সহকারী শিক্ষক
৩০ জুলাই, ২০২৬ ০১:৩৩ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ দ্বাদশ
বিষয়ঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
অধ্যায়ঃ অধ্যায় ২
বাইনারি (Binary) হলো একটি সংখ্যা পদ্ধতি (Number System), যা ডিজিটাল কম্পিউটার এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইসে তথ্য প্রক্রিয়া ও সংরক্ষণের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
নিচে বাইনারি কী এবং এটি কীভাবে কাজ করে তা সহজ ভাষায় তুলে ধরা হলো:
যে সংখ্যা পদ্ধতিতে মাত্র দুটি অংক বা প্রতীক— ‘০’ (0) এবং ‘১’ (1) ব্যবহার করে সমস্ত হিসাব-নিকাশ ও তথ্য প্রকাশ করা হয়, তাকে বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতি বলে।
এই পদ্ধতির বেস বা ভিত্তি হলো ২ (যেহেতু এতে কেবল ২টি অংক ব্যবহৃত হয়)।
একে ডিজিটাল ইলেকট্রনিক্সের ভাষায় বিট (Bit) বলা হয় (Binary Digit-এর সংক্ষিপ্ত রূপ)।
কম্পিউটার বা ডিজিটাল ডিভাইসগুলো মানুষের ভাষা (যেমন: বর্ণ, শব্দ বা দশভিত্তিক সংখ্যা) সরাসরি বুঝতে পারে না। এগুলো মূলত অসংখ্য ইলেকট্রনিক সার্কিট দিয়ে তৈরি microchip বা transistor।
কম্পিউটারের ভেতরে কোটি কোটি ছোট ছোট ইলেকট্রনিক সুইচ (Transistor) থাকে। বাইনারি মূলত এই সুইচগুলোর দুটি অবস্থা নির্দেশ করে:
0 (শূন্য): নির্দেশ করে সুইচ বন্ধ (Off) অথবা সেখানে কম ভোল্টেজ (Low Voltage) বিদ্যমান।
1 (এক): নির্দেশ করে সুইচ চালু (On) অথবা সেখানে উচ্চ ভোল্টেজ (High Voltage) বিদ্যমান।
আমরা দৈনন্দিন জীবনে ১০ ভিত্তিক (Decimal) সংখ্যা ব্যবহার করি (০, ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯)। কিন্তু বাইনারিতে কেবল ০ এবং ১ দিয়ে সংখ্যা বাড়ানো হয়।
| দশমিক (Decimal) | বাইনারি (Binary) |
| 0 | 0 |
| 1 | 1 |
| 2 | 10 |
| 3 | 11 |
| 4 | 100 |
| 5 | 101 |
(যেমন: দশমিক ৩ লিখতে বাইনারিতে 11 লেখা হয়, যার অর্থ একটি সুইচ চালু এবং পরের সুইচটিও চালু।)
কম্পিউটার কেবল সংখ্যাই নয়, আপনার দেখা ছবি, ভিডিও বা টাইপ করা অক্ষরকেও বাইনারিতে রূপান্তর করে কাজ করে:
অক্ষর (Text): যখন আপনি কিবোর্ডে 'A' চাপেন, কম্পিউটার ASCII কোড বা Unicode অনুযায়ী এটিকে প্রথমে একটি সংখ্যায় রূপান্তর করে (যেমন: A = 65)। তারপর ৬৫-কে বাইনারিতে রূপান্তর করে হয় 01000001।
ছবি (Images): একটি ছবি গঠিত হয় হাজার হাজার পিক্সেল (Pixel) দিয়ে। প্রতিটি পিক্সেলের রঙের মান (Red, Green, Blue) সংখ্যা দিয়ে প্রকাশ করা হয় এবং সেই সংখ্যাগুলোকে পরে ০ ও ১ দিয়ে কম্পিউটারে সংরক্ষণ করা হয়।
বিট (Bit): ১টি ‘0’ বা ‘1’-কে বলা হয় বিট।
বাইট (Byte): ৮টি বিট একসাথে মিলে তৈরি হয় ১ বাইট (যেমন: 01000001 = ১ বাইট)।
কাজ করার মূলনীতি: বিদ্যুতের উপস্থিতি (1) ও অনুপস্থিতি (0)-কে ব্যবহার করে কম্পিউটার ডেটা প্রসেস করে ও ফলাফল দেখায়