সহকারী শিক্ষক
২২ জুন, ২০২৬ ০৫:৪০ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ ষষ্ঠ
বিষয়ঃ চারুপাঠ
অধ্যায়ঃ অধ্যায়-১ (গদ্য)
মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত 'সততার পুরস্কার' গল্পটির সারসংক্ষেপ নিচে দেওয়া হলো:
গল্পটি মূলত ইহুদি বংশের তিনজন লোকের পরীক্ষার ঘটনা নিয়ে আবর্তিত। আল্লাহ তাদের সততা ও ঈমান পরীক্ষার জন্য ফেরেশতা পাঠান।
তিনজন ব্যক্তির অবস্থা: ঐ তিনজন ব্যক্তির মধ্যে একজনের গায়ের চামড়া ছিল ধবল (সাদা দাগ), একজনের মাথায় ছিল টাক এবং অন্যজন ছিলেন অন্ধ।
ফেরেশতার পরীক্ষা: ফেরেশতা মানুষের রূপ ধরে প্রথমে ধবল রোগীর কাছে এসে তার রোগ সারিয়ে দেন এবং অনেক গবাদি পশু দান করেন। এরপর টাকওয়ালা ব্যক্তির কাছে গিয়ে তার টাক সারিয়ে তাকেও অঢেল সম্পদের মালিক করে দেন। সবশেষে অন্ধ ব্যক্তির কাছে গিয়ে তার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেন এবং তাকেও বিপুল সম্পদের মালিক করেন।
অকৃতজ্ঞতা: কিছুদিন পর ফেরেশতা পুনরায় আগের সেই দরিদ্র মানুষের বেশ ধরে প্রথম দুজন ব্যক্তির কাছে (ধবল ও টাকওয়ালা) গিয়ে সাহায্য চান। কিন্তু তারা আগের কথা ভুলে গিয়ে মিথ্যার আশ্রয় নেয় এবং ফেরেশতাকে সাহায্য করতে অস্বীকার করে। তারা তাদের সম্পদ নিয়ে অহংকারী হয়ে ওঠে।
সততা ও কৃতজ্ঞতা: সবশেষে ফেরেশতা অন্ধ লোকটির কাছে গিয়ে সাহায্য প্রার্থনা করেন। সেই ব্যক্তি সানন্দে তার সব সম্পদ থেকে ফেরেশতাকে সাহায্য করতে রাজি হয় এবং কৃতজ্ঞচিত্তে স্বীকার করে যে, আল্লাহই তাকে সবকিছু দিয়েছেন।
উপসংহার: আল্লাহ লোকটির সততায় খুশি হয়ে তার সব সম্পদ তাকে দান করেন এবং প্রথম দুজনকে তাদের আগের দরিদ্র অবস্থায় ফিরিয়ে দেন।
মূল শিক্ষা: এই গল্পের মূল শিক্ষা হলো—আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা, সবসময় সত্য বলা এবং বিপদকালে ধৈর্য ধারণ করে নিজের অতীত ও কৃপাকে ভুলে না যাওয়া। অহংকার মানুষকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়, আর সততা ও কৃতজ্ঞতাই মানুষের প্রকৃত সম্পদ।