সহকারী শিক্ষক
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০৬:৫৫ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ প্রথম
অধ্যায়ঃ অধ্যায় ৫০
সাধারণের মানসপটে যেভাবে মূর্ত হলেন জাতির বীরশ্রেষ্ঠরা
যুদ্ধ শেষ হওয়ার ৯ বছর পর ১৯৮০ সালের ১৬ ডিসেম্বর সাপ্তাহিক বিচিত্রা প্রথমবারের মতো প্রকাশ করে বীরশ্রেষ্ঠদের মুখচ্ছবি। কোলাজ আকারে তেলরঙে আঁকা শেখ আফজালের কালজয়ী ওই পোস্টারটিই পরবর্তীতে হয়ে ওঠে বাঙালির চিরকালের এই নায়কদের চিনে নেওয়ার একমাত্র মাধ্যম।
একটি সাধারণ ক্যানভাস পেপারের ওপর আঁকা জাতির চিরকালের নায়কদের প্রথম পোর্ট্রেট। শিল্পী: শেখ আফজাল
১৯৮০ সালের শুরুর দিকের কথা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের ১৬ নম্বর কক্ষে নিবিষ্ট মনে কয়েকজন অদেখা শহীদ মুক্তিযোদ্ধার পোর্ট্রেট আঁকার কাজ করছেন ঢাকা আর্ট কলেজের চূড়ান্ত বর্ষের শিক্ষার্থী শেখ আফজাল।
সেদিন যাদের পোর্ট্রেট আফজাল আঁকছিলেন তারা কেমন দেখতে ছিলেন, কেমন ছিল তাদের অবয়ব—সে সম্পর্কে কোনো ধারণাই ছিল না ২১/২২ বছরের ওই তরুণের।
এক্ষেত্রে ওই তরুণ শিল্পীর একমাত্র সহায় ছিল শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের জীর্ণ-মলিন কিছু ফটোগ্রাফ। সেসব আবছা ফটোগ্রাফ থেকে ধারণা নিয়ে খুব সাবধানে, পরম মমতায় একটি সাধারণ ক্যানভাস পেপারে একে একে সবার চেহারা ফুটিয়ে তুললেন তিনি।
কাজটি সহজ ছিল না মোটেও। রঙ-তুলিতে সেদিন যাদের অবয়ব দিয়েছিলেন আফজাল, তারাও সাধারণ কেউ ছিলেন না।
যুদ্ধক্ষেত্রে অসামান্য শৌর্য আর বীরত্বের নিদর্শন রেখে নিশ্চিত জেনেও স্থির প্রত্যয়ে মৃত্যুকে বরণ করে নিয়েছিলেন আফজালের ছবির ওই চরিত্ররা। তারা ছিলেন একাত্তরের জনযুদ্ধে আত্মত্যাগের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি হিসেবে মরণোত্তর বীরশ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভূষিত সাত জন।
১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করে সরকার। এরপর থেকে দীর্ঘদিন পর্যন্ত সাত বীরশ্রেষ্ঠ'র মুখচ্ছবি সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত ছিল না।