Loading..

প্রেজেন্টেশন

০৬ জুন, ২০২৩ ১২:০৪ অপরাহ্ণ

কলেজের কিছু স্মৃতি

স্মৃতি কথা

কোথা থেকে শুরু করবো?  শুরু থেকেই শুরু করি,কি বলেন? ১৯৯৮ সাল।এস এস সি পরীক্ষা দিয়েছি। অনেক স্বপ্ন,অনেক ভয়। রেজাল্ট কেমন হবে? কোথায় ভর্তি হবো? একটু দূরে কোথাও যাব,এইরকম একটা স্বপ্ন ছিল মনে। অনেক তো হলো? প্রাইমারি, মাধ্যমিক। এবার সোনামুখী          ( আমার জন্মস্থান)  থেকে বেরিয়ে বাইরের হাওয়া গায়ে লাগাতে চাই। কিন্তু সব চাওয়া পূরণ হয় না। কী এমন বয়স, এই বয়সে বাইরে পড়তে যাওয়া?  ( বাইরে মানে কিন্তু জেলা বা বিভাগ পর্যায়ে না,এই একটু উপজেলা চেঞ্জ)।  যাই হোক,বাড়ির মানুষকে ম্যানেজ করতে পারতাম কিনা জানি না,অথবা ম্যানেজই তো করতে হতো না। কারণ আমাদের এলাকায় কোন কলেজ ছিল না। কিন্তু কি কপাল!! এই বছরেই কেন নতুন কলেজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে?  এলাকায় সম্মানিত, শ্রদ্ধেয় গুণিজনেরা এলাকার উন্নয়নের কথা চিন্তা করে প্রতিষ্ঠিত করলেন আমাদের এই কলেজ বঙ্গবন্ধু কলেজ( সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজ)। ভালো কথা। অনেক ভালো কাজ। কিন্তু এসবের মধ্যে আমরা কেন? একটু স্বপ্ন দেখছি মাত্র। বাইরে যাব,আনন্দ করবো, ঘুরে বেড়াবো ( পড়ার কথা পরে ভাবলেও হবে)। হলো না, স্বপ্ন বাস্তবায়ন হলো না।

বাবা,মাকে বুঝিয়ে নতুন কলেজে ভর্তি করানো হলো আমাদের। আহা!! কি কষ্ট?  তবে ভর্তি হওয়ার পর কষ্ট কিন্তু ছিল না।  কলেজে ভর্তি হয়ে আমরা পেয়েছি অনেক ভালোবাসা, অনেক সম্মান। আমরা শিক্ষার্থী, আমরা ছোট মানুষ হওয়া সত্বেও  সত্যিই আমরা অনেক সম্মান পেয়েছি। (অন্য কিছুও পেয়েছিলাম সেটা কিন্তু এখানে বলা যাবে না,গোপন বিষয়)। নতুন কলেজ সেইজন্য সব বিষয়ের টিচার ছিল না। তার জন্য অনেক রকম সুযোগ সুবিধা করে দিয়েছিলেন কলেজের সকল সদস্য। বারবার আমাদের বুঝিয়েছেন, আমরা যেন হতাশ না হই। নতুন কলেজ হলেও আমরা যে সকল স্যারদের সান্নিধ্যে আসতে পেরেছি এটা অনেক সৌভাগ্য। কলেজে প্রায় সকল স্যার ছিলেন নতুন অর্থাৎ কেউ কেউ মাত্র মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়েছেন এমনকি রেজাল্টও প্রকাশ হয়নি কারো কারো। নতুন স্যার মানে ইয়াং টিচার, প্রথম প্রথম ক্লাস নেওয়ার অভিজ্ঞতা। স্যারেরা অনেক নার্ভাস থাকতো এটা আমরা বুঝতে পারতাম। স্যারদের আড়ালে স্যারদের নিয়ে অনেক মজা করেছি। গোপন কথা রইলো না গোপন।

কলেজে আমরা যেন বোরিং ফিল না করি সেইজন্য কিনে দেওয়া হলো খেলার সামগ্রী। দাবা,কেরাম ইত্যাদি। আমি তো রীতিমতো ভালো খেলোয়াড় হয়ে উঠলাম( হা হা হা)।  আমরা এমন ছাত্রী ছিলাম সবাই, বোরিক পাউডার কেনার জন্য স্যারদের বলতাম সাথে খেলতে। স্যারেরা তো আমাদের কাছ থেকে টাকা নিতে পারতো না। স্যারেরা কিনে আনতো আর আমরা খেলতাম। এই বিষয়টাও স্যারেরা জানতো না। আবারও গোপন কথা গোপন রইলো না। কি আর করার? এখন তো এগুলো আমাদের কাছে মজার স্মৃতি।

এত এত স্মৃতি আছে যে লিখতে লিখতে অনেক লেখা যাবে কিন্তু এত পড়ার ধৈর্য কারো থাকবে না।তাছাড়া এত ভালো লেখকও না যে সবাই আগ্রহ নিয়ে পড়বে।

যাই হোক নতুন কলেজের নতুন স্যারেরা হয়ে উঠেন আমাদের ফ্রেন্ড। অনেক ভালোবাসা পেয়েছি।অনেক স্বপ্ন দেখিয়েছেন। এখন সবাই কলেজ নিয়ে গর্ব করে কিন্তু সেই ১৯৯৮ সালেই আমরা এইরকম স্বপ্ন দেখেছিলাম যার বাস্তবায়িত রূপ এটা। আজ সবাই কলেজ নিয়ে গর্ব করে আর আমরা গর্ব করি এইজন্য যে আমরা এই কলেজের প্রথম ব্যাচ। কষ্ট হয়েছে পড়াশোনায়, ইচ্ছে ছিল, অনুপ্রেরণা ছিল।বারবার হতাশ হলেও ভেঙে পরিনি। আশানুরূপ রেজাল্ট না হলেও খুব খারাপ হয়নি রেজাল্ট। প্রথম ব্যাচ হিসেবে কলেজের সম্মান রাখতে পেরেছি।

আজ  শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি সেই সকল স্যারদের। শ্রদ্ধা এবং কৃতজ্ঞতা জানাই প্রিয় স্যারদের। যদিও বর্তমানে সেই সময়ের সকল স্যার নাই। যারা নাই তারা হয়তো অন্য কোথাও ভালো আছেন।দূর থেকেই জানাই অনেক শ্রদ্ধা। আর বর্তমানে যারা আছেন সেই সময় থেকে এবং পরবর্তীতে নতুন আরও যারা যোগদান করেছেন সবাইকে জানাই আন্তরিক শ্রদ্ধা,কৃতজ্ঞতা এবং ভালোবাসা। আপনাদের আশীর্বাদ নিয়ে সামনের পথ চলতে চাই।দোয়া / আশীর্বাদ চেয়ে আমার এই অদক্ষ হাতে লেখা এই স্মৃতিচারণ এখানেই শেষ করছি।

সবশেষে যেটা না বললেই চলে না ,সেটা হলো আমার সেই একসাথে দীর্ঘদিনের পথ চলার প্রিয় সকল বন্ধুকে আজ এই সময়ে অনেক বেশি মিস করি। যে যেখানেই থাক তোমরা ভালো থেক।

 প্রতিভা রানী

সহকারী শিক্ষক

মৌখাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

বড়াইগ্রাম, নাটোর