সহকারী শিক্ষক
১৯ মে, ২০২৪ ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ দ্বিতীয়
বিষয়ঃ পরিবেশ পরিচিতি, সমাজ ও বিজ্ঞান
অধ্যায়ঃ চতুর্থ অধ্যায়
যুদ্ধে পরাজিত পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বেশিরভাগ কর্মকর্তারা নিজেকে নির্দোষ প্রমাণিত করার জন্য প্রায় প্রত্যেকেই বই লিখেছেন। আর সেখানে সবাই নিজেকে ধোঁয়া তুলসীপাতা প্রমাণিত করার জন্য তার অন্যান্য পাকিস্তানি সহকর্মীদের ভুলত্রুটি তুলে ধরেছেন। কিন্তু মজার ব্যাপার একজন অন্যজনের দোষত্রুটি বলতে গিয়ে আসলে তারা নিজেরাই প্রত্যেকের দোষত্রুটি উন্মোচন করে ফেলেছেন।
আজকে যে বইটির কথা বলবো সেটার লেখক রাও ফরমান আলী যিনি ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে অপারেশন সার্চলাইট ও ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবীদের হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে তার বইয়ে অন্যান্য পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদদের কুকিচ্ছার বর্ণনা থাকলেও তার নিজের কুকিচ্ছার কোন বর্ণনা নেই।
বইয়ের শুরুতে মুনতাসীর মামুন স্যার অত্যন্ত শক্তিশালী একটা ভূমিকা লিখেছেন। তিনি বলেছেন যে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে অপমানজনক পরাজয় বরণ করার জন্যে পাকিস্তানী জনগণের কাঠগড়ায় তখনকার জেনারেলদের অপরাধী সাব্যস্ত করা হয়েছে। সেই অপরাধ ও অপরাধবোধ থেকে মুক্তি পেতে অনেক জেনারেলই আত্মজীবনীতে একাত্তরের যুদ্ধে নিজেদের দোষ ও ভুল-ত্রুটিগুলো ঢাকতে এবং সাফাই গাইতে চেষ্টা করেছেন। রাও ফরমান আলীও তার ব্যতিক্রম নন। এসব লেখায় তাই মুক্তিযুদ্ধের সময়কার অনেক ঘটনাই এসেছে এবং জেনারেলরা নিজেদের সুবিধামতো ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন এবং যে সব কারণে পাকিস্তান হেরেছিল, সেসব অনেক ভুল ও দোষ পরস্পরের ঘাড়ে চাপিয়েছেন।
বইটিকে কোন দলিলপত্র হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। বইটি তিনি লিখেছেন মূলত নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার উদ্দেশ্যে। তবুও এই বই পড়ার উদ্দেশ্য হবে রাও ফরমান আলী যা বলেছেন সেটার যুক্তি খণ্ডন করা এবং তার বক্তব্যকে ভুল প্রমাণ করা