Loading..

প্রেজেন্টেশন

রিসেট

১৩ জুন, ২০২৬ ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ

ইখলাসের সাথে আল্লাহর ইবাদাত

ইখলাসের সাথে আল্লাহর ইবাদাত


হাদিসে ‘যুবক বয়স’কে ইবাদতের স্বর্ণযুগ বলা হয়েছে। অথচ যুবসমাজের মুখে শোনা যায়- ‘ইবাদতের অনেক সময় আছে। এখন একটু ইনজয় করি। বৃদ্ধ বয়সে ইবাদত করব।’ কিন্তু সময় গড়িয়ে বৃদ্ধ হলে তাদের উপলব্ধি হয়- কত সময়ই না অযথা নষ্ট করলাম। তারুণ্যের সেই সময়টা যদি ঠিকমতো ইবাদত করতাম! এখন একটা সিজদা না দিতে পারার কী যে কষ্ট! প্রবল ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও শারীরিক অক্ষমতায় সম্ভব হয় না আল্লাহর কুদরতি পায়ে মাথা ঠেকিয়ে তৃপ্তি ভরে মন শান্ত করা, হৃদয়ের আকুতিগুলো দুফোঁটা অশ্রুতে প্রকাশ করা। আল্লাহর দরবারে একটা সিজদার কত দাম, সিজদা দিতে না পারার ব্যথা কতটা কষ্টদায়ক তা একমাত্র ওই বৃদ্ধ বলতে পারবেন। অথচ আজকে আমরা কতশত সিজদা মিস করছি। আমরা জানি, ইবলিস বড় ইবাদতকারী ছিল। সাতটি আসমানে তাকে সাত নামে ডাকা হতো। ফেরেশতাদের শিক্ষক ছিল। কিন্তু শুধু একটি সিজদা দিতে অস্বীকার করায় আজকে তার পরিণতি কত ভয়াবহ!

পৃথিবীতে যা কিছু আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টি করেছেন, সবাই আল্লাহকে সিজদা করে। পবিত্র কোরআনে সে কথায় বিধৃত হয়েছে- ‘আসমানসমূহ ও জমিনের সব কিছুই আল্লাহর জন্য অনুগত্য ও বাধ্য হয়ে সকাল-সন্ধ্যায় সিজদা করে এবং তাদের ছায়াগুলোও।’ (সুরা রাদ : ১৫)। আরও বর্ণিত হয়েছে, ‘আসমান ও জমিনের যত প্রাণী এবং ফেরেশতা আছে সবাই আল্লাহকেই সিজদা করে, তারা অহঙ্কার করে না। তারা তাদের উপরস্থ রবকে ভয় করে এবং তাদেরকে যা নির্দেশ দেওয়া হয়, তারা তা পালন করে।’ (সুরা নাহল : ৫০)। আসমান-জমিনের সব প্রাণী ও ফেরেশতা যেখানে মহান আল্লাহর সামনে অবনত মস্তকে সিজদায় লুটিয়ে পরে, অহঙ্কারের বশীভূত হয়ে আল্লাহর অবাধ্যতা করে না, সেখানে আমরা কেন প্রতিনিয়ত আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত হচ্ছি! প্রতিদিন ৫ বার আল্লাহকে সিজদা করার জন্য মুয়াজ্জিন আহ্বান জানানোর পরেও আমরা অহঙ্কার ও আত্মগরিমায় বুদ হয়ে আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত হই!

সিজদা হচ্ছে আল্লাহর নৈকট্য লাভের সবচেয়ে সহজ মাধ্যম। সিজদাকারীকে আল্লাহ ভালোবাসেন। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘বান্দা আল্লাহর অধিক নিকটবর্তী হয়, যখন সিজদারত থাকে। অতএব তোমরা তখন অধিক দোয়া করতে থাকো।’ (মুসলিম : ৪৮২)। সিজদাকারীর চেহারায় আলাদা এক ধরনের নূর থাকে। হৃদয়ে থাকে প্রশান্তি। সিজদাকারীর প্রতি সবার হৃদয়ে ভালোবাসা তৈরি হয়। কেয়ামতের মাঠেও সিজদাকারী থাকবেন সবার থেকে আলাদা। সবাই দেখেই চিনতে পারবেন, উনি অধিক সিজদাকারী। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘আমার যেকোনো উম্মতকে কেয়ামতের দিন আমি চিনে নিতে পারব। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, এত মানুষের মধ্যে আপনি তাদের কীভাবে চিনবেন? তিনি বলেন, তোমরা যদি কোনো আস্তাবলে প্রবেশ করো যেখানে নিছক কালো ঘোড়ার মধ্যে এমন সব ঘোড়াও থাকে, যেগুলোর হাত-পা ও মুখ ধবধবে সাদা, তবে কি তোমরা উভয়ের মধ্যে পার্থক্য করতে পারবে না? সাহাবিরা বললেন, হ্যাঁ, পারব। তিনি বলেন, ওই দিন সিজদার কারণে আমার উম্মতের চেহারা সাদা ধবধবে হবে, আর অজুর কারণে হাত-পা উজ্জ্বল সাদা হবে।’ (মুসনাদে আহমাদ : ২৮৩৬)

একবার চিন্তার রুদ্ধদ্বার উন্মুখ করে ভাবা দরকার, আমরা প্রতিনিয়ত কতগুলো সিজদা বাদ দিচ্ছি! আমাদের পরিণতি কতটা ভয়াবহ হবে। যৌবন বয়সেই তৃপ্তি ভরে সিজদা দেওয়া উচিত। যেন বৃদ্ধ বয়সের অপারগতা এখনি কেটে ওঠে। আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, কেয়ামতের ময়দানে শুধু সাত শ্রেণির মানুষ আরশের নিচে ছায়া পাবে। তন্মধ্যে এক প্রকার হচ্ছে যারা যৌবনে আল্লাহর ইবাদতে সময় অতিবাহিত করেছে। হে প্রিয় যুবক ভাই! আল্লাহর এই ওয়াদা থেকে কোন জিনিস তোমায় মুখ ফিরিয়ে রেখেছে? কীসের নেশায় মাতাল হয়ে আল্লাহর সিজদা থেকে নিজেকে গুটিয়ে রেখেছো? কবে তুমি বুঝবে। কখন তুমি ফিরবে? এসো ফিরে এসো। আল্লাহর কুদরতি পায়ে লুটে পড়ো। নিজের দোষগুলো স্বীকার করো। আল্লাহর রহম কামনা করো। আল্লাহ কত সুন্দর আহ্বান করেছেন- ‘সুতরাং তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে সিজদা করো এবং ইবাদত করো।’ (সুরা নাজম : ৬২)

মন্তব্য করুন