সহকারী অধ্যাপক
০৮ জুন, ২০২৩ ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ
সহকারী অধ্যাপক
বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুদীর্ঘ লড়াই নিয়ে আমরা অনেকটাই আলোচনা করেছি। যদিও তার সুদীর্ঘ সংগ্রামের অতিসামান্য অংশই আমরা তুলে আনতে পেরেছি। তবুও আমাদের আলোচনা থেকে বঙ্গবন্ধুর অসাধারণ নেতৃত্ব ও আপোসহীন লড়াইয়ের সামান্য চিত্র তাতে পাওয়া যায়। যখন আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছি তখন যে স্বল্প সময়ের জন্য বঙ্গবন্ধু তার নির্মিত দেশটির শাসনব্যবস্থা পরিচালনা করেন তার একটি অতিসংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরতে চাই। বলা বাহুল্য, ক্ষুদ্র পরিসরে এই আলোচনা সমুদ্রে বারিবিন্দুর মতোই অতিক্ষুদ্র। পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু ব্রিটেনের বিমান বাহিনীর বিশেষ বিমানে নয়াদিল্লীর বিমানবন্দরে পৌঁছালে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভি.ভি গিরি এবং প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। বিমানবন্দরে ‘সকলের প্রতি বন্ধুত্ব, কারও প্রতি বিদ্বেষ নয়’ এ নীতি ঘোষণা করে ঐদিন বিকালে তিনি ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে ঢাকা বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি রেসকোর্স ময়দানে অপেক্ষমাণ লাখ লাখ জনতার সামনে বক্তব্য রাখেন। দেশের মাটিতে ফিরেই বঙ্গবন্ধু শুরু করেন দেশ পুনর্গঠনের কাজ, আত্মনিয়োগ করেন দেশ ঘুরে দাঁড়ানোর কর্মে। ঢাকায় ফিরে তিনি ভারতকে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় সৈন্য প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। এটি তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া ফেলে। মার্চের মধ্যে ভারতীয় সৈন্য প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়। এর মধ্য দিয়ে চীন ও পাকিস্তানের বাংলাদেশ ভারতের উপনিবেশ হতে যাচ্ছে এমন অপপ্রচারেরও অবসান হয়। বিশ্বে এটি একটি বিরল দৃষ্টান্ত যে একটি বিদেশী বাহিনী সশস্ত্র যুদ্ধে কোন দেশে এসে এত দ্রুত দেশত্যাগ করেছে। কেবল বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের গুণেই এটি সম্ভব হয়। ১২ মার্চ ১৯৭২ তারিখে অনুষ্ঠিত ভারতীয় মিত্র বাহিনীর বিদায়ী অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু নিজে উপস্থিত ছিলেন। ১৯৭১ এর আগে যারা দেশ ত্যাগ করেছিল তাদের ফেরত না আনা ও ভারতীয় ব্যবসায়ীরা যেন প্রাধান্য বিস্তার করতে না পারে, এই বিষয়ে বঙ্গবন্ধু ছিলেন বেশ সক্রিয়। পরবর্তীতে ইন্দিরা গান্ধী এক নাগরিক সংবর্ধনায় বলেন, জীবনে বহু মুক্তিসংগ্রাম তিনি দেখেছেন। কিন্তু বাংলাদেশের মতো এমন মুক্তি সংগ্রাম আর কোথাও দেখতে পাননি। এখানে সমগ্র জাতি একজন মহান নেতার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে মুক্তি সংগ্রাম করেছে। বঙ্গবন্ধু সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হলো, বিধ্বস্ত দেশের যুদ্ধাক্রান্ত নাগরিক এবং ভারতের সীমান্তে আশ্রয় চাওয়া দশ মিলিয়নের অধিক শরণার্থীর মধ্যে আস্থা সৃষ্টি করা। ১৯৭২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী কলকাতায় বলেছেন, ছয় সপ্তাহের স্বল্প সময়ে সাত মিলিয়নের অধিক শরণার্থীকে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরে আসতে হবে। যথারীতি সেটা করা হয়েছে। বিপুল সংখ্যক জনসংখ্যার ত্রাণ ও পুনর্বাসন নিঃসন্দেহে একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ ছিল। যেটি বঙ্গবন্ধু দক্ষতার সঙ্গে মোকাবেলা করেছেন। স্বাধীন বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু সর্বপ্রথম যে কাজটি করেন তা হলো ১১.০১.১৯৭২ তারিখে অস্থায়ী সংবিধান আদেশ জারির মাধ্যমে দেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তন। বঙ্গবন্ধুর আজন্মকালের স্বপ্ন ছিল একটি সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার। সে লক্ষ্যে অস্থায়ী সংবিধান আদেশ জারির পর ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু প্রধান বিচারপতির কাছে প্রথমে দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং পদত্যাগ করে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দেশে ফিরে বস্তুত ১১ জানুয়ারি থেকেই তিনি দেশ পরিচালনা শুরু করেন। সেদিনই দুই দফা মন্ত্রিসভার বৈঠক করেন, এবং তাতে সংবিধান প্রণয়ন সংক্রান্ত অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু ১২ সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করেন। বঙ্গবন্ধু মন্ত্রিপরিষদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় ১৩ জানুয়ারি ১৯৭২। ঐ সভায় কতগুলো মৌলিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ১৯৭১ সালের মার্চ মাস থেকে প্রচলিত বাংলাদেশের পতাকার নকশা থেকে বাংলাদেশের মানচিত্র তুলে সবুজের মাঝখানে শুধু লাল গোলক রেখে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অনুমোদন করা হয়। বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি’ নির্ধারণ করা হয়। বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলামের ‘চল চল চল উর্ধ গগনে বাজে মাদল’ গানটি বাংলাদেশের রণসঙ্গীত হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। পররাষ্ট্রনীতির প্রতি বঙ্গবন্ধুর ব্যাপক আগ্রহ ছিল। কেবল স্বীকৃতি আদায় ও কূটনৈতিক সম্পর্ক তৈরি নয় বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্তকরণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেন। বঙ্গবন্ধুর বিদেশ সফর বা তার পররাষ্ট্রনীতির প্রতিটি সফরে নির্দেশনা থাকত বাংলাদেশ যেন প্রত্যেকের সঙ্গে ভ্রাতৃত্বসুলভ সম্পর্ক রাখে। বঙ্গবন্ধুর এ দৃঢ় প্রচেষ্টাই বাংলাদেশকে দ্রুত আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে। ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ যখন আমরা স্বাধীনতার প্রথম বার্ষিকী উদযাপন করি তখন মাত্র ৫৪টি দেশ আমাদের স্বীকৃতি দিয়েছে। ১৯৭২ সালের শেষেরদিকে এই সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। তিন মাস একুশ দিনের মধ্যে স¦ীকৃতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাকিস্তান স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয় দুই বছর দুই মাসের মধ্যে। সর্বমোট ১২১টি দেশ স্বীকৃতি প্রদান করে। এরপর অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ জোটনিরপেক্ষ গ্রুপ, কমনওয়েলথ, আইএলও ও ডব্লিউএইচওর সদস্য হয়। ১১৬টি রাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। ফলে ব্যবসাবাণিজ্য ও অন্যান্য পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রসারিত হয়। বঙ্গবন্ধুর সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব ছিল স্বাধীনতার মাত্র নয় মাসের মধ্যে দেশকে একটি শাসনতন্ত্র উপহার দেয়া। যেখানে সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে মূলনীতি করা হয়েছিল এবং যুদ্ধাপরাধের বিচারের ধারা সংযোজিত হয়েছিল। পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার নয় বছর সময় লেগেছিল তাদের সংবিধান রচনা করতে, ভারতের লেগেছিল প্রায় তিন বছর। পৃথিবীর ইতিহাসে মাত্র নয় মাসে সংবিধান তৈরি এ ধরনের ঘটনা বিরল। ১৯৭২ সালের প্রথমদিকে আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব দলের নতুন ভাবাদেশ তত্ত্বের জন্ম হয়। বঙ্গবন্ধু ঘোষিত জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা এই রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতির ওপর ভিক্তি করে সৃষ্ট এই তত্ত্বের নাম দেয়া হয় ‘মুজিববাদ’। আজকের বাংলাদেশের ভিত্তি তিনিই স্থাপন করেছিলেন। সদ্য স্বাধীন দেশে যারা ভিটেহারা হয়েছেন তাদের পুনর্বাসন প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু ১৬ জানুয়ারি ১৯৭২ তারিখে অনুষ্ঠিত জাতীয় শোক দিবসের এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ‘কিছু কিছু ব্যবসায়ী জিনিসপত্রের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে।’ তিনি তাদের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘দুষ্কৃতকারীদের ক্ষমা নেই। ‘জিনিসপত্রের দাম আপনারা বাড়াতে পারবেন না। স্বাধীন বাংলায় এ ধরনের অপচেষ্টা চালানো হলে ভবিষ্যত আপনাদের অন্ধকার হয়ে যাবে। মুনাফাখোর আর কালোবাজারিরা যদি পরিস্থিতির সুযোগ নেবার চেষ্টা করে তবে তাদের কঠোর পরিণাম ভোগ করতে হবে। পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিছু ব্যবসায়ী নিত্য জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়েছে বলে আমি খবর পেয়েছি।’ তিনি তাদের এ ধরনের অনৈতিক কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান। আর এতেই স্বার্থান্বেষী মুনাফাখোরের দল তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে। জনগণের কষ্ট হবে এমন কোন কিছুই সহ্য না করার বিষয়ে বঙ্গবন্ধু দৃঢ় সংকল্পের কথা ব্যক্ত করেন। তিনি আরও বলেন, ঢাকা শহর ও শহরতলীর বাস্তুহারাদের পুনর্বাসনের জন্য তাঁর সরকার জমি বরাদ্দের ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য বঙ্গবন্ধু ১৫ দিনের মধ্যে প্রকৃত বাস্তুহারাদের তালিকা পেশ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। টাঙ্গাইলে ২৪ জানুয়ারি, ১৯৭২ তারিখে অনুষ্ঠিত এক বিশাল জনসমাবেশে বঙ্গবন্ধু বিস্তৃতভাবে পুনর্বাসন পুনর্গঠন সম্বন্ধে বর্ণনা করেন। একই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসনের জন্য বঙ্গবন্ধু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। তিনি বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী, মিলিশিয়া, রিজার্ভ বাহিনী সংগঠনের বিষয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নেন। এছাড়া উক্ত জনসভায় বঙ্গবন্ধু আরও বলেন, বাংলাদেশে কোন ভুড়িওয়ালা এদেশের সম্পদ লুটতে পারবে না। গরিব হবে এই রাষ্ট্র এবং এই সম্পদের মালিক, শোষকরা হবে না। এই রাষ্ট্রে হিন্দু, মুসলিম ভেদাভেদ থাকবে না। এই রাষ্ট্রের মানুষ হবে বাঙালী। তাদের মূলমন্ত্র- ‘সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।’ বৈদেশিক সাহায্যের বিষয়ে বঙ্গবন্ধু বলেন, আমি দুনিয়ার কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছি। আমি সাহায্য চাই, আমি আমার দেশকে বাঁচাতে চাই। আমার জনগণকে বাঁচানোর জন্য দুনিয়ার মানুষের কাছে আমি আবেদন জানিয়েছি। কিন্তু এ ক্ষেত্রে একটি কথা পরিষ্কার করে বলে দিতে চাই যে, নাকে খত দিয়ে কারও কাছ থেকে আমরা সাহায্য নেব না। ভিক্ষা করতে যাব না মাথা নত করে। আমি সাহায্য চাই, কিন্তু স্বাধীনতা বিক্রি করে সাহায্য চাই না। রিলিফ ও পুনর্বাসনের জন্য বঙ্গবন্ধু দেশের বিভিন্ন স্থানে জনসংখ্যার ভিক্তিতে মঞ্জুরি দেয়ার ব্যবস্থা করেন। দেশকে পুনর্গঠনের জন্য বঙ্গবন্ধু সবসময় সজাগ ছিলেন। জনগণকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন, আরও যদি দু’মাস, ছয় মাস বা এক বছর যুদ্ধ করতে হয় তাহলে কি আপনারা যুদ্ধ করবেন না? মনে রাখবেন, আপনারা যুদ্ধ করেছেন, যুদ্ধ এখনও চলছে, সবকিছু নতুন করে গড়তে হবে। পাকিস্তানী দখলদার বাহিনীকে নমরুদ আখ্যা দিয়ে বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেন, যুদ্ধাপরাধীদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হবে এবং ট্রাইব্যুনালে তাদের বিচার করা হবে। ১৯৭২ সালের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত অস্ত্র নিজেদের কাছে না রেখে সমর্পণের আহ্বান জানান বঙ্গবন্ধু। এতে সব মুক্তিযোদ্ধা সাড়া দিয়ে বঙ্গবন্ধুর কাছে অস্ত্র জমা দেন। বঙ্গবন্ধু শাসনভার গ্রহণের সময়ে শতকরা ৮৫ ভাগ লোক কৃষির ওপর নির্ভরশীল ছিল। জাতীয় আয়ের অর্ধেকের বেশি ছিল কৃষি খাত নির্ভর। বঙ্গবন্ধু জানতেন কৃষিপণ্য উৎপাদন বৃদ্ধি না করতে পারলে দেশের অর্থনৈতিক মেরুদন্ড সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না। তাই তিনি সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন। ‘কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে’ স্লোগানকে শুধু স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করেননি বঙ্গবন্ধু। মুক্তিযুদ্ধের পর ২২ লাখের বেশি কৃষক পরিবারকে পুনর্বাসন করার দায়িত্ব নিয়েছিল। কৃষি যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য কৃষি বিষয়ক মৌলিক কাঠামো নির্মাণে সহায়তাদানের পাশাপাশি নামমাত্রে মূল্যে এমনকি বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বীজ, সার ও কীটনাশক সরবরাহ করেছিল। জমির সমস্ত বকেয়া খাজনা মওকুফসহ ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মওকুফ করেন। পরিবার পিছু সর্বাধিক ১০০ বিঘা পর্যন্ত জমির মালিকানা সিলিং নির্ধারণ করেন। দখলদার পাকিস্তানী শাসনামলে রুজু করা ১০ লাখ সার্টিফিকেট মামলা থেকে ঋণী কৃষককে মুক্তি দেয়া হয় এবং তাদের সকল বকেয়া ঋণ সুদসহ মাফ করে দেয়া হয়। এবং সারাদেশে স্বল্পমূল্যে ’৭২ সালে ৪০ হাজার শক্তিচালিত লো লিফট পাম্প, ২৯০০ গভীর নলকূপ ও ৩০০০ অগভীর নলকূপের ব্যবস্থা করা হয়। ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হয়। ঢাকা, ১৩ মার্চ ’২২ লেখক : তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, কলামিস্ট, দেশের প্রথম ডিজিটাল নিউজ সার্ভিস আবাস-এর চেয়ারম্যান- সাংবাদিক, বিজয় কীবোর্ড ও সফটওয়্যার-এর জনক