সহকারী শিক্ষক
১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
চালতা মূলত মাঝারি আকৃতির চিরসবুজ বৃক্ষ। এর শাখাপ্রশাখা এলোমেলো, শীর্ষ প্রায় গোলাকৃতি, ছায়াঘন এবং ছড়ানো। বাকল লালচে মৃসণ। পাতা দীর্ঘাকৃতির, দৃঢ়-শিরাবিন্যাসে এবং প্রায় খাঁজকাটা প্রান্ত করাতের দাঁতের মতো ধারালো। পাতার আকৃতি এবং বিন্যাসেও চালতা গাছ রূপসী। বর্ষায় ফোটা এ ফুলের বৃতির রঙ সবুজ, মাংসল ও স্থায়ী। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে এ বৃতিই ফলে রূপান্তরিত হয়। পাপড়ির রঙ দুধ-সাদা এবং স্বল্পস্থায়ী। ফল পাকার মৌসুম শরৎ-হেমন্ত। দেখতে প্রায় গোলাকার। পাকা ফলের রঙ হলদে-সবুজ। খেতে টক-মিষ্টি স্বাদের। শাঁস নানা খাদ্যে ব্যবহার্য। বিশেষত শরবত, জেলি ও চাটনিতে কাজে লাগে। বাকল ও পাতায় আছে ওষুধিগুণ-
১. চালতা ভিটামিন সি এর অভাবজনিত রোগ থেকে সুরক্ষা পেতে সহায়ক।
২. চালতা হৃদযন্ত্র এবং যকৃৎ ভালো রাখার প্রয়োজনীয় উপাদানে ভরপুর।
৩. চালতা মানব দেহের হাড়ের সংযোগস্থলের ব্যথা কমাতে খুবই উপকারী।
৪. চালতা গলা ব্যথা, বুকে কফ জমা, সর্দি প্রতিরোধে উপকারি।
৫. চালতা হজম শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। চালতা খেলে ডায়রিয়া ও বদহজম জনিত সমস্যায় উপকারি।
৬. কানের যে কোনো সমস্যায় চালতা ভালো কাজ দেয়।
৭. অন্ত্রে বাসা বাঁধা কৃমির বিরুদ্ধে লড়াই করতে চালতা অসাধারণ ক্ষমতা রাখে।
৮. পাকস্থলীতে যাদের আলসার আছে, তাদের জন্য উপযুক্ত ওষুধ হতে পারে চালত।
৯.আয়ুর্বেদ শাস্ত্র মতে চালতার ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ক্ষমতাও রয়েছে।
১০.চালতা ক্যালসিয়ামের একটি ভালো উৎস। ক্যালসিয়াম হাড় ভালো রাখার জন্য জরুরি। এ ছাড়া ফসফরাস, আয়রন ও ভিটামিন ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’র পাওয়া যায় চালতায়।
১১. চালতা অন্ত্রের সংক্রমণ, অর্শরোগ, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং ডায়েরিয়া নিরাময়ে সাহায্য করে।
১২. ভিটামিন ‘এ’ ও ‘সি’ পূর্ণ একটি ফল। তাই এটি স্কার্ভি ও লিভারের সমস্যার জন্য ব্যবহার করা হয়।
১৩. কুসুম গরম পানিতে চালতার রস আর সামান্য চিনি মিশিয়ে খেলে রক্ত পরিষ্কারক হিসেবে কাজ করে।
১৪. নিয়মিত চালতা খেলে কিডনি ভালো রাখার পাশাপাশি নানা রোগ ভালো হয়। এ ছাড়া শরীরে যে কোন ধরণের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। তাই আমাদের অন্যান্য খাবারের পাশা-পাশি নিজ নিজ রুচী অনুযায়ী প্রক্রিয়ায় চালতা খাওয়ার অভ্যাস করা প্রয়োজন।