Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

১৫ এপ্রিল, ২০২৪ ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ

পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত স্বাধিকার আন্দোলনের পক্ষের রাজনৈতিক দল-মতের সঙ্গে দেশের কবি, সাহিত্যিক, শিল্পীদের একটা সুস্পষ্ট যৌথ প্রয়াস লক্ষ করা যায়। মুক্তিযুদ্ধের সময়েও এই প্রয়াস অক্ষুন্ন থাকে। ষাটের দশকে বিভিন্ন কাব্যে, উপন্যাসে, ছোট গল্পে, চারুকলায় এবং নাটকে এর প্রতিফলন দেখতে পাই। চলচ্চিত্রেও পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের আশা-আকাক্সক্ষা ফুটে ওঠে। যার একটি বড় উদাহরণ জহির রায়হানের ‘জীবন থেকে নেয়া’। ‘জয় বাংলা’ নামেও একটি চলচ্চিত্র এ সময়ে খুবই আলোড়ন সৃষ্টি করে। এ সময়ে বাংলাদেশের মঞ্চনাটক খুব নিয়মিত চর্চার মধ্যে ছিল না। তবু কিছু উন্মুক্ত স্থানে নাটক অভিনীত হয়, যে নাটকগুলো বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রসঙ্গটি সামনে নিয়ে আসে। কিছু গান রচিত হয় যেগুলোকে দেশাত্মবোধক গান হিসেবে চিহ্নিত করা হয় বটে, তবে সেগুলো গণসংগীতের ভূমিকা পালন করে। এ সময়ে ক্রান্তি সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী ‘একটি জ্বলছে আগুন ক্ষেতে খামারে’ নামে নৃত্যনাট্য প্রযোজনা করে। নৃত্যনাট্যটি দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রদর্শিত হয়।

১৯৭১ সালে মার্চ মাস জুড়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে নানা ধরনের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ কবিতা রচনা, গানের অনুষ্ঠান, ছোট ছোট নাটিকার অভিনয় এবং গ্রামাঞ্চলে যাত্রাপালায় দেশপ্রেমের বাণী উচ্চারিত হয়। ২৫ মার্চের কালরাতের পর পাকিস্তানিদের চরম নিষ্ঠুরতার মধ্যে কোনো কোনো শিল্পী প্রাণ পর্যন্ত বিসর্জন দেন। যারা প্রাণ নিয়ে বেঁচে যেতে পারেন, তাদের একটি অংশ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন আর অন্যরা গোপন স্থানে থেকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করে যান। চট্টগ্রামের বেতার কেন্দ্রের শিল্পী ও কুশলীরা কালুরঘাটে একটি বেতার কেন্দ্র স্থাপন করেন। সেখান থেকে মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা এবং নানা ধরনের নির্দেশনা, সংবাদ প্রচার সাময়িককালের জন্য প্রচার হলেও পরে তারা সীমান্ত দিয়ে অন্য একটি অবস্থানে চলে যান। খুব দ্রুতই তারা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র স্থাপন করে ফেলেন। এই স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে দেশের সাংবাদিক, সাহিত্যিক, নাট্যশিল্পী, গীতিকার, সুরকার, যন্ত্রশিল্পী এবং অন্য শিল্পীরা অংশগ্রহণ করেন। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সংবাদ পরিবেশনা, সম্পাদকীয় মন্তব্য বিভিন্ন সেক্টরের যুদ্ধের খবর, তাৎক্ষণিকভাবে রচিত নাটক, সংগীত, বঙ্গবন্ধুর ভাষণ, নেতাদের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া, যুদ্ধরত মুক্তিযোদ্ধাদের এবং দেশবাসীকে নানাভাবে অনুপ্রাণিত করতে থাকে। দেশের অভ্যন্তরে আতঙ্কিত জনগণের কাছে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র একটা স্বস্তির জায়গায় পরিণত হয়। মুক্তিযুদ্ধের তাৎক্ষণিক সংবাদ মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল বাড়াতে প্রবলভাবে সাহায্য করে। এ সময়ে কোনো কোনো মুক্ত এলাকায় গানের অনুষ্ঠান এবং যাত্রাপালার অভিনয়ও তাৎপর্যপূর্ণভাবে স্বাধীনতার চেতনাকে উদ্বুদ্ধ করে।

আরো দেখুন