সহকারী শিক্ষক
১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
পুষ্টির অভাব পূরণে: সবাই জানি পুষ্টিগুণে ভরপুর ফলের নাম আনারস। এই ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ এবং ‘সি’ ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও ফসফরাস রয়েছে। আনারস খাওয়ার ফলে এসব অপরিহার্য উপাদান আমাদের দেহের পুষ্টির অভাব পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
হজমশক্তিকে উন্নত করতে: অনেক সময় দেখা যায় যে অনেকর হজমের সমস্যা দেখা যায়। তখন কেউ যদি আনারস খায় তাহলে তার এই সমস্যা দূর হবে। মানুষের হজমশক্তি বৃদ্ধি করতেও আনারসের কার্যকারিতা অনেক। এই আনারসে ব্রোমেলিন নামক এনজাইম থাকে যা মানুষের হজমশক্তিকে উন্নত করতে সাহায্য করে থাকে। যাদের বদহজম বা হজমজনিত সমস্যা রয়েছে তারা এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে আনারস খেতে পারেন।
ভাইরাসজনিত ঠাণ্ডা ও কাশি প্রতিরোধে: আমরা ইতিপূর্বে জেনেছি যে আনারসে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকায় তা ভাইরাসজনিত ঠাণ্ডা ও কাশি প্রতিরোধে ভুমিকা রাখে। এছাড়াও জ্বর ও জন্ডিস প্রতিরোধে আনারস বেশ উপকারী। এমনকি নাক দিয়ে পানি পড়া, গলাব্যথা এবং ব্রংকাইটিসের বিকল্প ওষুধ হিসাবে আনারসের রস খেতে পারেন।
শরীরের ওজন কমাতে সহায়তা: আমরা জানি আনারসে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার বা আঁশ থাকে। এমনকি এতে কোন ফ্যাট না থাকায় পরিমিত পরিমানে আনারস খেলে বা আনারসের জুস পান করলে তা শরীরের ওজন কমাতে সহায়ক হতে পারে। এই ফল তাই আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণের পথ্য হতে পারে। এই আনারস দেহে রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দেয়। এর ফলে শিরা-ধমনির মধ্য দিয়ে সারা শরীরে সঠিকভাবে রক্ত প্রবাহিত হতে পারে।
দাঁত ও মাড়ি সুরক্ষায়: অনেকের দাত ও মাড়ির সমস্যা হয়ে থাকে। আর এই সমস্যা দূর করতে আনরসের ভূমিকা অনেক। এই আনারসে ক্যালসিয়াম থাকায় তা দাঁতের সুরক্ষায় কাজ করে। কেউ যদি নিয়মিত আনারস খায় তার দাঁতে জীবাণুর সংক্রমণ কম হবে, এর ফলে দাঁত ঠিক থাকবে। আনারস মাড়ির যে কোনো সমস্যা সমাধান করতে বেশ কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
চোখের যত্নে আনারস: অনেকের চোখের রেটিনা নষ্ট হয়ে ধীরে ধীরে অন্ধ হয়ে যাওয়া। এই রোগ “ম্যাক্যুলার ডিগ্রেডেশন” আনারস খাওয়ার ফলে রোগটি হওয়া থেকে আমাদের রক্ষা করে। এ ধরেনর ফলে রয়েছে বেটা ক্যারোটিন। যার প্রতিদিন/নিয়মিত আনারস খেলে এ রোগ হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। যার ফলে সুস্থ থাকে আমাদের চোখ।
ত্বকের যত্নে আনারস: প্রায় সব ধরনের ফলে ক্যালরি থাকে তেমনি এই আনারসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি রয়েছে যা আমাদের শক্তির যোগান দেয়। আনারসে থাকা প্রোটিন ত্বকের মৃত কোষ দূর করতে সাহায্য করে এবং কুঁচকে যাওয়া থেকে ত্বককে রক্ষা করে। ত্বককের তৈলাক্ত ভাব দূর করে , এমনকি ব্রণসহ সব রূপ লাবণ্যে ফিরিয়ে আনতে আনারসের যথেষ্ট কদর রয়েছে।
হাড়ের সমস্যাজনিত রোগ প্রতিরোধ: হাড়কে শক্তিশালী রাখতে ক্যালসিয়ামের প্রয়োজন হয়। আর এই আনারসে প্রচুর পরিমাণে রয়েছে ক্যালসিয়াম যা হাড়ের গঠনে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ম্যাঙ্গানিজ যা হাড়কে করে তোলে আরো মজবুত। তাই আমি মনে করি প্রতিদিনের খাবার তালিকায় পরিমিত পরিমাণ আনারস রাখলে হাড়ের সমস্যাজনিত যে কোনও রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
ক্রিমিনাশক হিসেবে: আমাদের অনেক সময় পেটের ক্রিমির উপদ্রব্য বেড়ে যায়। তখন আনারস খেলে ক্রিমিনাশক হিসেবে আনারসের রস ভালো কাজ করে। তাই নিয়মিত আনারসের রস খেলে কয়েকদিনের মধ্যেই কৃমির উৎপাত বন্ধ হয়ে যায়। আপনার পেটের কৃমি দূর করতে সকালবেলায় ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে আনারস খান দেখবেন আপনার ক্রিমি দূর হবে।
ক্যান্সার
প্রতিরোধী: ক্যান্সার
এমন একটি রোগ যা মানুষকে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করে। আর এই মরন ব্যধি ক্যান্সার
ফ্রি-রেডিকেল বা মুক্ত মুলক মানবদেহের কোষের উপর বিরূপ ক্রিয়ার সৃষ্টি করে ফলে
ক্যান্সার এবং হৃদরোগের মত মারাত্মক রোগ দেখা দিতে পারে। ডাক্তারি গবেষনায় দেখা গিয়েছে
যে দেশী আনারসে আছে উচ্চ মাত্রায় পানিতে দ্রবনীয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, পরিমান মতো ভিটামিন-সি এবং পানিতে
দ্রবনীয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ,মানব দেহকে ফ্রি-রেডিকেল
বা মুক্ত মুলক থেকে সুরক্ষা প্রদান করে। এর ফলে ক্যান্সার এবং হৃদরোগের মত
মারাত্মক রোগ মানব দেহে বাসা বাঁধতে বাধাগ্রস্থ হয়। আমাদের প্রত্যেকের এই ফলটি
খাওয়া উচিত। আল্লাহ চাইলে সব রোগ থেকে বাঁচিয়ে দিতে পারে শুধু ক্যান্সার নয়।