Loading..

প্রকাশনা

মূল্য সংযোজন কর
০৪ জুন, ২০২৩

১.১ মূল্য সংযোজন করের  সংজ্ঞাঃ

মূল্য সংযোজন হচ্ছে উৎপাদক বা আমদানিকারক বা বিক্রেতা উৎপাদন মূল্য বা ক্রয়মূল্যের সাথে যে মূল্য যুক্ত করে বিক্রি করে তাকে বুঝায়। সংযোজিত মূল্যের ওপর আরোপিত করই হলো মূল্য সংযোজন কর।

কোনো পণ্যকে অন্য একটি ব্যবহার উপযোগী পণ্যে রূপান্তরের ফলে পণ্যের মূল্য কিছুটা বৃদ্ধি পায়। এই বৃদ্ধিপ্রাপ্ত মূল্যের উপর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক নির্দিষ্ট হারে কর প্রদান করতে হয় যা মূল্য সংযোজন কর হিসেবে পরিচিত।


১.২  মূল্য সংযোজন করের প্রকারভেদ :

১৯৯১ সালে বাংলাদেশে প্রবর্তিত মূল্য সংযোজন কর আইনে ভিন্ন ধরনের কর প্রদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যথা:

১.  মূল্য সংযোজন কর : যদি কোন উৎপানকারী আমদানিকারক, সেবা সরবরাহকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক বিক্রয় ৮০ লক্ষ টাকা বা তদূর্ধ্ব হয় তাহলে তাকে সংযোজিত মূল্যের উপর ১৫% মূসক  প্রদান করতে হয় ।

২.  টার্নওভার কর : যদি কোন করযোগ্য উৎপানকারী বা পণ্য সরবরাহকারী বা সেবা প্রদানকারী বার্ষিক বিক্রয় ৮০ লক্ষ টাকার কম হয় তাহলে তাকে বার্ষিক বিক্রয়ের উপর ৩% হারে টার্নওভার কর প্রদান করতে হবে।

৩.  সম্পূরক কর : যেসব বিলাসজাত সামগ্রী অত্যাবশ্যকীয় নয় এবং সামাজিকভাবে অনভিপ্রেত এমন সব পণ্যের আমদানি নিরুৎসাহিত ও নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ঐ সকল পণ্যের ওপর মূল্য সংযোজন করের অতিরিক্ত বিভিন্ন হারে যে কর আরোপ করা হয় তাকে সম্পূরক কর বলা হয়।


১.৩  কী কী কারণে মূল্য সংযোজন কর সরকার এবং করদাতা উভয়ের নিকট সুবিধাজনকঃ 

নিম্নে মূল্য সংযোজন করের সুবিধাসমূহ আলোচনা করা হলো :

১.  ব্যাপকতা : ভ্যাট করের ভিত্তি প্রসারিত করেছে। সাময়িকভাবে কিছু কিছু পণ্য ব্যতিরেকে সকল পণ্য ও সেবার ওপর এটা আরোপ করার ফলে সরকারের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আয় হচ্ছে। 

২.  সরলতা : কর পরিশোধকারী, কর নির্ধারণকারী, ভোক্তাসহ সবার নিকট এটা অত্যন্ত সহজবোধ। কারণ এটা বিক্রয় মূল্যের ওপর একটি নির্দিষ্ট হারে পরিশোধ করতে হয়। তাছাড়া এটা স্বয়ং নির্ধারণীর ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে।

৩.  ফাঁকি রোধ : ভ্যাট বিভিন্ন পর্যায়ে আরোপ করা হয় বলে এর ভার অপেক্ষাকৃত কম হয়। তাছাড়া বিক্রেতা নিজের জন্যই ভ্যাট সংগ্রহ করবে, কারণ সংগৃহীত কর প্রদত্ত উপকরণ করের সাথে সমন্বয় করে করের আঘাত হতে মুক্তি পাবে।

৪.  শিল্প রক্ষা : আমদানির ওপর ভ্যাট ধার্য করে এবং রপ্তানির ওপর শূন্য হারে ভ্যাট ধার্য করে দেশীয় শিল্প রক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

৫.  নিরপেক্ষতা এটি নির্দিষ্ট হারে আরোপ করা হয় বলে বিভিন্ন ধরনের করদাতার মধ্যে কোনো প্রভেদ সৃষ্টি করে না। 

৬.  মিতব্যয়িতা : ভ্যাট নির্ণয় ও আদায় অত্যন্ত সহজ বলে এটা পরিকল্পনার ব্যয় অত্যন্ত কম।

৭.  দ্বৈত কর পরিহার : এ কর ব্যবস্থায় শুধু সংযোজিত মূল্যের ওপর কর দিতে হয় । ফলে একবার যে মূল্যের (উপকরণ ব্যয়) ওপর কর দেওয়া হয় পুনরায় উক্ত মূল্যের ওপর কর দেওয়ার প্রয়োজন হয় না।



১.৪ মূল্য সংযোজন করের অসুবিধাসমূহঃ


 মূল্য সংযোজন করের বহুবিধ সুবিধার পাশাপাশি কিছু অসুবিধা রয়েছে যা নিয়ে আলোচনা করা হলো:

১.  দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি : মূল্য সংযোজন কর আরোপের ফলে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পায়। যেসব পণ্যের ওপর কোনো কর ছিল না সেসব পণ্যের ওপর মূল্য সংযোজন কর আরোপের ফলে  দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পায় এবং এর সাথে যুক্ত হয় অসাধু ব্যবসায়ীদের তৎপরতা।

২.  সেবার মূল্য বৃদ্ধি : মূল্য সংযোজন কর আরোপের ফলে সেবার মূল্যও বৃদ্ধি পায়। মূল্য সংযোজন করের অজুহাত তুলে তুলনামূলকভাবে বেশি হারে সেবার মূল্য বৃদ্ধি করা হয়।

৩.  জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি : মূল্য সংযোজন কর পরোক্ষ কর বিধায় এর ভার সাধারণ জনগণকে বহন করতে হয়, যার ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পায়।

৪.  ব্যয়বহুল ও ঝামেলাপূর্ণ : মূল্য সংযোজন করের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন রকমের বইপত্র ও হিসাব সংরক্ষণ করতে হয়। যা অনেক সময় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ব্যয়বহুল ও ঝামেলাপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।

মন্তব্য করুন

অন্যান্য