Loading..

ভিডিও ক্লাস

রিসেট

২০ জুন, ২০২৬ ০৮:৪৭ পূর্বাহ্ণ

শিখন-শেখানো কৌশল-১

 থিঙ্ক-পেয়ার-শেয়ার (Think-Pair-Share) থিঙ্ক-পেয়ার-শেয়ার (টিপিএস) হল একটি সহযোগিতামূলক সক্রিয় শিখন কৌশল। যেখানে শিক্ষার্থীদের প্রথমে কোনো বিষয় সম্পর্কে এককভাবে চিন্তা করতে বলা হয়; দ্বিতীয়ত, পাশের শিক্ষার্থীর সাথে জোড়ায় আলোচনা করে নির্ধারিত বিষয় সম্পর্কে সম্মিলিত ধারণা একত্র করে নিতে বলা হয়; এবং তৃতীয়ত, সম্মিলিত ধারণা সকলের সাথে বিনিময় করতে বলা হয়। সম্মিলিত ধারণা বিনিময়ের সময় ফলপ্রসূ আলোচনার মাধ্যমে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর নিজস্ব ধারণার সাথে নতুন ধারণার সংযোজন ঘটে এবং বিকল্প বা ভুল ধারণার পরিবর্তন হয়। শিশু থেকে বয়স্ক শিখন সকল ক্ষেত্রে এই কৌশল প্রয়োগ করা যায়।

থিঙ্ক-পেয়ার-শেয়ার শিখন কৌশলের গুরুত্ব

  • থিঙ্ক-পেয়ার-শেয়ার শিক্ষার্থীর সক্রিয় অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করে এবং শিখন প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে।
  • এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর বিভিন্ন সামাজিক দক্ষতা যেমন- সৃষ্টিশীল দক্ষতা, যোগাযোগ দক্ষতা, পরমতসহিষ্ণুতা, মুক্তমানসিকতা, ইত্যাদি অর্জিত হয়।
  • এটি বিষয়বস্তুর উপর শিক্ষার্থীর নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করার জন্যও জায়গা করে দেয়।
  • এটি শিক্ষার্থীদের তাদের সহপাঠীদের কাছে তাদের নিজস্ব ধারণা প্রকাশ করতে সক্ষম করে, পাঠের বিষয়বস্তু সম্পর্কে তাদের বোধগম্যতা ভাগ করে নিতে সাহায্য করে।
  • এটি শিক্ষার্থীদের উদ্বিগ্নতা কমিয়ে পাঠের প্রতি আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।
  • এই প্রক্রিয়া শিক্ষার্থীদের সক্রিয় করে এবং শিক্ষক সহায়কের ভূমিকায় থাকে।
  • শিশু ও বয়স্ক শিক্ষায় প্রয়োগ করা যায়।
  • এর জন্য কোনো পূর্বপ্রস্তুতি দরকার হয় না।
  • যেকোনো বিষয়ে এই কৌশলটি ব্যবহার করা যায়।

উদাহরণ: Think: শিক্ষার্থীদের বলা হবে, “আপনি কি জানেন বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যে প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলো ঘটে, সেগুলোর কী কী প্রভাব হয় মানুষের জীবনযাত্রায়? এবং এসব দুর্যোগের প্রতিকার কী হতে পারে?” শিক্ষার্থীরা পাঁচ মিনিট সময় নিয়ে তাদের ধারণা লিখে রাখবে। তারা হয়তো ভাববে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদী ভাঙন ইত্যাদি নিয়ে, এবং কীভাবে এসব দুর্যোগ মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করে ফেলে।

Pair: এরপর, শিক্ষার্থীরা নিজেদের মধ্যে দুইজন একসাথে কাজ করবে এবং একে অপরের চিন্তা শেয়ার করবে। তারা আলোচনা করবে, কী কী দুর্যোগ বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ঘটে এবং এসব দুর্যোগ মোকাবেলা করার জন্য কী ধরনের প্রস্তুতি নেয়া উচিত। তাদের তালিকায় হতে পারে: দুর্যোগ সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, বন্যার পর জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা, উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি ইত্যাদি।

Share: তারপর, তিনটি পেয়ার একত্রে একটি বড় গ্রুপ তৈরি করবে এবং তাদের আলোচনা ও ধারণাগুলি শেয়ার করবে। এখানে তারা আরও নতুন আইডিয়া পেতে পারে, যেমন- দুর্যোগের পূর্বাভাস প্রযুক্তি ব্যবহারের উন্নতি, মানুষের নিরাপত্তা ও পুনর্বাসন ব্যবস্থার জন্য সরকারি সহযোগিতা ইত্যাদি।

Reflection: শেষে, শিক্ষার্থীদের তাদের প্রথম ধারণাগুলি এবং এখন যেগুলি শিখেছে, তার মধ্যে তুলনা করতে বলা হবে। তারা উপলব্ধি করতে পারবে যে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় তাদের প্রথম ধারণাগুলো সম্ভবত আরও সাধারণ ছিল, কিন্তু গ্রুপ আলোচনা করে তারা কীভাবে আরও গভীরভাবে সমস্যাটি বুঝতে এবং তার প্রতিকার বিষয়ে নতুন ধারণা পেতে সক্ষম হয়েছে।

মন্তব্য করুন