লেনদেনের
প্রকৃতি বা বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা করা হয়েছে। প্রতিটি ঘটনা লেনদেন নয়, শুধুমাত্র সেইসব
ঘটনাই লেনদেন যেগুলোর নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য আছে। নিচে এর মূল পয়েন্টগুলো দেওয়া হলো:
- ক) অর্থের অঙ্কে পরিমাপযোগ্য: লেনদেন
হতে হলে ঘটনাটিকে অবশ্যই টাকার অংকে পরিমাপযোগ্য হতে হবে। যেমন— আগুনে পণ্য পুড়ে
যাওয়া একটি লেনদেন, কিন্তু দক্ষ ম্যানেজারের মৃত্যু লেনদেন নয়।
- খ) আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন: কোনো
ঘটনার ফলে প্রতিষ্ঠানের সম্পদ, দায় বা মালিকানা স্বত্বের পরিবর্তন হতে হবে। যেমন—
আসবাবপত্র কিনলে নগদ টাকা কমে এবং সম্পদ বাড়ে, তাই এটি লেনদেন।
- গ) দ্বৈত সত্তা: প্রতিটি লেনদেনে
অন্তত দুটি পক্ষ (ডেবিট ও ক্রেডিট) থাকবে। একজন সুবিধা গ্রহণ করবে এবং অন্যজন
সুবিধা প্রদান করবে।
- ঘ) স্বয়ংসম্পূর্ণ ও স্বতন্ত্র:
প্রতিটি লেনদেন একে অপরের থেকে আলাদা। যেমন— পণ্য বিক্রি করা একটি লেনদেন এবং
সাতদিন পর তার টাকা পাওয়া আরেকটি আলাদা লেনদেন।
- ঙ) দৃশ্যমানতা: লেনদেন দৃশ্যমান
(আসবাবপত্র ক্রয়) বা অদৃশ্যমান (আসবাবপত্রের অবচয়) উভয়ই হতে পারে।
- চ) ঐতিহাসিক ঘটনা: অতীতে ঘটে যাওয়া
আর্থিক ঘটনা বা ভবিষ্যতে ঘটতে পারে এমন নিশ্চিত ঘটনা (যেমন— অনাদায়ী পাওনা সঞ্চিতি)
লেনদেন হিসেবে গণ্য হয়।
- ছ) হিসাব সমীকরণে প্রভাব বিস্তার:
প্রতিটি লেনদেন হিসাব সমীকরণকে (\(A = L + E\)) প্রভাবিত করে। অর্থাৎ, সম্পদ,
দায় বা মালিকানা স্বত্বের যেকোনো একটি উপাদানে পরিবর্তন আনবে।