প্রভাষক
২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:১৫ অপরাহ্ণ
প্রভাষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ দ্বাদশ
বিষয়ঃ জীববিজ্ঞান ২য় পত্র
অধ্যায়ঃ অধ্যায় ৮
মানুষের কান কেবল শ্রবণ নয়, দেহের ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গঠন অনুসারে মানব কানকে প্রধানত তিনটি অংশে ভাগ করা যায়:
এটি কানের বাইরের দৃশ্যমান অংশ যা শব্দতরঙ্গ সংগ্রহ করে ভেতরে পাঠায়।
পিন্না (Pinna): কানের বাইরের তরুণাস্থি দিয়ে গঠিত অংশ যা শব্দতরঙ্গকে ঘনীভূত করে।
কর্ণকুহর (Auditory Canal): পিন্না থেকে ভেতর দিকে যাওয়া সরু নালি। এর ভেতরে থাকা মোম ও লোম ধুলোবালি ও জীবাণু আটকায়।
কর্ণপটহ (Ear Drum/Tympanic Membrane): এটি একটি পাতলা পর্দা যা শব্দতরঙ্গের আঘাতে কেঁপে ওঠে।
এটি বায়ুপূর্ণ একটি প্রকোষ্ঠ যা বহিঃকর্ণ ও অন্তঃকর্ণের মাঝে অবস্থিত।
অস্থি ত্রয়: এখানে তিনটি ক্ষুদ্র হাড় থাকে— ম্যালিয়াস (Malleus), ইনকাস (Incus) ও স্টেপিস (Stapes)। স্টেপিস মানবদেহের ক্ষুদ্রতম হাড়। এই হাড়গুলো কানের পর্দার কম্পনকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
ইউস্টেশিয়ান নালি (Eustachian Tube): এটি মধ্যকর্ণের সাথে গলবিলের সংযোগ রক্ষা করে এবং কানের পর্দার দুই পাশের বায়ুর চাপ সমান রাখে।
এটি একটি তরলপূর্ণ প্রকোষ্ঠ যা মেমব্রেনাস ল্যাবিরিন্থ দিয়ে গঠিত। এর প্রধান দুটি অংশ হলো:
ককলিয়া (Cochlea): দেখতে শামুকের মতো প্যাঁচানো। এর ভেতরে থাকা 'অর্গান অফ কর্টি' শব্দ তরঙ্গকে স্নায়বিক উদ্দীপনায় রূপান্তরিত করে।
অর্ধবৃত্তাকার নালি (Semicircular Canals): এই অংশটি সরাসরি শোনার সাথে যুক্ত নয়, বরং শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
অডিটরি স্নায়ু: ককলিয়া থেকে উৎপন্ন সংকেত এই স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছায়, ফলে আমরা শব্দ শুনতে পাই।