Loading..

নেতৃত্বের গল্প

রিসেট

১০ নভেম্বর, ২০২৫ ০৭:০০ অপরাহ্ণ

"সূর্যদ্বয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আমার স্কুল।

প্রতিদিন সকালে, সূর্যের আলো যখন ধীরে ধীরে বিদ্যালয়ের আঙিনায় এসে পড়ে…

তখনই আমার দিনটা শুরু হয়।

আমাদের বিদ্যালয়ে দপ্তরী নেই।

তাই প্রতিদিনের অনেক কাজ — তালা খোলা থেকে শুরু করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা — সবই আমাকে নিজ হাতে করতে হয়।

আমি প্রথমেই খুলে দিই স্কুলের তালা,

তারপর জাতীয় পতাকা উত্তোলন করি—

লাল সবুজের সেই পতাকা বাতাসে যখন উড়ে, মনে হয়, এ যেন নতুন এক প্রেরণা।

তারপর ঝাড়ু হাতে নিয়ে ঘুরে বেড়াই শ্রেণিকক্ষে,

একেকটি বেঞ্চ, একেকটি জানালা, মেঝে…

সব যেন আমার আপনজন।

কারণ এই জায়গাটাই তো আমার দ্বিতীয় ঘর।

বাড়ি বিদ্যালয়ের খুব কাছেই,

তাই মনে হয় এই দায়িত্ব শুধু পেশাগত নয় — ব্যক্তিগতও।

আমি শিক্ষক, কিন্তু আমি একই সঙ্গে একজন কর্মীও।

যে নিজের হাতে কাজ করে,

নিজের ঘরটাকে সুন্দর রাখে,

যেমন করে রাখে নিজের মনটাকে।

কখনও সহকর্মীরা মজা করে বলেন,

“আপনি তো শিক্ষক নন, সব কাজের কাজী!”

আমি হেসে বলি—

“হ্যাঁ, কারণ এই কাজগুলোও শিক্ষা দেয় —

নম্রতা, শৃঙ্খলা, আর দায়িত্ববোধের শিক্ষা।”

আমি নিয়মিত পাঠদান চালিয়ে যাই,

ছাত্রছাত্রীদের চোখে দেখি আগ্রহ, স্বপ্ন, সম্ভাবনা।

তাদের শেখাই শুধু বইয়ের জ্ঞান নয় —

জীবনের পাঠও।

কখনও কাজের চাপ বেড়ে যায়,

কখনও ক্লান্তি আসে,

তবুও মনে একটিই বিশ্বাস—

আমি যা করছি, তা দেশের ভবিষ্যতের জন্য।

আমি জানি,

এই কাজ শুধু একটি চাকরি নয়,

এ এক মহান দায়িত্ব।

আমি বিশ্বাস করি,

নেতৃত্ব মানে শুধু নির্দেশ দেওয়া নয়—

নিজের হাতে কাজ করে উদাহরণ সৃষ্টি করা।

আমি চাই, আমার ছাত্রছাত্রীরা দেখুক—

শ্রম লজ্জার নয়, দায়িত্ব গৌরবের।

তারা যেন শিখে—

নেতৃত্ব মানে নিজে এগিয়ে আসা,

নিজের হাত দিয়ে পরিবর্তন শুরু করা।

প্রতিদিন যখন সূর্য ডুবে যায়,

বিদ্যালয়ের দরজা বন্ধ করি শান্ত মনে।

ভাবি, আজও হয়তো সামান্য একটু ভালো করেছি।

আর সেই সামান্যটুকুই হয়তো একদিন গড়ে তুলবে—

একটি সুন্দর বিদ্যালয়,

একটি সুন্দর সমাজ,

একটি সুন্দর বাংলাদেশ।

ফৌজিয়া ইয়াসমিন 

সহকারী শিক্ষক 

মন্তব্য করুন