Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

২২ জুন, ২০২৬ ০৬:৩৬ পূর্বাহ্ণ

‘নীল নদ আর পিরামিডের দেশ- সৈয়দ মুজতবা আলী

সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘নীল নদ আর পিরামিডের দেশ’ ভ্রমণকাহিনিটি বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য সম্পদ। এটি মূলত লেখকের মিশর ভ্রমণের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে লেখা একটি সরস ও তথ্যবহুল বই। নিচে এর মূল বৈশিষ্ট্য ও বিষয়বস্তু আলোচনা করা হলো:

১. ভ্রমণকাহিনির ধরণ

মুজতবা আলীর লেখার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো তার ‘রম্য’ (Humorous) বা হালকা-ফুলকা ভঙ্গি। তিনি কোনো ভারী ঐতিহাসিক বিষয়কেও এমনভাবে বর্ণনা করেন যে পাঠক তা অত্যন্ত আনন্দের সাথে পড়ে। এই বইতেও তিনি মিশরের পিরামিড, স্ফিংস বা ইতিহাসের গুরুগম্ভীর বিষয়গুলোকে তার নিজস্ব সরস ভাষায় সহজ করে তুলেছেন।

২. বিষয়বস্তু

বইটিতে লেখক শুধুমাত্র পর্যটকের চোখে মিশরের দর্শনীয় স্থানগুলোই দেখেননি, বরং মিশরের মাটি, মানুষ, সংস্কৃতি, ভাষা এবং তাদের জীবনযাত্রাকে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন।

বইটির উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয় হলো:

  • পিরামিড ও স্ফিংসের বর্ণনা: লেখক পিরামিডের সামনে দাঁড়িয়ে তার বিশালত্ব এবং রহস্য নিয়ে চমৎকার সব মন্তব্য করেছেন। পিরামিড যে কত বড় এবং প্রাচীন মিশরীয়রা তাদের মৃত্যুপরবর্তী জীবনকে কতটা গুরুত্ব দিত, তা তিনি নিজের জবানিতে ফুটিয়ে তুলেছেন।

  • মিশরীয় আতিথেয়তা ও চরিত্র: মিশরীয়দের আতিথেয়তা, তাদের আরবীয় বৈশিষ্ট্য এবং তাদের সাথে লেখকের কথোপকথন বইটিকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে।

  • নীল নদের প্রভাব: মিশরের জনজীবনে নীল নদের গুরুত্ব এবং এই নদকে ঘিরে যে রোমান্টিকতা ও প্রয়োজন রয়েছে, তা লেখক অত্যন্ত সুন্দরভাবে বর্ণনা করেছেন।

  • ভাষার ব্যবহার: সৈয়দ মুজতবা আলীর ভাষাশৈলী এই বইয়ের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। আরবি, ফারসি এবং তুর্কি ভাষার শব্দের সহজপ্রাপ্য প্রয়োগ তার লেখায় এক চমৎকার আমেজ তৈরি করেছে।

৩. কেন বইটি বিশেষ?

  • ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক তথ্য: ভ্রমণকাহিনি হলেও এর মধ্যে মিশরের ইতিহাস সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্য উঠে এসেছে।

  • রসবোধ: মুজতবা আলীর ভ্রমণকাহিনি কখনোই একঘেয়ে হয় না। তার ছোট ছোট পর্যবেক্ষণ এবং জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পাঠককে হাসায়, আবার ভাবায়।

  • অতীতের মিশর: বইটি পড়ে আমরা সেই সময়ের মিশরের সমাজব্যবস্থা সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারণা পাই।

সারকথা:

‘নীল নদ আর পিরামিডের দেশ’ কেবল মিশর ভ্রমণের একটি গাইডবুক নয়, এটি লেখকের অভিজ্ঞতার এক শিল্পসম্মত রূপায়ন। পাঠক যখন এটি পড়বেন, তখন তার মনে হবে তিনি লেখকের সাথে পিরামিডের ছায়াতলে হাঁটছেন বা নীল নদের তীরে বসে চা খাচ্ছেন। যারা ভ্রমণকাহিনি পড়তে ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি অবশ্যই পাঠ্য।

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট