সহকারী অধ্যাপক
২৮ জুলাই, ২০২৬ ০৯:৩৯ অপরাহ্ণ
সহকারী অধ্যাপক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ একাদশ
বিষয়ঃ ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র
অধ্যায়ঃ ৫ম অধ্যায়: যৌথমূলধনী ব্যবসায়
যৌথমূলধনী ব্যবসায় (Joint Stock Company) হলো এমন একটি ব্যবসায়িক সংগঠন, যেখানে বহু ব্যক্তি শেয়ার ক্রয়ের মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করে আইন অনুযায়ী একটি কোম্পানি গঠন করেন। এই কোম্পানি একটি স্বতন্ত্র আইনগত সত্তা (Separate Legal Entity) হিসেবে স্বীকৃত। অর্থাৎ, কোম্পানির নিজস্ব নাম, সম্পদ, দায় এবং অধিকার থাকে, যা শেয়ারহোল্ডারদের থেকে পৃথক। কোম্পানির মূলধন অসংখ্য ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত থাকে, যাকে শেয়ার বলা হয়। শেয়ারহোল্ডারদের দায় সাধারণত তাদের ক্রয়কৃত শেয়ারের মূল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। পরিচালনা পর্ষদ (Board of Directors)-এর মাধ্যমে কোম্পানির কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বৃহৎ মূলধন সংগ্রহ, চিরস্থায়ী অস্তিত্ব এবং সীমিত দায়ের কারণে বড় শিল্প ও বাণিজ্য পরিচালনায় এই ব্যবসায়িক সংগঠন অত্যন্ত জনপ্রিয়।
১. প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি (Private Limited Company):
যে কোম্পানির শেয়ার সাধারণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত নয় এবং নির্দিষ্ট সংখ্যক সদস্য নিয়ে পরিচালিত হয় তাকে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি বলে। শেয়ার হস্তান্তরে বিধিনিষেধ থাকে এবং তুলনামূলকভাবে কম আইনগত আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে হয়।
২. পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি (Public Limited Company):
যে কোম্পানি সাধারণ জনগণের নিকট শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করে তাকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি বলা হয়। এ ধরনের কোম্পানির শেয়ার শেয়ারবাজারে ক্রয়-বিক্রয় করা যায় এবং বৃহৎ পরিসরে ব্যবসা পরিচালনার জন্য এটি উপযোগী।
৩. সরকারি কোম্পানি (Government Company):
যে কোম্পানির অধিকাংশ শেয়ার সরকারের মালিকানাধীন থাকে তাকে সরকারি কোম্পানি বলা হয়। এসব কোম্পানি সাধারণত জনকল্যাণমূলক ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ খাতে পরিচালিত হয়।
৪. বেসরকারি কোম্পানি (Non-Government Company):
যে কোম্পানির মালিকানা ব্যক্তি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকে তাকে বেসরকারি কোম্পানি বলা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য লাভ অর্জন এবং ব্যবসার সম্প্রসারণ।
উপসংহার:
যৌথমূলধনী ব্যবসায় বৃহৎ মূলধন সংগ্রহ, সীমিত দায়, স্বতন্ত্র আইনগত সত্তা এবং চিরস্থায়ী অস্তিত্বের কারণে আধুনিক অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে এই ব্যবসায়িক সংগঠনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।