Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

৩০ জুলাই, ২০২৬ ০১:১৩ পূর্বাহ্ণ

মার্শাল হার্বাট ম্যাকলুহান

মার্শাল হার্বাট ম্যাকলুহান (Marshall Herbert McLuhan, ১৯১১–১৯৮০) ছিলেন একজন বিশ্ববিখ্যাত কানাডীয় দার্শনিক, সাহিত্য সমালোচক ও যোগাযোগ তত্ত্ববিদ (Communication Theorist)। আধুনিক গণমাধ্যম ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর তাঁর যুগান্তকারী তত্ত্বের জন্য তাঁকে "আধুনিক গণমাধ্যম তত্ত্বের জনক" বা "মিডিয়া গুরু" বলা হয়।

ইন্টারনেট বা ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (WWW) আবিষ্কারের কয়েক দশক আগেই তিনি ডিজিটাল যুগ ও বিশ্বায়নের ভবিষ্যৎ নিখুঁতভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন।

👤 সংক্ষিপ্ত পরিচয়

  • জন্ম: ২১ জুলাই, ১৯১১ (এডমন্টন, অ্যালবার্টা, কানাডা)

  • মৃত্যু: ৩১ ডিসেম্বর, ১৯৮০ (টরন্টো, কানাডা)

  • শিক্ষাগত যোগ্যতা: ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে পিএইচডি (PhD)।

  • পেশা: ক্যামব্রিজ, সেন্ট লুইস ও টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক।

💡 ম্যাকলুহানের বিখ্যাত দুটি মূল ধারণা

মার্শাল ম্যাকলুহানকে বিখ্যাত করে তুলেছে তাঁর দুটি প্রবর্তিত শব্দ ও ধারণা:

১. "দ্য মিডিয়াম ইজ দ্য মেসেজ" (The Medium is the Message)

এটি ম্যাকলুহানের সবচেয়ে বিখ্যাত উক্তি।

  • মূল ভাব: আমরা গণমাধ্যমের সাহায্যে কী তথ্য/সংবাদ পরিবেশন করছি, তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো কোন মাধ্যমে তা পরিবেশন করছি।

  • ব্যাখ্যা: মাধ্যম নিজেই মানুষের চিন্তা, কাজ ও সমাজের গঠনকে বদলে দেয়। উদাহরণস্বরূপ—টেলিভিশনে একটি খবর যেভাবে মানুষের মানসিকতা ও অনুভূতিকে প্রভাবিত করে, পত্রিকায় একই খবর পড়লে সেই অনুভূতি হয় না। অর্থাৎ মাধ্যমটি নিজেই একটি বড় বার্তা।

২. "গ্লোবাল ভিলেজ" (Global Village / বিশ্বগ্রাম)

আজকে আমরা যে "গ্লোবাল ভিলেজ" শব্দটির সাথে বহুল পরিচিত, তার রূপকার ম্যাকলুহান।

  • মূল ভাব: ইলেকট্রনিক মিডিয়ার (যেমন—রেডিও, টেলিভিশন এবং বর্তমান ইন্টারনেট) বিকাশের ফলে পুরো পৃথিবী একটি ছোট্ট গ্রামের মতো সংকুচিত হয়ে আসবে।

  • ব্যাখ্যা: ১৯৬০-এর দশকেই তিনি বলেছিলেন যে, প্রযুক্তির দ্রুত যোগাযোগের কারণে পৃথিবীর এক প্রান্তের মানুষ অন্য প্রান্তের খবর মুহূর্তেই পেয়ে যাবে এবং সবাই একটি একক সমাজ বা গ্রামের অধিবাসী বলে মনে করবে।

📚 তাঁর বিখ্যাত কয়েকটি গ্রন্থ

মার্শাল ম্যাকলুহানের লেখা বইগুলো বিশ্বজুড়ে যোগাযোগ বিজ্ঞানের পাঠ্যবই হিসেবে সমাদৃত:

  1. The Mechanical Bride (১৯৫১): আধুনিক বিজ্ঞাপনী সংস্কৃতি ও প্রযুক্তির মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব নিয়ে বিশ্লেষণ।

  2. The Gutenberg Galaxy (১৯৬২): ছাপানো বই (Print Culture) কীভাবে মানুষের চিন্তা ও সমাজকে পরিবর্তন করেছে তার ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ। (এই বইতেই তিনি প্রথম Global Village ধারণা দেন)।

  3. Understanding Media: The Extensions of Man (১৯৬৪): তাঁর সবচেয়ে প্রভাবশালী বই, যেখানে তিনি "The Medium is the Message" তত্ত্বটি ব্যাখ্যা করেন।

  4. The Medium is the Massage: An Inventory of Effects (১৯৬৭): সহজ ভাষায় ও ছবির মাধ্যমে মিডিয়ার প্রভাব বোঝানোর চমৎকার একটি বই।

🔮 কেন তিনি এখনও এত প্রাসঙ্গিক?

মার্শাল ম্যাকলুহান যখন এসব তত্ত্ব দিয়েছিলেন, তখন কম্পিউটার বা ইন্টারনেট ছিল কাল্পনিক। কিন্তু আজকের সোশ্যাল মিডিয়া (Facebook, YouTube, X), স্মার্টফোন এবং এআই (AI)-এর যুগে তাঁর প্রতিটি ভবিষ্যদ্বাণী হুবহু মিলে গেছে।

তিনি বলেছিলেন, প্রযুক্তি হলো মানুষের দেহেরই একেকটি সম্প্রসারণ (Extension of Man)—যেমন চাকা হলো পায়ের সম্প্রসারণ, আর ইন্টারনেট বা টেলিযোগাযোগ হলো মানুষের স্নায়ুতন্ত্রের (Nervous System) সম্প্রসারণ।

🎯 সারসংক্ষেপ

মার্শাল হার্বাট ম্যাকলুহান ছিলেন এমন এক দূরদর্শী চিন্তাবিদ, যিনি দেখিয়েছেন মাধ্যম বা প্রযুক্তি কেবল আমাদের তথ্য আদান-প্রদানের যন্ত্র নয়; এটি আমাদের সমাজ, সংস্কৃতি এবং চিন্তাজগতকে নতুন আকার দেওয়ার মূল কারিগর।

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট