সিনিয়র শিক্ষক
১৪ জুন, ২০২৬ ০১:১২ পূর্বাহ্ণ
সিনিয়র শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ দশম
বিষয়ঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
অধ্যায়ঃ অধ্যায় ৬
রিং টপোলজিতে ডেটা আদান-প্রদানের প্রক্রিয়াটি বেশ চমৎকার এবং সুশৃঙ্খল:
একমুখী প্রবাহ (Unidirectional): সাধারণত এই টপোলজিতে ডেটা কেবল একটি নির্দিষ্ট দিকে (ক্লকওয়াইজ বা অ্যান্টি-ক্লকওয়াইজ) ভ্রমণ করে। তবে কিছু ক্ষেত্রে দ্বিমুখী (Bidirectional) রিংও তৈরি করা হয়, যাকে ডুয়াল রিং টপোলজি বলে।
টোকেন পাসিং (Token Passing): এই নেটওয়ার্কে ডেটাGrid-এ জ্যাম বা কলিশন (Collision) এড়াতে 'টোকেন' ব্যবহার করা হয়। টোকেন হলো একটি বিশেষ সিগন্যাল যা রিংয়ের মধ্যে ঘুরতে থাকে। যে কম্পিউটারের ডেটা পাঠানোর প্রয়োজন হয়, সে প্রথমে টোকেনটি ধরে এবং তার সাথে ডেটা ও গন্তব্যের ঠিকানা জুড়ে দিয়ে লাইনে ছেড়ে দেয়।
ডেটা গ্রহণ: ডেটাটি রিংয়ের প্রতিটি কম্পিউটারের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় সবাই চেক করে দেখে সেটি তার জন্য কিনা। যার ঠিকানার সাথে মেলে, সে ডেটাটি রেখে দেয় এবং বাকিরা তা পরের কম্পিউটারে পাস করে দেয়।
ডেটা কলিশন হয় না: টোকেন পাসিং পদ্ধতির কারণে এখানে একসাথে দুটি কম্পিউটার ডেটা পাঠাতে পারে না, ফলে ডেটার মধ্যে কোনো সংঘর্ষ বা জ্যাম তৈরি হয় না।
কেন্দ্রীয় ডিভাইসের প্রয়োজন নেই: কোনো দামি হাব বা সুইচের প্রয়োজন হয় না, ফলে নেটওয়ার্ক সেটআপ করা সহজ।
উচ্চ কার্যক্ষমতা: নেটওয়ার্কে লোড বা কম্পিউটারের সংখ্যা বাড়লেও পারফরম্যান্স হুট করে কমে যায় না।
একটি কম্পিউটার নষ্ট হলে পুরো নেটওয়ার্ক ডাউন: যেহেতু প্রতিটি ডিভাইস একে অপরের সাথে লুপ আকারে যুক্ত, তাই মাঝখানের যেকোনো একটি কম্পিউটার বা ক্যাবল নষ্ট হলে পুরো নেটওয়ার্কের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা কঠিন: রিংয়ে নতুন কোনো কম্পিউটার যোগ করতে বা সরাতে গেলে পুরো নেটওয়ার্ক সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়।
ত্রুটি খোঁজা কঠিন (Troubleshooting): নেটওয়ার্কের কোথায় সমস্যা হয়েছে তা সহজে চিহ্নিত করা যায় না, কারণ একটি লিংকের সমস্যায় পুরো রিং অচল হয়ে পড়ে।
যদিও বর্তমানে লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কে (LAN) স্টার টপোলজির ব্যবহার সবচেয়ে বেশি, তবুও রিং টপোলজির নিজস্ব কিছু বিশেষত্ব রয়েছে। বিশেষ করে যেখানে উচ্চ গতি এবং জ্যামহীন ডেটা প্রবাহের প্রয়োজন (যেমন- ফাইবার অপটিক্যাল নেটওয়ার্ক বা SONET), সেখানে আজ can-ও রিং টপোলজির আধুনিক রূপ ব্যবহার করা হয়।