সহকারী শিক্ষক
১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
কাঁটানটে দেশের সর্বত্রই কমবেশি দেখা যায়। এই গণের ৮/৯টি প্রজাতি এখানে দেখা যায়। এদের মধ্যে নটে শাক/ সাদানটে, চাঁপানটে, লালনটে, বনেটে ইত্যাদি অন্যতম।
ঔষধি গুণঃ
১। (ক) কাঁটানটে গাছে ও মূলে Saponin রয়েছে। সে কারণে এটি সর্দি, কাশি সরাতে
ব্যবহৃত হয় (Ghani, 2002)। ঋতু
পরিবর্তনে শরীরের উপর প্রভাব পড়ে। অনেকে এই পরিবর্তনে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারে
না। ফলে সর্দি, কাশি, মাথাভার, এমনকি
জ্বরে ভুগে থাকেন। সর্দি ঝরা ও মাথাভার থেকে নিস্তার পেতে চাঁপানটের মূল ছেঁচে রস নিংড়ে
২ চা চামচ নিয়ে ২/৩ বার খেতে হবে।
(খ) আর কাশিতে নটেশাকের ৩-৪ চা চামচ রস হালকা গরম করে সকাল-বিকাল
দু’বার করে খেলে কয়েক দিনের মধ্যেই কাশির উপশম হবে।
২। বিশেষ কোনো উপসর্গ ছাড়াই কাশিতে রক্তপড়াকে আয়ুর্বেদশাস্ত্রে রক্তপিত্ত বলে অভিহিত করা হয়। আর এটি সারাতে ১০ গ্রাম নটেশাকের মূল ৪/৫ চা চামচ চাল-থোয়া পানিতে ছেঁচে তারপর ছেঁকে রসটা সকালের দিকে খেতে হবে। তবে অর্থেক হলে চলবে না, ধৈর্য ধরে খেয়ে গেলে উপকার পাবেন।
৩। অনেকে
বিনা কারণেই শরীরে কেমন যেন জ্বালা অনুভব করে, দাহের সৃষ্টি হয়। আয়ুর্বেদ মতে পিত্ত বৃদ্ধিই এর কারণ।
এটিরে উপশমে ৩-৪ চা চামচ নটেশাকের রস হালকা গরম করে সকাল-বিকাল দু’বার কিছুদিন
খেতে হবে।
৪। কাঁটানটের মূল অনিয়মিত মাসিকে ও শ্বেত বা রক্তপ্রদর চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
(ক) মহিলাদের অনিয়মিত মসিকে নটেশাকের মূল চাল-ধোয়া পানিতে ছেঁকে নিয়ে
তারপর সেই রসের ৩-৪ চা চামচ নিয়ে হালকা গরম করে কিছুদিন খেতে হবে; এত অনিয়মটা দূরীবূত হবে।
(খ) পরিণত মহিলাদের মধ্যে এমন কমই আছেন যারা শ্বেত বা রক্তপ্রদরে
সাথে পরিচিত নয়। এরুপ উভয় ক্ষেত্রেই ২ চা চামচ কাঁটানটের মূলের রস এক কাপ আতপ চাল
ধোয়া পানিতে মিশিয়ে সকালে ও বিকেলে কয়েকদিন খেতে হবে।
৫। ঘর গেরস্থালি কাজে বা অন্য কোনো কারণে হঠাৎ কেটে গেলে রক্তপড়া বন্ধ করতে নটেশাকের মূল পানিসহ ছেঁচে কাটাস্থানে বেঁধে নিতে হবে। এত রক্তপড়া বন্ধ হবে।