সহকারী শিক্ষক
১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
আদি নিবাস ভারতীয় উপমহাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। এর আদি নিবাস ভারতীয় উপমহাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। ক্রান্তীয় অঞ্চলের এই গাছটি বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশের সর্বত্র জন্মে। আর্দ্র, কর্দমাক্ত, জলসিক্ত স্থানে ছাতিম বেশী জন্মে। ছাতিম মূলাবর্তে সাতটি পাতা এক সঙ্গে থাকে বলে সংস্কৃতে এবং হিন্দিতে একে ‘সপ্তপর্ণ’ বা ‘সপ্তপর্ণা’ নামে ডাকা হয়।
বর্ণনা:
ছাতিম গাছ ৪০ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। বহুশাখাবিশিষ্ট গাছটির
ছাল গন্ধহীন, অসমতল ও ধুসর। ছাতিম পাতার উপরের দিক চকচকে
আর তলার দিক ধুসর থাকে। এর শাখা পত্রমূলাবর্তবিশিষ্ট। ১০ থেকে ১৫ সে. মি. লম্বা
পাতা একই মূলাবর্তে ৪ থেকে ৭ টা পর্যন্ত থাকে। শাখার শীর্ষে সবুজ মেশানো সাদা
রংয়ে থোকায় থোকায় ক্ষুদ্রাকৃতি ফুল ফোঁটে। ৩০ থেকে ৬০ সে.মি. লম্বা সরু ফল এক
বৃন্তে সাধারণতঃ দুটো ক’রে ঝুলে থাকে। ছাতিমের বীজ লম্বাটে ডিম্বাকার, কিনারায় আঁশ থাকে আর শেষ প্রান্তে এক গোছা চুল থাকে। ছাতিম গাছের
অভ্যন্তরে দুধের মতন সাদা এবং অত্যন্ত তেতো কষ প্রচুর পরিমাণে থাকে।
উপকরিতা :
কুষ্ঠ রোগ নিরাময়ে :
ছাতিম গাছের ছালচূর্ণ্ করে গুলঞ্চের রস মিশিয়ে খেলে এবং এই গাছের ছাল থেতো করে সিদ্ধ করে এই পানি দিয়ে গোসল করলে কুষ্ঠ রোগ ভালো হয়।
জ্বর হলে :
জ্বর হলে ছাতিম গাছের ছাল সিদ্ধ করে সেই পানি দুই বেলা সেবন করলে উপকার পাওয়া যায়।
গ্যাস হলে :
পেটে গ্যাস হলে ছাতিমের ছাল বা ফুল চূর্ণ্ করে সেবন করলে উপকার পাওয়া যায়।
হাপানি নিরাময়ে :
হাঁপানি হলে ছাতিমের ফুল চূর্ণ্ করে পিপুল চূর্ণ্ করে দইয়ের সাথে মিশিয়ে খেলে হাপানি কমে যাবে।
বাতের সমস্যায় :
বাতের ব্যাথা হলে ছাতিমের ছাল সিদ্ধ করে সেবন করলে ব্যাথা কমে যায়।
দাতে পোকা হলে :
দাঁতে পোকার যন্ত্রনা হলে ছাতিমের আঠা পোকা লাগা দাতের ছিদ্রে দিলে উপকার পাওয়া যাবে।
কাশির সমস্যায় :
ছাতিম গাছের রস গরম দুধের সাথে মিশিয়ে খেলে কাশি ভালো হয়ে যায়।