আলোর আলোররশ্মি (Light Ray) হলো আলোর তরঙ্গমুখের সাথে লম্বভাবে অঙ্কিত একটি সরলরেখা বা বক্ররেখা, যা আলোর পথ নির্দেশ করে; সমসত্ব মাধ্যমে এটি সরলরেখা বরাবর চলে এবং ভিন্ন মাধ্যমে প্রতিসরণের সময় বেঁকে যায়, যা প্রতিফলন ও প্রতিসরণের মতো ঘটনা ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করে। রশ্মিগুলো সাধারণত তিন প্রকার: আপতিত (যেটি এসে পড়ে), প্রতিফলিত (যেটি প্রতিফলিত হয়), এবং প্রতিসৃত (যা প্রতিসরণের পর বেঁকে যায়)।
আলোর রশ্মির মূল ধারণা:
সংজ্ঞা:
একটি রশ্মি হলো আলোর তরঙ্গের গতির দিক নির্দেশক রেখা, যা তরঙ্গমুখের উপর লম্বভাবে থাকে।
সরলরেখায় গতি:
একই ঘনত্বের মাধ্যম (যেমন বাতাস বা জল) ভেদ করার সময় আলোকরশ্মি সবসময় সোজা বা ঋজু পথে চলে।
দিক পরিবর্তন:
আলোকরশ্মি যখন এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে (যেমন বাতাস থেকে কাঁচ) প্রবেশ করে তখন ঘনত্বের পার্থক্যের কারণে এর গতি ও দিক পরিবর্তন হয়, যাকে প্রতিসরণ বলে।
আলোর রশ্মির প্রকারভেদ (প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে):
সমান্তরাল রশ্মি (Parallel Rays):
রশ্মিগুলো একে অপরের সমান্তরালে চলে।
অভিসারী রশ্মি (Converging Rays):
রশ্মিগুলো একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে এসে মিলিত হয়।
অপসারি বা ভিন্নমুখী রশ্মি (Diverging Rays):
রশ্মিগুলো একটি বিন্দু থেকে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
আলোর প্রতিফলন ও প্রতিসরণের ক্ষেত্রে:
আপতিত রশ্মি (Incident Ray):
যে রশ্মি কোনো তলে আপতিত হয়।
প্রতিফলিত রশ্মি (Reflected Ray):
প্রতিফলনের পর যে রশ্মি ফিরে আসে।
প্রতিসৃত রশ্মি (Refracted Ray):
প্রতিসরণের পর যে রশ্মি বেঁকে যায়।
অভিলম্ব (Normal):
আপতন বিন্দুতে প্রতিফলক বা বিভেদ তলের উপর অঙ্কিত লম্ব রেখা।
আলোর এই রশ্মিগুলো ব্যবহার করে দর্পণ বা লেন্সের সাহায্যে কীভাবে প্রতিবিম্ব গঠিত হয়, তা ব্যাখ্যা করা হয়।