Loading..

১৬ জুলাই, ২০২৩ ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ

Dyson sphere বা ডাইসন গোলক
Dyson sphere বা ডাইসন গোলক হচ্ছে সূর্য বা যেকোনো নক্ষত্রের চারপাশে সৃষ্ট একটি তাত্ত্বিক স্থাপনা যার সাহায্যে সূর্য বা কোনো নক্ষত্রের শক্তি আহরণ করতে পারা যায়। বিজ্ঞানী ফ্রিম্যান ডাইসন প্রথম এই চিন্তাধারা উপস্থাপন করেন।
যদি মানবজাতি কখনও এমন কিছু তৈরি করতে পারে এবং সূর্যের শক্তির খুব সামান্য পরিমাণ শক্তিও যদি আহরণ করা যায় তাহলে মানবসভ্যতাকে অন্য কোনো শক্তির উপর নির্ভর করতে হবে না। সূর্য এমন একটি অগ্নিকুন্ড যা বর্তমানে আমাদের সবচেয়ে সাশ্রয়ী পারমাণবিক চুল্লির চেয়ে প্রায় ১০০ কুইনটিলিয়ন (১ এর পাশে ২০টি শূন্য) গুণ শক্তিশালী এবং প্রতি সেকেন্ডে এতে এক ট্রিলিয়ন পারমাণবিক বোমার পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হচ্ছে। শুধু সামান্য নয়, এই শক্তির পুরোটাই যদি আমরা পেতে চাই তাহলে সূর্যের চারদিকে আমাদের তৈরি করতে হবে ডাইসনের গোলক।
সূর্যের চারপাশে সোলার প্যানেলের মতো একধরনের প্যানেল স্থাপন করার মাধ্যমে ডাইসন গোলক তৈরি করা যায় যেগুলো সূর্যকে প্রতিনিয়ত প্রদক্ষিণ করবে, এই ধারণাকে বলে ডাইসন সোয়ার্ম (Swarm)।
এই ব্যবস্থার মাধ্যমে আমরা অসীম শক্তি পেতে পারি, কিন্তু এমন কিছু তৈরি করা বর্তমান মানব সভ্যতার সাধ্যের বাইরে কারণ কারণ সূর্য পৃথিবীর চেয়ে ১৩ লক্ষ গুণ বড়। এই বিশাল সূর্যের চারপাশে সোলার প্যানেল স্থাপন করতে প্রয়োজন হবে কয়েক কোয়াড্রিলিয়ন স্যাটেলাইটের আর এসব স্যাটেলাইট তৈরি ও সূর্যের চারপাশে স্থাপন করতে এতো পরিমাণ শক্তি লাগবে যার যোগান দিতে পুরো গ্ৰহের সব জ্বালানি খরচ করতে হবে।
সকল প্রতিকূলতা ছাপিয়ে মানবজাতি যদি কখনো সূর্যের চারপাশে ডাইসন গোলক তৈরি করতে পারে তাহলে মানবজাতি Type 2 Civilization এ পরিনত হবে। বর্তমানে আমরা Type 1 Civilization এ ও নেই। Type 1 Civilization হলো যে সভ্যতা তাদের গ্ৰহের সমস্ত শক্তি কাজে লাগানোর সক্ষমতা অর্জন করে, আমরা আগামী ১০০ বছরের মধ্যে এ সক্ষমতা অর্জন করবো। আর Type 2 Civilization হলো যে সভ্যতা ডাইসন গোলকের মাধ্যমে নক্ষত্র থেকে বেশিরভাগ শক্তি কাজে লাগানোর সক্ষমতা অর্জন করে আর এ সক্ষমতা অর্জন করতে আমাদের হাজার হাজার বছর লেগে যাবে।
মন্তব্য করুন