Loading..

প্রেজেন্টেশন

রিসেট

০৮ জুন, ২০২৬ ০৮:০০ পূর্বাহ্ণ

সবুজ সার তৈরি

সবুজ সার বলতে সাধারণত জমিতে কোন শস্য বপন করে তা সবুজ অবস্থায়ই আবার সে জমিতে মিশিয়ে দিয়ে যে সার তৈরী তাকে বোঝায়। সবুজ সার বিভিন্ন উপায়ে মাটির উর্বরতা বাড়াতে সহায়তা করে।

সবুজ সার তৈরি করার মূল উদ্দেশ্য হলো মাটিতে জৈব পদার্থ যোগ করা। যে সকল গাছের শিকড় মাটির গভীরে ছড়িয়ে যায়, অল্প পরিচর্যায় দ্রুত বেড়ে উঠে এবং অধিক পরিমাণে জৈব পদার্থ উৎপাদন করে সবুজ সার তৈরিতে ঐসব গাছ বেছে নেওয়া উচিত। গাছ জমিতে জন্মানোর পর যখন তাতে ফুল ধরা শুরু হয় তখনই তা চাষ দিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়। বৃষ্টির পানিতে তা ধীরে ধীরে পচতে থাকে। পরবর্তী সময়ে কয়েকবার চাষ ও মই দিয়ে মাটি ওলট পালট করে দিলে গাছের বাকী অংশ আরো ভালোভাবে মাটির নীচে পড়ে এবং পচে মাটির সাথে মিশে গিয়ে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে এবং এর বুনট উন্নত করে।

শিমজাতীয় গাছ ধইঞ্চা, শন এবং মটরশুটি সাধারণত আমাদের দেশে সবুজ সার প্রস্তুত করার জন্য ব্যবহার করা হয়। শুটি জাতীয় বিধায় এ ফসল জমিতে শুধু জৈব পদার্থই যোগ করে না, উদ্ভিদের অতি প্রয়োজনীয় খাদ্যপাদান নাইট্রোজেনও যোগ করে থাকে। এ জাতীয় গাছের শিকড়ে এক রকম গুটির সৃষ্টি হয়। তাতে মিথোজীবী ব্যাকটেরিয়া বাস করে এবং বায়ুমন্ডলের নাইট্রোজেন সংগ্রহ করে। জীবাণুদেহের এ নাইট্রোজেন পরবর্তী সময়ে মাটিতে সঞ্চিত হয়ে ফসলের গ্রহণোপযোগী হয়। কখনো কখনো কাউপি বা বরবটি এই কাজে ব্যবহৃত হয়। অ-শিমজাতীয় গাছের মধ্যে রাই, সরগম, ভূট্টা প্রভৃতি অন্যান্য দেশে সবুজ সারের জন্য চাষ করা হয়।

সবুজ সার প্রস্তুতের জন্য যে সমস্ত ফসল ব্যবহার করা হয় সেগুলির বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপঃ

ক) গাছ দ্রুত বর্ধনশীল হবে ও অনুর্বর মাটিতে জন্মানোর ক্ষমতা থাকবে হবে।
খ) গাছের অনেক ডালপালা ও পাতা থাকবে।
গ) গাছ তাড়াতাড়ি পূর্ণতা প্রাপ্ত হবে।
ঘ) গাছের কান্ড নরম ও দ্রুত পচনশীল হবে।
ঙ) গাছের শিকড় মাটির গভীরে প্রবেশ করার ক্ষমতাসম্পন্ন হবে। এ জন্য মাটির নীচের স্তরের খাদ্যোপাদান সে শিকড়ের শোষণের ফলে উপরে উঠে আসে এবং পরবর্তী পর্যায়ে তা সবুজ সারের সঙ্গে মাটির উপরিস্তরে জমে ফসলের ব্যবহারোপযোগী হবে এবং
চ) যতদূর সম্ভব গাছ সোলানেসী পরিবারভূক্ত হবে।

মন্তব্য করুন