বাংলাদেশের জাতীয় খেলা কাবাডি (Kabaddi)। এটি একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং রোমাঞ্চকর দলগত খেলা যা শক্তি, গতি এবং কৌশল—তিনটিরই এক দারুণ সমন্বয়।
নিচে কাবাডি খেলার সংক্ষিপ্ত নিয়মাবলী ও গুরুত্ব তুলে ধরা হলো:
১. খেলার মূল বৈশিষ্ট্য
কাবাডি মূলত দুটি দলের মধ্যে খেলা হয়। প্রতিটি দলে সাধারণ ৭ জন করে খেলোয়াড় থাকে। খেলার মূল উদ্দেশ্য হলো প্রতিপক্ষের সীমানায় গিয়ে তাদের খেলোয়াড়কে ছুঁয়ে নিজের সীমানায় ফিরে আসা।
২. গুরুত্বপূর্ণ কিছু নিয়ম
- রেইডার (Raider): যে খেলোয়াড় প্রতিপক্ষের সীমানায় আক্রমণ করতে যায় তাকে রেইডার বলা হয়।
- দম ধরে রাখা (Cant): রেইডারকে এক নিঃশ্বাসে বার বার 'কাবাডি-কাবাডি' শব্দ করতে হয়। যদি সে নিঃশ্বাস ফেলে দেয় বা শব্দ করা বন্ধ করে দেয়, তবে সে আউট হয়ে যায়।
- পয়েন্ট অর্জন: রেইডার যদি প্রতিপক্ষের কাউকে ছুঁয়ে নিজের কোর্টে ফিরে আসতে পারে, তবে যতজনকে ছোঁয়া হয়েছে সেই কয়টি পয়েন্ট পাওয়া যায়। আর যদি ডিফেন্ডাররা রেইডারকে জাপ্টে ধরে আটকে দেয়, তবে তারা এক পয়েন্ট পায়।
- লোনা (Lona): যদি একটি দল প্রতিপক্ষের সব খেলোয়াড়কে আউট করে দেয়, তবে তাকে 'লোনা' বলা হয় এবং ওই দল অতিরিক্ত ২ পয়েন্ট বোনাস পায়।
৩. খেলার সময়সীমা
- পুরুষ: ২০ মিনিট করে মোট দুই অর্ধে খেলা হয় (মাঝখানে ৫ মিনিটের বিরতি)।
- নারী: ১৫ মিনিট করে মোট দুই অর্ধে খেলা হয়।
৪. জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
- জাতীয় খেলা: ১৯৭২ সালে কাবাডিকে বাংলাদেশের জাতীয় খেলা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
- বিশ্ব পর্যায়: বাংলাদেশ জাতীয় কাবাডি দল এশিয়ান গেমস এবং কাবাডি বিশ্বকাপে বেশ কয়েকবার পদক জয় করেছে। বর্তমানে ভারত, ইরান এবং বাংলাদেশ কাবাডি বিশ্বে অন্যতম শক্তিশালী দেশ।