সহকারী শিক্ষক
০১ জুলাই, ২০২৩ ১০:২২ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
কমলার আশ্চর্যজনক স্বাস্থ্য উপকারীতার পাশাপাশি রয়েছে নানা রকমের ঔষধি গুণ। কমলার স্বাস্থ্যকর গুণের সাথে অসাধারন রূপ একে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ফল হিসেবে পরিচিত করেছে। নিয়মিত একটি কমলা খেলে হৃদয়ের পাশাপাশি ত্বকও সজীব হয়ে উঠবে। এতে থাকা পটাশিয়াম হৃদয়কে সচল রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও কমলার মধ্যে থাকা ফাইটোকেমিক্যাল ক্যান্সার এর বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
কমলার উপকারিতা যেমন আছে তেমনি আছে কমলার ঔষধি গুণ। লেবু জাতীয় এই ফলটি সহজলভ্য বলেই হয়তো এর জনপ্রিয়তা ব্যাপক। আসুন ধীরে ধীরে জেনে নেই কমলার ২০টি উপকারীতা ও ঔষধি গুণ।
প্রথমেই কমলার উপাদান ও পুস্টিগুন সম্পর্কে জেনে নিই।
কমলাতে সবচেয়ে পরিচিত উপাদান ভিটামিন সি। এছাড়াও আছে-
কমলার রস এর উপকারীতা কি তা এর উপাদান থেকেই অনেকটুকু প্রকাশ পাচ্ছে।
একটি মাঝারী মানের কমলা তে থাকা উপাদান গুলো। যা দেখে খুব সহজে কমলার রস এর উপকারীতা ও ঔষধি গুন এর একটি সচ্ছ ছবি দেখা যায়।
| উপাদান | পরিমাণ |
| ক্যালরি | ৬০ |
| ফাইবার | ৩ গ্রাম |
| চিনি | ১২ গ্রাম |
| প্রোটিন | ১ গ্রাম |
| ভিটামিন এ | ১৪ মাইক্রোগ্রাম |
| ভিটামিন সি | ৭০ মিলিগ্রাম |
| ক্যালসিয়াম | ১৫০ মিলিগ্রাম |
| পটাশিয়াম | ২৩৭ মিলিগ্রাম |
| কার্বোহাইড্রেট | ১৫.৪ গ্রাম |
কমলা যেহেতু বিভিন্ন পুস্টিগুন সম্পন্ন ফল। তাই কমলা নিয়মিত খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ভাইরাস এর সাথে যুদ্ধ করার মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে কাজ করে কমলা ।
এছাড়াও হৃদযন্ত্র ও পাকস্থলী ভালো রাখতেও এর জুড়ি মেলা ভার।
কমলার রস এর উপকারীতা ও ঔষধি গুণ এর মধ্য রয়েছে চোখের সুরক্ষা, দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি, কোলস্টেরল ও ডায়েবেটিস নিয়ন্ত্রণ।
এছাড়া কোস্টকাঠিন্য দূর করা, ত্বকের উজ্জলতা বৃদ্ধি করে কমলার রস। এছাড়াও বিভিন্ন ঔষধি গুণ এ ভরপুর এই রসালো ফলটি।
আমরা সকলেই জানি যে কমলার রস এর ঔষধি গুণ এর বর্ণনা ব্যপক।
⇒ ক্যান্সার প্রতিরোধ থেকে শুরু করে যেকোন ভাইরাস রোগের জন্য মহৌষধ কমলা রঙ এর এই গোলাকার ফলটি। ⇒ বাচ্চা থেকে বুড়ো সবার শরীর এর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি তে দারুন কাজ দেয় কমলা। ⇒ এছাড়াও ত্বক এর সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে এর জুড়ি মেলা ভার। ⇒ হাড় ও দাঁতকে শক্তিশালী করে কমলার রস। ⇒ এছাড়াও এতে থাকা ফাইবার যা হজমশক্তি বৃদ্ধি করে পেটকে শান্ত রাখতে দারূনভাবে উপযোগী।
কমলার আদি জন্মস্থান চীন। মূলত চীনারাই কমলার চাষ শুরু করে প্রথমে তারপর ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পরে বিভিন্ন দেশে । কমলার বেশ কিছু উপকারীতা এবং ঔষধি গুণের জন্য এখন ধরতে গেলে সব দেশেই কমলার চাষ হয়। আমাদের দেশ এর সিলেট , পার্বত্য চট্রগ্রাম ও পঞ্চগড় এলাকায় কমলার চাষ হয়।
কমলা বিভিন্ন জাত এর হলেও স্বাদ এর দিক দিয়ে টক ও মিস্টি এই দুইটি ভাগে ভাগ করা যায়। কিন্তু জাত এর দিক থেকে কয়েক ধরনের কমলা দেখা যায়।
আসুন জেনে নেই বিভিন্ন জাত এর কমলার নাম এবং ঠিক কোন সময়ে এদের পাওয়া যায়।
আরও পড়ুনঃ লেবুর ২০ টি স্বাস্থ্য উপকারিতা ও ঔষধি গুণাগুণ জেনে নিন
এই জাত টি খুব বেশী পরিমানে জনপ্রিয় এবং সহজলভ্য। মিস্টি স্বাদ এর এই কমলাটির নামকরন এর বিষয় টি খুব মজার । এটার মাথার দিকটা অনেক টা মানুষের নাভী এর মত দেখতে তাই এর নামটা এমন।
এই জাতের কমলাতে রস এর পরিমান খুব বেশী এবং বিচিমুক্ত হয়। এর স্বাদ এর পাশাপাশি গন্ধও দারুন। এই কমলাটি মুলত নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত পাওয়া যায়।
এটা অনেক টা ন্যাভাল কমলার জাত। কিন্তু স্বাদ খুব মিস্টি এবং লালচে রঙ এর হয়। একে লালচে ন্যাভাল কমলাও বলা হয়।
এতেও বিচি কম থাকে এবং এসিড এর পরিমাণ ও কম থাকে। এই কমলার রঙ ও মিস্টি স্বাদ এর জন্য বিখ্যাত । ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল এই কমলা সহজলভ্য থাকে।
আপনি যদি কমলার রস এর সাগরে ডুব দিতে চান তাহলে আপনার প্রথম পছন্দ হবে এই কমলা। এর চামড়া খুব পাতলা হয় এবং রসে টইটুম্বর।
কমলার সতেজ জুস তৈরির জন্য প্রচলিত এই কমলা। এই কমলাটি কাচা অবস্থায় খেতেও খুব মজা। এটা মুলত গ্রীস্মকালীন ফল , মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত পাওয়া যায় এই কমলা।
শুনতে কেমন লাগলেও মূলত এর গাড় লাল রঙ এর জন্য এর নামকরন হয়েছে ব্লাড। এর কোষগুলো মাংসল ও রসালো।
এই রসালো কমলাটির স্বাদ মিস্টি এবং হালকা টক। এর আকার ন্যাভাল কমলার চেয়ে ছোট। অতুলনীয় স্বাদ এর কমলাটি পাওয়া যায় নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত।
সিভিল্যা কমলার স্বাদ এতটাই টক যে একে টক কমলাও বলা চলে। এতে মিষ্টির পরিমান এতটাই কম যে স্বাদ বাড়ানোর জন্য চিনি ব্যাবহার করতে হয়।
মূলত আচার এবং সালাদ এর জন্য এই কমলা ব্যাবহার করা হয়। এর খোসাতেও আছে দারুন গন্ধ। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারী এই কয়মাস থাকে এই কমলা।
চ্যাপ্টা আকৃতির এই কমলাটির আকার সাধারনত খুব ছোট। মিস্টি স্বাদ এর এই কমলাটির খোসা ছারানো খুব সহজ এবং বিচিমুক্ত হওয়ার কারনে এর জনপ্রিয়তা অনেক।
এছারাও টেঞ্জারিন, ক্লেমেন্টাইন্স, বারগামট, ট্রিফলিয়েট ইত্যাদি জাত এর কমলা রয়েছে। এছাড়াও বাংলাদেশে একটি নতুন জাতের কমলা বারি কমলালেবু বাজারজাত করেছে।
কমলা রসালো ফল হওয়াতে এর শরবত বানানো খুব সহজ। এই শরবত সব বয়সের মানুষের কাছে জনপ্রিয়। খুব সহজ পদ্ধতিতেই বানানো যায় কমলার শরবত।
১। ভালোভাবে ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে নিতে হবে। হাত দিয়ে চাপ দিয়ে অথবা ব্লেণ্ডার এ দিয়ে এর রসটুকু বের করে নিতে হবে। তারপর একটি পরিস্কার ছাকনি দিয়ে ছেকে রসটুকু গ্লাস এ নিয়ে নিব। কমলা টক হলে এতে এক চা চামচ চিনি মিশিয়ে নিব। ২। কমলার রসের এই শরবতটি খুব মজাদার এবং সাস্থ্যকর। একটি গ্লাস চারভাগের তিন ভাগ কমলার রস নিব। এর সাথে দিব এক ভাগ পানি। তারপর এতে দিব এক চা চামচ গুড়ো দুধ, দেড় চা চামচ চিনি এবং দুইটি আইস কিউব। ভালোভাবে নেড়ে মিশিয়ে নিব। বাচ্চাদের পাশাপাশি বড়দেরও দারুন পছন্দ হবে এই শরবত টি।
কমলার রস এর উপকারীতা ও ঔষধী গুণ আসলে খুব অল্প কথায় লিখা সম্ভব না । তবু কিছু সাস্থ্যকর উপকারীতা তুলে ধরার চেস্টা করছি।
কমলাতে আছে ফাইবার এবং পটাশিয়াম। যা হৃদরোগ এর ঝুকি কমাতে খুবই সাহায্য করে।
গবেষনাতে দেখা যায় এক কাপ কমলার রস প্রায় ১৪% পটাশিয়াম এর চাহিদা পূরন করতে সক্ষম।
ফলে স্ট্রোক এবং বিভিন্ন রকমের হৃদরোগ এর সম্ভাবনা হ্রাস পায়।
এন্টি অক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন সি এর চমৎকার উৎস কমলা।
গবেষনাতে দেখা গেছে প্রায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ক্যান্সার ডি এন এ তে রুপান্তর বা পরিবর্তনের জন্য হয়। ভিটামিন সি এই রুপান্তরে বাধা সৃষ্টি করে।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করার জন্য কমলা একটি দুর্দান্ত ফল। কারন এতে আছে খনিজ পটাশিয়াম যা রক্তনালীগুলোকে প্রসারিত করে।
কমলার রসের অন্যতম ঔষধি গুন রক্তনালী এর প্রসারনের মাধ্যমে রক্ত প্রবাহের চাপ অনেকটা নিয়ন্ত্রনে থাকে।
কমলা ডায়েবেটিস রোগীর জন্য একটি সাস্থ্যকর ফল। এতে থাকা ফাইবার রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রন করতে সাহায্য করে। ফ্রুক্টোজ কমলাতে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান , যা খাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে বাধা দেয়।
যেকোন টক জাতীয় ফল এর মত কমলাতে আছে সুস্থ রাখার অনন্য ঔষধি গুণ। কমলা ভিটামিন সি দিয়ে পূর্ণ যা শ্বেত রক্তকনিকা তৈরী করতে সাহায্য করে। পাশপাশি ভাইরাস ও ব্যাক্টেরিয়া ধ্বংস করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
কমলার রস এর উপকারীতার মধ্য অন্যতম একটি পুস্টিগুন হল এতে থাকা পটাশিয়াম ।
যা শরীর এর পানি নিয়ন্ত্রন এ রেখে কিডনী ভালো রাখে। কমলার রস কিডনী ভাল রাখার পাশাপাশি কিডনীতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমায়।
মার্কিন এবং কানাডিয়ান একদল গবেষকদের গবেষনায় দেখা গেছে যে কমলার খোসা তে একধরনের যৌগ আছে। যা পলিমোথক্সাইলাটেড ফ্ল্যাভোন্স নামে পরিচিত। যা কোলস্টেরল কমাতে ঔষধের চেয়েও বেশি কার্যকর।
এছারাও এতে থাকা ভিটামিন সি ধমনীর দেয়ালে লেগে থাকা চর্বি হ্রাস করতে সাহায্য করে।
কমলার রস প্রদাহ রোধ করে। ফলে বাত এর ব্যাথা কমাতে সাহায্য করে। এবং এর প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য বাত প্রতিরোধেও সাহয্য করে।