সিনিয়র শিক্ষক
১৭ জুলাই, ২০২৩ ০৬:৪৩ অপরাহ্ণ
সিনিয়র শিক্ষক
মহারাজ গনেশনারায়ণের জন্ম হয় একটাকিয়ার বিখ্যাত কাশ্যপ গোত্রীয় বারেন্দ্র ব্রাহ্মণ ভাদুড়ি বংশে। সুবুদ্ধিনারায়ন রায়ভাদুড়ি একডালা দুর্গের যুদ্ধে দিল্লির সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলককে পরাজিত করে তাড়িয়েছিলেন । [১৩] ভাদুড়িদের একটা শাখা রায় এবং অপর শাখাটি খাঁ উপাধি পেয়েছিল শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহের রাজত্বকালে। রিয়াজ-উস-সালাতিন অনুসারে রাজা গণেশ বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার ভাতুরিয়ায়[১৪] জমিদার ছিলেন এবং ফ্রান্সিস বুচানন হ্যামিল্টনের মতে তিনি উত্তরবঙ্গের দিনাজপুরের হাকিম (গভর্নর) ছিলেন।[১৫] সাম্প্রতিককালে তাকে দীর্ঘ ৪০০ বছরের এক জমিদার পরিবারের সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।[১৬] সেখানে এখনো রাজা গণেশের গড় বিরাজমান।[১৭]
সুলতান প্রথম আলাউদ্দিন ফিরোজ শাহকে ক্ষমতাচ্যুত করে রাজা গণেশ মসনদে বসেন। তিনি তার বিরোধীদের কড়াহাতে দমন করা শুরু করেন।তার বিরোধীরা শেখ নূর কুতুব আলমের শরণাপন্ন হলে তিনি জৌনপুরের সুলতান ইবরাহিম শর্কীকে বাংলা আক্রমণ করে গণেশকে ক্ষমতাচ্যুত করার আহ্বান জানান। ইবরাহিম শর্কী বাংলা আক্রমণ করার পর নূর কুতুব আলম তাকে ইসলাম গ্রহণ করতে বলেন। রাজা গণেশের পুত্র যদুনারায়ণ আশমানতারা নামে এক পাঠান কন্যার প্রেমে ইসলাম গ্রহণ করে জালালউদ্দিন মুহাম্মদ শাহ নামধারণ করে সিংহাসনে বসে এবং নিজের নামে মুদ্রা চালু করে। জৌনপুরের সেনারা ফিরে যাওয়ার পর গণেশ তার পুত্রকে সরিয়ে নিজে পুনরায় রাজ্য লাভ করেন। কিন্তু শীঘ্রই জালালউদ্দিন তাকে হত্যা করে রাজ্য দখল করে।[১৮]
রাজা গণেশ রাজা গণেশের রাজবংশ
| ||
| পূর্বসূরী প্রথম আলাউদ্দিন ফিরোজ শাহ |
বাংলার শাসক ১৪১৪–১৪১৫ |
উত্তরসূরী জালালউদ্দিন মুহাম্মদ শাহ |
| পূর্বসূরী জালালউদ্দিন মুহাম্মদ শাহ |
বাংলার শাসক ১৪১৬–১৪১৮ |
উত্তরসূরী জালালউদ্দিন মুহাম্মদ শাহ |
১৪১৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি ইলিয়াস শাহী সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহএর বিরুদ্ধে একটি অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং তাকে রক্ষীছাড়া ধরেছিলেন। পরবর্তী যুদ্ধে আলাউদ্দিন পরাজিত এবং নিহত হন।তিনি গিয়াসউদ্দিনের বিধবা স্ত্রী ফুলজানিকে বিয়ে করেছিলেন এবং নিজেকে গৌড়েশ্বর হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন।[১৯][২০]
পঞ্চদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে তিনি গৌড় জয় করেছিলেন। সুতরাং দিল্লি থেকে আক্রমণ আসন্ন ছিল।
দিল্লির সুলতান এবং জৌনপুরের সুলতান পান্ডুয়াকে আক্রমণ করার জন্য এক বিশাল সেনাবাহিনীকে একত্র করেছিল। এই সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন ইব্রাহিম শাহ শর্কী।
রাজা গণেশ , মিথিলা ও আরাকানের রাজা এই সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে একত্রে অবরোধ তুলতে পেরেছিলেন এবং দিল্লি বাহিনীকে এক অপমানজনক পরাজয় দিয়েছিলেন।আফগানিস্তান এর হিরাট থেকে প্রাপ্ত নথি অনুসারে সুলতানের এমন অবস্থা হয়েছিল যে তৈমুর বংশীয় আফগান সুলতান শাহরুখ রাজা গনেশের সাথে সন্ধি করেন ও ইব্রাহিম কে দ্রুত সেনা সরানোর নির্দেশ দেন ।[২১]তুর্কি রিয়াজ উল সালাতিনের পাশাপাশি, ইব্রাহিমের সাথে গণেশের দ্বন্দ্ব সমসাময়িক চীনা ,বার্মিজ এবং তৈমুরিদের ইতিহাসে ও উল্লেখ করা হয়েছিল।[২২][২৩]