২৩ ০৪:৩৫ অপরাহ্ণ

আমার ৬৮তম কনটেন্ট "বিবর্তনবাদের ইসলামী ব্যাখ্যা ও নাস্তিকীয় ব্যাখ্যা "দেখে লাইক,গঠন মূলক মতামত দিন। https://www.teachers.gov.bd/profile/rumamun1986 ঘুরে আসুন .

শ্রদ্ধেয় প্যাডাগজি রেটার,এডমিন,সেরা কনটেন্ট নির্মাতা,সেরা উদ্ভাবক,সেরা নেতৃত্ব,বাতায়ন সকল শিক্ষক- শিক্ষিকা আইসিটি জেলা অ্যাম্বাসেডর আমার আপলোডকৃত৬৮তম কনটেন্ট "বিবর্তনবাদের ইসলামী ব্যাখ্যা ও নাস্তিকীয় ব্যাখ্যা

"দেখে লাইক,গঠন মূলক মতামত রেটিং প্রদানের জন্য বিনীত অনুরোধ করছি https://www.teachers.gov.bd/profile/rumamun1986 ঘুরে আসুন আমার পেইজে, লাইক, কমেন্ট করে সাথে থাকুন





জৈব বিবর্তন এবং ডারউইনের মতবাদ (Biological Evolution and Darwinism Theory)

জৈব বিবর্তনের তত্ত্ব (The theory of Biological Evolution)

বৈচিত্র্যময় এই পৃথিবীতে আমরা যেসব জীবের সঙ্গে পরিচিত, তাদের মধ্যে প্রায় তেরো লক্ষ প্রাণী প্রজাতি এবং চার লাখের মতো উদ্ভিদ-প্রজাতিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। একসময় মানুষের ধারণা ছিল, পৃথিবী অপরিবর্তিত, অর্থাৎ সৃষ্টির আদিতে পৃথিবীর যে আকার বা আয়তন ছিল, তার কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। তারা ভাবতো, আদি জীবজগতের সঙ্গে বর্তমানকালের জীবজগতের তেমন কোনো পার্থক্য নেই। কিন্তু খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে জেনোফেন (Xenophane) নামের একজন বিজ্ঞানী প্রথম কতকগুলো জীবাশ্ম (fossil) আবিষ্কার করেন। তিনি প্রমাণ করেন যে জীবদেহের আকার অপরিবর্তনীয় নয়, অর্থাৎ অতীত এবং বর্তমান যুগের জীবদেহের গঠনে যথেষ্ট পরিবর্তন ঘটেছে।

খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীতে গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল (Aristotle) প্রমাণ করেন যে জীবজগতের বিভিন্ন জীবের ভিতর এক শ্রেণির জীব অন্য শ্রেণির জীব থেকে উন্নত। সেই জীবগুলো তাদের পূর্বপুরুষ থেকে উৎপত্তি লাভ করে বিবর্তনের (বা অভিব্যক্তি) মাধ্যমে ক্রমাগত পরিবর্তিত এবং রূপান্তরিত হয়ে বর্তমান রূপ ধারণ করেছে। সাধারণত বিবর্তন একটি মন্থর এবং চলমান প্রক্রিয়া এবং এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গঠনগতভাবে সরল জীবন থেকে ধীরে ধীরে জটিল জীবনের উৎপত্তি ঘটেছে। তবে খুব কম সময়ের মধ্যে বিবর্তন সংঘটিত হওয়ার নজিরও বর্তমান।

সর্বশেষ বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত অনুসারে, প্রায় সাড়ে চার শত কোটি বছর (সাড়ে চার বিলিওন) আগে সূর্য থেকে সৃষ্ট এই পৃথিবী একটি উত্তপ্ত গ্যাস-পিণ্ড ছিল। এই উত্তপ্ত গ্যাস-পিন্ড ক্রমাগত তাপ বিকিরণ করায় এবং তার উত্তাপ কমে যাওয়ায় ক্রমশ ঘনীভূত হয়ে তরল অবস্থা প্রাপ্ত হয়। পরে এই পিণ্ডটি বাইরের দিক থেকে ভিতরের দিকে ক্রমশ কঠিন হতে থাকে এবং উদ্ভূত জলীয় বাষ্প থেকে মেঘের সৃষ্টি হয়। ঐরকম মেঘ থেকে বৃষ্টি হওয়ায় পৃথিবীর কঠিন বহিঃস্তরে জলভাগ অর্থাৎ সমুদ্রের আবির্ভাব ঘটে। এক সময়ে সমুদ্রের পানিতে প্রাণের আবির্ভাব হয় এবং সমুদ্রের পানিতে সৃষ্ট জীবকুলের ক্রমাগত পরিবর্তনের ফলে বর্তমানের বৈচিত্র্যময় জীবজগতের সৃষ্টি হয়েছে।

গভীর যুক্তিনির্ভর চিন্তাভাবনা এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আধুনিক মানুষের ধারণা হয়েছে যে জীব সৃষ্টির মূলেই রয়েছে বিবর্তন। ল্যাটিন শব্দ ‘Evolveri’ থেকে বিবর্তন শব্দটি এসেছে। ইংরেজ দার্শনিক এবং শিক্ষাবিদ হার্বার্ট স্পেনসার (Herbert Spencer) প্রথম ইভোলিউশন কথাটি ব্যবহার করেন।

এক সময় বলা হতো, যে ধীর, অবিরাম এবং চলমান পরিবর্তন দিয়ে কোনো সরলতর নিম্নশ্রেণির জীব থেকে জটিল এবং উন্নততর নতুন প্রজাতির বা জীবের উদ্ভব ঘটে, তাকে বিবর্তন বা অভিব্যক্তি বা ইভোলিউশন বলে। তবে বিবর্তন সব সময় ধীর গতিতে ঘটে না, পরিবেশের কারণে অনেক সময় দ্রুত ঘটতে দেখা গেছে। শুধু তা- নয়, বিবর্তনের কারণে জটিল জীব সরলতর রূপ নিয়েছে তারও উদাহরণ আছে। মেক্সিকান কেভ ফিশ পানির উপরের স্তর থেকে সরে গিয়ে গভীর পানিতে অন্ধকার গুহায় বাস করতে শুরু করার কারণে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে।

কাজেই এখন বিবর্তন বা ইভোলিউশনের সংজ্ঞা জিনের অ্যালিলের মাধ্যমে দেওয়া হয় (একটি নির্দিষ্ট জিন একাধিকভাবে থাকতে পারে, তখন সেই জিনটির ভিন্ন ভিন্ন রূপকে তার অ্যালিল বলা হয়) কার্টিস-বার্নস (1989) প্রদত্ত আধুনিক সংজ্ঞা অনুসারে, বিবর্তন হলো প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে নির্দিষ্ট এলাকায় এক কিংবা কাছাকাছি প্রজাতির অ্যালিল ফ্রিকোয়েন্সির পরিবর্তন।

ধরা যাক, সুন্দরবনের সমস্ত বাঘের সবগুলো জিন নির্ণয় করে তার একটি তালিকা করা হলো, যেখানে কোন জিনের কোন অ্যালিল কতগুলো করে আছে, সেটিও হিসাব রাখা হয়েছে। বেশ কিছু বছর পরে পরবর্তী কোনো প্রজন্মের সকল বাঘের সবগুলো জিন নির্ণয় করে আবার কোন অ্যালিল কতগুলো করে আছে, সেটিও হিসাব করা হলো। তারপর দুই প্রজন্মের জিনগুলো তুলনা করে যদি দেখা যায়, এক প্রজন্ম থেকে অপর প্রজন্মে কোনো জিনের কোনো অ্যালিলের সংখ্যার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে, তাহলে বলা যাবে, বাঘের এই পপুলেশনটিতে বিবর্তন ঘটছে

জীবনের আবির্ভাব কীভাবে ঘটেছিল? (How Did the Origin of Life Happen?):

পৃথিবীতে জীবনের উৎপত্তি কীভাবে হয়েছিল সে সম্পর্কে বিভিন্ন মতবাদ বর্তমানে প্রচলিত আছে। তবে জীবনের উৎপত্তি যে প্রথমে সমুদ্রের পানিতে হয়েছিল, সম্পর্কে কোনো দ্বিমত নেই। সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা যে যুক্তি রেখেছেন, সেগুলো এরকম: প্রথমত, অধিকাংশ জীবকোষ এবং দেহস্থ রক্ত অন্যান্য তরলে নানারকম লবণের উপস্থিতি, যার সঙ্গে সমুদ্রের পানির খনিজ লবণের সাদৃশ্য রয়েছে। দ্বিতীয়, সমুদ্রের পানিতে এখনো অনেক সরল এবং এককোষী জীব বসবাস করে।

পৃথিবীতে কীভাবে জীব সৃষ্টি হয়েছিল, সে সম্পর্কে বিজ্ঞানসম্মত অনুমান এরকম: প্রায় 260 কোটি বছর আগে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রচুর পরিমাণে মিথেন, অ্যামোনিয়া, হাইড্রোজেন সালফাইড এবং জলীয় বাষ্প, নাইট্রোজেন এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস ছিল; কিন্তু অক্সিজেন গ্যাস ছিল না। অহরহ আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রার বৃদ্ধি ঘটত এবং বজ্রপাতের ফলে অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে এই যৌগ পদার্থগুলো মিলিত হয়ে অ্যামাইনো এসিড এবং নিউক্লিক এসিড উৎপন্ন করে। ল্যাবরেটরিতে এই প্রক্রিয়াটি পরীক্ষা করে প্রমাণ করা হয়েছে। পরে অ্যামাইনো এসিড এবং নিউক্লিক এসিড মিলিত হওয়ায় নিউক্লিওপ্রোটিন অণুর সৃষ্টি হয়। নিউক্লিওপ্রোটিন অণুগুলো ক্রমে নিজেদের প্রতিরূপ-গঠনের (replication) ক্ষমতা অর্জন করে এবং জীবনের সূত্রপাত ঘটায়। পৃথিবীর উৎপত্তি এবং তার ধারাবাহিকতায় জীবনের উৎপত্তির ঘটনাপ্রবাহকে বলে রাসায়নিক বিবর্তন বা অভিব্যক্তি।

ধারণা করা হয়, প্রোটিন এবং নিউক্লিক এসিড সহযোগে সৃষ্টি হয় নিউক্লিওপ্রোটিন। এই নিউক্লিওপ্রোটিন থেকেই সৃষ্টি হয় প্রোটোভাইরাস এবং তা থেকে সৃষ্টি হয় ভাইরাস। ভাইরাস এমন একটা অবস্থা নির্দেশ করে, যা জীব এবং জড়ের মধ্যবর্তী অবস্থা। এরপর সম্ভবত উদ্ভব হয় ব্যাকটেরিয়া এবং আরও পরে সৃষ্টি হয় প্রোটোজোয়া।

ব্যাকটেরিয়ার নিউক্লিয়াস আদি প্রকৃতির, তাই এদেরকে আদি কোষ বলা হয়। পরে প্রোটোজোয়াদের দেহে দেখা গেল সুগঠিত নিউক্লিয়াস। কিছু এককোষী জীবদেহে সৃষ্টি হলো ক্লোরোফিল, ফলে একদিকে যেমন খাদ্য সংশ্লেষ সম্ভব হলো, তেমনি খাদ্য সংশ্লেষের উপজাত (by product) হিসেবে অক্সিজেন সৃষ্টি হতে শুরু করল। তখন সবাত শ্বসনকারী জীবদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকল।

উদ্ভব হলো এককোষী থেকে বহুকোষী জীব। এরপর একদিকে উদ্ভিদ অপরদিকে প্রাণীদুটি ধারায় জীবের অভিব্যক্তি বা বিবর্তন শুরু হলো। জীবনের উদ্ভব তথা রাসায়নিক বিবর্তনের আরও কিছু সম্ভাব্য ব্যাখ্যা আছে, তবে উপরে উল্লিখিত ব্যাখ্যাটিই এখন পর্যন্ত বৈজ্ঞানিকভাবে সর্বাধিক গ্রহণযােগ্য। বিবর্তন প্রকৃতপক্ষে সরলরেখায় ঘটে না, অসংখ্য জটিল শাখা-প্রশাখায় প্রতিনিয়ত ঘটে চলে বিবর্তন, চিত্রে তার একটা ধারণা দেওয়া হয়েছে।

 

ডারউইনবাদ বা ডারউইনের মতবাদ (Darwinism or Darwin’s Theory):

ব্রিটিশ প্রকৃতি বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন জীববিজ্ঞান তথা সমগ্র বিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি বৈপ্লবিক চিন্তাধারার সৃষ্টি করেন। বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন (Charles Robert Darwin, 1809-1882) ইংল্যান্ডের স্রাসবেরি শহরে জন্মগ্রহণ করেন। প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জ পরিভ্রমণকালে তিনি অঞ্চলের উদ্ভিদ এবং প্রাণিকুলের বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য দেখে বিশেষভাবে আকৃষ্ট হন এবং সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে 1837 খ্রিষ্টাব্দে ইংল্যান্ডে প্রত্যাবর্তনের প্রায় 20 বছর পরে 1859 খ্রিস্টাব্দেপ্রাকৃতিক নির্বাচনের দ্বারা প্রজাতির উদ্ভব’ (Origin of Species by Means of Natural Selection) নামে একটি বইয়ে তাঁর মতবাদটি প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, ডারউইনের তত্ত্বটিবিবর্তন তত্ত্বনামে প্রচলিত হলেও তিনি প্রকৃতপক্ষে বিবর্তনের আবিষ্কারক নন। অধ্যায়ের আ্লোচনায় আমরা ইতোপূর্বে দেখেছি যে জৈব বিবর্তন যে প্রকৃতই ঘটে তা খ্রিস্টপূর্ব সময় থেকেই বিজ্ঞানীরা জানতেন। ডারউইনের সাফল্য ছিল, জৈব বিবর্তনের কারণ হিসেবে পর্যাপ্ত সংখ্যক বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে একটি প্রক্রিয়ার (mechanism) ধারণা প্রতিষ্ঠা করা যা, বিবর্তনের যাবতীয় বিষয় ব্যাখ্যা করতে পারবে।

জৈব বিবর্তনের কারণ হিসেবে প্রাকৃতিক নির্বাচনকে উল্লেখ করে আরও একজন সমসাময়িক ব্রিটিশ প্রকৃতি বিজ্ঞানী, আলফ্রেড ওয়ালেস (Alfred Russel Wallace, 1823-1913), একই সময়ে কিন্তু স্বাধীনভাবে অনুরূপ তত্ত্ব প্রণয়ন করেন। তবে বিভিন্ন ঐতিহাসিক কারণে তাঁর চেয়ে ডারউইনের নামেই তত্ত্বটি অধিক প্রচলিত।

ডারউইনের দৃষ্টিতে প্রকৃতিতে সংঘটিত সাধারণ সত্যগুলো (In Darwin’s view, the general truths that occur in nature):

(a) অত্যধিক হারে বংশবৃদ্ধি (excessive population growth):

ডারউইনের মতে, অত্যধিক হারে বংশবৃদ্ধি করাই জীবের সহজাত বৈশিষ্ট্য। এর ফলে জ্যামিতিক এবং গাণিতিক হারে জীবের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। উদাহরণস্বরূপ: একটি সরিষা গাছ থেকে বছরে প্রায় 730,000টি বীজ জন্মায়। এই 730,000 বীজ থেকে 730,000 সরিষা গাছের জন্ম হওয়া সম্ভব। একটি স্ত্রী স্যামন মাছ প্রজনন ঋতুতে প্রায় 3 কোটি ডিম পাড়ে। ডারউইনের মতে, এক জোড়া হাতি থেকে উদ্ভূত সকল হাতি বেঁচে থাকলে 750 বছরে হাতির সংখ্যা হবে এক কোটি নব্বই লাখ।

(b) সীমিত খাদ্য বাসস্থান (limited food and space):

ভূপৃষ্ঠের আয়তন সীমাবদ্ধ হওয়ায় জীবের বাসস্থান এবং খাদ্য সীমিত। 

(c) অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম (fight for survival):

জীবের জ্যামিতিক গাণিতিক হারে সংখ্যাবৃদ্ধি ঘটায় এবং খাদ্য বাসস্থান সীমিত থাকায় জীবকে বেঁচে থাকার জন্য কঠিন প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হয়। ডারউইন ধরনের সংগ্রামকেঅস্তিত্বের জন্য সংগ্রামবলে অভিহিত করেন। ডারউইন লক্ষ্য করেন যে জীবনে তিনটি পর্যায়ে এই সংগ্রাম করতে হয়। সেগুলো হচ্ছে:

  • আন্তঃপ্রজাতিক সংগ্রাম (interspecific competition):

উদাহরণস্বরূপ বলা যায় ব্যাঙ কীটপতঙ্গ খায়, অন্যদিকে সাপ ব্যাঙদের খায়। আবার, ময়ূর সাপ এবং ব্যাঙ দুটোকেই খায়- এভাবে নিতান্ত জৈবিক কারণেই বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে খাদ্য-খাদক সম্পর্কের একটি নিষ্ঠুর জীবনসংগ্রাম গড়ে ওঠে। 

  • অন্তঃপ্রজাতিক সংগ্রাম (intraspecific competition):

একই প্রজাতির বিভিন্ন সদস্যদের খাদ্য এবং বাসস্থান একই রকমের হওয়ায় এদের সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি পেলে এরা নিজেদের মধ্যেই বেঁচে থাকার প্রতিযোগিতা শুরু করে; উদাহরণ হিসেবে বলা যায় যে একটি দ্বীপে তৃণভোজী প্রাণীর সংখ্যা বেড়ে গেল খাদ্য এবং বাসস্থান সীমিত থাকায় তারা নিজেরাই নিজেদের মধ্যেই সংগ্রাম শুরু করে। সবল প্রাণীগুলো দুর্বল প্রাণীদের প্রতিহত করে গ্রাসাচ্ছাদন করে। ফলে দুর্বল প্রাণীগুলো কিছু দিনের মধ্যেই অনাহারে মারা পড়ে।

  • পরিবেশের সঙ্গে সংগ্রাম (struggle with environment):

বন্যা, খরা, ঝড়, বালিঝড়, ভূমিকম্পন, অগ্ন্যুৎপাত ধরনের প্রতিকূল পরিবেশ জীবের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যহত করে। সুতরাং জীবকে তার অস্তিত্ব বজায় রাখার জন্য প্রতিনিয়ত এসব প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে সংগ্রাম করতে হয়। যে প্রাণীগুলো এই পরিবেশে টিকে থাকতে পারে, তারা বেঁচে থাকে অন্যরা বিলুপ্ত হয়ে যায়। উদাহণস্বরূপ বলা যায় যে উত্তর এবং মধ্য আমেরিকার কোয়েল পাখি প্রচণ্ড ঠাণ্ডা তুষারপাতের ফলে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

(d) প্রকরণ বা জীবদেহে পরিবর্তন (variation or change in the organism):

চার্লস ডারউইনের মতে, পৃথিবীতে দুটি জীব কখনোই অবিকল একই ধরনের হয় না। যত কমই হোক এদের মধ্যে কিছু না কিছু পার্থক্য থাকে। জীব দুটির মধ্যে যে পার্থক্য দেখা যায়, তাকে প্রকরণ (variety) বা পরিবৃত্তি (mutation) বলে। অনুকূল প্রকরণ অস্তিত্বের জন্য জীবনসংগ্রামে একটি জীবকে সাহায্য করে।

(e) প্রাকৃতিক নির্বাচন (natural selection):

ডারউইন তত্ত্বের এই প্রতিপাদ্যটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অনুকূল (বা অভিযোজনমূলক) প্রকরণ সমন্বিত জীবেরা অন্যদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় বেশি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে, এই প্রক্রিয়াকে প্রাকৃতিক নির্বাচন বলে। অনুকূল প্রকরণ সমন্বিত জীবেরা প্রকৃতির দ্বারা নির্বাচিত হয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি সংখ্যায় বেঁচে থাকে এবং অত্যধিক হারে বংশবিস্তার করে। অপরদিকে, প্রতিকূল প্রকরণসম্পন্ন জীবেরা প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে পারে না। ফলে ধীরে ধীরে অবলুপ্ত হয়।

ডারউইনের মতবাদ অনুসারে পরিবর্তিত পরিবেশে যে জীবটি খাপ খাইয়ে নিতে পারে, তাকেযোগ্যআখ্যা দিয়ে অনেক সময় সহজ করে বলা হয়, যোগ্য জীবটি পরিবেশে প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়ে টিকে থাকবে।

(f) নতুন প্রজাতির উৎপত্তি (derivation of new species):

যেসব প্রাণী উদ্ভিদের মধ্যে সুবিধাজনক প্রকরণ দেখা যায়, প্রকৃতি তাদের নির্বাচন করে এবং তাদের লালন করে। সুবিধাজনক প্রকরণযুক্ত প্রাণী এবং উদ্ভিদ পরিবেশের সাথে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে এবং অযোগ্যদের তুলনায় বেশি হারে বংশবিস্তার করতে পারে। উত্তরাধিকার সূত্রে এদের বংশধরদের মধ্যে প্রকরণগুলো যায়। এই বংশধরদের মধ্যে আবার যাদের সুবিধাজনক প্রকরণ বেশি থাকে, প্রকৃতি আবার তাদের নির্বাচন করে। এভাবে যুগ-যুগান্তর ধরে নির্বাচিত করে করে প্রকৃতি প্রাণী উদ্ভিদের নতুন প্রজাতি সৃষ্টি করে। বর্তমানে বংশগতিবিদ, কোষতত্ত্ববিদ এবং শ্রেণিবিদগণ নতুন প্রজাতির উৎপত্তির বিষয়ে বংশগতিবিদ্যা মতবাদের এবং বিবর্তন তত্ত্বের ভিত্তিতে বলেন, তিনটি ভিন্ন উপায়ে নতুন প্রজাতির সৃষ্টি হতে পারে:

  • মূল প্রজাতির থেকে পৃথক হয়ে (isolation) যাওয়ার ফলে

  • সংকরায়ণের (hybridization) ফলে এবং

  • সংকরায়ণ প্রজাতিতে কোষ বিভাজনের সময় ঘটনাক্রমে কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা বৃদ্ধির (Polyploidy) ফলে। এর ফলে নতুন জীবটির অভিযোজন ঘটবে এবং প্রাকৃতিক নির্বাচনের দ্বারা একটি নতুন প্রজাতির সৃষ্টি হবে।

প্রজাতির টিকে থাকায় বিবর্তনের গুরুত্ব (Importance of Evolution for Survival of Species):

বিবর্তনের মাধ্যমে নতুন প্রজাতির উদ্ভবকালে দেখা যায় অনেক প্রজাতি কালের গর্ভে হারিয়ে যায়। উদাহরণ হিসেবে ডাইনোসরের কথা বলা যায়। দেখা গেছে সময়ের সাথে যে প্রজাতিটির টিকে থাকার ক্ষমতা যত বেশি, সে বিবর্তনের আবর্তে তত বেশি দিন টিকে থাকতে পারে। অর্থাৎ যে পরিবেশ, জীবনপ্রবাহ জনমিতির মানদণ্ডে বিবর্তনে যে যত বেশি খাপ খাওয়াতে পারবে, সেই প্রজাতিটি টিকে থাকবে। বিবর্তনের পথে খাপ খাওয়ানাের এই প্রক্রিয়াকে অনেক ক্ষেত্রে অভিযোজন (adaptation) বলা হয়।

বিবর্তন যে শুধু প্রকৃতির কোলে ঘটে, তা নয়। গবেষণাগারে পরীক্ষামূলকভাবে বিবর্তন ঘটানো সম্ভব হয়েছে। এটিও বিবর্তনের বাস্তবতার প্রমাণ। বিবর্তনের বিপক্ষে কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি। জীবজগৎ সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান যতই সমৃদ্ধ হচ্ছে, বিবর্তনকে অস্বীকার করা ততই অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

 

Part 1,1

বিবর্তনবাদের ইসলামী ব্যাখ্যা ও নাস্তিকীয় ব্যাখ্যা একটি সময় থাকে, যখন কোন বিশেষ ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্বীয় স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য তার বা তাদের চেলা চামুন্ড দিয়ে চলমান বা অতীত ইতিহাসকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করে, যেন সেই ব্যাখ্যা তাদের মিথ্যা মিথের ভিত্তি ধ্বংস করতে না পারে। এই যে কিছুদিন আগেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বলতো তারা সন্ত্রাসী অথবা উইপন অব মাস ডেসট্রাকশন ধ্বংস করার জন্য ইরাকে আক্রমণ চালিয়েছে। কিন্তু এই সেদিনই জর্জ বুশ জুনিয়রের একটি সাক্ষাৎকার শুনলাম, যেখানে তিনি স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন যে, গত শতকে ইরাক বা তার আগে মধ্যপ্রাচ্যে আক্রমনের মূল কারণ ছিল তেলের উপর নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠার যুদ্ধ। কিন্তু তখন তাদের চেলা চামুন্ডারা সেই মিথ্যা প্রচারণাই করে গেছেন, যারা সত্য বলতে চেয়েছেন, তাদের সত্যবাক্য গভীর সমুদ্রে সামান্য ফেনা তুল্য মনে হয়েছিল। আজকে সত্য প্রকাশিত হ্েচ্ছ এবং মিথ্যার উপর চপেটাঘাত করার সময় এসেছে। ঠিক একইভাবে ব্রিটিশ লাইব্রেতীতে যে মার্কসবাদ জন্ম নিয়েছিল, সেই মার্কসবাদ ছিল মধ্যএশিয়ার মুসলমান দেশ দখল এবং তৎকালীন ব্রিটিশ কলোনীতে আল-কোরানের আলোকে উদীয়মান সাম্রা জ্যবাদী বিরোধী স্পিটকে ধ্বংস করার জন্য একটি বিকল্প মানবসৃষ্ট তথাকথিত বিপ্লবী মতবাদ সৃষ্টি করা। অত্যন্ত দু:খের সাথে বলতে হয়, এই কম্যুনিজম বা সমাজবাদের নামে মুসলমান বিশে^ যে হানাহানি খুনোখুনি হয়েছে তা বোধ করি মুসলমানদের কোন বিষয়গত মতবিরোধ নিয়ে সৃষ্ট সংঘাতের সাথে তুলনীয় নয়। এক ইন্দোনেশিয়ায় সমাজতান্ত্রিক শক্তি ধ্বংস করার নামে কয়েকদিনেই লক্ষাধিক মুসলমান হত্যা করা হয়, যেমন আজও ওম শান্তির ভন্ড মুখোশের আড়ালে মুসলমান হত্যা করা হচ্ছে মায়ানমার, ভারতে এমনকি চীনেও। তো সেটি অনেক লম্বা ইতিহাস। আমি সে দিকে যেতে চাইছি না, বরং আমি বানর থেকে মানব উৎপত্তির ডারউনের তত্ত্ব সম্পর্কে সচেতন পাঠকদের কিছু বলতে চাই। আশ্চর্যের কথা কি জানেন আল-কোরানে বিধৃত মানব উৎপত্তির ইতিহাসকে ভোঁতা প্রমাণের জন্য খ্রীস্টান বৃটিশ বিজ্ঞানীর সেই বিবর্তনবাদ তত্তও¡ কিন্তু সেই সমাজবাদীরাই গ্রহণ করে। রসুনের গোঁড়া ঠিক কোথায় তা খেয়াল করুন। তো যা বলছিলাম ডারউইন বা


 


একটি সময় থাকে, যখন কোন বিশেষ ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্বীয় স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য তার বা তাদের চেলা চামুন্ড দিয়ে চলমান বা অতীত ইতিহাসকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করে, যেন সেই ব্যাখ্যা তাদের মিথ্যা মিথের ভিত্তি ধ্বংস করতে না পারে। এই যে কিছুদিন আগেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বলতো তারা সন্ত্রাসী অথবা উইপন অব মাস ডেসট্রাকশন ধ্বংস করার জন্য ইরাকে আক্রমণ চালিয়েছে। কিন্তু এই সেদিনই জর্জ বুশ জুনিয়রের একটি সাক্ষাৎকার শুনলাম, যেখানে তিনি স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন যে, গত শতকে ইরাক বা তার আগে মধ্যপ্রাচ্যে আক্রমনের মূল কারণ ছিল তেলের উপর নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠার যুদ্ধ। কিন্তু তখন তাদের চেলা চামুন্ডারা সেই মিথ্যা প্রচারণাই করে গেছেন, যারা সত্য বলতে চেয়েছেন, তাদের সত্যবাক্য গভীর সমুদ্রে সামান্য ফেনা তুল্য মনে হয়েছিল। আজকে সত্য প্রকাশিত হ্েচ্ছ এবং মিথ্যার উপর চপেটাঘাত করার সময় এসেছে। ঠিক একইভাবে ব্রিটিশ লাইব্রেতীতে যে মার্কসবাদ জন্ম নিয়েছিল, সেই মার্কসবাদ ছিল মধ্যএশিয়ার মুসলমান দেশ দখল এবং তৎকালীন ব্রিটিশ কলোনীতে আল-কোরানের আলোকে উদীয়মান সাম্রা জ্যবাদী বিরোধী স্পিটকে ধ্বংস করার জন্য একটি বিকল্প মানবসৃষ্ট তথাকথিত বিপ্লবী মতবাদ সৃষ্টি করা। অত্যন্ত দু:খের সাথে বলতে হয়, এই কম্যুনিজম বা সমাজবাদের নামে মুসলমান বিশে^ যে হানাহানি খুনোখুনি হয়েছে তা বোধ করি মুসলমানদের কোন বিষয়গত মতবিরোধ নিয়ে সৃষ্ট সংঘাতের সাথে তুলনীয় নয়। এক ইন্দোনেশিয়ায় সমাজতান্ত্রিক শক্তি ধ্বংস করার নামে কয়েকদিনেই লক্ষাধিক মুসলমান হত্যা করা হয়, যেমন আজও ওম শান্তির ভন্ড মুখোশের আড়ালে মুসলমান হত্যা করা হচ্ছে মায়ানমার, ভারতে এমনকি চীনেও। তো সেটি অনেক লম্বা ইতিহাস। আমি সে দিকে যেতে চাইছি না, বরং আমি বানর থেকে মানব উৎপত্তির ডারউনের তত্ত্ব সম্পর্কে সচেতন পাঠকদের কিছু বলতে চাই।
আশ্চর্যের কথা কি জানেন আল-কোরানে বিধৃত মানব উৎপত্তির ইতিহাসকে ভোঁতা প্রমাণের জন্য খ্রীস্টান বৃটিশ বিজ্ঞানীর সেই বিবর্তনবাদ তত্তও¡ কিন্তু সেই সমাজবাদীরাই গ্রহণ করে। রসুনের গোঁড়া ঠিক কোথায় তা খেয়াল করুন। তো যা বলছিলাম ডারউইন বা 

তারই মত চেলারা বলতেন যে মানুষের উৎপত্তি বানর থেকে, যাকে তিনি বলতেন বিবর্তনবাদ। দেশের স্কুল থেকে বিশ^বিদ্যালয় পর্যন্ত মুসলমানদের খাটুনির টাকায় লালিত পালিত কুলাঙ্গার শিক্ষকরা আর তাদেরই মুরিদ ছাত্র-ছাত্রীরা এভাবে মানুষকে বানরের কাতারে নিয়ে এসেছিল, যেমন আজ বাংলা পহেলা বৈশাখবরণের নামে পেঁচা, শিয়াল, কুত্তার মুখোশ বনি আদমের হাতে ধরিয়ে দিয়ে পিছে বসে সেই একই শক্তি তৃপ্তির হাসি হাসে। এক সময় এই কমুদের সম্পর্র্কে সুন্দর সুন্দর মন্তব্য শুনতাম। তারা নাকি মস্কোতে বৃষ্টি হলে ঢাকায় ছাতি ধরতেন। এই বিভ্রান্ত গোষ্ঠীই একাত্তরে পিকিংপন্থী নাস্তিক আর রুশপন্থী নাস্তিকের নামে লক্ষ লক্ষ বাঙ্গালী মুসলমানদেরকে কৌশলে হত্যা করে। এই ইতিহাস নিয়ে কোন মুনতাসীর মামুন বা আনোয়ার হোসেন পাওয়া যায় না। কারণ এই প্রসঙ্গ নিয়ে জাবর কাটলে ফান্ড পাওয়া যায় না।
প্রশ্ন হচ্ছে মানুষের সাথে বানরের একটি সম্পর্ক হচ্ছে তাদের দৈহিক সামান্য মিল, কিন্তু আজও কোন বানরকে দুধকলা খাওনোরও পরও কোন বিপ্লবী মঞ্চে বসে সেই বানর কোন তত্ত্ব নিয়ে স্বাধীনভাবে আলোচনা করতে পেরেছে। আমরা জানি তোঁতা পাখি মানুষের কথা অনুকরণ করতে পারে, ডলফিন মানুষের হাত নাড়ানো দেখে, সেও ডানা নাড়ে, কিন্তু তোঁতা পাখি বা ডলফিনকে মানব জাতির তালতো ভাই বলে কারও বলার সাহস হয়নি। তাহলে প্রকৃত ব্যাখ্যা কি? এই কৌতুহল নিরসন করার জন্য সকল জাহানের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহপাক লওহে মাহফুজে থাকা আল-কোরানকে জিবরাইল (আঃ) এর মাধ্যমে হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর উপর নাযিল করেছেন । আল-কোরান হচ্ছে সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী।
এই কোরানে বলা হয়েছে মানব সৃষ্টি হয়েছে আদম আ: থেকে। হযরত মুহাম্মদ সা. এর একটি হাদিস থেকে জানতে পারি, হযরত আদম আ. এর দেহের দৈর্ঘ্য ছিল যাট হাত, যা কমতে কমতে বর্তমান সময়ে এসেছে। এই হাদিসটি পূর্নাঙ্গভাবে পরে বর্ণনা করবো। তো যা বলছিলাম, নবীর বক্তব্য কোরানে না থাকলেও সেটিও আল্লাহর পক্ষ থেকে বর্ণিত মানতে হবে। কারণ সুরা নিসার ৮০ নং আয়াতে আল্লাহর রাসুল (সা.) সম্পর্কে বলা হচ্ছে: “যে রাসুলের হুকুম মান্য করলো, সে আল্লাহর হুকুমই মান্য করলোতো সেই হাদীসে আদম আ: এর দৈহিক কাঠামোর একটি বিবর্তন বর্ণনা রয়েছে, যার সাথে ডারউইনের তত্ত্বের কোন মিল নেই, বরং পুরোপুরি সাংঘর্ষিক। এছাড়া ডারউনের বিবর্তনবাদের ধারনায় বলা হচ্ছে বানর থেকে মানবের বিবর্তন। এর বিপক্ষে একটি যুক্তিসংগত প্রশ্ন হচ্ছে: সেই বানর আছে, বিবর্তন ধারায় সৃষ্ট মানবের আদলে মানবও আছে, তাহলে অন্তবর্তী সময়ে যে বিবর্তিত সৃষ্টি তাদের একটিকেও কেন দেখা যায় না? সব মিলিয়ে এখন ডারউনের বিবর্তনবাদ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। আর এই মিথ্যার মধ্য দিয়ে এটিও প্রমাণিত হয়েছে যে, সে সময় এই বিবর্তনবাদ তৈরী করা হয়েছিল মুসলমানদেরকে বিভ্রান্ত করার জন্য। সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে ডারউইন তাহলে মানুষের উৎপত্তি কেন বানর থেকে আনলেন? কেন তিনি জলহস্তি, কুমির বা সিংহ বলেননি? এর একটি সহজ উত্তর হচ্ছে: মার্কস এবং ডারউইনরা যখন একটি বিভ্রান্তির জট তৈরী করতে যাচ্ছিলেন তখনও তারা আল-কোরানের সুরা বাকারার ৬৫ নং আয়াত পাঠ করেছিলেন। এই আয়াতে দাউদ আ. এর সময়ে শনিবারে মাছ ধরা বা অনুরূপ কোন কাজ বন্ধ রাখার জন্য বনি ইসরাইলের একটি জেলে গোষ্ঠী আল্লাহর সাথে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছিল, কিন্তু তারা সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে একটি গর্ত করে যাতে শনিবারে সেই গর্তে মাছ গিয়ে জমা হয়, যা রবিবার তারা উত্তোলন করতে পারে। বিষয়টি আল্লাহর কাছে গুরুতর গুনাহ বলে গণ্য হয় এবং তিনি সেই জেলেদেরকে বানরে পরিণত করেন। এই বানররা একে অপরকে চিনতে পারতো এবং পাপের জন্য ক্রন্দন করতো। এভাবে তারা তিনদিন বেঁেচ থাকে এবং তিনদিন পর আল্লাহর হুকুমে তাদের মৃত্যু হয়। পরে তাদের মৃতদেহ প্রবল বাতাসে সাগরে গিয়ে নিক্ষিপ্ত হয়। দাউদ আ. এর সময় লোহিত সাগরের পাশর্^বর্তী ইলাহ নামক স্থানে ঘটনাটি ঘটে। ( এ প্রসঙ্গে আল-কোরানের ২:৬৫, :৬০ এবং ৭:১৬৬ পাঠ করা যেতে পারে)
সুরা বাকারার ৬৫ নং আয়াতে আল্লাহ বলছেন,

وَلَقَدْ عَلِمْتُمُ الَّذِينَ اعْتَدَواْ مِنكُمْ فِي السَّبْتِ فَقُلْنَا لَهُمْ كُونُواْ قِرَدَةً خَاسِئِينَ

বাংলা তরজমা: “তোমরা তাদেরকে ভালরূপে জেনেছ, যারা শনিবারের ব্যাপারে সীমা লঙ্ঘণ করেছিল। আমি বলেছিলামঃ তোমরা লাঞ্ছিত বানর হয়ে যাও।” (:৬৫)
সুরা আল-মায়েদার ৬০ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন,

قُلْ هَلْ أُنَبِّئُكُم بِشَرٍّ مِّن ذَلِكَ مَثُوبَةً عِندَ اللّهِ مَن لَّعَنَهُ اللّهُ وَغَضِبَ عَلَيْهِ وَجَعَلَ مِنْهُمُ الْقِرَدَةَ وَالْخَنَازِيرَ وَعَبَدَ الطَّاغُوتَ أُوْلَـئِكَ شَرٌّ مَّكَاناً وَأَضَلُّ عَن سَوَاء السَّبِيلِ
বাংলা তরজমা:: “বলুনঃ আমি তোমাদেরকে বলি, তাদের মধ্যে কার মন্দ প্রতিফল রয়েছে আল্লাহর কাছে? যাদের প্রতি আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন, যাদের প্রতি তিনি ক্রোধাম্বিত হয়েছেন, যাদের কতককে বানর ও শুকরে রূপান্তরিত করে দিয়েছেন এবং যারা শয়তানের আরাধনা করেছে, তারাই মর্যাদার দিক দিয়ে নিকৃষ্টতর এবং সত্যপথ থেকেও অনেক দূরে।” (: ৬০)
একই ভাবে সুরা আল-আরাফের ১৬৬ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন,

فَلَمَّا عَتَوْاْ عَن مَّا نُهُواْ عَنْهُ قُلْنَا لَهُمْ كُونُواْ قِرَدَةً خَاسِئِينَ
বাংলা তরজমা : “তারপর যখন তারা এগিয়ে যেতে লাগল সে কর্মে যা থেকে তাদের বারণ করা হয়েছিল, তখন আমি নির্দেশ দিলাম যে, তোমরা লাঞ্ছিত বানর হয়ে যাও।
আমরা জানি কার্ল মার্কস ছিলেন ইহুদী এবং যদি এই বিভ্রান্তি তত্ত্ব আবিষ্কারের পিছে ডারউইনের মত ব্যক্তির নেপথ্যেও যদি ইহুদী থাকে, তবে তাদেরও মতলব হতে পারে নিজের গুষ্ঠীর অপরাধমূলক ইতিহাসকে অন্যের ঘাড়ে চাপানো। আমরা জানি আদম আ. কে খ্রীস্টান ও ইহুদীরাও নিজেদের আদি পিতা বলে মানে আর দাউদ আ. এর আগমন বহু পরে। দাউদ এর সাথে গোলিয়াথের যুদ্ধের ইতিহাসও সুবিদিত। তাহলে সেই অন্তবর্তীকালের একটি বিক্ষিপ্ত ইতিহাসকে তাহলে কেন গোটা মানব জাতির উপর চাপিয়ে দেওয়া হ? ইতিহাসকে বিকৃতি বলতে যা বোঝায় ডারউইন বা মার্কস বা অপরাপর সমাজতান্দ্রিকতার তান্ত্রিকরা তাই করেছিলেন। আর এই বিকৃতির শিকার হয়ে দীর্ঘ একশ বছরের সময়কাল সমাজতন্ত্রের ভোদকা, হুইস্কি খাইয়ে যে বিকৃত মানব নেতৃত্ব গড়ে উঠেছিল, তা ছিল মুসলমানদের ফিতনার যুগ, তেমনি তা ছিল গোটা মানবজাতির জন্য সংকটকাল। সেই সংকট থেকে এখনও অনেকে বের হতে পারেনি। ফলে তারা হাশরের ময়দানে এই ভ্রান্তি বিশ্বাসের কারনে শাস্তি ভোগ করবে। শুধু পরকাল নয়, ইহকালেও তারা লাঞ্চিত হয়েছে এবং হবে। ইমাম খোমেনী রহ. গর্ভাচেভকে লেখা চিঠিতে যে ভবিষ্যদ্বানী করেছিলেন তা আজ সত্যে প্রমাণিত হয়েছে। তিনি লিখেছিলেন সমাজতন্ত্র রাজনীতির ইতিহাসে স্থান করে নেবে। সেই গর্ভাচেভের ইউ টার্ন, চসেস্কুর পতন সব মিলে সমাজতন্ত্র এখন ইতিহাসের জাদুঘরে । তবে একটি বিশেষ চক্রের ইন্ধনে বাংলাদেশের বিশ^বিদ্যালয়ে মুসলমানদের টাকা খেয়ে একটি চক্র সেই মিথ্যা পাঠ দিয়ে চলেছে, যা বাংলাদেশের মুসলমানদের জন্য যেমন অবমাননাকর, তেমনি তা প্রকৃত সত্যদর্শীর জন্য অপমানজনকও বটে।
আসল কথা হচ্ছে : কোরান ও হাদীস থেকে বিবর্তনবাদের একটি বিশেষ ব্যাখ্যা পাই, যা বানর তত্ত্বের সম্পূর্ণ বিপরীত। ..3++++ জানাবেন।
বর্তমান জজিরাতুল আরবে খনন কাজ পরিচালনা করার সময় দেখা গেছে কিছু কঙ্কাল, যার সাথে বর্তমান মানবীয় কঙ্কালের হুবহু মিল রয়েছে, কিন্তু সেগুলোর আকার ছিল বড়, যা কোরাণের বির্বতন ধারনাকে সত্য প্রমাণ করে।
ইনাসানের জ্ঞানগত বিবর্তন অবশ্যই হয়েছে। যেমন আদম আ. বস্তুর নাম জানতেন, তিনি আশি হাজার ভাষা জানতেন, কিন্তু লিখন বিদ্যা তিনি জানতেন না, এটি ইদ্রিস আ. কে শেখানো হয়। নুহ আ. এর আগে কেউ নৌকা বানাতে পারেনি, তেমনি সুলায়মান আ. এর আগে কেউ বিমানের ধারনা করতে পারেনি। এই বিবর্তনের ধারনায় রাসুল মুহাম্মদ সা. কে সপ্তম আসমানে নিয়ে আবার দুনিয়ায় প্রেরণ করা হয়। এটি আরেকটি মহাজাগতিক জ্ঞান, যা কেউ পায়নি। সুতরাং উচ্চতা, কাঠামোগত এবং জ্ঞানগত বিবর্তনের ধারাকে ইসলাম স্বীকার করে ।
এই বিষয়টি এখন যদিও বিশ্¦বিদ্যালয়ের নাস্তিক শিক্ষকরা ছাড়া অন্য কেউ বিতর্ক করেনা, তবু আমি এই টুকুই বুঝাতে চাই: আল্লাহর প্রেরিত কোরান এবং হাদীসের মধ্যেই রয়েছে মানব সভ্যতার না জানা সব কথা। আল্লাহর রাসুল তাই বিদায়ী হজে¦ ঠিকই বলেছিলেন আল্লাহর কিতাব আল-কোরান ও হাদীসকে আঁকড়ে থাকলে আমাদের পথভ্রষ্ট হবার কোন সম্ভাবনা নেই। বাস্তবিকই তাই। শুধু বিবর্তনবাদই নয়, মাহাকাশবিদ্যা, ভ্রণতত্ত্ব -এর মত বিতর্কিত বিষয়গুলোর আল-কোরান ও হাদীসের বর্ণনার সাথে সাম্প্রতিক আবিষ্কারের হুবহু মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। তাই আমাদের উচিত হবে মানবীয় তত্ত্বকে ছুঁড়ে ফেলে আল্লাহর পথে আসা।

 

Part 2

 

ডারউইনের ১০০০ বছর আগে বিবর্তনবাদের তত্ত্ব দিয়েছিলেন যে মুসলিম দার্শনিক

 

আল-জাহিজ সাতটি খণ্ডে দ্য বুক অফ অ্যানিমেলস বইটি লিখেছিলেন।

আধুনিক বিজ্ঞানের যতগুলো গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার তার অন্যতম ব্রিটিশ বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদের তত্ত্ব।

তার এই তত্ত্বে দেখানো হয়েছে প্রাণীরা সময়ের সাথে সাথে প্রাকৃতিক নিয়মে ধীরে ধীরে কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে।

বিবর্তনবাদের এই তত্ত্বটি আমাদের পৃথিবীর পশুপাখি উদ্ভিদ জগৎ সম্পর্কে বুঝতে বড়ো ধরনের ভূমিকা রেখেছে।

তার এই প্রক্রিয়াকে ইংরেজিতে বলা হয় ন্যাচারাল সিলেকশন বা প্রাকৃতিক নির্বাচন যার মাধ্যমে একটি প্রাণীর জনগোষ্ঠী থেকে নতুন প্রজাতির উদয় ঘটে।

এই থিওরি বিজ্ঞানের জগতে বৈপ্লবিক তত্ত্ব হিসেবে পরিচিত।

অন দ্য অরিজিন অফ স্পেশিস নামে চার্লস ডারউইনের এই বইটি প্রকাশিত হয় ১৮৫৯ সালে। তার এই গ্রন্থে তিনি বিবর্তনবাদকে সংজ্ঞায়িত করতে গিয়ে বলেছেন, এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যাতে কোনো প্রাণী ক্রমাগত অভিযোজনের ফলে আপন পরিবেশের জন্যে বিশেষায়িত হতে হতে এক সময় নতুন একটি প্রাণীতে রূপান্তরিত হয়।

কিন্তু চার্লস ডারউইনের আগে ইসলামিক বিশ্বেও বিবর্তনবাদ তত্ত্বের আরো একজন প্রবক্তা ছিলেন।

 

প্রাকৃতিক নির্বাচন

চার্লস ডারউইনের প্রায় এক হাজার বছর আগে ইরাকে একজন মুসলিম দার্শনিক ছিলেন যিনি প্রাকৃতিক নিয়মে প্রাণীকুলের মধ্যে কী ধরনের পরিবর্তন ঘটে তার উপর একটি বই লিখেছিলেন।

এই দার্শনিকের নাম ছিল আল-জাহিজ। যে পদ্ধতিতে এই পরিবর্তন ঘটে তিনি তার নাম দিয়েছিলেন প্রাকৃতিক নির্বাচন।

তার আসল নাম ছিল আবু উসমান আমর বাহার আলকানানি আল-বাসরি, তবে ইতিহাসে তিনি আল জাহিজ নামেই বেশি পরিচিত।

তার এই নামের অর্থ এমন একজন ব্যক্তি যার চোখের মণি বেরিয়ে আসছে। আধুনিক বিজ্ঞানের যতগুলো গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার তার অন্যতম ব্রিটিশ বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদের তত্ত্ব।

 

এরকম অর্থের কারণে কাউকে এই নামে ডাকা হয়তো শোভন নয়, কিন্তু এই আল-জাহিজ নামটিই বিখ্যাত হয়ে আছে তারই লেখা প্রজনন সংক্রান্ত একটি বই-এর কারণে। গ্রন্থটির নাম কিতাব আল-হায়ওয়ান অর্থাৎ প্রাণীদের বিষয়ে বই।

তার জন্ম হয়েছিল ৭৭৬ খ্রিস্টাব্দে, দক্ষিণ ইরাকের বাসরা শহরে, মুতাজিলাহ আন্দোলনের সময়। এসময় ধর্মতাত্ত্বিক কিছু মতবাদ জনপ্রিয় হচ্ছিল যেখানে মানুষের যুক্তির চর্চার উপর জোর দেওয়া হচ্ছিল।

তখন ছিল আব্বাসীয় খেলাফত বা শাসনের চরম সময়। সেসময় জ্ঞান বিজ্ঞানের অনেক বই গ্রিক ভাষা থেকে আরবি ভাষায় অনুবাদ করা হতো। জোরালো বিতর্ক হতো ধর্ম, বিজ্ঞান এবং দর্শন বিষয়ে। এসবের কেন্দ্র ছিল বাসরা শহর। এসব আলোচনা থেকেই ধীরে ধীরে গড়ে উঠছিল আল-জাহিজের চিন্তাধারা।

চীনা বনিকেরা ততদিনে ইরাকে কাগজের ব্যবসা শুরু করে দিয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন তত্ত্ব লিখিত আকারে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলো।

তরুণ আল-জাহিজ তখন নানা বিষয়ে লেখালেখি করতে শুরু করেন। যেসব বিষয়ে তার খুব বেশি আগ্রহী ছিল সেগুলোর মধ্যে ছিল বিজ্ঞান, ভূগোল, দর্শন, আরবি ব্যাকরণ এবং সাহিত্য।

ধারণা করা হয় তার জীবদ্দশাতেই তিনি দুশোর মতো বই প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু তার মাত্র এক তৃতীয়াংশ এই আধুনিক কাল পর্যন্তও টিকে রয়েছে।

 

দ্য বুক অফ অ্যানিমেলস

তার বইগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে দ্যা বুক অফ অ্যানিমেলস বা প্রাণী বিষয়ক বইটি।

এটি একটি এনসাইক্লোপিডিয়ার মতো যাতে সাড়ে তিনশো প্রাণীর পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। এই বইটিতে তিনি এমন কিছু ধারণা তুলে ধরেছেন যার সাথে আধুনিক কালের বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদে তত্ত্বের চমকপ্রদ অনেক মিল পাওয়া যায়।

আল-জাহিজ তার বইতে লিখেছেন, "টিকে থাকার জন্যে প্রাণীদেরকে লড়াই করতে হয়। লড়াই করতে হয় তাদের খাদ্যের জন্যেও, এবং তারা নিজেরাই যাতে অপরের খাদ্য না হয়ে যায় সেটা নিশ্চিত করার জন্যে। এমনকি, প্রজননের জন্যেও তাদেরকে সংগ্রাম করতে হয়।"

"নিজেদের বেঁচে থাকা নিশ্চিত করতে গিয়ে পরিবেশের নানা কারণে প্রাণীরা নতুন নতুন বৈশিষ্ট্য ধারণ করে এবং এভাবেই তারা নতুন নতুন প্রজাতিতে রূপান্তরিত হয়।"

তিনি আরো লিখেছেন, "যেসব প্রাণী প্রজনন ঘটাতে টিকে থাকতে পারে তারা তাদের সফল বৈশিষ্ট্যগুলো তাদের পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও ছড়িয়ে দিতে পারে।"

আল-জাহিজের কাছে এটা অত্যন্ত পরিষ্কার ছিল যে এসব প্রাণীকুলকে টিকে থাকার জন্যে অনবরত সংগ্রাম করতে হয়। এবং একটি প্রজাতি সবসময়ই আরেকটি প্রজাতির চেয়ে শক্তিশালী।

 

টিকে থাকার জন্যে খাবার সংগ্রহের লড়াই- প্রাণীদের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতে হয়। অন্যের খাবার হওয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করা এবং সন্তান জন্মদান করতেও তাদের সংগ্রাম করতে হয়।

এসব কারণে তারা এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে রূপান্তর ঘটাতে বাধ্য হয়।

আল-জাহিজের এসব ধারণা তার পরবর্তী অন্যান্য মুসলিম চিন্তাবিদদেরকেও প্রভাবিত করেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন আল-ফারাবি, আল-আরাবি, আল বিরুনী এবং ইবনে খালদুন।

পাকিস্তানের 'আধ্যাত্মিক পিতা' মোহাম্মদ ইকবাল, যিনি আল্লামা ইকবাল নামেই অনেক বেশি পরিচিত তিনিও আল জাহিজের এসব তত্ত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন। ১৯৩০ সালে প্রকাশিত তার বক্তব্যের একটি সঙ্কলনে তিনি বলেছিলেন, "আল-জাহিজ দেখিয়ে দিয়েছেন অভিবাসন এবং পরিবেশে পরিবর্তনের কারণে প্রাণীদের জীবনে কী ধরনের পরিবর্তন ঘটে।"

 

'মোহাম্মদীয় তত্ত্ব'

বিবর্তনবাদের ধারণায় মুসলিম বিশ্বের অবদান বিংশ শতাব্দীর ইউরোপীয় পণ্ডিতদের কাছে গোপনীয় কোন বিষয় নয়।

এমনকি, চার্লস ডারউইনের একজন সমসাময়িক বিজ্ঞানী উইলিয়াম ড্রেপার ১৮৭৮ সালে "বিবর্তনবাদের মোহাম্মদীয় তত্ত্ব" নিয়ে কথা বলেছিলেন।

তবে যাই হোক, চার্লস ডারউইন মুসলিম বিজ্ঞানী আল-জাহিজের চিন্তাধারা সম্পর্কে অবহিত ছিলেন কিনা কিম্বা তিনি আরবি বুঝতেন কিনা তার পক্ষে কোন তথ্য প্রমাণ নেই।

ব্রিটিশ এই বিজ্ঞানী প্রকৃতি পরিবেশের উপর বছরের পর বছর ধরে গবেষণা করে বিবর্তনবাদের তত্ত্ব দাঁড় করিয়েছেন যেখানে প্রাণীর টিকে থাকার সংগ্রামের কথা বিশদ পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে বিবিসি রেডিওর জন্যে ইসলাম বিজ্ঞান নামের একটি ধারাবাহিক তথ্যচিত্রের নির্মাতা বিজ্ঞান বিষয়ক সাংবাদিক এহসান মাসুদ বলেছেন, বিবর্তনবাদের ধারণা তৈরিতে আরো যারা অবদান রেখেছেন তাদেরকে স্মরণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।

 

ক্রিয়েশনিজম

তিনি আরো বলেন, দশম শতাব্দীর ইরাকে, যখন বাসরা বাগদাদ ইসলামিক সভ্যতা শিক্ষার কেন্দ্রবিন্দু ছিল, তখনও ক্রিয়েশনিজমের ধারণা খুব একটা জোরালো ছিল না।

ক্রিয়েশনিজম হচ্ছে এমন এক ধর্মীয় বিশ্বাস যাতে মনে করা হয় "ঐশ্বরিক কোন ঘটনা থেকে এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড প্রাণের সৃষ্টি" হয়েছিল যা প্রকৃতির বিবর্তনবাদের ধারণার বিরোধী।

এহসান মাসুদ ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে লিখেছেন, "বিজ্ঞানীরা তখন নতুন নতুন জিনিস আবিষ্কার করার লক্ষ্যে বাইরে বের হয়ে পড়তেন।"

এই জ্ঞানের অন্বেষণ করতে গিয়েই মুসলিম দার্শনিক আল-জাহিজের মৃত্যু হয়েছিল।

বলা হয়ে থাকে যে ৯২ বছর বয়সী আল-জাহিজ যখন একটি আলমারি থেকে বই নামাতে গিয়েছিলেন তখন আলমারিটি তার গায়ের ওপরে পড়ে গেলে তিনি মারা গিয়েছিলেন।

 

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ।
বর্তমান সময়ের আলোচিত ডারউইননের ফিতনা সম্পর্কে এই আয়াতগুলো আলোচনার বিষয়ে রাখবেন ইনশাআল্লাহ। মুসলিম জাতিকে এমন মিথ্যা জঘন্য কালি থেকে সচেতন করুন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক পথ সঠিক দ্বীনি শিক্ষা দিন।

ডারউইনের থিওরি কোনো মুসলমান বিশ্বাস করতে পারে না।মানুষের আসল পরিচয় তুলে ধরবেন।


 

 

আল কোরআনে বর্ণিত মানব সৃষ্টির উপাদানঃ
.یٰۤاَیُّہَا النَّاسُ اتَّقُوۡا رَبَّکُمُ الَّذِیۡ خَلَقَکُمۡ مِّنۡ نَّفۡسٍ وَّاحِدَۃٍ وَّخَلَقَ مِنۡہَا زَوۡجَہَا وَبَثَّ مِنۡہُمَا رِجَالًا کَثِیۡرًا وَّنِسَآءً ۚ وَاتَّقُوا اللّٰہَ الَّذِیۡ تَسَآءَلُوۡنَ بِہٖ وَالۡاَرۡحَامَ ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ عَلَیۡکُمۡ رَقِیۡبًا
(
আন নিসা - )
হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তার থেকে তার সঙ্গীনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর বিস্তার করেছেন তাদের দুজন থেকে অগণিত পুরুষ নারী। আর আল্লাহকে ভয় কর, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচঞ্ঝা করে থাক এবং আত্নীয় জ্ঞাতিদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন কর। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ব্যাপারে সচেতন রয়েছেন।
.
اَوَلَمۡ یَرَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡۤا اَنَّ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ کَانَتَا رَتۡقًا فَفَتَقۡنٰہُمَا ؕ وَجَعَلۡنَا مِنَ الۡمَآءِ کُلَّ شَیۡءٍ حَیٍّ ؕ اَفَلَا یُؤۡمِنُوۡنَ
(
আল আম্বিয়া - ৩০)
কাফেররা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশমন্ডলী পৃথিবীর মুখ বন্ধ ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে খুলে দিলাম এবং প্রাণবন্ত সবকিছু আমি পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। এরপরও কি তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না?

.وَلَقَدۡ جَعَلۡنَا فِی السَّمَآءِ بُرُوۡجًا وَّزَیَّنّٰہَا لِلنّٰظِرِیۡنَ ۙ
(
আল হিজর - ১৬)
নিশ্চয় আমি আকাশে রাশিচক্র সৃষ্টি করেছি এবং তাকে দর্শকদের জন্যে সুশোভিত করে দিয়েছি।

.الَّذِیۡۤ اَحۡسَنَ کُلَّ شَیۡءٍ خَلَقَہٗ وَبَدَاَ خَلۡقَ الۡاِنۡسَانِ مِنۡ طِیۡنٍ ۚ
(
আস সেজদাহ্‌ - )
যিনি তাঁর প্রত্যেকটি সৃষ্টিকে সুন্দর করেছেন এবং কাদামাটি থেকে মানব সৃষ্টির সূচনা করেছেন।

.ثُمَّ جَعَلَ نَسۡلَہٗ مِنۡ سُلٰلَۃٍ مِّنۡ مَّآءٍ مَّہِیۡنٍ ۚ
(
আস সেজদাহ্‌ - )
অতঃপর তিনি তার বংশধর সৃষ্টি করেন তুচ্ছ পানির নির্যাস থেকে।

.فَاسۡتَفۡتِہِمۡ اَہُمۡ اَشَدُّ خَلۡقًا اَمۡ مَّنۡ خَلَقۡنَا ؕ اِنَّا خَلَقۡنٰہُمۡ مِّنۡ طِیۡنٍ لَّازِبٍ
(
আস ছাফ্ফাত - ১১)
আপনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করুন, তাদেরকে সৃষ্টি করা কঠিনতর, না আমি অন্য যা সৃষ্টি করেছি? আমিই তাদেরকে সৃষ্টি করেছি এঁটেল মাটি থেকে।

.خَلَقَ الۡاِنۡسَانَ مِنۡ صَلۡصَالٍ کَالۡفَخَّارِ ۙ
(
আর রহমান - ১৪)
তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন পোড়া মাটির ন্যায় শুষ্ক মৃত্তিকা থেকে।

.قَالَ یٰۤاِبۡلِیۡسُ مَا مَنَعَکَ اَنۡ تَسۡجُدَ لِمَا خَلَقۡتُ بِیَدَیَّ ؕ اَسۡتَکۡبَرۡتَ اَمۡ کُنۡتَ مِنَ الۡعَالِیۡنَ
(
ছোয়াদ - ৭৫)
আল্লাহ বললেন, হে ইবলীস, আমি স্বহস্তে যাকে সৃষ্টি করেছি, তার সম্মুখে সেজদা করতে তোমাকে কিসে বাধা দিল? তুমি অহংকার করলে, না তুমি তার চেয়ে উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন?

.ثُمَّ سَوّٰىہُ وَنَفَخَ فِیۡہِ مِنۡ رُّوۡحِہٖ وَجَعَلَ لَکُمُ السَّمۡعَ وَالۡاَبۡصَارَ وَالۡاَفۡـِٕدَۃَ ؕ قَلِیۡلًا مَّا تَشۡکُرُوۡنَ
(
আস সেজদাহ্‌ - )
অতঃপর তিনি তাকে সুষম করেন, তাতে রূহ সঞ্চার করেন এবং তোমাদেরকে দেন কর্ণ, চক্ষু অন্তঃকরণ। তোমরা সামান্যই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।

১০.خَلَقَکُمۡ مِّنۡ نَّفۡسٍ وَّاحِدَۃٍ ثُمَّ جَعَلَ مِنۡہَا زَوۡجَہَا وَاَنۡزَلَ لَکُمۡ مِّنَ الۡاَنۡعَامِ ثَمٰنِیَۃَ اَزۡوَاجٍ ؕ یَخۡلُقُکُمۡ فِیۡ بُطُوۡنِ اُمَّہٰتِکُمۡ خَلۡقًا مِّنۡۢ بَعۡدِ خَلۡقٍ فِیۡ ظُلُمٰتٍ ثَلٰثٍ ؕ ذٰلِکُمُ اللّٰہُ رَبُّکُمۡ لَہُ الۡمُلۡکُ ؕ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ ۚ فَاَنّٰی تُصۡرَفُوۡنَ
(
আয্‌-যুমার - )
তিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদেরকে একই ব্যক্তি থেকে। অতঃপর তা থেকে তার যুগল সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি তোমাদের জন্যে আট প্রকার চতুষ্পদ জন্তু অবতীর্ণ করেছেন। তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন তোমাদের মাতৃগর্ভে পর্যায়ক্রমে একের পর এক ত্রিবিধ অন্ধকারে। তিনি আল্লাহ তোমাদের পালনকর্তা, সাম্রাজ্য তাঁরই। তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। অতএব, তোমরা কোথায় বিভ্রান্ত হচ্ছ?

১১.وَاللّٰہُ خَلَقَ کُلَّ دَآبَّۃٍ مِّنۡ مَّآءٍ ۚ فَمِنۡہُمۡ مَّنۡ یَّمۡشِیۡ عَلٰی بَطۡنِہٖ ۚ وَمِنۡہُمۡ مَّنۡ یَّمۡشِیۡ عَلٰی رِجۡلَیۡنِ ۚ وَمِنۡہُمۡ مَّنۡ یَّمۡشِیۡ عَلٰۤی اَرۡبَعٍ ؕ یَخۡلُقُ اللّٰہُ مَا یَشَآءُ ؕ اِنَّ اللّٰہَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ
(
আন নূর - ৪৫)
আল্লাহ প্রত্যেক চলন্ত জীবকে পানি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন। তাদের কতক বুকে ভয় দিয়ে চলে, কতক দুই পায়ে ভর দিয়ে চলে এবং কতক চার পায়ে ভর দিয়ে চলে; আল্লাহ যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছু করতে সক্ষম।

১২.اَلَمۡ نَخۡلُقۡکُّمۡ مِّنۡ مَّآءٍ مَّہِیۡنٍ ۙ
(
আল মুরসালাত  - ২০)
আমি কি তোমাদেরকে তুচ্ছ পানি থেকে সৃষ্টি করিনি?

১৩.فَقَدَرۡنَا ٭ۖ فَنِعۡمَ الۡقٰدِرُوۡنَ
(
আল মুরসালাত  - ২৩)
অতঃপর আমি পরিমিত আকারে সৃষ্টি করেছি, আমি কত সক্ষম স্রষ্টা?

এরপরও যারা ডারউইনের মত দর্শকে বিশ্বাস করবে সত্যিই তারা বানরের বাচ্চা। আল্লাহ আমাদের বুঝার তৌফিক দান করুন।আমিন
Abir.

ডারউইনের থিওরি বানরের সন্তানরা ছাড়া কোনো মুসলমান বিশ্বাস করতে পারে না। মানুষের আসল পরিচয় পবিত্র কুরআনেপাকের অকাট্য দলীল দ্বারা তুলে ধরা হল....

কুরআন মাজীদে বর্ণিত মানব সৃষ্টির উপাদান..
.یٰۤاَیُّہَا النَّاسُ اتَّقُوۡا رَبَّکُمُ الَّذِیۡ خَلَقَکُمۡ مِّنۡ نَّفۡسٍ وَّاحِدَۃٍ وَّخَلَقَ مِنۡہَا زَوۡجَہَا وَبَثَّ مِنۡہُمَا رِجَالًا کَثِیۡرًا وَّنِسَآءً ۚ وَاتَّقُوا اللّٰہَ الَّذِیۡ تَسَآءَلُوۡنَ بِہٖ وَالۡاَرۡحَامَ ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ عَلَیۡکُمۡ رَقِیۡبًا
(
আন নিসা - )
হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তার থেকে তার সঙ্গীনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর বিস্তার করেছেন তাদের দুজন থেকে অগণিত পুরুষ নারী। আর আল্লাহকে ভয় কর, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচঞ্ঝা করে থাক এবং আত্মীয় জ্ঞাতিদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন কর। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ব্যাপারে সচেতন রয়েছেন।
.
اَوَلَمۡ یَرَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡۤا اَنَّ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ کَانَتَا رَتۡقًا فَفَتَقۡنٰہُمَا ؕ وَجَعَلۡنَا مِنَ الۡمَآءِ کُلَّ شَیۡءٍ حَیٍّ ؕ اَفَلَا یُؤۡمِنُوۡنَ
(
আল আম্বিয়া - ৩০)
কাফেররা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশমন্ডলী পৃথিবীর মুখ বন্ধ ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে খুলে দিলাম এবং প্রাণবন্ত সবকিছু আমি পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। এরপরও কি তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না?

.وَلَقَدۡ جَعَلۡنَا فِی السَّمَآءِ بُرُوۡجًا وَّزَیَّنّٰہَا لِلنّٰظِرِیۡنَ ۙ
(
আল হিজর - ১৬)
নিশ্চয় আমি আকাশে রাশিচক্র সৃষ্টি করেছি এবং তাকে দর্শকদের জন্যে সুশোভিত করে দিয়েছি।

.الَّذِیۡۤ اَحۡسَنَ کُلَّ شَیۡءٍ خَلَقَہٗ وَبَدَاَ خَلۡقَ الۡاِنۡسَانِ مِنۡ طِیۡنٍ ۚ
(
আস সিজদাহ্‌ - )
যিনি তাঁর প্রত্যেকটি সৃষ্টিকে সুন্দর করেছেন এবং কাদামাটি থেকে মানব সৃষ্টির সূচনা করেছেন।

.ثُمَّ جَعَلَ نَسۡلَہٗ مِنۡ سُلٰلَۃٍ مِّنۡ مَّآءٍ مَّہِیۡنٍ ۚ
(
আস সিজদাহ্‌ - )
অতঃপর তিনি তার বংশধর সৃষ্টি করেন তুচ্ছ পানির নির্যাস থেকে।

.فَاسۡتَفۡتِہِمۡ اَہُمۡ اَشَدُّ خَلۡقًا اَمۡ مَّنۡ خَلَقۡنَا ؕ اِنَّا خَلَقۡنٰہُمۡ مِّنۡ طِیۡنٍ لَّازِبٍ
(
আস ছাফ্ফাত - ১১)
আপনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করুন, তাদেরকে সৃষ্টি করা কঠিনতর, না আমি অন্য যা সৃষ্টি করেছি? আমিই তাদেরকে সৃষ্টি করেছি এঁটেল মাটি থেকে।

.خَلَقَ الۡاِنۡسَانَ مِنۡ صَلۡصَالٍ کَالۡفَخَّارِ ۙ
(
আর রহমান - ১৪)
তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন পোড়া মাটির ন্যায় শুষ্ক মৃত্তিকা থেকে।

.قَالَ یٰۤاِبۡلِیۡسُ مَا مَنَعَکَ اَنۡ تَسۡجُدَ لِمَا خَلَقۡتُ بِیَدَیَّ ؕ اَسۡتَکۡبَرۡتَ اَمۡ کُنۡتَ مِنَ الۡعَالِیۡنَ
(
ছোয়াদ - ৭৫)
আল্লাহ বললেন, হে ইবলীস, আমি স্বহস্তে যাকে সৃষ্টি করেছি, তার সম্মুখে সেজদা করতে তোমাকে কিসে বাধা দিল? তুমি অহংকার করলে, না তুমি তার চেয়ে উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন?

.ثُمَّ سَوّٰىہُ وَنَفَخَ فِیۡہِ مِنۡ رُّوۡحِہٖ وَجَعَلَ لَکُمُ السَّمۡعَ وَالۡاَبۡصَارَ وَالۡاَفۡـِٕدَۃَ ؕ قَلِیۡلًا مَّا تَشۡکُرُوۡنَ
(
আস সিজদাহ্‌ - )
অতঃপর তিনি তাকে সুষম করেন, তাতে রূহ সঞ্চার করেন এবং তোমাদেরকে দেন কর্ণ, চক্ষু অন্তঃকরণ। তোমরা সামান্যই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।

১০.خَلَقَکُمۡ مِّنۡ نَّفۡسٍ وَّاحِدَۃٍ ثُمَّ جَعَلَ مِنۡہَا زَوۡجَہَا وَاَنۡزَلَ لَکُمۡ مِّنَ الۡاَنۡعَامِ ثَمٰنِیَۃَ اَزۡوَاجٍ ؕ یَخۡلُقُکُمۡ فِیۡ بُطُوۡنِ اُمَّہٰتِکُمۡ خَلۡقًا مِّنۡۢ بَعۡدِ خَلۡقٍ فِیۡ ظُلُمٰتٍ ثَلٰثٍ ؕ ذٰلِکُمُ اللّٰہُ رَبُّکُمۡ لَہُ الۡمُلۡکُ ؕ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ ۚ فَاَنّٰی تُصۡرَفُوۡنَ
(
আয্‌-যুমার - )
তিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদেরকে একই ব্যক্তি থেকে। অতঃপর তা থেকে তার যুগল সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি তোমাদের জন্যে আট প্রকার চতুষ্পদ জন্তু অবতীর্ণ করেছেন। তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন তোমাদের মাতৃগর্ভে পর্যায়ক্রমে একের পর এক ত্রিবিধ অন্ধকারে। তিনি আল্লাহ তোমাদের পালনকর্তা, সাম্রাজ্য তাঁরই। তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। অতএব, তোমরা কোথায় বিভ্রান্ত হচ্ছ?

১১.وَاللّٰہُ خَلَقَ کُلَّ دَآبَّۃٍ مِّنۡ مَّآءٍ ۚ فَمِنۡہُمۡ مَّنۡ یَّمۡشِیۡ عَلٰی بَطۡنِہٖ ۚ وَمِنۡہُمۡ مَّنۡ یَّمۡشِیۡ عَلٰی رِجۡلَیۡنِ ۚ وَمِنۡہُمۡ مَّنۡ یَّمۡشِیۡ عَلٰۤی اَرۡبَعٍ ؕ یَخۡلُقُ اللّٰہُ مَا یَشَآءُ ؕ اِنَّ اللّٰہَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ
(
আন নূর - ৪৫)
আল্লাহ প্রত্যেক চলন্ত জীবকে পানি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন। তাদের কতক বুকে ভয় দিয়ে চলে, কতক দুই পায়ে ভর দিয়ে চলে এবং কতক চার পায়ে ভর দিয়ে চলে; আল্লাহ যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছু করতে সক্ষম।

১২.اَلَمۡ نَخۡلُقۡکُّمۡ مِّنۡ مَّآءٍ مَّہِیۡنٍ ۙ
(
আল মুরসালাত  - ২০)
আমি কি তোমাদেরকে তুচ্ছ পানি থেকে সৃষ্টি করিনি?

১৩.فَقَدَرۡنَا ٭ۖ فَنِعۡمَ الۡقٰدِرُوۡنَ
(
আল মুরসালাত  - ২৩)
অতঃপর আমি পরিমিত আকারে সৃষ্টি করেছি, আমি কত সক্ষম স্রষ্টা?

এরপরও যারা ডারউইনের মত দর্শকে বিশ্বাস করবে সত্যিই তারা বানরের বাচ্চা। আল্লাহ আমাদের বুঝার তাওফীক্ব দান করুন।আমীন। কপি পোষ্ট 

 

মন্তব্য করুন