Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

১৭ আগস্ট, ২০২৩ ০৫:১৪ অপরাহ্ণ

সোনার তরী

সোনার তরী’ কবিতাটি একটি রূপক কবিতা। এ কবিতায় একটি জীবনদর্শন অন্তলীন হয়ে আছে। কবিতাটি ‘একটি ছোট ধানখেত, তার চারপাশে স্রোতের বিস্তার, সোনার ধান নিয়ে। একা কৃষক, অবলীলায় তরি বেয়ে আসা মাঝি’- এই কয়েকটি চিত্রকল্প এবং এগুলোর অনুষঙ্গে রচিত। এই কবিতায় দ্বীপসদৃশ ধানখেতের চারপাশে ক্ষুরধার বর্ষার নদীস্রোত হিংস্র হয়ে খেলা করছে। সেখানে রাশি রাশি সোনার ধান নিয়ে অপেক্ষা করছে এক কৃষক, তার মনে নানা আশঙ্কা। সেখানে ভরা পালে তরি বেয়ে এক মাঝিকে আসতে দেখে কৃষকের মনে আশার সঞ্চার হয়। নিঃসঙ্গ কৃষক আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে ওঠে, তার মনে হয় মাঝিটি তার চেনা। কিন্তু সেই মাঝি নির্বিকারভাবে তার পাশ দিয়ে অজানা দেশের দিকে তরি নিয়ে চলে যেতে থাকে। তখন কৃষক তাকে কাতর অনুনয় করে কূলে তরি ভিড়িয়ে সোনার ধানটুকু নিয়ে যেতে। মাঝি তরি ভিড়িয়ে তাতে সোনার ধান ভরে নিয়ে অজানার পথে চলে যায়। সেই তরিতে ধানের স্থান হলেও কৃষকের স্থান হয় না। আর শূন্য নদীতীরে অপূর্ণতার বেদনা নিয়ে কৃষক একা গুমড়ে মরে। এভাবে এ কবিতার রূপকল্পটি পূর্ণতা লাভ করেছে। এখানে মহাকালের চিরন্তন স্রোতে মানুষ যে অনিবার্য বিষয়টি এড়াতে পারে না তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মানুষ থাকে না, টিকে থাকে মানুষের সৃষ্ট সোনার ফসলরূপী উত্তম কর্ম। এভাবে কবির সৃষ্টিকর্ম কালের সোনার তরিতে স্থান পেলেও ব্যক্তি কবির স্থান সেখানে হয় না। এক অতৃপ্তির বেদনা নিয়ে তাকে অপেক্ষা করতে হয় অনিবার্যভাবে মহাকালের শূন্যতায় বিলীন হওয়ার জন্য।

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট