Loading..

খবর-দার

০১ ফেব্রুয়ারি , ২০২৩ ০৫:৫৮ অপরাহ্ণ

একুশে বই মেলা-২০২৩

ভাষাশহীদদের স্মরণে একুশের চেতনায় আজ শুরু হচ্ছে বাঙালির প্রাণের মেলা অমর একুশে বইমেলা। একুশের চেতনায় শানিত হয়ে স্বাধীনতার স্মৃতিবিজড়িত সোহরাওয়ার্দী উদ্যান আর বাঙালির সৃজন ও মননের প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি সেজেছে নতুন সাজে। এখানে বইয়ের পসরা সাজিয়ে বসবেন দোকানিরা। লেখক, পাঠক, ক্রেতা, প্রকাশক, বিক্রয়কর্মী ও দর্শকের পদচারণে এ এলাকা এক মাস মুখরিত থাকবে।জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে এবারের মেলার মূল প্রতিপাদ্য ‘পড় বই গড় দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’। বিকাল ৩টায় মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বাংলা একাডেমি প্রকাশিত সাতটি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের পাশাপাশি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করবেন।

বইমেলা নিয়ে নিরাপত্তা হুমকি নেই : ডিএমপি কমিশনার

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেছেন, একুশে বইমেলা কেন্দ্র করে কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই।নেওয়া হয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা। গতকাল অমর একুশে বইমেলার নিরাপত্তার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শেষে সাংবাদিকদের এসব বলেন তিনি।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, বইমেলা কেন্দ্র করে সব ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। লেখক, পাঠক ও দর্শনার্থীরা যেন কোনো ধরনের নিরাপত্তার ঝুঁকি মনে না করেন সেজন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।মেলা ঘিরে কোনো ধরনের জঙ্গি হামলার আশঙ্কা নেই। তবে আমরা আত্মতুষ্টিতে ভুগছি না।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, কেউ যেন উসকানিমূলক বই প্রকাশ না করে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে না লেখে। আমাদের সাইবার ইউনিট কাজ করবে। বইমেলায় আসতে লেখক-প্রকাশকরা কোনো ধরনের হুমকি মনে করলে আমাদের অবহিত করলে ব্যবস্থা নেব।

মেলাকেন্দ্রিক নিরাপত্তার পাশাপাশি শহীদ মিনার ও শাহবাগ-নীলক্ষেত কেন্দ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে। বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আশপাশে তল্লাশি দল থাকবে, সন্দেহজনক কিছু দেখলে তারা তল্লাশি করবে। মূল মেলাপ্রাঙ্গণে প্রবেশের আগে প্রতিটি প্রবেশপথে আর্চওয়ে, মেটাল ডিটেক্টর থাকবে। এ ছাড়া কাউকে সন্দেহ হলে তাকে পৃথক কক্ষে নিয়ে তল্লাশি করা হবে। মেলাপ্রাঙ্গণসহ আশপাশ এলাকার প্রতি ইঞ্চি জায়গা সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে। মেলাপ্রাঙ্গণে সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি পর্যাপ্তসংখ্যক পোশাকধারী সদস্যও মোতায়েন থাকবে।

মেলার আশপাশে মোটরসাইকেল ও গাড়ির টহল থাকবে। সিটিটিসি, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ক্রাইমসিন ভ্যান ও ডগস্কোয়াড প্রস্তুত থাকবে। যে কোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মেলায় মেডিকেল টিম ও ফায়ার সার্ভিস মোতায়েন থাকবে। ডিএমপি কন্ট্রোল রুমের ভিতরে ব্রেস্ট ফিডিং কক্ষ থাকবে। আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিয়মিত মেলাপ্রাঙ্গণে আসবেন ও নিরাপত্তা বিষয় পর্যবেক্ষণ করবেন।

কলকাতা বইমেলায় বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন উদ্বোধন : আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন গতকাল উদ্বোধন করা হয়েছে। ” আনুষ্ঠানিকভাবে সোমবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বইমেলার উদ্বোধন করেন। তবে গতকাল সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয় মেলার দরজা। এদিনই আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নেরও উদ্বোধন করেন কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনার আন্দালিব ইলিয়াস। ৪৬তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার থিম কান্ট্রি স্পেন। তবে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন। কিন্তু প্রথম দিনই বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে নতুন সমস্যার মুখোমুখি পড়তে হলো বই বিক্রেতা ও ক্রেতাদের। বই পছন্দ হলেও কেবল অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই বই কিনতে পারেননি। নালন্দা পাবলিকেশনের মালিক রেদওয়ানুর রহমান জুয়েল ডিজিটাল পেমেন্ট সমস্যা নিয়ে বলেন, ‘আমাদের যে মোবাইল সিম ব্যবহার করতে হয়, সেটা প্রতি বছর পরিবর্তন করতে হয়। ১৫ দিন ব্যবহার করে সেটা ফেলে দিয়ে ফের নতুন সিম তুলতে হয়। সে কারণেই ডিজিটাল পেমেন্টের সুবিধা দিতে পারছি না। তার ওপর সোয়াইপ মেশিন নেই। এ সুবিধা থাকলে আমাদের বই বিক্রি আরও বেড়ে যেত। ’ প্রিয়মুখ প্রকাশনীর আহমেদ ফারুক জানান, অনেক ক্রেতাই এসে জানতে চাইছেন অনলাইন পেমেন্ট কেন হচ্ছে না? সে ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ সরকার অনুমতি না দিলে এটা করা মুশকিল। বইমেলায় যে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন আছে সেটাতে চাইলেই ডিজিটাল ব্যবস্থা করা যেতে পারে বলে অভিমত তার। বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নের উদ্বোধন করে ডেপুটি হাইকমিশনার আন্দালিব ইলিয়াসও সে কথা স্বীকার করে নিয়ে বললেন, ‘এ সমস্যা (অনলাইন পেমেন্ট) এক দিনে মিটবে না। কয়েকটি দেশের মধ্যে নেটওয়ার্ক তৈরি করে।