Loading..

ভিডিও ক্লাস

রিসেট

২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:১৫ অপরাহ্ণ

মানব কানের গঠন

মানুষের কান কেবল শ্রবণ নয়, দেহের ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গঠন অনুসারে মানব কানকে প্রধানত তিনটি অংশে ভাগ করা যায়:

১. বহিঃকর্ণ (Outer Ear)

এটি কানের বাইরের দৃশ্যমান অংশ যা শব্দতরঙ্গ সংগ্রহ করে ভেতরে পাঠায়।

  • পিন্না (Pinna): কানের বাইরের তরুণাস্থি দিয়ে গঠিত অংশ যা শব্দতরঙ্গকে ঘনীভূত করে।

  • কর্ণকুহর (Auditory Canal): পিন্না থেকে ভেতর দিকে যাওয়া সরু নালি। এর ভেতরে থাকা মোম ও লোম ধুলোবালি ও জীবাণু আটকায়।

  • কর্ণপটহ (Ear Drum/Tympanic Membrane): এটি একটি পাতলা পর্দা যা শব্দতরঙ্গের আঘাতে কেঁপে ওঠে।

২. মধ্যকর্ণ (Middle Ear)

এটি বায়ুপূর্ণ একটি প্রকোষ্ঠ যা বহিঃকর্ণ ও অন্তঃকর্ণের মাঝে অবস্থিত।

  • অস্থি ত্রয়: এখানে তিনটি ক্ষুদ্র হাড় থাকে— ম্যালিয়াস (Malleus), ইনকাস (Incus)স্টেপিস (Stapes)। স্টেপিস মানবদেহের ক্ষুদ্রতম হাড়। এই হাড়গুলো কানের পর্দার কম্পনকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

  • ইউস্টেশিয়ান নালি (Eustachian Tube): এটি মধ্যকর্ণের সাথে গলবিলের সংযোগ রক্ষা করে এবং কানের পর্দার দুই পাশের বায়ুর চাপ সমান রাখে।

৩. অন্তঃকর্ণ (Inner Ear)

এটি একটি তরলপূর্ণ প্রকোষ্ঠ যা মেমব্রেনাস ল্যাবিরিন্থ দিয়ে গঠিত। এর প্রধান দুটি অংশ হলো:

  • ককলিয়া (Cochlea): দেখতে শামুকের মতো প্যাঁচানো। এর ভেতরে থাকা 'অর্গান অফ কর্টি' শব্দ তরঙ্গকে স্নায়বিক উদ্দীপনায় রূপান্তরিত করে।

  • অর্ধবৃত্তাকার নালি (Semicircular Canals): এই অংশটি সরাসরি শোনার সাথে যুক্ত নয়, বরং শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

  • অডিটরি স্নায়ু: ককলিয়া থেকে উৎপন্ন সংকেত এই স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছায়, ফলে আমরা শব্দ শুনতে পাই।


মন্তব্য করুন