Loading..

নেতৃত্বের গল্প

রিসেট

১৮ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০৮:৩৮ অপরাহ্ণ

নেতৃত্বের গল্প(শিক্ষার্থীদের ইংরেজি শেখানোর কৌশল)

নেতৃত্বের গল্প(শিক্ষার্থীদের ইংরেজি শেখানোর কৌশল)

নেত্রকোণা জেলাধীন কেন্দুয়া উপজেলায় সান্দিকোনা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়(স্কুল এন্ড কলেজ) এ স্কুল শাখায় সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসাবে যোগদান করার পর রুটিনে সাধারণ শিক্ষকের মতো ক্লাস নিলাম। তারমধ্যে প্রতিদিন দুইটা ইংরেজি ও একটি আইসিটি বিষয়ের ক্লাস। কারণ আমার বিশ্বাস ছিলো শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছাতে হলে ক্লাস নিতে হবে, নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে যেতে হবে।



পাঠদানে অন্যদের চাইতে কিছুটা বৈচিত্র আনলাম। ক্লাসগুলোকে শিক্ষার্থী কেন্দ্রেক করলাম। কয়েকটি শ্রেণিকক্ষকে কে ইউ শেপ আকারে সাজালাম। ছোট ছোট ইংরেজি বাক্য ব্যবহার করতাম। ওদের কিছু জিজ্ঞেস করলে সেটা ছোট ছোট ইংরেজিতে বলতে সুযোগ করে দিতাম। কিছুদিন পর দেখা গেল কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। শিক্ষার্থীর মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। কয়েকজন ভাল শিক্ষার্থী যারা একটু অগ্রগামী তাদের সনাক্ত করে অন্যদের সাহায্য করার জন্য উৎসাহিত করলাম।



তারপর আরো কিছু ভিন্ন কৌশল হিসাবে ক্লাসে ইংরেজির ব্যবহার বাড়ালাম। দৈনন্দিক কাজ ইংরেজিতে বর্ণনা করার অভ্যাস তৈরি করতে শুরু করলাম। এরই মধ্যে একটি অভিভাবক সমাবেশ সামনে এলো। সকলকে জানিয়ে দিলাম এবারে শিক্ষার্থীর পুরো অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করবে। কয়েকজন শিক্ষার্থী সাহস করে নাম দিলো। ইংরেজিতে উপস্থাপনা পারবে এমন একজন শিক্ষার্থী পেলাম। সুরভী আক্তার, সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তাকে গাইডলাইন দিলাম। বেশ ভাল মনে হলো।



রাতে সুরভীর মা উৎকন্ঠায় আমাকে ফোন করে, সন্দেহ প্রকাশ করে পারবে না বলে জানায়। আমি শুধু জানাতে চাই পারবে না কথাটা কার? মা য়ের নাকি সুরভীর। মা য়ের শঙ্কা বলে আমাকে জানায়। তখন সাহস দিয়ে বলি পারবে।



উল্লেখ্য, অভিভাবক মতবিনিয় সভাটি আশা এনজিও কর্তৃক আয়োজিত এবং আশার একটি শিক্ষা প্রোগ্রাম আমি আমার স্কুলে চালু করি যোগদান করার পরেই। আমাকে বিশ্বাস করে এবং আমার উপর আস্থা রেখেই আমার প্রতিবেশী রোয়াইলবাড়ী শাখা এই শিক্ষা প্রোগ্রামটি দেয়। যার ফলে আমি এ ব্যপারে সবসময় সিরিয়াস ছিলাম এবং আছি।

যাই হোক আমার শিক্ষার্থীরা পেরেছে, পারছে। এক্ষেত্রে আমি লক্ষ্য করলাম ক্লাসের বাইরে কিছু পদক্ষেপ নিলে অথবা শ্রেণি কক্ষে পাঠদানের বাইরে ভিন্নভাবে কোনকিছু শেখাতে চাইলে সেটা বেশি কার্যকর হয়। যখন ঘোষণা করা হলো সম্মানিত অভিভাবকবৃন্দ এবং আশার অফিসারবৃন্দ এটা দেখবেন তখন থেকেই শিক্ষার্থীরা মান রাখতে হবে মর্মে বেশি সিরিয়াস ছিলো, তাদের উদ্দ্যোমটা বেশি ছিল, প্রচেষ্টা প্রবল ছিল। পারতেই হবে এমন একটা মনোভাব ছিল সবার মধ্যে।



অর্থাৎ আমি চেয়েছিলাম বই এর পাতা মুখস্ত না করিয়ে কিছু অভ্যাস, আদেশ, অনুরোধ, বর্ণনা ছোট ছোট বাক্য আকারে শেখাতে। কথা বলার যোগ্যতা বাড়াতে। যে কোন মানুষের সামনে যাতেকরে সাহন নিয়ে কথা বলার অভ্যাস তৈরি হয়। প্রতিদিনের কাজে সাথে মিলে যায় এমন কাজকে বর্ণনা করতে পারে। এই টেকনিকটা কাজে লেগেছে।

কয়েক মাসের প্রচেষ্টায় শব্দ থেকে বাক্য, বাক্য থেকে বক্তব্য আকারে কথা বলা শেখানো খুব কঠিন। তবে কঠিন কাজটি সফল হলে বিষয়টা অনেক আনন্দের। যে আনন্দ আমি ও আমার শিক্ষার্থীরা পেয়েছি। আমি শিখিয়ে আনন্দ পেয়েছি এবং শিক্ষার্থীরা শিখে আনন্দ পেয়েছে। আমার অভিভাবকবৃন্দ তাদের সন্তানের অগ্রগতি দেখে আনন্দিত হয়েছে।

শিক্ষার্থীর আশা শিক্ষা কর্মসূচী নিয়ে বক্তব্যটি দেখার অনুরোধ রইল(ভিডিওতে)।



আমি সফস্বলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাজ করি বিধায় সকল কাজেই আমার জন্য একটু বেশি চ্যালেঞ্জিং। তবে হাল ধরে আছি। সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসাবে নেতৃত্বটা যেমন পছন্দ করি তেমন শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কৌশলে কিছু শেখানো এবং শ্রেণিকক্ষের কাজকেও উপভোগ করি।

আমাদের মতো সাধারণ শিক্ষক যারা প্রশাসন ও শ্রেণিকক্ষ দুই জায়গায় কাজ করি তাদের সফলতা, চ্যালেঞ্জ বা আবেগ অনুভূতি গল্পের মাধ্যমে সারা দেশের শিক্ষকের সামনে তুলে ধরার সুযোগ করে দেয়ায় আমি এটুআই ও শিক্ষক বাতায়নকে ধন্যবাদ আর কৃতজ্ঞতা জানাই।



www.sumbk.edu.bd  এখানে আমার ও শিক্ষার্থীর সকল এক্টিভিজিট দেখা যাবে। কোন প্রয়োজন হলে নিচে দেয়া নাম্বারে আমাকে পাওয়া যাবে।



মো. আনোয়ার উদ্দীন হিরন

সহকারী প্রধান শিক্ষক

সান্দিকোনা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়(স্কুল এন্ড কলেজ)

কেন্দুয়া, নেত্রকোণা।

01711129709

 

মন্তব্য করুন