পাঠ্য বইয়ের চিত্রঃ পৃষ্ঠ নং- ১০ #
চালকবিহীন গাড়ি (Autonomous Vehicle বা Self-driving car) হলো এমন একটি স্বয়ংক্রিয় যান যা মানুষের সাহায্য ছাড়াই সেন্সর, ক্যামেরা ও অ্যাডভান্সড অ্যালগরিদম ব্যবহার করে পরিবেশ উপলব্ধি করে, সিদ্ধান্ত নেয় এবং গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে; এটি মূলত হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের সমন্বয়ে তৈরি একটি জটিল সিস্টেম, যা বর্তমানে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী থেকে বাস্তবে রূপান্তরিত হচ্ছে এবং ওয়েমো (Waymo), টেসলা (Tesla)-এর মতো কোম্পানিগুলো এই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে, যার লক্ষ্য সড়ক দুর্ঘটনা কমানো ও যাতায়াতকে আরও সহজ করা।
চালকবিহীন গাড়ি কীভাবে কাজ করে?
- সেন্সর ও ক্যামেরা: লিডার (LiDAR), রাডার ও ক্যামেরা ব্যবহার করে চারপাশের বস্তু, পথচারী ও অন্যান্য গাড়ি শনাক্ত করে।
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI): সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে গাড়ি কখন থামবে, চলবে বা ঘুরবে সেই সিদ্ধান্ত নেয়।
- নেভিগেশন: GPS ও ম্যাপ ডেটা ব্যবহার করে মূল পথ থেকে গন্তব্য পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেভিগেট করে।
মূল প্রযুক্তি:
- লিডার (LiDAR): লেজার রশ্মি ব্যবহার করে নির্ভুল দূরত্ব ও ত্রিমাত্রিক (3D) ম্যাপ তৈরি করে।
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI): মানুষের মতো সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে।
- অ্যালগরিদম: জটিল পরিস্থিতিতে দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।
সুবিধা:
- দুর্ঘটনা হ্রাস: মানুষের ভুল বা অমনোযোগের কারণে ঘটা দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা।
- সুবিধাজনক: যাত্রীরা চলাচলের সময় আরাম করতে বা অন্য কাজ করতে পারে।
- দক্ষতা: ট্র্যাফিক প্রবাহ উন্নত করতে পারে।
বর্তমান অবস্থা:
- বিশ্বের অনেক দেশ ও কোম্পানি (যেমন ওয়েমো, টেসলা) এই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে।
- কিছু শহরে বাণিজ্যিক রোবোট্যাক্সি পরিষেবা চালু হয়েছে, যেমন ওয়েমোর পরিষেবা।
- টেসলার মতো কোম্পানিগুলো চালকবিহীন গাড়ি তৈরি করছে যা নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দিতে সক্ষম হচ্ছে।