সিনিয়র শিক্ষক
০১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ
সিনিয়র শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ দশম
বিষয়ঃ বিজ্ঞান
অধ্যায়ঃ প্রথম
শিরোনামঃ উন্নত জীবনধারা
এইডস (AIDS) রোগের জন্য দায়ী ভাইরাসটির নাম হলো এইচআইভি (HIV), যার পূর্ণরূপ হলো Human Immunodeficiency Virus বা মানব প্রতিরক্ষা অভাবসৃষ্টিকারী ভাইরাস।
রক্তে এইচআইভি ভাইরাস নিম্নলিখিত কাজগুলো করে:
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করা: এইচআইভি ভাইরাস মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার প্রধান কোষ, বিশেষ করে শ্বেত রক্তকণিকা (যেমন: T-সহায়ক কোষ বা CD4+ T কোষ) গুলোকে আক্রমণ করে এবং ধীরে ধীরে সেগুলোর সংখ্যা কমিয়ে দেয়।
এইডস-এর সৃষ্টি: দীর্ঘ সময় ধরে এই কোষগুলো ধ্বংস হতে থাকলে, শরীরের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যায়। এই অবস্থাকেই এইডস (Acquired Immunodeficiency Syndrome) বলা হয়। এইডস কোনো একক রোগ নয়, বরং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার অভাবজনিত কারণে ক্যান্সারসহ নানা সুযোগসন্ধানী (Opportunistic) রোগের সমষ্টি।
ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি: ভাইরাসটি রক্তে প্রবেশ করার পর শ্বেত রক্তকণিকায় প্রবেশ করে এবং নিজের ডিএনএকে মানুষের ডিএনএ-এর সাথে মিশিয়ে বংশবৃদ্ধি করতে থাকে। এটি রেট্রোভাইরাস গোত্রের অন্তর্গত।
এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত গ্রহণ করলে (রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে)।
এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত ইনজেকশনের সিরিঞ্জ বা সূঁচ ব্যবহার করলে।
এইচআইভি আক্রান্ত কারো সাথে অরক্ষিত যৌন সম্পর্ক স্থাপন করলে।
এইচআইভি আক্রান্ত গর্ভবতী মায়ের কাছ থেকে গর্ভধারণের শেষ দিকে, প্রসবের সময় বা স্তন্যদানের মাধ্যমে শিশুর মধ্যে।
সংক্রমণের ২ থেকে ৪ সপ্তাহ পর কিছু লোকের মধ্যে ফ্লু-এর মতো কিছু অনির্দিষ্ট বা সাধারণ লক্ষণ দেখা যেতে পারে, যেমন:
জ্বর
ক্লান্তি
গলা ব্যথা
লিম্ফ নোড (গ্রন্থি) ফুলে যাওয়া
ত্বকে ফুসকুড়ি (Rash)
রাতে ঘাম হওয়া
তবে, মনে রাখা জরুরি, প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের কোনো লক্ষণই থাকে না। তাই ঝুঁকি থাকলে অবশ্যই পরীক্ষা করানো উচিত। সঠিক চিকিৎসা ও যত্নের মাধ্যমে এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিরাও দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন।