সাঁতার কাকে বলে?
সাঁতার হলো পানিতে দেহকে ভাসিয়ে রেখে হাত ও পায়ের সুনির্দিষ্ট গতির মাধ্যমে সামনের দিকে অগ্রসর হওয়ার একটি দক্ষতা বা কৌশল। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জীবনদক্ষতা এবং একই সাথে বিনোদন, ব্যায়াম ও প্রতিযোগিতামূলক খেলার মাধ্যম।
সাঁতারের প্রকারভেদ
সাঁতার সাধারণত চারটি প্রধান ধরনের হয়ে থাকে, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও প্রতিযোগিতায় ব্যবহৃত হয়।
১. ফ্রিস্টাইল (Freestyle) বা ক্রল স্ট্রোক
- এটি সবচেয়ে দ্রুতগতির সাঁতারের ধরন।
- সাঁতারুর শরীর জলসমান্তরাল অবস্থায় থাকে এবং হাত দুটি পর্যায়ক্রমে সামনে বাড়িয়ে পানিতে ঢুকিয়ে টান দেয়।
- পা দ্রুতগতিতে উপরে-নিচে দোলানো হয়।
- শ্বাস নেওয়ার জন্য মাথা পাশের দিকে ঘুরিয়ে নেয়।
২. ব্যাকস্ট্রোক (Backstroke)
- এটি একমাত্র সাঁতারের ধরন যেখানে সাঁতারু পিঠের দিকে ভাসমান থেকে সাঁতার কাটে।
- হাত পর্যায়ক্রমে মাথার ওপর দিয়ে নিয়ে যায় এবং পা দিয়ে ঠেলতে থাকে।
- ফ্রিস্টাইলের মতোই দ্রুত কিন্তু মুখ সবসময় পানির বাইরে থাকে, যা শ্বাস নেওয়ার সুবিধা দেয়।
৩. ব্রেস্টস্ট্রোক (Breaststroke)
- এটি তুলনামূলক ধীরগতির একটি সাঁতারের ধরন।
- সাঁতারু ব্যাঙের মতো হাত ও পা একসঙ্গে প্রসারিত করে টান দেয় এবং মাথা সময়ে সময়ে পানির ওপরে তুলে শ্বাস নেয়।
- সাধারণত নবীনদের জন্য সহজতম স্ট্রোক।
৪. বাটারফ্লাই (Butterfly Stroke)
- এটি সবচেয়ে জটিল এবং শারীরিকভাবে কষ্টসাধ্য সাঁতারের ধরন।
- উভয় হাত একসঙ্গে সামনের দিকে বাড়িয়ে পানিতে প্রবেশ করিয়ে শরীর টেনে আনা হয়।
- পা ডলফিনের লেজের মতো একসঙ্গে উপরে-নিচে নাড়ানো হয়।
- উচ্চ পর্যায়ের শক্তি ও নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।
অন্যান্য সাঁতারের ধরন
উপরের চারটি প্রধান ধরন ছাড়াও আরও কিছু অপ্রচলিত সাঁতারের ধরন রয়েছে, যেমন—
- সাইড স্ট্রোক (Side Stroke): সাধারণত লাইফগার্ডদের দ্বারা ব্যবহৃত হয়, যেখানে একজন হাত ও পা ব্যবহার করে পানিতে অন্য কাউকে উদ্ধার করতে পারে।
- ডগি প্যাডল (Doggy Paddle): এটি বাচ্চাদের জন্য সহজ এবং পানিতে টিকে থাকার জন্য একটি সাধারণ পদ্ধতি।