Loading..

ভিডিও ক্লাস

রিসেট

২৮ জুন, ২০২৬ ০৬:৪৪ অপরাহ্ণ

জীবের প্রজনন (Reproduction in Organisms) – বিস্তারিত প্রজননের প্রকারভেদ : ১. অযৌন প্রজনন (Asexual Reproduction) ২. যৌন প্রজনন (Sexual Reproduction)

জীবের প্রজনন (Reproduction in Organisms) – বিস্তারিত ক্লাস নোট

শ্রেণি: নবম-দশম / এসএসসি জীববিজ্ঞান

প্রস্তুতকারক: Md. Biplob Hossain
সহকারী শিক্ষক (জীববিজ্ঞান)


পাঠের উদ্দেশ্য

এই পাঠ শেষে শিক্ষার্থীরা—

  • প্রজননের সংজ্ঞা বলতে পারবে।

  • অযৌন ও যৌন প্রজননের পার্থক্য ব্যাখ্যা করতে পারবে।

  • বিভিন্ন ধরনের অযৌন প্রজনন বর্ণনা করতে পারবে।

  • উদ্ভিদ ও প্রাণীর যৌন প্রজনন ব্যাখ্যা করতে পারবে।

  • প্রজননের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করতে পারবে।


প্রজনন কী?

যে জৈবিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জীব নিজের অনুরূপ নতুন জীব সৃষ্টি করে এবং বংশধারা বজায় রাখে তাকে প্রজনন (Reproduction) বলে।

উদাহরণ

  • মানুষ সন্তান জন্ম দেয়।

  • আমগাছ বীজের মাধ্যমে নতুন আমগাছ তৈরি করে।

  • ব্যাকটেরিয়া বিভাজনের মাধ্যমে সংখ্যা বৃদ্ধি করে।


প্রজননের গুরুত্ব

১. বংশধারা রক্ষা

প্রজননের মাধ্যমে একটি প্রজাতি পৃথিবীতে টিকে থাকে।

২. জীবের সংখ্যা বৃদ্ধি

প্রজনন জীবের সংখ্যা বৃদ্ধি করে।

৩. জিনগত বৈশিষ্ট্য স্থানান্তর

মাতা-পিতার বৈশিষ্ট্য সন্তানের মধ্যে স্থানান্তরিত হয়।

৪. বিবর্তনে সাহায্য

যৌন প্রজননের ফলে বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয়, যা বিবর্তনে সহায়তা করে।


প্রজননের প্রকারভেদ

প্রজনন প্রধানত দুই প্রকার:

১. অযৌন প্রজনন (Asexual Reproduction)

২. যৌন প্রজনন (Sexual Reproduction)


অযৌন প্রজনন

যে প্রজননে একটিমাত্র জনক অংশগ্রহণ করে এবং গ্যামেট সৃষ্টি হয় না তাকে অযৌন প্রজনন বলে।

বৈশিষ্ট্য

✔ একটিমাত্র জনক

✔ গ্যামেটের প্রয়োজন নেই

✔ দ্রুত সম্পন্ন হয়

✔ সন্তান জনকের অনুরূপ হয়


অযৌন প্রজননের প্রকারভেদ

১. দ্বি-বিভাজন (Binary Fission)

একটি জীব বিভাজিত হয়ে দুটি নতুন জীব তৈরি করে।

উদাহরণ

  • অ্যামিবা

  • ব্যাকটেরিয়া

  • প্যারামেসিয়াম

চিত্র ধারণা

অ্যামিবা → নিউক্লিয়াস বিভাজন → দুটি অ্যামিবা


২. বহু-বিভাজন (Multiple Fission)

একটি জীব থেকে একসাথে অনেক নতুন জীব সৃষ্টি হয়।

উদাহরণ

  • প্লাজমোডিয়াম


৩. মুকুলোদগম (Budding)

জনকদেহে মুকুল সৃষ্টি হয়ে নতুন জীব গঠন করে।

উদাহরণ

  • হাইড্রা

  • ইস্ট


৪. স্পোর সৃষ্টি (Spore Formation)

স্পোরের মাধ্যমে নতুন জীব সৃষ্টি হয়।

উদাহরণ

  • রাইজোপাস (Bread Mold)

  • মিউকর


৫. অঙ্গজ প্রজনন (Vegetative Propagation)

উদ্ভিদের মূল, কাণ্ড বা পাতার অংশ থেকে নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি।

উদাহরণ

অঙ্গউদাহরণ
মূলমিষ্টি আলু
কাণ্ডআলু, আদা
পাতাপাথরকুচি

যৌন প্রজনন

যে প্রজননে পুরুষ ও স্ত্রী গ্যামেটের মিলনের মাধ্যমে নতুন জীব সৃষ্টি হয় তাকে যৌন প্রজনন বলে।


যৌন প্রজননের ধাপ

১. গ্যামেট গঠন

পুরুষ গ্যামেট

শুক্রাণু (Sperm)

স্ত্রী গ্যামেট

ডিম্বাণু (Ovum)


২. নিষেক (Fertilization)

শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনকে নিষেক বলে।

ফলাফল

জাইগোট (Zygote) সৃষ্টি হয়।


৩. ভ্রূণ গঠন

জাইগোট বিভাজিত হয়ে ভ্রূণে পরিণত হয়।


৪. নতুন জীবের সৃষ্টি

ভ্রূণ থেকে পূর্ণাঙ্গ জীবের জন্ম হয়।


উদ্ভিদের যৌন প্রজনন

ফুল হলো আবৃতবীজী উদ্ভিদের প্রজনন অঙ্গ।


ফুলের প্রধান অংশ

১. বৃতি (Sepal)

ফুলকে রক্ষা করে।

২. পাপড়ি (Petal)

পোকামাকড় আকর্ষণ করে।

৩. পুংকেশর (Stamen)

পুরুষ প্রজনন অঙ্গ।

অংশ:

  • পরাগধানী (Anther)

  • পুংদণ্ড (Filament)


৪. গর্ভকেশর (Pistil/Carpel)

স্ত্রী প্রজনন অঙ্গ।

অংশ:

  • গর্ভমুণ্ড (Stigma)

  • গর্ভদণ্ড (Style)

  • ডিম্বাশয় (Ovary)


পরাগায়ন (Pollination)

পরাগধানী থেকে পরাগরেণু গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরকে পরাগায়ন বলে।


পরাগায়নের প্রকারভেদ

১. স্ব-পরাগায়ন

একই ফুল বা একই গাছের ফুলের মধ্যে পরাগায়ন।

উদাহরণ:

  • ধান

  • গম


২. পর-পরাগায়ন

এক গাছের ফুল থেকে অন্য গাছের ফুলে পরাগায়ন।

উদাহরণ:

  • ভুট্টা

  • পেঁপে


পরাগায়নের মাধ্যম

  • বায়ু

  • পানি

  • পোকামাকড়

  • পাখি

  • মানুষ


উদ্ভিদে নিষেক

পরাগরেণু গর্ভমুণ্ডে পড়ে পরাগনালী সৃষ্টি করে।

শুক্রাণু ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয়ে জাইগোট গঠন করে।


বীজ ও ফল গঠন

নিষেকের পরে—

  • ডিম্বক → বীজ

  • ডিম্বাশয় → ফল


প্রাণীর যৌন প্রজনন

পুরুষ প্রজননতন্ত্র

প্রধান অঙ্গ:

  • অণ্ডকোষ

  • শুক্রবাহী নালী

  • লিঙ্গ

কাজ:
শুক্রাণু উৎপাদন


স্ত্রী প্রজননতন্ত্র

প্রধান অঙ্গ:

  • ডিম্বাশয়

  • ডিম্বনালী

  • জরায়ু

  • যোনি

কাজ:
ডিম্বাণু উৎপাদন ও ভ্রূণের বৃদ্ধি


মানুষের নিষেক

ডিম্বনালীতে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলন ঘটে।

এর ফলে জাইগোট তৈরি হয়।


গর্ভধারণ ও ভ্রূণের বৃদ্ধি

জাইগোট → ভ্রূণ → ভ্রূণ বৃদ্ধি → শিশু জন্ম


অযৌন ও যৌন প্রজননের পার্থক্য

অযৌন প্রজননযৌন প্রজনন
এক জনকদুই জনক
গ্যামেট লাগে নাগ্যামেট লাগে
দ্রুত ঘটেতুলনামূলক ধীর
বৈচিত্র্য কমবৈচিত্র্য বেশি
সরল জীবে বেশিউন্নত জীবে বেশি

গুরুত্বপূর্ণ বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (MCQ)

১. প্রজননের মূল উদ্দেশ্য কী?

ক) খাদ্য গ্রহণ
খ) বংশধারা রক্ষা ✔
গ) শ্বসন
ঘ) চলন

২. অ্যামিবার প্রজনন কী ধরনের?

ক) মুকুলোদগম
খ) দ্বি-বিভাজন ✔
গ) স্পোর
ঘ) অঙ্গজ

৩. হাইড্রার প্রজনন কীভাবে হয়?

ক) দ্বি-বিভাজন
খ) মুকুলোদগম ✔
গ) স্পোর
ঘ) কলম

৪. ফুলের পুরুষ প্রজনন অঙ্গ কোনটি?

ক) গর্ভকেশর
খ) পাপড়ি
গ) পুংকেশর ✔
ঘ) বৃতি

৫. নিষেকের ফলে কী সৃষ্টি হয়?

ক) ভ্রূণ
খ) জাইগোট ✔
গ) বীজ
ঘ) ফল


সৃজনশীল প্রশ্ন

প্রশ্ন: অযৌন ও যৌন প্রজননের মধ্যে চারটি পার্থক্য লিখ।

প্রশ্ন: পরাগায়ন কী? এর প্রকারভেদ ব্যাখ্যা কর।

প্রশ্ন: উদ্ভিদের যৌন প্রজননে ফুলের ভূমিকা আলোচনা কর।


ক্লাসের সারসংক্ষেপ

✔ প্রজনন জীবের মৌলিক বৈশিষ্ট্য।

✔ প্রজনন দুই প্রকার—অযৌন ও যৌন।

✔ অযৌন প্রজননে এক জনক অংশগ্রহণ করে।

✔ যৌন প্রজননে গ্যামেটের মিলনে জাইগোট সৃষ্টি হয়।

✔ ফুল উদ্ভিদের প্রজনন অঙ্গ।

✔ পরাগায়ন ও নিষেকের মাধ্যমে বীজ ও ফল গঠিত হয়।

✔ প্রজনন জীবের অস্তিত্ব ও বংশধারা রক্ষার জন্য অপরিহার্য।

মন্তব্য করুন