সহকারী শিক্ষক
১৪ জুন, ২০২৬ ০৬:১৫ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ নবম
বিষয়ঃ বিজ্ঞান
অধ্যায়ঃ অধ্যায় ৯
রেশম বা সিল্ক উৎপাদন প্রক্রিয়া, যা সেরিকালচার (Sericulture) নামে পরিচিত, এটি একটি দীর্ঘ এবং সূক্ষ্ম ধাপের সমন্বিত প্রক্রিয়া। এটি মূলত রেশম পোকা চাষ ও তাদের গুটি থেকে সুতা সংগ্রহের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
নিচে রেশম উৎপাদনের প্রধান ধাপগুলো বর্ণনা করা হলো:
রেশম উৎপাদনের শুরু হয় তুঁত গাছে।
ডিম থেকে লার্ভা: রেশম মথের ডিম থেকে লার্ভা বা শুঁয়োপোকা বের হয়।
খাদ্যগ্রহণ: এই লার্ভাগুলো প্রচুর পরিমাণে তুঁত পাতা খেয়ে দ্রুত বড় হতে থাকে।
গুটি তৈরি (Cocoon Formation): লার্ভা যখন পর্যাপ্ত বড় হয়, তখন সে নিজের শরীরের চারদিকে লালা বা তরল নিঃসরণ করে একটি শক্ত আবরণ তৈরি করে। একেই বলা হয় গুটি বা কোকুন (Cocoon)। এই গুটির ভেতরেই পোকাটি পিউপা অবস্থায় থাকে।
রেশম সুতা সংগ্রহের জন্য গুটিগুলো সংগ্রহের পর বিশেষ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়:
গুটি মারন (Stifling): গুটির ভেতরে থাকা পোকাটি যেন বড় হয়ে প্রজাপতি হয়ে বের হতে না পারে, তাই গুটিগুলোকে গরম পানি বা বাষ্পে সেদ্ধ করা হয়। এতে পোকাটি মারা যায় এবং গুটির ওপরের আঠা নরম হয়ে সুতা ছাড়তে সহজ হয়।
সুতা সংগ্রহ (Reeling): সেদ্ধ গুটি থেকে একটি সূক্ষ্ম সুতা খুঁজে বের করা হয় এবং ঘূর্ণায়মান যন্ত্রের (Reeling machine) সাহায্যে বেশ কয়েকটি গুটির সুতা একত্রে পেঁচিয়ে বড় সুতার রিলে জড়ানো হয়।
গুটি থেকে প্রাপ্ত এই সুতা কাঁচা রেশম (Raw Silk) হিসেবে পরিচিত। এরপর:
পরিষ্কার ও ব্লিচিং: সুতা পরিষ্কার করে এর ওপরের প্রাকৃতিক আঠা (সেরিসিন) দূর করা হয়।
রঞ্জন (Dyeing): প্রয়োজন অনুযায়ী সুতা বিভিন্ন রঙে রাঙানো হয়।
বুনন (Weaving): সবশেষে এই রেশম সুতা তাঁতে বা কারখানায় বুনে কাপড় তৈরি করা হয়।
তুঁত গাছ → ডিম → লার্ভা (তুঁত পাতা খাওয়া) → গুটি তৈরি (কোকুন) → গুটি সেদ্ধ করা → সুতা সংগ্রহ → বুনন → রেশমি কাপড়
জানেন কি? এক কেজি রেশম উৎপাদনের জন্য প্রায় ৫,০০০ থেকে ৬,০০০টি রেশম গুটির প্রয়োজন হয়। রেশম সুতা তার উজ্জ্বলতা এবং স্থায়িত্বের জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে দামি প্রাকৃতিক তন্তুগুলোর মধ্যে একটি।