প্রভাষক
১৫ জুন, ২০২৬ ০৮:০৪ অপরাহ্ণ
প্রভাষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ দ্বাদশ
বিষয়ঃ ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র
অধ্যায়ঃ অধ্যায় ৯
v ইলেকট্রনিক ব্যাংকিং-এর ইতিহাস ও ক্রমবিকাশ (History and Development of Electronic Banking)
কম্পিউটারের ইতিহাস যেহেতু খুব বেশি পুরাতন নয়, সেহেতু ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ইলেকট্রনিক ব্যাংকিং-এর ইতিহাসও খুব বেশি দীর্ঘ নয়। সর্বপ্রথম ১৯৬১ সালে আমেরিকায় 'National Bank of New York' ইলেকট্রনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রচলন ঘটায়। তাদের প্রবর্তিত 'Electronic Fund Transfer System (EFTS)'-এর সাহায্যে তহবিল স্থানান্তরের কার্যক্রম চালান যেত। পরবর্তীতে ১৯৬৭ সালে যুক্তরাজ্যের 'Barclys Bank' প্রথমে "Cash Dispenser (CD)" স্থাপন করে। বর্তমান Cash Disperser-এর তুলনায় এ মেশিনের কার্যক্ষমতা ছিল খুবই সীমিত। তখন অত্যাধুনিক চুম্বকের কার্ডের পরিবর্তে কাগজের ভাউচার ব্যবহার করা হতো এবং মেশিনে এ ভাউচার প্রবেশ করলে ১০ পাউন্ড বের হয়ে আসত। CD স্থাপনের কিছুদিনের মধ্যেই Sweden, France ও Switzerland বিশ্বের প্রথম National Cash Dispenser Network-এর ব্যবহার শুরু করে। এরই মধ্যে ১৯৬৯ সালে জাপান ও আমেরিকা নিজেদের প্রযুক্তিতে এ মেশিন তৈরি ও ব্যবহার শুরু করে। তবে এ মেশিনগুলো সবগুলোই off line কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত ছিল।
Loyd's Bank ১৯৭২ সালে প্রথম On line 'Cash Point' মেশিন স্থাপনের মাধ্যমে আধুনিক ব্যাংকিং যুগের সূচনা করে। এ সকল Cash Point-এ সর্বদা Magnetic Stripe যুক্ত Plastic Card ব্যবহার করতে হতো। ফলে এ সকল কার্ড দ্বারা গ্রাহকদের আলাদাভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হতো। এ সকল মেশিন সরাসরি কেন্দ্রীয় কম্পিউটারের সাথে যুক্ত থাকত।
একবিংশ শতাব্দীর উষালগ্নে এসে উন্নত বিশ্বের পাশাপাশি উন্নয়নশীল বিশ্বেও ইলেকট্রনিক ব্যাংকিং-এর প্রসার হতে চলেছে। বর্তমানে শুধু গ্রাহকদের সুবিধা প্রদানের জন্যই নয়, সেইসাথে আন্তঃব্যাংকিং ও অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনায় ইলেকট্রনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া বর্তমানে উন্নত দেশগুলো 'Virtual Banking' জগতে পদার্পণ করছে। এটা ইলেকট্রনিক ব্যাংকিং-এর আধুনিক সংস্করণ। Virtual Banking System হচ্ছে মানববিহীন বা No Men Bank System.
মোবাইল ব্যাংকিং (Mobile Banking): ব্যাংকিং সেবা মানুষের হাতের মুঠোয় পৌঁছে দিতে ব্যাংকসমূহ মোবাইল ব্যাংকিং চালু করে। এটি একটি শাখাবিহীন ব্যাংকিং সিস্টেম। বাংলাদেশে সর্বপ্রথম মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধা চালু করে ডাচ-বাংলা ব্যাংক। বর্তমানে বাংলাদেশে মোবাইল ব্যাংকিং-এর জনপ্রিয়তা অবিশ্বাস্য রকম বেড়েছে। ব্র্যাক ব্যাংকের পরিচালিত বিকাশ একটি জনপ্রিয় মোবাইল ব্যাংকিং সেবার নাম। মোবাইল ব্যাংকিং-এর কাজ করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতির প্রয়োজন হয়। তাছাড়া গ্রাহকরা শুধু নিজ দেশের মুদ্রায় লেনদেন করতে পারে। লেনদেনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত প্রযুক্তি, নিরাপত্তা মান ও অর্থের সর্বোচ্চ সীমা মেনে চলতে হয়। ব্যক্তি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় এক হিসাব থেকে ব্যালেন্স জানা প্রভৃতি। মোবাইল ব্যাংকিং-এর মাধ্যমে যেসব সেবাসমূহ পাওয়া যায়- অর্থ উঠানো ও জমা দেওয়া; আর্থিক লেনদেন; বাণিজ্যিক পর্যায়ে আর্থিক লেনদেন; বিদেশ থেকে পাঠানো অর্থ উঠানো; অন্য হিসাবে অর্থ স্থানান্তর; বেতন, ভাতা দেওয়া; বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির বিল দেওয়া; বহিবিশ্বে বাংলাদেশের ইতিবাচক ব্র্যান্ডিং-এ মোবাইল ব্যাংকিং-এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। গ্রাহক সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান বর্তমান বিশ্বে ১ নম্বর বলে গণ্য করা হয়। দৈনিক লেনদেন প্রায় ৭'শ কোটি টাকার উপরে। বছরে ২ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা উপরে লেনদেন হয় এই মোবাইল ব্যাংকিং-এর সেক্টরে।