Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

৩০ জুলাই, ২০২৬ ০১:২৩ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশের প্রথম যোগাযোগ উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১

বাংলাদেশের প্রথম যোগাযোগ উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ সফলভাবে পরিচালনার জন্য দুটি আধুনিক গ্রাউন্ড স্টেশন (Ground Station) বা ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে।

এইচএসসি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) এবং সাধারণ জ্ঞানের আলোকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর গ্রাউন্ড স্টেশন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:

📡 ১. প্রাইমারি ও ব্যাকআপ গ্রাউন্ড স্টেশন

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর সিগন্যাল গ্রহণ, নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণের জন্য দুটি স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে:

  • প্রধান গ্রাউন্ড স্টেশন (Primary Ground Station):

    • অবস্থান: গাজীপুর জেলার জয়দেবপুরের তেলীপাড়া (এটি 'সজীব ওয়াজেদ উপগ্রহ ভূ-কেন্দ্র' নামে পরিচিত)।

    • কাজ: স্যাটেলাইটের মূল ট্র্যাকিং, টেলিম্যাট্রি, কমান্ডিং এবং প্রধান যোগাযোগ মূল কেন্দ্র হিসেবে এখান থেকেই পরিচালিত হয়।

  • দ্বিতীয়/ব্যাকআপ গ্রাউন্ড স্টেশন (Secondary/Backup Ground Station):

    • অবস্থান: রাঙামাটি জেলার বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র।

    • কাজ: কোনো কারণে গাজীপুরের মূল স্টেশনটিতে কারিগরি সমস্যা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে বেতবুনিয়ার ব্যাকআপ স্টেশনটি থেকে স্যাটেলাইটটি পরিচালনা করা যাবে। (উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রকেই আধুনিকায়ন করে এই ব্যাকআপ স্টেশন তৈরি করা হয়েছে)।

🛠️ ২. গ্রাউন্ড স্টেশনের মূল কাজ ও প্রযুক্তি

আইসিটির ভাষায় গ্রাউন্ড স্টেশন হলো স্যাটেলাইট ও পৃথিবীর ব্যবহারকারীদের মধ্যে সংযোগকারী মাধ্যম (Gateway)। এর প্রধান কাজগুলো হলো:

১. স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং ও কন্ট্রোল (TTC): ১১৯.১ degree পূর্ব দ্রাঘিমাংশে (119.1° East Orbital Slot) অবস্থিত স্যাটেলাইটটি ঠিকমতো ঘুরছে কি না এবং এর অবস্থান সঠিক আছে কি না তা নিয়ন্ত্রণ করা।

২. সিগন্যাল আদান-প্রদান (Uplink & Downlink):

  • আপলিংক (Uplink): পৃথিবী থেকে টিভি সিগন্যাল বা ইন্টারনেট ডেটা শক্তিশালী অ্যান্টেনার মাধ্যমে আকাশে অবস্থিত স্যাটেলাইটে পাঠানো।

  • ডাউনলিংক (Downlink): স্যাটেলাইট থেকে সিগন্যাল গ্রহণ করে দেশের বিভিন্ন টিভি চ্যানেল বা ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

    ৩. ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ড ব্যবহার: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ C-band এবং Ku-band ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করে কাজ করে, যা এই গ্রাউন্ড স্টেশনগুলো থেকে প্রসেস হয়।

🌐 ৩. সুবিধা ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব

  • সম্পূর্ণ দেশীয় নিয়ন্ত্রণ: নিজস্ব ভূ-কেন্দ্র থাকায় দেশের সকল স্যাটেলাইট সম্প্রচার ও ডাটা সিকিউরিটি সম্পূর্ণ নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে থাকে।

  • টিভি চ্যানেল ও ইন্টারনেট: বাংলাদেশের সকল টিভি চ্যানেল এখন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ ও এই গ্রাউন্ড স্টেশনের মাধ্যমে কম খরচে নিরবচ্ছিন্ন সম্প্রচার করছে।

  • দুর্যোগকালীন যোগাযোগ: যেকোনো বড় ধরনের বন্যা বা ঘূর্ণিঝড়ে ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও এই গ্রাউন্ড স্টেশনের মাধ্যমে দ্বীপাঞ্চল ও দুর্গম এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ চালু রাখা সম্ভব।

  • বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়: আগে বিদেশী স্যাটেলাইটের ওপর নির্ভর করতে হতো, এখন নিজস্ব গ্রাউন্ড স্টেশন থাকায় প্রতি বছর প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হচ্ছে।

📝 সংক্ষিপ্ত তথ্য টেবিল (পরীক্ষার জন্য)

বিষয়তথ্য
মূল ভূ-কেন্দ্র (Primary)তেলীপাড়া, গাজীপুর
ব্যাকআপ ভূ-কেন্দ্র (Backup)বেতবুনিয়া, রাঙামাটি
উদ্বোধন কাল২০১৮ সাল (স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ: ১২ মে, ২০১৮)
অরবিটাল স্লট১১৯.১° পূর্ব দ্রাঘিমাংশ
প্রযুক্তিগত কাজআপলিংক, ডাউনলিংক, ট্র্যাকিং ও টেলিম্যাট্রি
মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট