সিনিয়র শিক্ষক
১৪ জুন, ২০২৩ ০৬:০৪ পূর্বাহ্ণ
সিনিয়র শিক্ষক
ধরনঃ মাদ্রাসা শিক্ষা
শ্রেণিঃ ষষ্ঠ
বিষয়ঃ জীবন ও জীবিকা
অধ্যায়ঃ প্রথম অধ্যায়
অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিখন
জীবনের পথে বিচিত্র অভিজ্ঞতার সংস্পর্শে এর্শে সে মানুষের আচরণের যে বাঞ্চিত ও ইতিবাচক পরিবর্তন ঘ রিবর্ত টে
তার স্থায়ী রূপ হলো শিক্ষা। সুতরাং শিখনের পূর্বশর্ত ই হ র্বশর্ত লো অভিজ্ঞতা। অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যে শিখন
সম্পন্ন হয় তা স্থায়ী হয় এবং ক্রমাগত উপলব্ধি বা প্রতিফলনের মাধ্যমে আচরণের ইতিবাচক উন্নয়ন ঘটে।
এবারের শিক্ষাক্রমে তাই অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিখনের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সন্নিবেশিত চক্রটিতে
অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিখন-শেখানো প্রক্রিয়ার ধাপগুলো দেখানো হয়েছে।
অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিখন চক্রটির দিকে লক্ষ্য করলে আমরা সহজেই বুঝতে পারব�ো, শিক্ষার্থী তার শিখন
প্রক্রিয়ায় যদি এই ধাপগুলোর মধ্যে দিয়ে অতিক্রম করে তাহলে শিখনটা স্থায়ীত্ব পাবে এবং কার্যকর শিখন র্য
নিশ্চিত হবে। এমন হতে পারে আগামীতে আমাদের ঘরের কাজে সহায়তাকারীর (গৃহকর্মী) সংকট ব্যাপক হয়ে
উঠতে পারে। রোবট বা যন্ত্র দিয়ে গৃহস্থালি কাজ করানোর সামর্থ হয়র্থ তো সকলের নাও থাকতে পারে। সেক্ষত্রে
আজকের ষষ্ঠ শ্রেণির শিশুটি নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য কিংবা প্রশান্তিময় জীবনের জন্য তাকে কিছু
কিছু গৃহস্থলি কাজকর্ম শিখ র্ম তেই হবে।
3
সেগুলো কি তাকে মুখস্থ করিয়ে পরীক্ষার খাতায় লিখতে দিলেই তার শিখন নিশ্চিত হবে? কথায় বলে পানিতে
না নামলে সাঁতার শেখা অসম্ভব; তাহলে ভাবুন, কীভাবে ফলপ্রসু শিখন নিশ্চিত করা যায়? অভিজ্ঞতা ভিত্তিক
শিখনের উদাহরণ হিসেবে আমরা শিখনের চক্রটি লক্ষ্য করি-
প্রথথম ধধাপ: অভিজ্ঞভিজ্ঞতা
প্রথমে শিক্ষার্থী বাড়িতে কী কী কাজ করে তা জেনে নিয়ে আগামী প্রতিদিন সে কী কি কাজ করবে
তার একটি পরিকল্পনা করতে দেওয়া হলো। পরিকল্পনা অনুযায়ী সে প্রতিদিন তার কাজগুলো করতে
থাকবে।
দ্বিদ্বিতীয় ধধাপ: প্র াপ: তিতিফলন
প্রতিদিন কাজগুলো করতে গিয়ে সে কী ধরনের সমস্যায় পড়ছে, কীভাবে সেটা কাটিয়ে উঠছে তা তার
ডায়েরী/ছকে লিখে রাখার সুযোগ করে দেওয়া হলো। সে তার অভিজ্ঞতা থেকে প্রতিদিনই শিখতে
থাকবে।
তৃতৃতীয় ধধাপ: ধধারণণায়ন
শিক্ষার্থীকে কাজগুলো আরও নিখুঁতভা নিখুঁ বে করার জন্য বিভিন্ন বই- পত্র-পত্রিকা, ভিডিও অথবা শিক্ষকের
নিকট থেকে বিস্তারিত জানার সুযোগ দেয়া হলো। আর সেসব তথ্য তার অভিজ্ঞতা ও প্রতিফলনের
মাধ্যমে অর্জিত শিখন র্জি কে আরো সুদৃঢ় ও সুসংহত করে তুলবে।
শিক্ষার্থীর শিখনকে
প্রয়োগ করার সূযোগ
তৈরি করে দিন
সক্রিয়
পরীক্ষণ
প্রয়োজনীয় তথ্য ও তত্ত্ব
দিয়ে শিক্ষার্থীদের শিখন
ও ভাবনাকে সুসংহত
করুন
বিমূর্ত
ধারণায়ন
শিক্ষার্থীকে উক্ত
অভিজ্ঞতা নিয়ে ভাববার
সুযোগ তৈরি করে দিন
প্রেক্ষাপটনির্ভর নির্ভ
অভিজ্ঞতা
কোনো একটি
অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে
শিক্ষার্থীকে নিয়ে যান
প্রতিফলনমূলক
পর্যবেক্ষণ
অভিজ্ঞতাভিত্তিক
শিখন
বিষয় পরিচয়
4
জীবন ও জীব জীবন ও জীবিিকা: শশিক্ষক সহা িক্ষক সহায়য়িকা
যো যোগ্যতার ধধারণণা
যোগ্যতাভিত্তিক শিক্ষাক্রমের যথাযথ উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে
যোগ্যতাভিত্তিক শিক্ষার একটি পরিপূর্ণ ধর্ণ ারণায়ন (Conceptualisation) বা ধারণা তৈরি করা জরুরি।
সাধারণভাবে বলা যায়, জ্ঞান, দক্ষতা এবং ইতিবাচক মূল্যব�োধ ও দৃষ্টিভঙ্গি সমন্বিতভাবে অর্জিত হ র্জি লে
শিক্ষার্থীর মাঝে কাঙ্খিত যোগ্যতা গড়ে উঠে। উদাহরণস্বরূপ, একটি কাজ (যেমন- ঘর গোছানো, রান্না করা,
পারিবারিক বাজেট তৈরি করা ইত্যাদি) কীভাবে করবে তা বই পড়ে বা শুনে বা দেখে একজন শিক্ষার্থী জানতে
পারে, এতে তার জ্ঞান অর্জিত হয়। ঐ শিক্ র্জি ষার্থী যদি নিজের নিরাপত্তা বজায় রেখে উক্ত কাজটি যথাযথভাবে
করতে পারে, তবে তার দক্ষতা তৈরি হয়। আর যদি সে কাজটি করার পরিকল্পনার ক্ষেত্রে কীভাবে সাশ্রয়ী হওয়া
যায়, অপচয় না করে কাজটি করা যায়, কাজটি করার ক্ষেত্রে পরিবেশবন্ধব উপায়, নান্দনিকতা ও অন্যের ক্ষতি
বা অসুবিধা সৃষ্টি না করার বিষয়টি বিবেচনাায় রেখে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার সক্ষমতা অর্জন কর্জ রে, সেই সাথে যদি
সে যথাসময়ে পরিবারের প্রয়োজনে নিয়মিত কাজটি সম্পাদন করে তবে তার যোগ্যতা অর্জিত হয়। এখা র্জি নে
জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যব�োধ ও দৃষ্টিভঙ্গি সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। চারটি উপাদানের এই সমন্বিত রূপ যোগ্যতার
(Competency)ধারণাকে পূর্বের শিখনফল ( র্বে Learning Outcome) এর ধারণা থেকে একটি ভিন্নরূপ দিয়েছে।
চতুর্থর্থ র্থর্থধধাপ: পরী াপ: পরীক্ষণ ক্ষণ
শিক্ষার্থী এই অর্জিত জ্ র্জি ঞান, দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োগ ঘটিয়ে তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে অন্যান্য
কাজ সম্পন্ন করবে। অর্থা ৎ এভাবে অর্জিত জ্র্জি ঞান নতুন কোনো কাজে লাগাতে পারবে।
যেকোনো শিখন উপরের ধাপগুলো অতিক্রম করেই সম্পন্ন হয়। এই চক্রটি পর্যা য়ক্রমিক না হয়ে স্পাইরালও
হতে পারে। কার্যকর শিখন র্য নিশ্চিত করার জন্য একই ধাপ পুনরাবৃত্তিও হতে পারে। অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে
শিক্ষার্থীকে নিয়ে যাওয়ার জন্য চক্রের যেকোনো ধাপে, যেকোনোভাবে কার্যক্রম প র্য রিচালনা করা যেতে পারে।
অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিখনের মাধ্যমে যে প্রক্রিয়াগুলোর চর্চা র সুযোগ রাখা হয়েছে সেগুলো হলো-
• আনন্দময় শিখন
• পঞ্চইন্দ্রিয়ের সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে ও কাজভিত্তিক বা হাতে কলমে শিখন
• প্রজেক্টভিত্তিক, অনুসন্ধানভিত্তিক, সমস্যাভিত্তিক এবং চ্যালেঞ্জভিত্তিক শিখন
• সহযোগিতামূলক শিখন, একক, জোড়া এবং দলগত কাজসহ স্ব-প্রণোদিত শিখনের সংমিশ্রণ
• বিষয়নির্ভর না হ নির্ভ য়ে প্রক্রিয়া এবং প্রেক্ষাপটনির্ভর শিখন নির্ভ
• অনলাইন শিখনের ব্যবহার ইত্যাদি।
অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিখনকে ফলপ্রসূ করতে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়তামূলক, একীভূত ও অর্ন্তভুক্তিমূলক
শিখন পরিবেশ নিশ্চিত করবেন যাতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিখনের উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। শ্রেণিকক্ষের শিখন
পরিবেশ হবে শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক, গণতান্ত্রিক ও সহযোগিতামূলক। প্রতিটি শিক্ষার্থীর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক
প্রেক্ষাপট, শিখন চাহিদা ও যোগ্যতা বিবেচনায় নিয়ে শিখন কার্যক্রম