Loading..

শিক্ষায় অগ্রযাত্রা

রিসেট

০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১২:৪৪ অপরাহ্ণ

নতুন কারিকুলাম নিয়ে আমার উপলব্ধি

নতুন কারিকুলাম নিয়ে আমার উপলব্দি


 নাজমুন্নাহার শিউলি: 

একটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মূল চাবিকাঠি হচ্ছে কারিকুলাম। নিদিষ্ট সময় পর পর যেকোন দেশ তাদের আর্থসামাজিক ও যুগের চাহিদা অনুসারে কারিকুলাম পরিবর্তন করতে হয়। আমাদের দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীকে জনশক্তিতে রূপান্তর করা এখন সময়ের দাবী। তাই প্রযুক্তি নির্ভর কর্মমূখী ও দক্ষতা ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থাই পারে একটি জাতিকে তাঁর বেকারত্বের অভিশাপ হতে মুক্তি দিতে। সেই আলোকে এইবারের নতুন কারিকুলামটি খুব সুন্দরভাবে প্রতিটি বিষয়ে অভিজ্ঞতা (অধ্যায়) এবং সেশন (পাঠ) সাজানো হয়েছে। কেন এই কারিকুলাম শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজন তা সংক্ষেপে তুলে ধরার চেষ্টা করছি- 

১. শিক্ষকদের জন্য রয়েছে শিক্ষক সহায়িকা এবং শিক্ষার্থীদের রয়েছে অনুশীলন বই। শিক্ষক সহায়িকার আলোকে শিক্ষার্থীদের নির্দেশনা দিবেন এবং শিক্ষার্থীরা অনুশীলন বইয়ের আলোকে নির্দেশনা অনুসরণ করবে। তাই শ্রেণিকক্ষে শ্রেণি কার্যক্রমের প্রায় সকল কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে বিধায় শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়তে হচ্ছেনা ফলে আর্থিক ব্যয় কমবে।

২. শিক্ষার্থীরা তাদের বাড়ির কাজে পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী, আত্মীয় স্বজন এবং নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর সুযোগ পাচ্ছে।


৩. প্রতিটি অভিজ্ঞতা (অধ্যায়), প্রতিটি সেশন (পাঠ)-এর ধারাবাহিক মূল্যায়নের ব্যবস্থা রয়েছে বিধায় শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির হার কমবে।


৪. প্রতিটি সেশন (পাঠ) উপস্থাপন করার সুযোগ র‌য়েছে বিধায় শিক্ষার্থীদের জড়তা কেটে যাবে ফলে নেতৃত্বের গুণাবলী তৈরি হবে।


৫. প্রতিটি সেশনে (পাঠে) দলগত কাজ করার সু্যোগ রয়েছে বিধায় শিক্ষার্থীরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়ার দক্ষতা অর্জিত হবে।


৬. দলগত কাজের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব তৈরি হবে।


৭. অনুসন্ধানীমূলক কাজ করতে গিয়ে নতুন নতুন সমস্যার সম্মুখীন হবে এবং সেখান থেকে উত্তোরণের পথ খুঁজতে গিয়ে নতুন নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করবে যা তার বাস্তব জীবনে কাজে লাগবে।


৮. শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল প্রযুক্তি জ্ঞান কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন রকম অ্যাপস তৈরি করতে পারবে, ভিডিয়ো তৈরি ও এডিটিং করতে পারবে ফলে ফিল্যান্সিং ও উদ্যোক্তা হওয়ার মনোভাব তৈরি হবে।


৯. ৭ম শ্রেণির জীবন ও জীবিকা পাঠ্যবই-এ স্কিল কোর্স-১ : কুকিং সেশনগুলো থেকে শিক্ষার্থীরা নিজের খাবার নিজে তৈরি করা শিখবে ফলে সে আত্মনির্ভরশীল হবে।


১০.  ৭ম শ্রেণির জীবন ও জীবিকা পাঠ্যবই-এ স্কিল কোর্স-২ : কেয়ার গিভিং সেশনগুলো থেকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সঠিক, নিরাপদ ও কার্যকর উপায়ে শিশু, বয়স্ক, অসুস্থ ব্যক্তি এবং প্রতিবন্ধী সদস্যদের প্রতি সেবা ও সহযোগীতার মনোভাব তৈরি হবে।


১১. ৭ম শ্রেণির জীবন ও জীবিকা পাঠ্যবই-এ স্কিল কোর্স-৩ : মুরগি পালন সেশনগুলো থেকে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে সহজ উপায়ে মুরগি পালনের কৌশল আয়ত্ত করতে পারবে ফলে সে চাকুরীর উপর নির্ভরশীল না হয়ে উদ্যোক্তা হতে উৎসাহী হবে।


১২. মুখস্থ নির্ভরতা থেকে শিক্ষার্থীরা বেরিয়ে এসে নিজের জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগিয়ে বাস্তব বিষয়গুলোর মতামত তুলে ধরতে পারবে।


১৩. পূর্বের কারিকুলামে ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণির বিষয়ের সংখ্যা ছিল ১৪টি বর্তমানে তা ১০টি রাখা হয়েছে ফলে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত বইয়ের চাপ বা ভার কমবে।

পরিশেষে আমি ৭ম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও শিক্ষক হিসেবে লক্ষ্য করলাম যে আমার সন্তানের শিখন ও নিজের কাজ নিজে করার আগ্রহ ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই বলবো গুজবে কান না দিয়ে নতুন কারিকুলামের ইতিবাচক দিকগুলো বাস্তবায়নে সহায়তা করুন তাতে আমরা ২০৪১ এর জন্য উপযুক্ত, দক্ষ ও সৃজনশীল মানব সম্পদ পাবো বলে আশা রাখছি।


লেখক: শিক্ষক ও কলামিস্ট, সহকারি শিক্ষক, মতলব জে.বি. সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়

মতলব দক্ষিণ, চাঁদপুর।

মন্তব্য করুন