সহকারী শিক্ষক
০৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ দশম
বিষয়ঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা
অধ্যায়ঃ পষ্ণম
শিখন-শেখানো কৌশলে ভূমিকাভিনয় (নাটিকা) এর গুরুত্ব
শিখন-শেখানো কার্যক্রমকে আনন্দদায়ক ও শিখনকে দীর্ঘস্থায়ী করতে ভূমিকাভিনয় কৌশল অত্যন্ত কাযকর। এ কৌশলটি শ্রেণীকক্ষ ম্যানেজমেন্ট এরও একটি কৌশল হতে পারে। কারণ এর মাধ্যমে সহজেই শিক্ষার্থীদের মনোযোগ আকর্ষণ করা ও ধরে রাখা সম্ভব। এর জন্য শিক্ষক কে অবশ্যই সর্তক ও সচেতন আকর্ষণীয় ভাবে পাঠসংশ্লিষ্ট বিষয়বস্তু নির্ধারণ ও শিরোনাম দেওয়া ও নাটিকা উপস্থাপনের জন্য অভিনেতা/ অভিনেত্রী নির্বাচন ও দক্ষতার সহিত পরিচলনায় পারদর্শি হতে হবে।
আমাদের শিক্ষার্থীরা নাটক দেখতে, নাটক করতে বা অভিনয় করতে পছন্দ করে, লক্ষ করে ছোটবেলা থেকে তারা নিজেদের মধ্যে কেউ বাবা সেজে, কেউ বা আবার মা, ভাই, বোন,ডাক্তর, শিক্ষক ইত্যাদি ভ‚মিকায় অভিনয় করে আনন্দ পাওয়ার চেষ্টা করে। অর্থাৎ বিভিন্ন ভ‚মিকায় অভিনয় করা তাদের জন্য আনন্দের।
সুতরাং পাঠসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়কে ছোট নাটক রুপে এবং তা শিক্ষার্থীদের বিষয়সংশ্লিষ্ট ভ‚মিকায় অভিনয় করানোর মাধ্যমে শ্রেনীকক্ষে উপস্থাপন করা যায়, তবে শিক্ষাথীরা ঐ বিষয় মনোযোগ ও আনন্দের সহিত জানা ও বুঝার চেষ্টা করবে, তাদের মনে একটি ঔ বিষয়ের একটি প্রত্যক্ষ ও স্পট ধারণা তৈরি হবে।
নাটিকা উপস্থাপনে বা ভূমিকাভিনয়ে যে বিষয় গুলো লক্ষ্য রাখা যেতে পারে:-
১. নাটিকা হতে হবে অতি সংক্ষিপ্ত (শিরোনাম দেওয়া যেতে পারে)।
২. নাটক বা ভূমিকাভিনয়ের দৃশ্যপট হয় পাঠ্য বিষয়বস্তু সংশ্লিষ্ট।
৩. শিক্ষার্থীদের ভূমিকাভিনয়ে বিভিন্ন চরিত্রের ভূমিকায় অবতীর্ণ করতে হয়;
৪. নাটক শেষে সকল শিক্ষাথীর জন্য কুইজ প্রশ্ন রাখা এবং তা আগেই ঘোষণা করা এতে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ বাড়বে।
৫. শিক্ষার্থীরা যেন বাস্তব অবস্থায় শিক্ষা লাভ করতে পারে সে দিকে দৃষ্টি রাখা হয়;
৬. এ কৌশলের মাধ্যমে সম্ভাষণ, শারীরিক ভাষা ও বাচনভঙ্গির উন্নতি ঘটে।
নাটিকা বা ভূমিকাভিনয়ের সফল ও কার্যকর উপস্থাপনায় শিক্ষকের ভ‚মিকা:-
১. পাঠসংশ্লিষ্ট বিষয় নির্ধারণ; চরিত্র সুস্পষ্ট করতে দৃশ্যপট বা কাহিনী চিত্র প্রণয়ন;
২. শ্রেনীকক্ষে দলীয় আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনেতা নির্বাচন;
৩. কথোপকথনের ভাষা, মৌখিক অভিব্যক্তি ও শারীরিক ভাষার দিকগুলোর প্রতি নির্দেশনা প্রদান;
৪. অভিনয় পরিচালনা;
৫. ফিডব্যাক প্রদান ও কুইজ পর্ব পরিচলনা করা (শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে);
৬. মূল শিক্ষণীয় বিষয় শিক্ষার্থীর নিকট থেকে আদায়।
নাটিকা বা ভূমিকাভিনয়ে শিক্ষার্থীর প্রকাশিত গুণাবলি
১. শিক্ষণীয় বিষয় সুস্পষ্ট হয়;
২. পাঠটি আনন্দদায়ক হয়ে ওঠে;
৩. শিখন অপেক্ষাকৃত ¯ ায়ী হয়;
৪. দলগত অভিনয়ের মাধ্যমে সামাজিক ও সহযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে ওঠে;
৫. শিক্ষার্থীর ভাষাজ্ঞান বৃদ্ধি পায়;
৬. শিক্ষার্থীর কল্পনাশক্তি, সৃজনশীলতার বিকাশ হয়;
৭. অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের কোন ঘটনাকে বাস্তবের মত রূপ দেওয়া সম্ভব হয়; ক্স শিক্ষার্থীর জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার পুনর্গঠন হয়;
৮. আন্তঃব্যক্তিক সর্ম্পক নির্ণয়ে সক্ষম হয়।
ভূমিকাভিনয় কৌশলের সুবিধা
১. গতানুগতিক পাঠদান অপেক্ষা এ কৌশল আনন্দদায়ক ও ভিন্নতর;
২. একঘেয়ে ভাব দূর হয় সকলের অংশগ্রহণ সহজতর হয়;
৩. পাঠদান ও পাঠগ্রহণে বৈচিত্র্য আসে;
৪. শিক্ষার্থীরা আনন্দের সাথে পাঠ গ্রহণ করতে সমর্থ হয়।
৫. শিখন দীর্ঘস্থায়ী হয়।
৬. প্রত্যক্ষ শিখন কিছুটা সম্ভপর হয়।