সিনিয়র শিক্ষক
০৪ নভেম্বর, ২০২৫ ১১:০০ অপরাহ্ণ
সিনিয়র শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ ষষ্ঠ
বিষয়ঃ শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য
অধ্যায়ঃ অধ্যায়-২
স্কাউটিং ও গার্ল গাইডিং একটি অরাজনৈতিক সেবামূলক সংগঠন, যার পরিচিতি বিশ্বব্যাপী। বালকদের স্কাউট এবং বালিকাদের গাইড বলা হয়। স্কাউটিং ও গাইড আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হলেন রবার্ট স্টিফেনসন স্মিথ লর্ড ব্যাডেন পাওয়েল। তিনি জাতিতে ইংরেজ ও পেশায় সৈনিক ছিলেন। ১৮৫৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তিনি ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন।
বালক-বালিকাদের নৈতিক চরিত্র গঠনে স্কাউটিং ও গাইড পদ্ধতির কার্যকর ভূমিকা বিশ্বব্যাপী মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছে। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। গাইড আন্দোলনের প্রসারের জন্য ব্যাডেন পাওয়েল তার বোন এগনেস ব্যাডেন পাওয়েল এবং স্ত্রী অলিভ ব্যাডেন পাওয়েল-কে দায়িত্ব প্রদান করেন। তাঁদের দক্ষ পরিচালনায় গাইড আন্দোলন সর্বত্র সফলভাবে বিস্তৃত হয়।
বাংলাদেশে স্কাউটিং ও গার্ল গাইড কর্মসূচি চালু হয় স্বাধীনতা লাভের পর, ১৯৭২ সালে। এসব কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের ফলে দেশের বালক-বালিকাদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধের উন্মেষ ও উন্নয়ন ঘটেছে এবং তারা সমাজ-সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠছে।
স্কাউট ও গার্ল গাইডগণ নিয়মিত জনসেবামূলক কার্যক্রমে
অংশগ্রহণ করে থাকে।
তাদের মূলনীতি হলো-
“প্রতিদিন কারো না কারো উপকার করা।”
এই মূলনীতির আলোকে তারা বিভিন্ন
সেবামূলক কাজ করে, যেমন-
১। রাস্তা থেকে ইট, পাথর, কাঁটা বা কলার খোসা তুলে ফেলা।
২। কারো জিনিস পড়ে গেলে তা তুলে দেওয়া।
৩। অন্ধ বা শিশুকে রাস্তা পার হতে সাহায্য করা।
৪। রাস্তার ছোট গর্ত ভরাট করে লোক চলাচলে সহায়তা করা।
৫। আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া।
৬। বন্যা বা দুর্যোগে ত্রাণকাজে সহায়তা করা।
স্কাউটিং ও গার্ল গাইডিং তাই শুধু সংগঠন নয়, এটি একটি মানবিক ও নৈতিক শিক্ষার আন্দোলন, যা তরুণ প্রজন্মকে সমাজসেবায় উদ্বুদ্ধ করে এবং তাদের জীবনকে গড়ে তোলে দায়িত্বশীল ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে।