প্রভাষক
২৩ জুন, ২০২৬ ০৯:২১ অপরাহ্ণ
প্রভাষক
ধরনঃ মাদ্রাসা শিক্ষা
শ্রেণিঃ নবম
বিষয়ঃ কোরআন মাজিদ ও তাজভিদ
অধ্যায়ঃ অধ্যায়-১
ইসলামে আল্লাহর নিকট দান বা সদকা কবুল হওয়ার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। নিয়তের বিশুদ্ধতা থেকে শুরু করে উপার্জনের উৎস—সবকিছুই এর অন্তর্ভুক্ত। প্রধান শর্তগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১. নিয়তের বিশুদ্ধতা (ইখলাস)
দান শুধুমাত্র আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে হতে হবে। লোকদেখানো, প্রশংসা কুড়ানো বা সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে দান করলে তা আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না।
> রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।" (সহীহ বুখারী)
>
২. হালাল উপার্জন থেকে দান করা
আল্লাহর দরবারে দান কবুল হওয়ার জন্য অন্যতম পূর্বশর্ত হলো সেই অর্থ বা সম্পদ সম্পূর্ণ হালাল উপায়ে উপার্জিত হতে হবে। হারাম আয়ের কোনো দান আল্লাহ গ্রহণ করেন না।
> "হে ঈমানদারগণ! তোমরা যা উপার্জন করেছ এবং আমি যা ভূমি থেকে বের করে দিয়েছি, তা থেকে উৎকৃষ্ট অংশ ব্যয় কর..." (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৬৭)
> রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র বস্তু ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করেন না।" (সহীহ মুসলিম)
>
৩. খোঁটা বা কষ্ট না দেওয়া
দান করার পর গ্রহীতাকে কোনো প্রকার খোঁটা দেওয়া, অনুগ্রহ প্রকাশ করা বা তার মনে কষ্ট দেওয়া যাবে না। এমনটি করলে দানের সওয়াব নষ্ট হয়ে যায়।
> "হে ঈমানদারগণ! তোমরা খোঁটা দিয়ে ও কষ্ট দিয়ে নিজেদের সদকা বাতিল করো না..." (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৬৪)
৪. প্রিয় ও সর্বোত্তম বস্তু থেকে দান করা
নিজের কাছে যা অপ্রয়োজনীয়, নষ্ট বা ফেলে দেওয়ার মতো—তা দান না করে, নিজের পছন্দের ও ভালো সম্পদ থেকে দান করা উচিত।
> "তোমরা কখনোই পুণ্য লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু থেকে ব্যয় করবে..." (সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৯২)
৫. অহংকার ও রিয়া (লোকদেখানো) থেকে মুক্ত থাকা
দান করার সময় অন্তরে কোনো অহংকার বা বড়ত্ব ভাব আসা যাবে না। সম্ভব হলে গোপন দান করাই উত্তম, কারণ এটি রিয়া থেকে বাঁচতে সাহায্য করে এবং আল্লাহর ক্রোধ প্রশমিত করে।
> "যদি তোমরা প্রকাশ্যে দান করো তবে তা ভালো, আর যদি তা গোপনে করো এবং অভাবগ্রস্তকে দাও তবে তা তোমাদের জন্য আরও বেশি ভালো..." (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৭১)