রানার
কবিতাটি
কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও জনপ্রিয় একটি
কবিতা। এটি কবির প্রথম
কাব্যগ্রন্থ ‘ছাড়পত্র’-এ (১৯৪৭) সংকলিত
হয়েছে।
কবিতাটি
মূলত তৎকালীন সময়ে ডাকঘরের চিঠি
বা সংবাদ বহনকারী ‘রানার’ বা ডাক-হরকরাদের
কঠোর পরিশ্রম, দায়িত্ববোধ এবং তাদের প্রতি
সমাজের অবহেলার এক করুণ চিত্র
ফুটিয়ে তোলে।
কবিতার
প্রেক্ষাপট ও বিষয়বস্তু
- দায়িত্ববোধ: রানার রাতের অন্ধকারে ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে কাঁধে চিঠির বোঝা নিয়ে দিগন্ত থেকে দিগন্তে ছুটে চলেন। তার হাতে থাকে লণ্ঠন এবং হাতে একটি বল্লম, যার মাথায় ঝুমঝুম্ ঘণ্টা বাজে।
- সংবাদবাহক: রানারের কাঁধে থাকে কত মানুষের সুখ-দুঃখের চিঠি, মানি অর্ডার এবং সংবাদের বোঝা। কিন্তু এই সংবাদ যারা পায়, তারা অনেক সময় এই অবহেলিত মানুষটির কথা ভাবে না。
- জীবন সংগ্রাম: রানারের জীবন খুবই কষ্টের। সামান্য বেতনের বিনিময়ে তিনি সারা রাত জেগে মাইল পর মাইল ছুটে চলেন। অন্ধকার রাতে বুনো পশুর ভয় বা দস্যুর ভয় থাকলেও তিনি তার কর্তব্যে অবিচল থাকেন।
- সামাজিক বার্তা: কবি এই কবিতায় রানারের মাধ্যমে মেহনতি ও শ্রমজীবী মানুষের জয়গান গেয়েছেন। কবি আশা করেছেন, একদিন এই অন্ধকারের অবসান হবে এবং নতুন এক ভোরের সূর্য উঠবে যেখানে রানারদের মতো শ্রমজীবী মানুষরা তাদের যোগ্য সম্মান পাবে।